০৭:৪৮ পি.এম
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান হঠাৎ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটেনি বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘নিউটনের আপেলের মতো গণ-অভ্যুত্থান অটোমেটিক পড়েনি। নাহিদ ইসলামদের মতো তরুণেরাই এই গণ-অভ্যুত্থান সফল করেছে। আমি তরুণ নাহিদের মধ্যে আমার নিজের দুরন্ত তরুণ বয়সের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।’
বুধবার (৫ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মেরামত ও সংস্কারের প্রসঙ্গ বিরোধী দলও উল্লেখ করছে। তবে এসব পরিবর্তন ও সংস্কার অবশ্যই সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই আসতে হবে। আসুন, সংবিধানের ভেতরে থেকে কীভাবে রাষ্ট্রকাঠামোর মেরামত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা যাক। একই সাথে, জুলাইয়ের অর্জিত কৃতিত্ব যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে এবং গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
একই অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের সংস্কার ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান সংসদ এখন পর্যন্ত জনগণের মধ্যে আশার আলো ছড়াতে পারছে না। পুরোনো শাসন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর ভর করে সমাজকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন না আনলে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন ঘটবে না।
জাতীয় অনুষ্ঠানের সর্বজনীনতা রক্ষা এবং বিভিন্ন স্থানে অনভিপ্রেত ঘটনার বিষয়ে নিজেদের উষ্মা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘জুলাই শহীদ আবু সাঈদের ছবি প্রামাণ্যচিত্রে না থাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশি অতিথিদের চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ জাতীয় অনুষ্ঠানে বেশ কিছু বিব্রতকর ঘটনা ঘটেছে, এতে আমরা সবাই বিব্রত। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশের বিভিন্ন জেলাতেই এ ধরনের বিভাজন লক্ষ করা গেছে, যা কারো জন্য কাম্য নয়।’
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো দলমত নির্বিশেষে সর্বজনীন হওয়া প্রয়োজন। বক্তব্য ও ইতিহাসে যদি সর্বজনীনতা থাকে, তবেই সবাই এর অনুগ্রহ অনুভব করতে পারবে। কিন্তু জাতীয় অনুষ্ঠানে দলীয় ইতিহাস বা একক ন্যারেটিভ প্রচার করা হলে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের অংশগ্রহণের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থান মূলত জনগণের, তাই এর কৃতিত্ব জনগণকেই ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা এমন পরিবেশ চাই, যেন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় দিবসগুলো উদ্যাপন করতে পারি।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন