বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৯ পি.এম
আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু সম্পর্কিত চলমান মামলায় নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের নিযুক্ত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি উল্লেখ করেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ম্যারাডোনার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, এই সম্ভাবনা পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না।
সান ইসিদ্রোর আদালতে মামলার শেষ সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে ফেরারি জানান, ২০২০ সালের নভেম্বরে ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের সময় তার শরীরে কোভিড-১৯-এর উপস্থিতি যাচাই করার জন্য কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। এই কারণে মৃত্যুর সঙ্গে করোনাভাইরাসের সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসে নিজ বাড়িতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তিনি মস্তিষ্কে সাবডিউরাল হেমাটোমার অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন।
ম্যারাডোনার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ইতিমধ্যে মামলায় ৭৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
আদালতে ফেরারি বলেন, মহামারির সময় ম্যারাডোনার ময়নাতদন্ত করা হলেও কোভিড পরীক্ষা না হওয়ায় এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করা করোনাভাইরাস দ্রুত গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে, যার ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যু ঘটতে পারে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের এই বক্তব্য ম্যারাডোনার চিকিৎসকদের আইনজীবীদের অবস্থানকে নতুন করে জোরালো করেছে। ম্যারাডোনার প্রধান চিকিৎসক লিওপোলদো লুকের পক্ষ থেকে এর আগে দাবি করা হয়েছিল, তার ফুসফুসে হঠাৎ তরল জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হয়েছিল। এর পরেই তার হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত আটজনের বিচার যখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে, ঠিক তখনই আদালতের নিযুক্ত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের এই বক্তব্য ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের দ্য সেন্ট রেজিস নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তাদের সাক্ষাৎ ঘটে। ডা. জুবাইদা রহমান মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
হোয়াইট হাউসের আয়োজনে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’কে কেন্দ্র করে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্যোগটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে ওয়াশিংটনে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ বৈশ্বিক সম্মেলনে মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করেছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। ওই সম্মেলনে ৪৫টির বেশি দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মার্চের সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি শিশুদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
২২ সেপ্টেম্বরের নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্প জানান, ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগে বর্তমানে ৫৭টি দেশ যুক্ত হয়েছে। শিশুদের প্রযুক্তি ও শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়াই এই বৈশ্বিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুরু না হওয়ায় বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সওজ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
ওই আন্দোলনের সময় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সড়কে গর্ত তৈরি হলে তা বিটুমিন দিয়ে সংস্কার, ১০ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু এবং ১০ নভেম্বরের মধ্যে মূল সড়কে আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার কথা ছিল।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর একবার গর্তগুলো বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হলেও এরপর আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর ওপর কয়েকটি বড় গর্ত দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনেও ড্রেনে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়কের খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে প্রায় পাঁচটি থ্রি-হুইলার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. রাজীব বলেন, কথা ছিল ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করে রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি ১০ নভেম্বরের মধ্যে আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার কথা। কাজের তদারকির জন্য সওজ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রতিনিধি দলও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো কাজই হচ্ছে না। এখনো কোনো কাজের টেন্ডার করা হয়নি। তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কীভাবে কাজ শুরু হবে—সেটি জানতেই আমরা এসেছি।
আরেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছিলেন, রাস্তায় যতবার গর্ত হবে, ততবার বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হবে। কিন্তু নামমাত্র একবার সংস্কার করে সওজের লোকজন আর কোনো খোঁজ নেয়নি। রাস্তায় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কের দুরবস্থার কারণে আমরা মাইশা ও ইয়াসিন আরাফাতকে হারিয়েছি। এখন আর কত মরদেহ হলে এই রাস্তার সংস্কার হবে?
