শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২০ পি.এম
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ঘরোয়া কোচদের বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে, যা ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধির পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় কোচদের বেতন কাঠামো নিয়েও ভাবনা চলছে।
বিসিবির নতুন কমিটি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গত জুনে দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন এবং ক্রিকেটারদের বেতন কাঠামো বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে ক্রিকেটারদের বেতন দুই দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে, এতদিন ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচদের বেতন বৃদ্ধি হয়নি। এবার বিসিবি তাদের দিকেও নজর দিতে যাচ্ছে। বিসিবির এক পরিচালক এক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, কোচদের বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বিসিবির ওই পরিচালক বলেন, "কোচদেরও বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। দেখা যাক কবে হবে, সেটা এখনও ঠিক হয়নি।"
দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। বিসিবির অধীনে থাকা ‘এ’ দলের প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুলও আশাবাদী যে, এবার তাদের দাবিটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে বোর্ড।
তিনি বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, বেতন বাড়াবে বিসিবি এমনটাই শুনেছি। এখন দেখা যাক কখন কী হয়। কোচদেরও প্রাপ্য সম্মান জরুরি। যদি একটা হেলদি স্যালারি হয়, তাহলে ভালো হয়। কারণ আমাদের তো সেভিংস থাকে না। সারা জীবন কোচিংও করাতে পারব না। আশা করি বিসিবি বিষয়টি দেখবে।"
ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ব্যর্থতার পর সেমিফাইনালে থেমে গেছে বাংলাদেশের যাত্রা। টুর্নামেন্টে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যার প্রেক্ষিতে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ফলে নতুন অধিনায়ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশের পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে সিনিয়র ক্রিকেটার নাহিদা আক্তার এবং সোবহানা মোস্তারির নাম সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি সূত্র ক্রিকবাজকে জানিয়েছে, নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনা করলে নাহিদা ও সোবহানার নাম গুরুত্ব পেতে পারে।
বোর্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, "নিগারের জায়গা নেওয়ার মতো খুব বেশি ক্রিকেটার আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু তিনি যখন সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন আমাদের কাউকে খুঁজে বের করতেই হবে।" সংক্ষিপ্ত সংস্করণে অবস্থান বিবেচনায় নাহিদা ও সোবহানা শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে বিসিবির ভাবনা শুধুমাত্র অভিজ্ঞদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তরুণ ক্রিকেটারদেরও নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে ‘এ’ দলের নেতৃত্ব দেওয়া রাবেয়া খাতুন, অলরাউন্ডার শারমিন আক্তার এবং স্বর্ণা আক্তারের নাম বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। যদিও এই মুহূর্তে তাদের কাউকে জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব দেওয়া কিছুটা আগেভাগে হয়ে যাবে বলে বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে বাংলাদেশকে দ্রুত নতুন অধিনায়ক ঠিক করতে হবে। জাপানে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে নিগার সুলতানা জ্যোতির শেষ ম্যাচ হতে পারে। তবে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে এবং জ্যোতিকে নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর মধ্যে বাংলাদেশ নারী দলের কোচিং স্টাফেও পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরানকে সরিয়ে তার জায়গায় ডেভিড হেম্পকে দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে।
২০২২ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দীর্ঘ এক দশক পর বিশ্বকাপে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ওই আসরে ব্যাট হাতে চার ইনিংসে ১০৪ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে সাতটি ডিসমিসালও করেন জ্যোতি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে তার ফর্ম এবং দলের একের পর এক পরাজয় নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দেয়। সেই প্রেক্ষাপটেই টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা সামনে এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। যদিও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তবে যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে এসব প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এর ফলে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের বিপরীতে তরুণ প্রজন্ম কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনএসডি-এর গভর্নিং বডিকে দ্রুত একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা যায়।
তিনি অভিন্ন সিলেবাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু হলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বৃদ্ধি পাবে।
সভায় এনএসডি-এর প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যাবলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইন্টার মিলান ও ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার সান্দ্রো মাজ্জোলা আর আমাদের মাঝে নেই। সাবেক এই তারকা ফুটবলার শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এক বিবৃতির মাধ্যমে।
মাজ্জোলার মৃত্যুতে ইন্টার ক্লাব শোক প্রকাশ করেছে। ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সান্দ্রো মাজ্জোলা শুধুমাত্র নেরাজ্জুরিদের ইতিহাসেরই একজন মহান খেলোয়াড় ছিলেন না, বরং ফুটবলের ইতিহাসেও তিনি অন্যতম সেরা। ইন্টারের ইতিহাসের সঙ্গে তার নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি কখনোই তা ত্যাগ করেননি।
