বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০২ পি.এম
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র তিনি পেয়েছেন। সংবিধানের বিধান অনুসারে, পদত্যাগপত্র পাওয়ার সাথে সাথে তার পদত্যাগ কার্যকর হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের টানেলে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ এসব তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "সংরক্ষিত নারী আসনের ২৩ নম্বর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি আমার অফিসে এসে লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে গেছেন।" তিনি আরও বলেন, "সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পত্রটি পাওয়ার পরই তার পদ শূন্য হয়ে গেছে। আমরা এটি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেব। আজ থেকেই এই পদত্যাগ কার্যকর হবে।"
পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, "সংসদের বিধান হলো, এমপির যখন পদত্যাগ করেন তখন কোনো কারণ উল্লেখ করেন না।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেছেন যদিও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মতো কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবাসী কর্মীদের জন্য ট্রলি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শনকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ কর্মী পাঠানোও অত্যন্ত জরুরি। দক্ষ কর্মী না পাঠালে লাখ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠিয়েও দেশের প্রকৃত লাভ হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা, চাহিদা ও বিভিন্ন ভোগান্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
মন্ত্রী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি ইমার্জেন্সি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, চিকিৎসা কেন্দ্রের স্থান নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার প্রবাসী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের যাতায়াত ও অবস্থানগত সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ফ্লাইট বিলম্ব বা সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে অনেক সময় প্রবাসী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিমানবন্দর শহর থেকে দূরে থাকার কারণে তাদের থাকা-খাওয়ার সমস্যাও বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যা সমাধানে বিমানবন্দরের পাশে রেস্টহাউস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে যাত্রীরা যেকোনো পরিস্থিতিতে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারেন।
পরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সামনের দিনগুলোতে শ্রমবাজারে আরও ভালো ফলাফল দেখা যাবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রবাসীদের আইনি সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মন্ত্রী প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকির স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশ ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে চীনের কাছে পরাজিত হয়েছে। লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এই ম্যাচে হতাশাজনক ফলাফলের সম্মুখীন হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চীনের হয়ে গোল করেছেন ঝাং জিয়ালিং, ঝাও ইউলাই, চেন বেনহাই, ওয়াং ইয়াকি এবং গাও জিয়েশেং।
বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন রাকিবুল হাসান, যিনি ম্যাচের ৩০তম মিনিটে একটি ফিল্ড গোল করে ব্যবধান কমান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়ে।
এই পরাজয়ের ফলে বাংলাদেশের পক্ষে টুর্নামেন্টে পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশ সপ্তম-অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
আগামী শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অভাবের মধ্যে বেড়ে ওঠা সোহেল রানা সত্যিকার অর্থে বড় হওয়ার জন্য দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমে ছিলেন অটুট। ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের ইতিহাস বিভাগে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। তবে বিসিএসে প্রথম স্থান লাভ করেও প্রকাশিত চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেটে বাদ পড়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নিয়োগ গেজেটে বিষয়টি দেখা যায়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১১ নভেম্বর রাতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৮৩টি পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেখানেই ইতিহাস বিভাগে প্রথম হন সোহেল রানা।
সোহেল রানা নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু হোসেনের ছেলে। সোহেল ২০১৪ সালে সোনারায়-সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং ২০১৬ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০২০ সালে স্নাতক (সিজিপিএ ৩.৫৪) এবং ২০২১ সালে সিজিপিএ ৩.৫৬ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাজাহারুল ইসলাম জানান, ফলাফল শুনে জানতে পারেন যে, সোহেল প্রথম হয়েছে এবং একটি ভেরিফিকেশন বাকি আছে। তখন তারা ভেবেছিলেন, হয়তো তার বাবার কষ্ট করে পড়ানোটা সার্থক হবে। পরিবারটি এবার একটু শান্তিতে থাকতে পারবে। কিন্তু গতকাল শুনেছেন, তাকে নাকি রাজনৈতিক কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সোহেল কোনো দিন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তাহলে কীভাবে এত ভালো ফল করা, প্রথম হওয়া একটি ছেলেকে বাদ দেওয়া হয়?
