০৮:৫০ এম
নরসিংদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মোচড় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে পুলিশ আটক করেছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২) পলাতক রয়েছেন।
জানা যায়, সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার চাঁনগাঁও গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, প্রায় পাঁচ দিন আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিও গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের কারণে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ দ্রুত অনুসন্ধানে নামে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ওই ঘরে ঢুকে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। এ সময় শিশুটির মা গোপনে ওই দৃশ্যটি মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিভাবে এবং কারা শেয়ার করেছে, সেটি এখনো খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সঙ্গে শিশুর মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওসির তথ্যমতে, শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয়। শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে স্বাভাবিক এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোন চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ছে বলেও তারা দাবি করছেন।
তবে তদন্তের স্বার্থে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া এবং শাশুড়ি শেফালী বেগমকে শনাক্ত করে থানায় আনা হয়েছে। এ সময় একটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
অন্যদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন