ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলকাতায় মারা গেলেন সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রোটন


কলকাতায় মারা গেলেন সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রোটন

ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শনিবার সকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রোটনের মৃত্যুর খবর জানান। তিনি একই সঙ্গে রোটনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

শোকবার্তায় আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রোটনের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। ১৯৯৬ সালের আন্দোলনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রামে একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতিও তিনি স্মরণ করেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

রোটনের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম আরও লেখেন, তিনি মুজিবাদর্শের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় রোটন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

আমিনুল ইসলাম তার স্ট্যাটাসে রোটনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

এর আগে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ৪ অক্টোবর রাতে রোটনকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছিল। তিনি দুই বছরের বেশি সময় ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ের সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করা রোটন পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় হন। চট্টগ্রামের রাউজানের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত হন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের সর্বোচ্চ ডেঙ্গুর সংক্রমণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের সর্বোচ্চ ডেঙ্গুর সংক্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে মশার মাধ্যমে ছড়ানো ডেঙ্গুতে প্রায় ৩০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই ট্যাম্পা শহরের নিকটবর্তী হিলসবোরো কাউন্টির বাসিন্দা। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ওই এলাকা এবং আশপাশের কয়েকটি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সীমিত তথ্য রয়েছে। তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য এবং চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অন্তত ১৯৪০-এর দশকের পর কোনো অঙ্গরাজ্যে এক বছরে এত বেশি স্থানীয় সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সাধারণত ফ্লোরিডাতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। তবে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ সংক্রমণের বছর ছিল। ওই বছর রাজ্যটিতে স্থানীয়ভাবে ছড়ানো ডেঙ্গুতে প্রায় ২০০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নয়, তবে দেশটির অধীন পুয়ের্তো রিকোতে নিয়মিত ডেঙ্গুর বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা সাধারণত ৫০টি অঙ্গরাজ্যের যেকোনোটির চেয়ে অনেক বেশি।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ট্যাম্পা এলাকায় দিন-রাত মশা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়িঘর এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা যায়।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা নির্দিষ্ট প্রজাতির মশার কামড়ে ছড়ায়। আক্রান্ত অনেকের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কারও কারও জ্বর, ফ্লুর মতো উপসর্গ এবং শরীর ও হাড়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে। অসহনীয় ব্যথার কারণে রোগটি ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ নামেও পরিচিত। গুরুতর অবস্থায় রক্তক্ষরণ, শারীরিকভাবে শক তৈরি হওয়া এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

চলতি বছর ফ্লোরিডায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর ট্যাম্পার এক বয়স্ক নারী মারা যান। হিলসবোরো কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কার্লা ফ্রাই জানিয়েছেন, ট্যাম্পা এলাকার কয়েকজন আক্রান্তকে জ্বর ও পানিশূন্যতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন রয়েছে। প্রথমবার আক্রান্ত হলে শরীরে ওই ধরনের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আগের সংক্রমণের কারণে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি সব সময় নতুন ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে না। বরং কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসের শরীরে প্রবেশ ও বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে কার্যকর টিকা তৈরি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্যাম্পা এলাকার অধিকাংশ মানুষের ডেঙ্গুর কোনো ধরনের বিরুদ্ধেই আগে থেকে প্রতিরোধক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছেন তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেঙ্গুবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডন ওয়েসন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু ছড়ানো মশার বিস্তৃতি বাড়ছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে ডেঙ্গুর অধিকাংশ সংক্রমণ হতো বিদেশ ভ্রমণ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে। তবে ২০০৯ ও ২০১০ সালে ফ্লোরিডার কি ওয়েস্টে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়। ১৯৪৫ সালের পর টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এটিই ছিল স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের প্রথম ঘটনা।

এরপর কোনো অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায় হাওয়াইয়ে। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ছয় মাসে সেখানে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে ২৬৪ জন আক্রান্ত হন। এবার ট্যাম্পা এলাকার সংক্রমণ সেই সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুতে ২২ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ বছর স্থানীয়ভাবে ছড়ানো ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই পুয়ের্তো রিকোর বাসিন্দা।

