ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডব্লিউএইচওর ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য এইচপিভি টিকাদানের সুপারিশ


ডব্লিউএইচওর ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য এইচপিভি টিকাদানের সুপারিশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টিকা বিশেষজ্ঞরা দেশগুলোকে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য নিয়মিত মানবদেহে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধী টিকাদানের বিষয়টি বিবেচনা করার সুপারিশ করেছেন, যদি এটি টিকার আওতা বাড়াতে সহায়ক হয়।

জেনেভা থেকে এএফপি জানাচ্ছে, মঙ্গলবার ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা গোষ্ঠীর (সেজ) চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট এই সুপারিশটি করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১৬৫টি দেশ ইতোমধ্যে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের (এইচপিভি) টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

স্কট সাংবাদিকদের বলেন, "তবে বিশ্বব্যাপী এইচপিভি টিকাদানের হার ৩৩ শতাংশ, যা আমাদের নির্ধারিত বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা ৯০ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।"

ডব্লিউএইচওর মতে, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী সব মেয়ের জন্য এইচপিভি টিকাদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। ২০২২ সালে সেজ ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক বা দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। একই বয়সভিত্তিক সূচি ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। ২১ বছরের বেশি বয়সী নারীদের জন্য ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।

হালনাগাদ গবেষণালব্ধ প্রমাণ পর্যালোচনার পর সেজ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক ডোজ টিকা দেওয়ার পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর।

স্কট বলেন, "টিকা গ্রহণের হার ও আওতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে দেশগুলো ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদানের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।"

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের কারণে জরায়ুমুখ ক্যানসার হয়। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে পঞ্চম সর্বাধিক শনাক্ত হওয়া ক্যানসার ছিল এটি। ওই বছর এ রোগে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হন এবং প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার নারী মারা যান।

ডব্লিউএইচওর টিকা বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন বলেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে।

সেজ সুপারিশ করেছে যে, এক ডোজের এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রথমে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া, এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের এ সুযোগ সম্প্রসারণ, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং সবশেষে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া।

২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচপিভির আটটি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডব্লিউএইচও জানাচ্ছে, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে অবস্থিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই: ইসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই: ইসি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই, এমনটি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে প্যানেলভুক্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

সাংবাদিকদের সামনে এসে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুন্দর পরিবেশের মধ্য দিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর এই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, "নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা এখানকার প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। নির্বাচনী পরিবেশ খুব চমৎকার রয়েছে।"

এরপর সেনা মোতায়েনের প্রশ্নে তিনি বলেন, "আমরা এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা ভাবছি না। ধরে নিতে পারেন, সেনা মোতায়েন হবে না। কারণ, এখানে যে পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে, তা সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে প্রায় তিনগুণ। তাই এখানে বাড়তি কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন আছে বলে কমিশন মনে করে না।"

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, "প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র‍্যাব সদস্যদের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা থাকবে। নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে ড্রোনও। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।"

নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, "নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি নিষ্পত্তি হয়েছে, বাকি দুটি তদন্তাধীন।"

নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, "নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার কোনো কারণ নেই। একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা নিয়ে ঠাকুরগাঁওবাসী গর্ববোধ করবেন।"

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্যানেলভুক্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের শাস্তি হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের শাস্তি হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত একটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের অথবা বাইরের যে কেউ জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে প্রশ্ন ফাঁসের কারণে হঠাৎ করে পরীক্ষাটি বাতিল হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য দেশের ১৫ জন তরুণকে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হবে এবং নিবন্ধিত ৪৩২টি যুব সংগঠনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও অনুদানের চেক তুলে দেবেন।

আত্মকর্মসংস্থান, ক্রীড়া, সমাজসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, নারী ও শিশু উন্নয়ন, শিক্ষা, পরিবেশ ও জলবায়ু এবং কলা ও সংস্কৃতি এই ৮টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১৫ তরুণকে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে। প্রতিটি পদকের সঙ্গে এক লাখ টাকা, সম্মাননা ক্রেস্ট এবং সনদপত্র দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাদ্যে অনিয়ম রোধে ৮ মাসে ৭৪৪ অভিযান, জরিমানা ৩ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


খাদ্যে অনিয়ম রোধে ৮ মাসে ৭৪৪ অভিযান, জরিমানা ৩ কোটি টাকা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) দেশজুড়ে আইন প্রয়োগ, মোবাইল কোর্ট, খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমকে জোরদার করেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিএফএসএ পরিচালিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযানে মোট ২ কোটি ৮৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা এবং ৭টি কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই সময়কালে মোট ৭৪৪টি মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের হিসাব।

বিএফএসএ’র মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বছরের শুরু থেকেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। ফেব্রুয়ারিতে প্রধান কার্যালয়ের উদ্যোগে ৮টি মোবাইল কোর্ট ও অভিযানে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মার্চ মাসে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ৬টি অভিযানে ৪ লাখ টাকা এবং জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের মাধ্যমে ৭৭টি অভিযানে ৩৬ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, যেখানে একজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।

