০৪:১৫ পি.এম
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন এমন কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়েকে মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ শীর্ষক একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। সেই আদেশের আওতায় আকানে ও সেয়ের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে জারি করা হয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান এবং আট বিচারকসহ আইসিসির ১০ কর্মকর্তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আকানে ও সেয়ের নামে থাকাকৃত যেকোনও সম্পদ আটকানো হবে। একই সাথে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সঙ্গে কোনও লেনদেন করতে পারবে না।
২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর পর থেকে ওয়াশিংটনের চাপ আদালতের ওপর আরও বাড়তে থাকে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, আকানে ও সেয়ে সরাসরি আইসিসির কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, এবং তাদের মাধ্যমে এমন দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যারা আইসিসির এখতিয়ার মেনে নেয়নি।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
রুবিও আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য আইসিসির হুমকি দূর করতে মার্কিন সরকারের উদ্যোগ ব্যাপকভাবে চলমান। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধ করে আরও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে যোগ দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসির বিরুদ্ধে একটি প্রচারাভিযান শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, আদালতটি ‘মার্কিন সার্বভৌমত্বের’ বিরুদ্ধে এক ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে। গত মাসে ক্যাম্প ডেভিডে দেওয়া বক্তব্যে রুবিও বলেন, আইসিসির সদস্য নয় এমন দেশগুলোর প্রতি আদালতের এখতিয়া দাবি করা এই আদালতকে ‘নিজেকেই অবৈধ’ করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আদতে আইসিসির সদস্য নয়।
ট্রাম্প বলেন, রুবিও ‘বিবি ও আরও কয়েকজনকে রক্ষা করার’ চেষ্টা করছেন। এখানে তিনি ইসরায়েল Prime Minister বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘বিবি’ নামে উল্লেখ করেছেন।
আইসিসির ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট এবং এই পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম জাপানি নাগরিক তোমোকো আকানে নিষেধাজ্ঞার এই উদ্যোগের শুরু থেকেই এর সমালোচনা করে আসছেন। গত ডিসেম্বরে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞা বিচারকরা তাদের দায়িত্ব কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন, তাতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
তিনি আরও বলেন, আইনগত কাঠামোর ব্যাখ্যা ও মামলার বিচার নিয়ে আমরা কারো চাপ কখনও মেনে নেব না। আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাই আমাদের মূল ভিত্তি এবং তা অটুট থাকবে।
তবে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইসিসি এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি.
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন