রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৬ পি.এম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের জন্য ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে এই কর্মসূচির সূচনা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নিতে চুয়েটের ৯টি আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন। সেখানে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা হাতে ‘৫৬?’ লেখা লাল কাগজের প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেন। এ সময় তারা ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘একটি নাম, একটি সুর—সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা লাল কাগজের ‘৫৬?’ যেন তাদের একটিই প্রশ্নকে সামনে আনছিল—মাত্র ৫৬ দিনের দায়িত্ব পালনের পর কেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তন করা হলো। তাকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ছয় দিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে অবস্থান নেন। প্রশ্নযাত্রায় অংশ নেওয়া কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আয়েশা করিম সোহা বলেন, "মাত্র ৫৬ দিনের মধ্যে আমাদের ভিসিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। আজ ছয় দিন ধরে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের প্রশ্ন—এটা আর কত দিন চলবে? আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হোক। সায়েম স্যার ৫৬ দিন দায়িত্বে ছিলেন। এই সময়ে তিনি কী কী করেছেন, সেগুলো আমরা স্মরণ করছি। তার কাজ দেখে আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা চাই, তাকে আবার আমাদের ভিসি হিসেবে দেখতে।"
প্রশ্নযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় ‘৫৬ কর্ণার’ কর্মসূচি। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সময়ে চুয়েটের আধুনিকায়নে নেওয়া ১২টি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
পরে দুপুর ৩টায় শুরু হয় পথনাট্য। এতে মাত্র ৫৬ দিনের মধ্যে অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে পরিবর্তন এবং নতুন উপাচার্যের অনলাইনে যোগদানের ঘটনাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি গত ছয় দিনের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহও পথনাট্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তর প্রদেশে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের কারণে ভয়াবহ দুর্যোগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে রাজ্যটিতে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এই প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করেছে। এএফপির খবর অনুযায়ী, ২৪ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাসকারী উত্তর প্রদেশ ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হিসেবে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেখানে নিয়মিত কালবৈশাখী ও অতিবৃষ্টি হয়ে থাকে।
রাজ্যের ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অতিভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ৫৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ স্থলভাগে প্রবেশ করায় পুরো অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এক হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অফিস গত কয়েক বছর ধরে তীব্র বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির বৃদ্ধি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে রাজ্যে গড়ে ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ বছরের এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের গড় মাত্র ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। কলেজ ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে নবীন শিক্ষার্থীদের আগমনে, যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়।
নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শাখাভিত্তিক নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং তাদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের শখ, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথাও শোনা হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এইচ. এম. হাসান জাকির নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি এ. পি. জে. আবদুল কালামের একটি উক্তি তুলে ধরে বলেন, "মানুষ যেটা ঘুমিয়ে দেখে, সেটা স্বপ্ন নয়; মানুষ যেটা জেগে দেখে, সেটাই স্বপ্ন।" শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়নে নিয়মিত পড়াশোনা করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সময় ভাগ করে কীভাবে পড়াশোনা করতে হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শও দেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের একে একে তাদের শখ ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা শোনেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ অ্যাডভোকেট, কেউ পাইলট, কেউ নার্স, কেউ সমাজসেবক, আবার কেউ ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্নের কথা জানায়। এক শিক্ষার্থী জানান, পড়াশোনা শেষ করে তিনি অ্যাডভোকেট হতে চান এবং তার শখ বই পড়া। অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তার শখ ভ্রমণ করা।
ইংরেজি বিভাগের লেকচারার মো. ইমদাদুল হক নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করার এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা পারভিন নবীন শিক্ষার্থীদের বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শামসুন্নাহার নবীন শিক্ষার্থীদের কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি নিয়মিত ক্লাস, পড়াশোনা ও সিটি পরীক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কলেজের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান ও মানসম্মত পাঠদান করবেন বলে জানান তিনি। নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে ভালো ফলাফল করার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
