০৮:০৩ পি.এম
পঞ্চগড়ে উজান থেকে নেমে আসা বর্ষার পানির প্রবল ঢলে শত শত বিঘা ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। পানির তোড়ে আবাদি জমি ভেঙে নালায় পরিণত হওয়ার কারণে স্থানীয় কৃষকরা চরম সংকট ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, ফসলি জমি রক্ষায় বিভিন্ন সরকারি দফতরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করার পরও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লাঠোয়াপাড়া এলাকায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকার শত শত বিঘা জমি চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।
জানা গেছে, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় গত পাঁচ বছর ধরে লাঠোয়াপাড়া এলাকার শতাধিক কৃষক কৃষিজমি ভাঙনের শিকার হচ্ছেন। প্রতি বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল ঢলে তীব্র স্রোত এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় একের পর এক আবাদি জমি জলাভূমিতে পরিণত হচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ বিঘা আবাদি জমি পাশের নালা ও খালে বিলীন হয়ে গেছে, ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনের কারণে শুধু চলতি মৌসুমের ফসলই নষ্ট হচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতেও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দফতরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হলেও এখনও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী মহিমদ্দীন ও মফিজুল হক বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের আবাদের জমি ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এটা দেখার কেউ নেই। ইতোমধ্যে অনেক জমি হারিয়েছি। বাকি জমি নিয়ে এখন আমরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছি।’
তারা আরও জানান, বর্ষা মৌসুমের এই ভাঙনের কারণে আশপাশের জমিতেও আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যা সমাধানে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, ‘পানির চাপে জমি ভেঙে নালায় পরিণत হচ্ছে। এলাকার স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
স্থানীয় উপাত্ত অনুযায়ী, বর্তমানে লাঠোয়াপাড়াসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ৩০০ কৃষকের অন্তত ২০০ বিঘা আবাদি জমি তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হলে আরও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন