ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিশিগানে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন


মিশিগানে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন

ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভাজন ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ— এই দুটি বিষয় নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মিশিগানের অবসরপ্রাপ্ত গাড়ি কারখানার দুই কর্মী মাইক ও রিচের বাড়ির মধ্যে দূরত্ব মাত্র কয়েক সেকেন্ড। তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ফারাক।

আরও পড়ুন: সৌদিতে আরামকো তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় নিহত ২, আহত ২

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারণ হবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।

মিশিগানে সিনেট আসনের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন বামপন্থী ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক আবদুল এল-সাইয়েদ এবং ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। জনমত জরিপে দুই প্রার্থী প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছেন।

৬৭ বছর বয়সী মাইক, ক্রাইসলার গাড়ি কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ এবং এ যুদ্ধের জন্য করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করছে।

মাইক মন্তব্য করেন, ‘রিপাবলিকানরা যদি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তাহলে এই লোক (ট্রাম্প) আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। তিনি নিজেকে গ্যাংস্টার মনে করেন।’

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার শঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি

অন্যদিকে, মাইকের প্রতিবেশী রিচ ডিমিশেলের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি ইরান ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদের অবস্থানকে দুর্বল মনে করে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করছেন।

ইতালির পতাকাসংবলিত টুপি পরা রিচ বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করছি, আবদুল যেন নির্বাচিত না হন। এমন একজনকে আমি কোনোভাবেই ভোট দেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে তিনি একজন মুসলিম, আর তিনি আমেরিকাকে ঘৃণা করেন। তাকে ওই পদে বসানো মানুষের সবচেয়ে বোকামির কাজ হবে।’

এল-সাইয়েদ, যিনি ইসরাইলের কড়া সমালোচক, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রিচ। তার আশা, এই অবস্থানের কারণে নির্বাচনে এল-সাইয়েদকে মূল্য দিতে হবে।

আরও পড়ুন: হঠাৎ ইসরাইলে পিট হেগসেথ, নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর কারণ

তবে ইরানের যুদ্ধ মাইকের পরিবারের জন্যও উদ্বেগের কারণ। মাইকের ছেলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত। ওই অঞ্চলে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে ২০ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মাইক বলেন, ‘আমার করের টাকা কোনো অসহায় পরিবারের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হোক, সেটাই আমি চাই। কোনো বখাটের পকেটে যাক, তা চাই না। অথচ এখন আমার টাকা সেখানেই যাচ্ছে। এর খরচ কে বহন করছে? আমি করছি। প্রতিবার মুদি দোকানে গেলে আমাকে এর মূল্য দিতে হয়, প্রতিবার গ্যাস কিনতে গেলেও দিতে হয়।’

নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে কতটা তীব্র আবেগ তৈরি হয়েছে, তা বোঝা যায় মাইকের আচরণেও। বহু বছর ধরে ফোন ধরেন না বলে দাবি করা এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মী নিজের পদবি প্রকাশ করতেও রাজি হননি।

‘আমি ট্রাম্পের সমর্থক নই’

আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার আইনপ্রণেতার ওপর ‘পরিকল্পিত’ হামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির

৭৮ বছর বয়সী রিচও ক্রাইসলারের সাবেক কর্মী। তার অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা তার মতো বয়স্ক ভোটারদের অবহেলা করছে এবং তরুণ ও অভিবাসী পরিবারের ভোটারদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

রিচ বলেন, ‘তারা চায় অবৈধ অভিবাসীরা এসে ভোট দিক।’

মিশিগানের এই নির্বাচনী লড়াইয়ে দুই দলই বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে আরও কঠোর প্রচারবিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।

২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সমর্থন করলেও ২০২৪ সালে মিশিগানের ভোটাররা অল্প ব্যবধানে ট্রাম্পকে জয়ী করেছিলেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনেও অঙ্গরাজ্যটির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধিতায় ইসরায়েলের মূলধারার দলগুলোর ঐক্য

ওয়ারেন শহরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ৩২ বছর বয়সী মরিস স্টার। তিনি ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স (ইউএডব্লিউ) শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এবং পেশায় বীমা খাতের কর্মী।

ইউনিয়নের সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় তিনি ধৈর্য ধরে ভোটারদের অভিযোগ শুনছেন। এ সময় আশপাশে অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রোন উড়ছিল, আর বাড়ির মালিকরা নিজেদের উঠোনের পরিচর্যা করছিলেন।

স্টার বলেন, ‘আমরা এই বাড়িতে এবং এর আগের বাড়িতেও যা শুনেছি, তাতে মনে হয়েছে, মানুষ মনে করছে দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ প্রশ্ন করছে, তাহলে আমি ভোট দেব কেন? এ কারণেই আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা আশা করছি, এসব নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটাতে পারব।’

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বোমাবর্ষণে দুই শিশুসহ ৭ নিহত

স্টারের হাতে ছিল মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে ইউনিয়ন-সমর্থিত প্রার্থীদের পরিচিতি-সংবলিত প্রচারপত্র। এর মধ্যে সিনেট নির্বাচনও রয়েছে।

তার সঙ্গে প্রচারে অংশ নেওয়া ৪৫ বছর বয়সী রব ব্যাংকস জেনারেল মোটরসের একটি বডি শপের টিম লিডার। তিনি ইউনিয়নের সক্রিয় ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের তালিকা ধরে ফোন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যাতে তাদের ইউনিয়ন-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে যুক্ত করা যায়। এসব প্রার্থীই ডেমোক্র্যাট দলের।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ :

ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও ভোটারদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে।

৮৫ বছর বয়সী সু অ্যাডামস্কি বলেন, ‘প্রতি মাসে যে সামান্য টাকা পাই, তার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, গ্যাসের দামও বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘না, পরিস্থিতি কঠিন। এভাবে বলতে পারেন, আমি ট্রাম্পের সমর্থক নই। ১৫ বছর আগেও তাঁকে পছন্দ করতাম না, এখনো করি না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: বিএআরসির সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকির গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: বিএআরসির সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকির গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মাদারীপুরের রাজৈর থানার বদরপাশা এলাকা থেকে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরো পড়ুন

বার্সেলোনা পিএসজির বিরুদ্ধে উয়েফার কাছে নালিশ করেছে ব্যানার নিয়ে।

সিআইডির সাইবার পুলিশ ইউনিটের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এসআরবি-৩ এর মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীসহ সাতজনকে আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সাতজনের মধ্যে পাঁচজন সরকারি কর্মচারী।

এছাড়া, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ ইসরাইলে পিট হেগসেথ, নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ পি.এম


হঠাৎ ইসরাইলে পিট হেগসেথ, নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর কারণ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইল সফর করেছেন এবং সেখানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকা একটি বিমানঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, গত সোমবার দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সফর সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ওই ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন রয়েছে।

বৈঠকে ইরান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিন ইসরাইলি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয় বা কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরকার।

এ সফর ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের মাত্র আট দিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফরের এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনে নেতানিয়াহু বলেন, দুই মিত্রের কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘ডোনাল্ড, আমাদের একটি কাজ শেষ করতে হবে। আপনি এ কথা বলেছেন, আর আমরা একসঙ্গে তা শেষ করব।’

নতুন হামলার প্রস্তুতি কি?

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ায় ওয়াশিংটন ও ইসরাইল নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

তবে নতুন হামলার জন্য কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে আসার অবস্থানে রয়েছে। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে তিনি আরেকটি বড় ধরনের হামলা চালাতে চান না। ট্রাম্পও বলেছেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না।

দুই নেতার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট হয়েছে। ওয়াশিংটন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপের পথে এগোবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়।

কেন বিমানঘাঁটিতে বৈঠক?

ওভদা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন থাকায় বৈঠকের স্থানটি বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে। দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে যুদ্ধবিমান দীর্ঘ সময় উড়তে এবং দূরের লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালাতে পারে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারের পরিবর্তে একটি ব্যক্তিগত বিমানে ওভদা বিমানঘাঁটিতে যান। সংবাদমাধ্যমটি বৈঠকটিকে ব্যতিক্রমী দীর্ঘ বলেও উল্লেখ করেছে।

তবে বিমানঘাঁটিতে বৈঠক হওয়া কিংবা সেখানে যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকাই নতুন হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ নয়।

হেগসেথের এই আকস্মিক ইসরাইল সফর এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে বৈঠকের উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না আসা পর্যন্ত ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হারিয়ে বার্সেলোনার টানা ১১ ম্যাচের জয়যাত্রা থামল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ পি.এম


পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হারিয়ে বার্সেলোনার টানা ১১ ম্যাচের জয়যাত্রা থামল

পিএসজি এবং বার্সেলোনার মধ্যে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি ছিল পাল্টাপাল্টি গোল এবং শেষের দিকে দাপটের সাক্ষী। ফরাসি ক্লাবটির কাছে ৪-২ গোলে পরাজিত হয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। এই পরাজয়ের ফলে সব প্রতিযোগিতায় টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর মৌসুমের প্রথম হার পেল বার্সেলোনা।

