বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:২৪ এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই র্যাংক ব্যাজ পরানো হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
এর আগে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এম জে আরিফ বেগের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছিল যে, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত মোট তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা উপসাগরীয় দেশটির জন্য একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপনের সুযোগ প্রদান করে। এই খবরটি বিবিসির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ চুক্তিটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অতিরিক্তভাবে, জ্বালানি বিভাগ জানাচ্ছে, সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুটি চুক্তি একসঙ্গে কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ করার পাশাপাশি একাধিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
সৌদি সরকারও এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, এই চুক্তিটি দুই দেশের জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতার সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে। তারা বলেন, গত বছরের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজের ওয়াশিংটন সফরের পরই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও তা পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
চুক্তির ঘোষণা এমন সময় জারি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত আরো তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবে একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর উপরে, দুই দিন আগে ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের জীবন সংগ্রামের কাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ইকন বাবার দাফনের পর রাতে এটিএম বুথে ডিউটি দেন এবং পরদিন সকালে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন, যা অনেকের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। তবে তার জীবন সংগ্রামের সম্পর্কে ভাইরাল হওয়ার পর আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
ইকনের বাড়িতে গিয়ে তার সাথে এবং তার মামার সাথে কথা বলার মাধ্যমে জানা গেছে, ইকন শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা তার সহকর্মীরা কখনোই তাকে পরীক্ষার আগের রাতে ডিউটি করতে বাধ্য করেননি। বরং তার নিজের ইচ্ছায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বুথের শান্ত পরিবেশে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
জানা গেছে, পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার বই কেনার সামর্থ্য তার ছিল না। শুরুতে মোবাইল ফোনে পিডিএফ ডাউনলোড করে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। পরে এক সহপাঠীর কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো প্রস্তুত করেছেন।
ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জন্য উপার্জন করতেন। বড় ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব অনেকটা এসে পড়ে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করে তিনি পরিবারের ব্যয় বহন করতেন। এর মধ্যে বাবার মৃত্যু তার জীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে।
তবে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও এই তরুণ ভেঙে পড়েনি। স্বপ্ন দেখছে নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের, তাই সে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকে ইকনের স্বপ্ন ছিল একজন জজ অথবা ব্যারিস্টার হওয়া। অর্থনৈতিক সংকট ও পারিবারিক দুর্ভোগও তার স্বপ্নকে ম্লান করতে পারেনি।
স্থানীয়দের মতে, ইকনের এই সংগ্রাম কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গল্প নয়; এটি হাজারো সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তারা উল্লেখ করেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে ইকনের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।
স্থানীয়রা ইকনের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ অভিযানের ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৬ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময় ৫৬টি মামলা করার তথ্যও পাওয়া গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ২১ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৮ জন, ওয়ারী বিভাগে ১০৪ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৯ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭৪ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ৮৩ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৮ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৩৫ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানের সময়ে হেফাজতের মধ্যে ০১টি বিদেশি পিস্তল ম্যাগাজিনসহ মোট ৩ হাজার ৭৫৫ পিস ইয়াবা, ৯ কেজি ৫ গ্রাম গাঁজা, ৭ গ্রাম হেরোইন, ১টি মাইক্রোবাস, ১টি কার্টার, ১টি চাকু, ৫টি মোবাইল ফোন, ১টি মোটরসাইকেল এবং একজন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন থানায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিগুলোর মধ্যে একটি হলো ভালোবাসা। বিশেষ করে কৈশোর ও তারুণ্যে এই অনুভূতি সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়ে ওঠে। সাধারণত ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে একজন তরুণ বা তরুণীর মধ্যে ভালো লাগা, আকর্ষণ, ভালোবাসা এবং সম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা স্বাভাবিকভাবে দেখা দেয়। এই বয়সে বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী প্রেমে পড়ে। একে অপরের প্রতি আবেগ, কল্পনা এবং নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে। তাই অনেক সময় একজনকে প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে যায়। একে অপরের প্রতি এই ভালো লাগা থেকেই শুরু হয় প্রেমের আদান-প্রদান।
প্রথম দেখায় কাউকে ভালো লাগা মূলত তার চেহারা, হাসি, কথা বলার ধরন, ব্যক্তিত্ব বা আচরণের প্রতি আকর্ষণ থেকে তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে আকর্ষণ বা ইনফ্যাচুয়েশন (Infatuation) বলা হয়। এই অনুভূতি খুব দ্রুত তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভালোবাসা জন্ম নিতে সময় লাগে। একজন মানুষের চরিত্র, মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ, সম্মানবোধ এবং একে অপরকে বোঝার ক্ষমতা ধীরে ধীরে জানার মাধ্যমে সেই ভালো লাগা গভীর হয়ে সত্যিকারের ভালোবাসায় রূপ নেয়।
সব প্রথম দেখার ভালো লাগা ভালোবাসায় পরিণত হয় না। কারণ সময়ের সঙ্গে মানুষ একে অপরকে আরও ভালোভাবে চিনতে শেখে। কখনও দেখা যায়, প্রথমে যাকে খুব ভালো লেগেছিল, তার সঙ্গে চিন্তা-ভাবনা বা জীবনযাত্রার মিল নেই। আবার কখনও পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও বোঝাপড়া তৈরি হলে সেই ভালো লাগাই দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসায় রূপ নেয়।
তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বারবার প্রেমে ব্যর্থ হওয়ারও কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, আবেগের বশে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া। অনেকেই মানুষটিকে ভালোভাবে না জেনেই সম্পর্ক শুরু করে। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত প্রত্যাশা। বাস্তব জীবনে প্রত্যেক মানুষেরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু অনেক সময় কল্পনার সঙ্গে বাস্তবতার মিল না থাকায় হতাশা তৈরি হয়। তৃতীয়ত, পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব। সন্দেহ, ভুল বোঝাবুঝি এবং যোগাযোগের ঘাটতি সম্পর্ককে দুর্বল করে দেয়। চতুর্থত, পরস্পরের প্রতি সম্মান না থাকা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে মূল্য না দেওয়া। এছাড়া পারিবারিক বাধা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অমিল, মানসিক অপরিপক্বতা এবং সামাজিক চাপও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
একটি সফল সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস, সততা, সম্মান, ধৈর্য এবং খোলামেলা যোগাযোগ। শুধুমাত্র আবেগ দিয়ে ভালোবাসা টিকে থাকে না। সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে উভয় পক্ষের দায়িত্বশীলতা এবং একে অপরকে বোঝার মানসিকতা প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, প্রথম দেখায় কাউকে ভালো লাগা মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। তবে সেই ভালো লাগা সত্যিকারের ভালোবাসায় পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করে সময়, পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস এবং সম্মানের ওপর। একইভাবে বারবার প্রেমে ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবনের শেষ নয়। প্রতিটি অভিজ্ঞতা মানুষকে আরও পরিণত করে, নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে আরও সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলার পথ দেখায়। তাই যে কোনো বয়সে ভালোবাসার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে, মানুষকে সময় নিয়ে জানা এবং বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