তিনি আরও বলেন, লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সড়ক সংস্কার, ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়েই আমরা এসেছি।
এ বিষয়ে বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম— ১০ অক্টোবরের মধ্যে ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি রোড নির্মাণ ও সড়কে লাইটের ব্যবস্থা করা— সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে অতিশিগগিরই নতুন দরপত্র আহ্বান করে কাজগুলো করা সম্ভব হবে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু করতে পারব, তা এখনই বলতে পারছি না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় এক রাতের মধ্যে পাঁচটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই চুরির ফলে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সাধারণ গ্রাহক ও কৃষকদের পকেট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
শ্রীফলতলা লস্কর পাড়ার ভুক্তভোগী গ্রাহক নাজমুল হোসেইন জানান, নতুন ট্রান্সফরমার এবং সংযোগের জন্য তাদের ৪৩ হাজার টাকা, পরিবহন খরচ বাবদ আরও ২ হাজার টাকা, মোট ৪৫ হাজার টাকা মাশুল দিতে হয়েছে। ওই এলাকায় মোট ১৮ জন গ্রাহক মিলে এই টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্য একটি স্পটের ভুক্তভোগী গ্রাহক দেলওয়ার হোসাইন মাস্টার জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় নতুন ট্রান্সফরমার ও সংযোগ বাবদ ২২ জন গ্রাহককে মোট ৪৫০৫৩ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। নিত্যানন্দপুর মাঠ পাড়াসহ চুরির ঘটনা ঘটেছে এমন অন্যান্য এলাকায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে এবং প্রতিটি স্থানে গ্রাহকদের কাছ থেকে সমপরিমাণ টাকা আদায় করা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এই একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ও এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে শ্রীফলতলা, লস্কর পাড়ায় সোহরাব মাস্টারের বাড়ির সংলগ্ন মাঠ থেকে ১টি, বড় শ্রীফলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকা থেকে ১টি, এবং নিত্যানন্দপুর মাঠ পাড়া এলাকা থেকে ২টি, সড়াবাড়িয়া থেকে ১টি, মোট ৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চোরেরা গভীর রাতে ট্রান্সফরমারগুলো থেকে মূল্যবান তামার তার ও কয়েল লুটে নিয়ে খালি বডিগুলো ফেলে রেখে যায়।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষক নজরুল লস্কর শাহাবুদ্দীন ও আজিজ লস্কর বলেন, "ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে রাতের আঁধারে, এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনের ব্যর্থতা। অথচ সেই ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের মতো খেটে খাওয়া কৃষক শ্রেণির মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। চোরের শাস্তি ও জরিমানা ভোগ করতে হচ্ছে আমাদের।" তারা আরও জানান, এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে গিয়ে দরিদ্র কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঋণী হয়ে পড়ছেন।
হঠাৎ করে এই বড় অঙ্কের আর্থিক খেসারত দিতে গিয়ে অনেক প্রান্তিক চাষি চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় ফসলের মাঠে পানি সেচ ব্যাহত হচ্ছে, যা চাষিদের আরও বড় চাষাবাদজনিত লোকসানের মুখে ফেলেছে।
আইনি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের প্রচলিত ‘বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮’ এর ৩৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা ট্রান্সফরমার চুরি ও বিনষ্ট করা একটি মারাত্মক এবং জামিনঅযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য অন্যূন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রীয় এই আইনে চোরকে শাস্তির স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও, গ্রাহকদের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের কোনো বিধান নেই। অথচ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাদের অভ্যন্তরীণ ‘গ্রাহক সেবা নির্দেশিকা’র দোহাই দিয়ে মাঠের পাহারার দায় কৃষকদের ওপর চাপাচ্ছে এবং নতুন ট্রান্সফরমারের মূল্যের ৫০ শতাংশ ও পরিবহন খরচ বাবদ বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে— যা প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হরিণাকুণ্ডু জোনাল অফিসের এজিএম মো. শাহরিয়ার পল্লব জানান, গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত বা নিয়মবহির্ভূত টাকা নেওয়া হয়নি। ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) নির্দেশনা ১০০-৩৫ এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ীই সম্পূর্ণ বৈধ রশিদের মাধ্যমে এই টাকা সরকারি কোষাগারে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (BREB) নীতিমালায় মাঠপর্যায়ের বা সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার পাহারার মূল দায়িত্ব স্থানীয় গ্রাহকদের ওপর থাকে এবং প্রথমবার চুরি হলে ট্রান্সফরমার মূল্যের ৫০ শতাংশ টাকা গ্রাহকদের বহন করার নিয়ম রয়েছে।
এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, এই চুরির ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। তবে এলাকার কৃষকদের আইনি সহায়তা দিতে এবং নতুন করে চুরি রোধ করতে টহল পুলিশকে আরও সক্রিয় থাকার ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃক কৃষকদের কাছ থেকে চুরির ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ফজলুর রহমানের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে, যেখানে তিনি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ভাইভায় ফোন করে চাকরির ব্যবস্থা করার কথা বলেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফের মাধ্যমে একটি বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফজলুর রহমানের মন্তব্য চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে মেধাভিত্তিক এবং প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনাস্থা সৃষ্টি করতে পারে। সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া অবশ্যই ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে মেধা, যোগ্যতা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
জকসু এ বিষয়ে বলেছে, দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের সামনে ব্যক্তিগত প্রভাবের মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া উদ্বেগজনক। সংগঠনটি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফজলুর রহমানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়াও, দেশের সকল নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা, যোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে জকসু।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