প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে ম্যাচটি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল পিএসজির। যদিও তারা বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে স্বাগতিকদের সফলতা আসেনি। ৩৮ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলের মাধ্যমে পিএসজি এগিয়ে যায়। বার্সেলোনার লামিন ইয়ামালের পাস আটকে পিএসজি দ্রুত আক্রমণে যায় এবং বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করেন দুয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে আশরাফ হাকিমির সুযোগ আটকে দেন বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া, যা তাদের ম্যাচে ধরে রাখে। এরপর ৬০ মিনিটে তরুণ জাভি এসপার্তের গোলের মাধ্যমে বার্সেলোনা সমতায় ফেরে। এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার প্রথম গোল।

৭০ মিনিটে লুকাস হার্নান্দেজের হেডের মাধ্যমে আবারও পিএসজির এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে। তবে ৭৯ মিনিটে লামিন ইয়ামালের দুর্দান্ত পাস থেকে গোল করে বার্সেলোনা ২-২ সমতা অর্জন করে।

কিন্তু সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিতিনিয়ার গোলের মাধ্যমে পিএসজি আবার এগিয়ে যায়। শেষ দিকে ফ্যাবিয়ান রুইসের গোল ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় আরও। ফলে ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

এই পরাজয়ের ফলে বার্সেলোনার দুর্দান্ত শুরুর ছন্দে ছেদ পড়েছে। অপরদিকে, বড় প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে পিএসজি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও বারবার অপরাধে দ্বিগুণ শাস্তির প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও বারবার অপরাধে দ্বিগুণ শাস্তির প্রস্তাব

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি মুহূর্তে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা, সাহায্যকারী পথচারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ‘ডিমেরিট পয়েন্ট’ ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং বারবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ শাস্তির বিধান রেখে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন-২০২৬’ এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ (আরটিএইচডি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রস্তাবিত এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো—সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা, যানবাহন ও সড়ক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো গড়ে তোলা।

খসড়া আইনটিতে মোট ১৫টি অধ্যায়, ১১১টি ধারা এবং ২টি তফসিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

‘জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সংস্থাপন শাখার উপ-সচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম বলেন, "আমরা আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করেছি যা শিগগিরই মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।"

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর হাজার হাজার প্রাণহানি ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জন মানুষ প্রাণ হারান। তবে বিআরটিএ’র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৫ হাজার ৪৯০ জন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমানের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ কম।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় সড়ক দুর্ঘটনাকে ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের একটি হিসাব উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়, বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।

২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত আইনের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ অঙ্গীকার করেছিল। চলতি বছরের ২০-২১ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলন এবং অন্যান্য দেশের আইন পর্যালোচনা করে খসড়া প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। গত ১৪ অক্টোবর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আবারও জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে আইনটি চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এছাড়া চলতি বছরের মধ্যে একটি গতি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল এবং হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশিকা প্রস্তুত করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে সরকার।

নিরাপদ সড়ক ও আধুনিক প্রযুক্তি:

প্রস্তাবিত খসড়া আইনে সড়ক নেটওয়ার্ক ও মোড়গুলো আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ডিজাইন করা, পরিবহন ব্যবস্থার সমন্বয় সাধন এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ বা ‘ব্ল্যাক স্পট’ এলাকাগুলো নিয়মিত চিহ্নিত ও সংশোধন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আইনে পথচারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব অবকাঠামো—যেমন পর্যাপ্ত ফুটপাত, র‌্যাম্প বা লিফটসহ ফুটওভার ব্রিজ এবং নিরাপদ রিফিউজ আইল্যান্ড নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া নারী, অন্তঃসত্ত্বা, শিশু, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদের গণপরিবহনে গমনাগমন সহজ করার জন্য পরিবহন পরিচালনাকারীদের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য গতি পরিমাপক ক্যামেরা, স্পিড হাম্প, রাম্বল স্ট্রিপ এবং ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম’ (আইটিএস) বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়। সেই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘স্টার-রেটিং সিস্টেম’, পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তা অডিট এবং পরিদর্শনের বিধানও রাখা হয়েছে।

মনোযোগহীন অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে খসড়া আইন অনুযায়ী-গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল বা একই ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা, ধূমপান করা, খাবার খাওয়া কিংবা উচ্চ শব্দে গান শোনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। চালকের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন বা বিভ্রান্ত করে—যাত্রীদের এমন কোনো আচরণ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চালক এবং যাত্রী উভয়ের জন্যই সিটবেল্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু অথবা ১৩৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে কম উচ্চতার শিশুদের সামনের সিটে বসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের জন্য উপযুক্ত সুরক্ষামূলক ‘রেস্ট্রেইন্ট সিস্টেম’ ব্যবহার আবশ্যক করা হয়েছে।