এরপর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, "তোমরা এই কলেজে ভর্তি হয়ে আমাদের ধন্য করেছ। এখন ভালো ফলাফল করে তোমরাই নিজেদের ধন্য করবে।" তিনি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ঐতিহ্য ও সুনামের কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। কলেজের নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেন।
কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী নবীন শিক্ষার্থীদের বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, "তোমরা আজ থেকে এই কলেজের শিক্ষার্থী। উচ্চমাধ্যমিকের সময়টা খুবই সামান্য। চোখের পলকে সময় চলে যাবে।" তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার, নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা ও সুস্থ থাকার পরামর্শ দেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, "বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার স্বপ্ন ছিল। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।" অন্য এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, "আমার পরিবার হয়তো আমাকে এত দূর পড়তে দিতে চাইত না। কিন্তু এখানে পড়ার ইচ্ছা ছিল, তাই ভর্তি হয়েছি।" নবীন শিক্ষার্থী ফারহানা আখি বলেন, "আজকের দিনটা খুবই ভালো কেটেছে। নতুন অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তাদের কথাগুলো ভালো লেগেছে। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাগুলো শুনে একটু ভয়ও লাগছে—এখানে মানিয়ে নিতে পারব তো? অনেক আশা নিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছি। খুব আনন্দ লাগছে।"
একজন অভিভাবক বলেন, "মেয়ের স্বপ্ন ছিল এই কলেজে পড়া। আলহামদুলিল্লাহ, তাকে এখানে ভর্তি করাতে পেরেছি। আশা করছি, সে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে ভালো ফলাফল করবে এবং ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা।"
নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। নবীনদের প্রাণচাঞ্চল্যে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বিষধর কালাচ সাপের ছোবলে আক্রান্ত হয়েছেন যখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে অংশ নেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘প্রশাসন কী করে, আমার ভাইকে সাপে কাটে’, ‘প্রশাসনের প্রহসন, মানি না, মানব না’, ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার ভাইকে সাপে কাটে, প্রভোস্ট কী করে’ ইত্যাদি স্লোগান শোনা যায়।
জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আশিক এ সময় বলেন, "আমাদের তিনটি যৌক্তিক দাবি ছিল। প্রথমত, আমাদের হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। ড্রেনগুলো যথাযথভাবে পরিষ্কার ও সংস্কার করা প্রয়োজন। আমাদের হলটি সীমানার দিকে হওয়ায় এখানে জঙ্গলের পরিমাণ বেশি। হলে একটি ইলেকট্রিক মেশিন দিয়ে নিয়মিত জঙ্গল পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা উচিত।"
তিনি আরও যোগ করেন, "যেহেতু আমাদের হলটি অনেক পুরোনো, সে ক্ষেত্রে হলের অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই খারাপ। এ বিবেচনায় আমাদের দাবি ছিল স্নেকনেট লাগানো। এই তিনটি দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মানববন্ধন থেকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ঘেরাও করেছি।"
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, "যে হল প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যাকে ইগনোর করেন, সেই প্রভোস্টকে বলতে চাই, শিক্ষার্থীরা সাপে কাটার ভয় নিয়ে হলে অবস্থান করতে পারেন, আর আপনি কেন সেই সাপের ভয় পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারেন না?"
তিনি আরও বলেন, "এর আগেও মশারির ওপর এই বিষধর কালাচ সাপ পাওয়া গেছে। এখন সাপ ঢুকে শিক্ষার্থীদের কামড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বারবার বলার পরও হল প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।"
এর আগে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শামসুজ্জোহা হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলামের পায়ে কালাচ সাপ কামড় দেয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে পাঠান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে।
এ মানববন্ধন রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে জকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ মানববন্ধনে বলেন, "৫ আগস্টের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার বৈষম্য বন্ধ করে জনবান্ধবভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা না করলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"
পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, "বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিপ্রার্থীরা ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানির অভিযোগ করছেন। রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে কোনো প্রার্থী যেন চাকরিতে বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।"
আরিফ আরও বলেন, "আপনারা যদি নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত না নেন, তাহলে ক্যাম্পাসগুলো থেকে যেভাবে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন হয়েছিল, আপনাদের বিরুদ্ধেও সেরকম আন্দোলন তৈরি হতে পারে।"
জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, "শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। সঠিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে গেলে শিক্ষার্থীরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।"
তিনি আরও বলেন, "মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।"
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে চাকরিপ্রার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