বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৪ পি.এম
আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সোনার দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সোনার দামে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার ফলে মূল্যবান ধাতুটির দরপতন সীমিত আকারে ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্পট সোনার দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮১ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে এসেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরের সরবরাহের সোনার ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল। প্রতি আউন্সের দাম ছিল ৪ হাজার ৩১৭ দশমিক ৫০ ডলার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হলে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। এর ফলে ফেডের কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশা সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণে সোনার দামে কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। এই কারণে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধের জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসানের সই করা একটি বার্তায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে, দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে এসব কমিটি গঠন করা হবে।
শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি এবং জুয়া সম্পর্কিত ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, সদস্য সংখ্যা, দায়িত্ব এবং কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়ের বার্তায় উল্লেখ করা হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রামু উপজেলার বাঁকখালী নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. শাহীন (১৫) রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকার প্রবাসী নুরুল আমিনের পুত্র এবং মনসুর আলী সিকদার আইডিয়্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে শাহীন বাদামতলী মাঠে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ফুটবল খেলছিল। খেলা শেষে শাহীন ও তার তিন বন্ধু পাশের বাঁকখালী নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে শাহীন পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা নদীতে নেমে দীর্ঘ সময় ধরে তার খোঁজ করতে থাকে, কিন্তু শাহীনের সন্ধান মেলেনি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে আজ সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দল সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে রামু ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার আব্দুল কাদের চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথমে রামু ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালান। তবে টিমে ডুবুরি না থাকায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে একটি ডুবুরি দলকে আনা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ওয়েবসাইটে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের এমএ কোর্সে ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এই শিক্ষাবর্ষে MA in English Literature এবং MA in English Language Teaching (ELT)—এই দুটি কোর্সে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। লিখিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০ নভেম্বর; সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত English Literature এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ELT কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৫ নভেম্বর।
আগ্রহী প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। আবেদন ফি ১ হাজার টাকা, যা সোনালী ব্যাংকের মাভাবিপ্রবি শাখার নির্ধারিত হিসাবে জমা দিয়ে রসিদসহ আবেদনপত্র ইংরেজি বিভাগে জমা দিতে হবে।
ভর্তি যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, ইউজিসি স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর ন্যূনতম সিজিপিএ ২.২৫ থাকতে হবে এবং ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে স্নাতক সম্পন্নকারীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
প্রতিটি কোর্সে ৩০টি করে আসন রয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি ও পোষ্য কোটার জন্য ২টি করে আসন সংরক্ষিত থাকবে; বাকি ২৮টি আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সাক্ষাৎকার, চূড়ান্ত মেধাতালিকা এবং ভর্তি-সংক্রান্ত পরবর্তী সময়সূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ইংরেজি বিভাগের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শৈশবের সংজ্ঞা হলো খেলতে খেলতে শেখা, নতুন কিছু জানার আগ্রহ এবং নিজের মতো করে পৃথিবীকে চেনা। কিন্তু বৈষম্য, দারিদ্র্য ও শিক্ষার সুযোগের অভাবে অনেক শিশুর শৈশব থমকে যায়। শিশুদের এই বাস্তবতা ও অধিকারকে সহজ গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছিল মীনা নামের কার্টুন চরিত্র। দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের কাছে মীনা শুধুমাত্র বিনোদনের চরিত্র নয়, বরং সচেতনতার পরিচিত মুখ হিসেবেও পরিচিত।
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস। প্রতিবছর দিবসটি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অধিকার ও সমতার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পালিত হয়।
মীনার জন্ম যেভাবে
১৯৯০ থেকে ২০০০ সালকে ‘মেয়েশিশুর দশক’ হিসেবে ঘোষণা করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। ওই সময় মেয়েশিশুদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জাতিসংঘের শিশু তহবিল একটি কার্টুনভিত্তিক ধারাবাহিক তৈরির উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগ থেকেই মীনা চরিত্রের জন্ম হয়।
মীনা একটি নয় বছর বয়সী মেয়ে। তার সঙ্গে রয়েছে ছোট ভাই রাজু এবং পোষা টিয়াপাখি মিঠু। মীনার গল্পে উঠে এসেছে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া, শিশুর অধিকার, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো বিভিন্ন বিষয়।
মীনা কখনো স্কুলে যাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে, কখনো মেয়েশিশুর প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। আবার কিছু গল্পে স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ পানি কিংবা পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। গুরুতর এসব বিষয়কে শিশুদের জন্য সহজ গল্পে উপস্থাপন করা ছিল মীনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ফলে বিনোদনের মাধ্যমে শিশুদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা পৌঁছে যেত।
বাংলাদেশে মীনার যাত্রা
বাংলাদেশে মীনা কার্টুনের প্রথম পর্ব প্রচারিত হয় ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ‘মুরগিগুলো গুনে রাখো’ নামের ওই পর্বে স্কুলে যাওয়ার জন্য মীনার সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছিল।
এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই মীনা পরিচিত হয়ে ওঠে। কার্টুনের পাশাপাশি কমিক বই, বেতার অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও ছড়িয়ে পড়ে তার গল্প। টেলিভিশনের পর্দা পেরিয়ে শিশুদের শেখার জগতেরও অংশ হয়ে ওঠে চরিত্রটি।
দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জনপ্রিয়তা
মীনার জনপ্রিয়তা শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ভাষায় প্রচারিত হয়েছে তার গল্প। ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির শিশুদের কাছে মীনার গল্প সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। কারণ গল্পগুলোর বিষয় ছিল তাদের পরিচিত জীবনের নানা সমস্যা।
মেয়েশিশুর শিক্ষা, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং বৈষম্যের মতো বিষয় নিয়ে মীনার গল্প শিশুদের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও ভাবিয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশোনার অধিকার ও সমতার বার্তা ছিল এই চরিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
কেন ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস
১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস পালিত হয়ে আসছে। মেয়েশিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর এ দিবসে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে মীনা দিবস শুধুমাত্র একটি কার্টুন চরিত্রকে মনে করার দিন নয়। এটি একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে আনে।
সময় বদলেছে, বদলায়নি মীনার বার্তা
মীনার যাত্রা শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। এর মধ্যে শিশুদের জীবনযাপন ও বিনোদনের মাধ্যম অনেক বদলে গেছে। টেলিভিশনের পাশাপাশি এখন স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে শিশুরা সময় কাটায়।
তবে মেয়েশিশুর শিক্ষা, বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম, স্বাস্থ্য কিংবা বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো এখনো আলোচনার বাইরে যায়নি। সেখানেই মীনার গল্পের প্রাসঙ্গিকতা।
সময় ও মাধ্যম বদলালেও একটি শিশুর স্কুলে যাওয়ার অধিকার, নিজের মত প্রকাশের সুযোগ এবং নিরাপদ শৈশবের প্রয়োজন বদলায়নি।
মীনা তাই শুধুমাত্র পর্দার একটি কার্টুন চরিত্র নয়। অনেক শিশুর কাছে সে সাহস করে প্রশ্ন করতে শেখার এক পরিচিত বন্ধু। মীনা দিবস সেই বার্তাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—কোনো শিশুর স্বপ্ন যেন তার লিঙ্গ, পারিবারিক অবস্থা কিংবা সামাজিক পরিচয়ের কারণে থেমে না যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