ফ্লোরিডায় সাধারণত মায়ামি অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। কিন্তু এবার ট্যাম্পা এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভ্রমণের ধরন পরিবর্তনের কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে।

গত সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন ২৫২ জন, আর ভ্রমণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংক্রমণের সংখ্যা ২৪৫। অর্থাৎ, স্থানীয়ভাবে ছড়ানো সংক্রমণ এবার ভ্রমণজনিত সংক্রমণকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে হিলসবোরো কাউন্টিতে অন্তত ১৩ জন ভ্রমণকারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ ছাড়া কেন্দ্রীয় সংস্থাটির রোগ তদন্তকারীরা সরাসরি সেখানে যেতে পারেন না। ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এখনো তাঁদের আসার অনুরোধ জানায়নি। তবে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগকে ৮ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি। এ অর্থ জনসচেতনতা, পরীক্ষাগারের পরীক্ষা এবং মশা দমনের কাজে ব্যবহার করা হবে। ট্যাম্পা এলাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সহায়তার অর্থ স্থানীয় পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকা জরুরি। দিনের যেকোনো সময় ডেঙ্গুবাহী মশা কামড়াতে পারে। তাই মশা প্রতিরোধক ব্যবহার, ঢিলেঢালা লম্বা হাতার পোশাক ও লম্বা প্যান্ট পরা এবং জানালায় জাল লাগানো ঘর বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকা উপকারী। সূর্যোদয়ের পরপর এবং সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়ে মশার সক্রিয়তা বেশি থাকায় এ সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

এছাড়া বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলতে হবে। পুরোনো টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে মশা বংশবিস্তার করতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞ ডন ওয়েসনের আশঙ্কা, জলবায়ুর পরিবর্তন ও মশার স্থায়ী উপস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিই ভবিষ্যতে নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে ওঠার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: এপি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালদ্বীপে নতুন কর্মজীবন শুরু করতে গিয়ে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


মালদ্বীপে নতুন কর্মজীবন শুরু করতে গিয়ে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

নতুন কর্মজীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন আব্দুল গাফফার (৪২)। তবে বিদেশের মাটিতে পৌঁছানোর পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই স্ট্রোকের কারণে তার মৃত্যু ঘটে। বিদেশে গিয়ে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, কিন্তু তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নিহত আব্দুল গাফফার দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেত্রাহাট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতার নাম মো. আবু বক্কর মণ্ডল।

পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মালদ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হন গাফফার। সেখানে পৌঁছানোর পর রাতে খাবার খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। তবে কক্ষে থাকা অন্যদের আশ্বস্ত করে আবার ঘুমিয়ে যান।

পরদিন, ৭ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে ডাকাডাকি করেও তার সাড়া না পেয়ে কক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মালিককে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের মতে, স্ট্রোকের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

গাফফারের নিকটাত্মীয় মো. আল আমিন জানিয়েছেন, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় তিনি ধারদেনা করে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন। কিন্তু উপার্জন শুরু করার আগেই তার মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এদিকে, গাফফারের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে হাইকমিশন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে ৭ মাসের সংসারের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


বরিশালে মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে ৭ মাসের সংসারের অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ তুহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি একজন বিবাহিত নারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে বসবাস করছেন। স্থানীয়রা ওই ইমাম ও নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে পুলিশ জানায়, কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এটি ঘটেছে বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে। অভিযুক্ত ইমাম আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের বিয়ে হয় পাশের গ্রামের এক নারীর সঙ্গে। এরপর পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় তিনি ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রথম স্ত্রীর বড় ভাইয়ের অভিযোগ, তুহিন এর আগে মজিদপুর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালনকালে ওই মসজিদের পাশের বাড়ির বিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে ওই নারী তার স্বামীর সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওই নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে আসেন এবং সেখানে একটি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তারা স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।

বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তুহিনের প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে দুজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয়রা মসজিদের ইমাম ও এক নারীকে আটক করার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পরে কলাপাড়া থেকে আসা ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। উভয় পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিন দাবি করেন, নারীর সঙ্গে তার মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তবে এ সময় তিনি বিয়ের কোনো কাবিননামা বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সচিব হলেন ট্রাম্পের ‘অনুগত’ কেটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সচিব হলেন ট্রাম্পের ‘অনুগত’ কেটি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, হোয়াইট হাউসের নতুন মুখপাত্র বা প্রেস সচিব হিসেবে রক্ষণশীল ধারার ভাষ্যকার কেটি জাকারিয়া নিয়োগ পেয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই খবর জানিয়ে দেন। ট্রাম্প কেটির প্রতি তার আস্থা প্রকাশ করে তার আনুগত্য ও সমর্থনের প্রশংসা করেন।

ট্রাম্প উল্লেখ করেন, "শুরু থেকেই কেটি তার একজন বিশ্বস্ত ও মেধাবী সমর্থক।" তিনি তার সমর্থনের রেকর্ডকে প্রশ্নাতীত বলে উল্লেখ করেন। কেটি ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের একজন নিবেদিত সমর্থক। নতুন মুখপাত্র হিসেবে তিনি দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তার মতে, সংবাদমাধ্যম, মার্কিন জনগণ ও প্রশাসনের সঙ্গে কেটির ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি সবার সঙ্গে চমৎকারভাবে কাজ করতে সক্ষম হবেন।

ট্রাম্প কেটিকে শুভকামনাও জানিয়েছেন। এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, কেটিকে এ পদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গত আগস্টের শেষ দিকে ক্যারোলিন লিভিট দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের পদটি শূন্য ছিল। গত ৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে হোয়াইট হাউসের জেমস এস ব্র্যাডি সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের জন্য আর কোনো নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সেদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেটি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণের সেবা করার সুযোগ তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান।

তিনি আরও জানান, প্রশাসনের প্রতিদিনের অর্জনগুলো মার্কিন জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং দেশের জন্য ভালো ফল নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে নেওয়াই হবে তার লক্ষ্য। হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের পাশাপাশি সারা দেশের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও তিনি প্রকাশ করেন।

সাবেক মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিটের প্রশংসা করে কেটি বলেন, তার উত্তরসূরি হওয়া একটি বড় মানদণ্ড পূরণের মতো বিষয়। তবে সেই মানদণ্ড অর্জন করার মতো কাজ করতে তিনি প্রস্তুত।

ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী কেটি জাকারিয়া পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও আইনে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগে অল্প সময়ের জন্য মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও ট্রাম্পকে সহায়তা করেছিলেন তিনি।

ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা কেটি আগেও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি স্থানীয় একটি ব্যায়ামাগারে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা টুপি পরা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

কেটির ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যায়ামাগারটির মালিক শেষ পর্যন্ত তাকে ওই টুপি না পরার অনুরোধ জানান। জবাবে কেটি লিখেছিলেন, বামপন্থীদের সন্তুষ্ট করতে তিনি কখনোই ট্রাম্পের টুপি খুলবেন না। তার মতে, এটি প্রকাশ্য অসহিষ্ণুতার উদাহরণ এবং ব্যায়ামাগারের দরজায় এসে বাকস্বাধীনতার অধিকার শেষ হয়ে যায় না।

তিনি আরও লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে অস্বস্তির কারণে বাকস্বাধীনতা সীমিত করার কোনো বিধান নেই। তবে সংবিধানের এই সংশোধনী মূলত সরকারের পক্ষ থেকে মতপ্রকাশে বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়; বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই সুরক্ষা সরাসরি প্রযোজ্য নয়।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%