এপ্রিল মাসে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৩টি অভিযানে ৩ লাখ টাকা এবং জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের মাধ্যমে ৭৬টি অভিযানে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মে মাসে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ১১টি অভিযানে ৬ লাখ টাকা এবং জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের মাধ্যমে ৭৪টি অভিযানে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, যেখানে তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জুন মাসে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ১২টি অভিযানে ৪ লাখ টাকা এবং জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের মাধ্যমে ৭২টি অভিযানে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, যেখানে একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জুলাই মাসে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৫টি অভিযানে ৬ লাখ টাকা এবং জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের মাধ্যমে ১০৪টি অভিযানে ৪২ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ মাসে একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আগস্টে অভিযানের পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। এ মাসে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ২৫টি অভিযানে ১০ লাখ টাকা এবং জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৭২টি অভিযানে ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

সেপ্টেম্বরে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ২৩টি অভিযানে ১২ লাখ টাকা এবং জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের মাধ্যমে ৫৬টি অভিযানে ৩৯ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সময়ে একজনের কারাদণ্ডের তথ্যও রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অনিবন্ধিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ, এবং খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক না থাকার মতো অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযানে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি, পোড়াতেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি, অনুমোদনহীন ঘি ব্যবহার, এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের মতো অনিয়মও ধরা পড়েছে। এসব ঘটনায় জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে।

বিএফএসএ’র সদস্য (আইন ও নীতি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পর্যায় থেকে দেশব্যাপী অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে খাদ্যের মূল উপাদানের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ রং, গন্ধ ও ক্ষতিকর অ্যাডিটিভসের ব্যবহার বন্ধে গবেষণা ও কারিগরি কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বিগত ৮ মাসে ১ হাজার ৩০৭টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়েছে। বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাদ্যস্থাপনায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হয়।

খাদ্য নিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএফএসএ ১ হাজার ২১০টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করেছে। বোতলজাত পানি, ভোজ্যতেল, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, দই, গুঁড়া মশলা, শিশু খাদ্য ও বেকারি পণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এ পরীক্ষার আওতায় এসেছে।

এদিকে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বহুমুখী প্রচার কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা, বাংলাদেশ বেতারে অডিওবার্তা, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তার করণীয় সম্পর্কে প্রচার করা হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অপরাধের ধরন ও তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং সর্বনিম্ন ৬ মাসের কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল অথবা উভয় দণ্ডের শাস্তির বিধান রয়েছে।

নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তায় ২০১৩ সালে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে গঠন করা হয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘ বহু আগেই খাদ্য অধিকারকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী অন্যতম দেশ।

ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান আইন, ২০০৬-এর অধীনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন শাস্তি ও আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।

এতে রয়েছে- নিম্নমানের বা ভেজাল খাদ্য বিক্রিতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল উপাদান রাখলে ২ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। অসুরক্ষিত বা বিষাক্ত খাদ্য তৈরি বা বিক্রি (ক্ষতি না হলে) ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্তিতে ৬ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ভোক্তার মৃত্যু হলে- সর্বনিম্ন ৭ বছর থেকে শুরু করে আজীবন কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

চীনের খাদ্য নিরাপত্তা আইনে খাদ্যে ভেজাল বা মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ মেশানোর বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এই আইনে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করলে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বাতিলসহ উচ্চ অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া গুরুতর পরিণতি ও প্রাণহানির ক্ষেত্রে- খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ভেজালের কারণে যদি কারও মৃত্যু হয় বা জনস্বাস্থ্যে চরম বিপর্যয় ঘটে, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো কঠোর আইনি বিধান রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযান ও মনিটরিংয়ের পাশাপাশি খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ফলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হচ্ছে। ভবিষ্যতে জেলা পর্যায় থেকে দেশব্যাপী এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে খেসারত দিলেন আইভীর আইনজীবীসহ ৩ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২২ পি.এম


আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে খেসারত দিলেন আইভীর আইনজীবীসহ ৩ জন

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর আইনজীবীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মধ্যরাতে তাদের বাড়ি থেকে আটক করার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, তার ভাই আতিকুল ইসলাম এবং আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুব রহমান।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, শহরের আল্লামা ইকবাল রোডের বাসা থেকে অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল ও তার ভাই আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, দেওভোগের পাক্কা রোডের গার্মেন্ট গলি থেকে অ্যাডভোকেট মাহাবুব রহমানকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠায় পুলিশ।

সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কেন্দ্র করে ১৩ অক্টোবর আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা তুহিন হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। ১৩ অক্টোবর নিম্ন আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি এবং আইভীর পুনরায় জামিনের আবেদনের বিষয়ে দিন ধার্য ছিল। শুনানির সময় তার আইনজীবী পুনরায় জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।

শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় নেতাকর্মীদের বেষ্টিত ছিলেন আইভী। এ সময় তিনি ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’ বলে স্লোগান দেন। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে একই স্লোগানে কণ্ঠ মেলান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%