সোনারায়-সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিভূতি ভূষণ রায় বলেন, সোহেল রানা ২০১৪ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করে। এরপর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ৪৯তম বিসিএসে সে ভালো ফলাফল করে ইতিহাস বিভাগে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে। কিন্তু গেজেট প্রকাশের পর তার নাম বাদ দেওয়ায় স্কুলের সব শিক্ষক ও এলাকাবাসী ব্যথিত।
সোহেল রানার মা শাহিদা বেগম বলেন, অভাবের সংসারে কত কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছি, আল্লাহ জানে কেন এমন হলো আমার ছেলেটার সাথে। এত কষ্ট করে পড়াশোনা করার পরে একটা চাকরিতে তো টেকেছে। এখন শুনেছি, আমার ছেলেটাকে নাকি বাদ দিয়েছে। কেন, বারে? আমার বাবার কী দোষ যে আমার ছেলেকে বাদ দিলেন?—এভাবেই চোখের পানি ঝরাতে ঝরাতে কথাগুলো বলছিলেন ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে বাদ পড়া সোহেল রানার মা।
সোহেলের বাবা আবু হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়েছি। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও শুধু এই আশায় তাকে পড়াশোনা করিয়েছি, একদিন সে নিজের পায়ে দাঁড়াবে, ভালো একটা চাকরি করবে। ছেলেকে পড়াতে গিয়ে জমি-জায়গা বিক্রি করেছি, এমনকি বন্দুকও বিক্রি করতে হয়েছে। অনেক কষ্ট করে তাকে এতদূর নিয়ে এসেছি।
তিনি বলেন, যেদিন জানতে পারলাম, আমার ছেলে বিসিএসে টিকে গেছে, সেদিন আমাদের আনন্দের সীমা ছিল না। মনে হয়েছিল, এত বছরের কষ্ট অবশেষে সার্থক হয়েছে। কিন্তু গতকালের খবর শুনে আমরা একেবারে ভেঙে পড়েছি। যে ছেলে এত কষ্ট, পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে বিসিএসে উত্তীর্ণ হলো, শেষ পর্যন্ত গেজেটে তার নাম নেই—এটা একজন বাবা হিসেবে মেনে নেওয়া আমার জন্য খুবই কষ্টের।
তিনি আরও বলেন, আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, আমার ছেলের বিষয়টি যেন মানবিকভাবে বিবেচনা করা হয়। এত বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্ন যেন এভাবে শেষ হয়ে না যায়। আমার একটাই দাবি, আমার ছেলের চাকরিটা যেন হয়। এত কষ্ট করে তাকে পড়িয়েছি, আজ তার মুখের দিকে তাকিয়ে সরকারের কাছে শুধু এইটুকুই চাই।
এ বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, ৪৯তম বিসিএসে ইতিহাস বিভাগে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলাম। দীর্ঘ ১০ মাস পর গতকাল আমাদের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সেখানে আমার নাম না দেখে আমি নিজেই হতভম্ব হয়ে গেছি। কী কারণে আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও আমি জানি না।
তিনি বলেন, সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশনে একজন ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধে জড়িত থাকেন, রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো কাজ করেন বা সরকারবিরোধী কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে বিষয়টি সেখানে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এসব বিষয়ের সঙ্গে আমার পরিবার কিংবা আমি ন্যূনতম কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই।
তিনি আরও বলেন, কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো, সেটি আমি নিজেও এখনো জানি না। আমার পরিবার কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা অন্য কোনো সম্পৃক্ততার সঙ্গে জড়িত নয়। তাহলে তারা কীভাবে আমাকে বাদ দিলেন? আমি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমার পরিবারের কেউই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
চাকরিতে আবেদনের বয়স আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল বলেন, চাকরিতে আবেদনের বয়স আছে। কিন্তু ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর আর কোথাও সেভাবে আবেদনও করিনি বা চেষ্টা করিনি। কারণ আমার সর্বোচ্চ একটি চাওয়া ছিল, সেই চাওয়াটি পূরণ হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে আর কোথাও চেষ্টা করা হয়নি। বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বিসিএসে সর্বোচ্চ মেধার প্রয়োগ করে টিকতে হয়। অন্য সব পরীক্ষার্থীর মতো আমাকেও অনেক দিন-রাত এক করে পড়াশোনা করতে হয়েছে। অনেক রাত নির্ঘুম কেটেছে। যখন আমি ৪৯তম বিসিএসে অংশগ্রহণ করি, তখন আমি একটি চাকরি করতাম। সেই চাকরির পাশাপাশি ৪৯তম বিসিএসে অংশগ্রহণ করা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল।
তিনি আরও বলেন, যদি প্রকাশ না হয়, তাহলে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো পথ নেই। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন বা পরিবারের সবার সামনে এই মুখ নিয়ে দাঁড়ানোর সাহস আমার নেই। কোনোভাবেই তাদের সামনে যেতে পারছি না। গতকালের ফলাফলের পর সবাই হতভম্ব হয়ে গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু রোগটি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই এডিস মশাবাহিত এই রোগে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে এই রোগে। চলতি বছরে ডেঙ্গুর কারণে মোট ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে ১৫২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
ডেঙ্গুর এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএসআই র্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট দেশে এসেছে। এই কিটগুলো রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র পাঠিয়েছে।
রাজধানীর কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে (১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে কিটগুলো হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) তৃষিতা মওলা।
হস্তান্তরের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু টেস্টিং কিটগুলো দ্রুত দেশজুড়ে বিতরণের নির্দেশনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যানজট ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। তবে, হস্তান্তর করা সব কিট সরাসরি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) জমা হবে এবং পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, নতুন পাওয়া কিটের পাশাপাশি সরকারি খাতেও বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন কিট ও আইভি স্যালাইন মজুত রয়েছে। ফলে, দেশের যেকোনো অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন চালুর বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে, ভ্যাকসিনটির ব্যয় বেশি হওয়ায় এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