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশ ও অনুমোদিত কর্মকর্তারা ব্রেথঅ্যালাইজার টেস্ট কিংবা ল্যাবরেটরি পরীক্ষা চালাতে পারবেন।

হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক:

মোটরসাইকেল চালক এবং আরোহী—উভয়ের জন্যই বিএসটিআই-অনুমোদিত মানসম্মত হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছয় বছরের কম বয়সীদের মোটরসাইকেলের যাত্রী হিসেবে যাতায়াত নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

যেখানে রাস্তার অবস্থা অনুকূল, সেখানে সাইকেলের জন্য আলাদা লেন নির্দিষ্ট করা এবং সাইকেল চালকদের জন্য হেলমেটসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম পরা বাধ্যতামূলক করার কথা খসড়ায় বলা হয়েছে। পথচারীদের জন্য বিদ্যমান ফুটপাত ব্যবহার করা এবং জেব্রা ক্রসিং ও রিফিউজ আইল্যান্ডসহ নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

ডিমেরিট পয়েন্ট ও অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে দ্বিগুণ শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রস্তাবিত ‘ডিমেরিট পয়েন্ট' ব্যবস্থার আওতায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পয়েন্ট কাটা যাবে। নির্দিষ্ট পরিমাণের পয়েন্ট কাটা গেলে বা পয়েন্ট জমা হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া একই ব্যক্তি একই অপরাধ দ্বিতীয় বা পরবর্তী সময়ে করলে সর্বোচ্চ নির্ধারিত শাস্তি বা জরিমানা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া আইনে।

প্রস্তাবিত ৭৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো পথচারী ফুটপাত ব্যবহারে ব্যর্থ হলে প্রথমবার অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হবেন।

‘গোল্ডেন আওয়ারে’ বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি খসড়া আইনটির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য। দুর্ঘটনার পরপরই সংকটপূর্ণ সময় বা ‘গোল্ডেন আওয়ারে’ আহতদের জন্য বাধ্যতামূলক বিনামূল্যে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্রিম টাকা বা টিকিট ছাড়া হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা প্রদানের কঠোর ও বাধ্যতামূলক বিধান না থাকা বিদ্যমান আইনি কাঠামোর বড় একটি ঘাটতি। তাই নতুন আইনে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর জন্য এ সংকটময় মুহূর্তে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা দুর্ঘটনাকবলিতদের জীবন রক্ষার সম্ভাবনা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।

স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হবে। পুলিশি হয়রানি, ফৌজদারি মামলা এবং আদালত চালানের ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রায়ই দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে দ্বিধাবোধ করেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খসড়ায় স্বেচ্ছাসেবী বা উদ্ধারকারীদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা থেকে পূর্ণ আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনি জটিলতার ভয় ছাড়া সাধারণ মানুষ যেন এগিয়ে এসে জীবন বাঁচাতে উৎসাহিত হন, সেজন্যই এ সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ডাটাবেস ও গবেষণা তহবিল:

আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রকাশ ও সংরক্ষণের জন্য একটি ‘সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডাটাবেস সিস্টেম’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা জোরদার, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি উন্নয়ন এবং সড়ক নিরাপত্তার উদ্যোগগুলোতে অর্থায়নের জন্য একটি আলাদা ‘গবেষণা তহবিল’ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে চালকদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা তদন্ত, দুর্ঘটনা পরবর্তী চিকিৎসা খরচ এবং যাত্রী বীমার মতো বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইনের দু’টি তফসিলে দুর্ঘটনা পরবর্তী সেবা প্রদান এবং অ্যালকোহল বা অন্য কোনো মাদকদ্রব্য সেবন করে যানবাহন চালানো সম্পর্কিত বিধিবিধান যুক্ত করা হয়েছে।

কেন এই আলাদা আইন:

খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’তে আরও সংশোধনী আনলেও রোড ইঞ্জিনিয়ারিং, যানবাহনের মান নির্ধারণ, গতি ব্যবস্থাপনা, পথচারীদের সুরক্ষা, জরুরি চিকিৎসা সেবা, গবেষণা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো পর্যাপ্তভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই বৈশ্বিক ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি আলাদা ও পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন আইনটি প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল দুর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক পুলিশিং ও ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%