মাজ্জোলা তার পেশাদার ক্যারিয়ারের পুরো সময়টিই ইন্টারে কাটিয়েছেন। ১৭ বছরের ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি ইন্টারের হয়ে চারবার ইতালিয়ান লিগ শিরোপা জিতেছেন এবং দুবার ইউরোপিয়ান কাপের খেতাব অর্জন করেছেন। এই ফরোয়ার্ডের অবদান ছিল ইন্টারকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করার ক্ষেত্রে।
জাতীয় দলের হয়ে ইতালির হয়ে তার ক্যারিয়ারও ছিল উজ্জ্বল। ১৯৬৮ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী ইতালি দলের সদস্য ছিলেন মাজ্জোলা। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সেই বিশ্বকাপে ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ৪-১ গোলে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করে ইতালি।
তবে মাজ্জোলার জীবন ও ফুটবল ক্যারিয়ার একটি গভীর পারিবারিক ট্র্যাজেডির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা ভ্যালেন্তিনো মাজ্জোলা ছিলেন ইতালির জাতীয় দলের ফুটবলার এবং তৎকালীন তুরিনোর অধিনায়ক। ১৯৪৯ সালের সুপারগা বিমান দুর্ঘটনায় মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবাকে হারান সান্দ্রো। ওই দুর্ঘটনায় তুরিনোর পুরো দলসহ ৩১ জন নিহত হন।
ফুটবল মাঠে অসাধারণ সাফল্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের সেই মর্মান্তিক অধ্যায় মিলিয়ে সান্দ্রো মাজ্জোলা ইতালিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় একটি নাম হয়ে থাকবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেটার ইমরান খানের মুক্তির জন্য যুক্তরাজ্যকে তার প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, রাজনীতিবিদ ও লেখক বোরিস জনসন। তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইলে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী লেখায় ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন এবং দ্রুত তার আপিল শুনানির দাবি জানান।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই লেখায় জনসন উল্লেখ করেন, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান পাকিস্তানের একটি কারাগারের ছোট ও অস্বাস্থ্যকর প্রকোষ্ঠে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি রয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, প্রকোষ্ঠটির আয়তন প্রায় ৬ ফুট বাই ৮ ফুট এবং সেখানে শৌচাগারও রয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই প্রকোষ্ঠে জানালা নেই।
জনসন আরও লেখেন, ইমরান খানকে দিনের পর দিন একাকী রাখা হয় এবং দীর্ঘ সময় বই, সংবাদপত্র ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও দূরে রাখা হয়। তার দাবি, দীর্ঘদিন যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় ইমরান খানের ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে।
ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার বিষয়ে জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক গত দুই বছরে তিনবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এমন তথ্যও জনসন তার লেখায় উল্লেখ করেন। এছাড়া, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগ এবং পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের চিকিৎসাসংক্রান্ত পর্যবেক্ষণের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। জনসন দাবি করেন, এসব মামলার বেশিরভাগ পরে বাতিল বা ভেঙে পড়েছে। তবে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সাজা রয়েছে এবং ইমরান খান সেই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করছেন।
জনসনের বক্তব্য, এই মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া অর্থ থেকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন—এমন বিষয় পাকিস্তানি প্রসিকিউটররা স্বীকার করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মামলাটির বিষয়ে ইমরানের আপিল দ্রুত ও স্বাধীন আদালতে শুনানি হওয়া উচিত।
তবে জনসন দাবি করেন, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ইমরান খানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। এটি তার নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
লেখায় জনসন জানান, তিনি ইমরান খানকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং তার সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইমরান খানের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ এবং নারীদের শিক্ষার প্রসারে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি।
তবে ইমরানের সব অবস্থানের সঙ্গে তিনি একমত নন বলেও স্পষ্ট করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ইমরানের অবস্থান এবং তালেবান বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনাও করেন জনসন।
জনসন তার লেখায় ইমরান খানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারও তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইমরান পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন। এর আগে ভারত ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট জয়গুলোর নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
জনসনের মতে, ইমরানের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি দাবি করেন, ইমরান মুক্তি পেলে তার সমর্থকেরা তাকে পরবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সমর্থন দিতে পারেন। তবে এটি জনসনের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, নিশ্চিত নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস নয়।
জনসন বলেন, ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিমের ব্রিটিশ পাসপোর্ট রয়েছে। ইমরান নিজেও যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন এবং দেশটির ক্রিকেটেও খেলেছেন।
তার মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের আরও জোরালোভাবে অবস্থান নেওয়া উচিত।
লেখার শেষাংশে জনসন ইমরান খানকে কারাগার থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানান এবং তার আপিলের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির কথাও বলেন।
সূত্র: দ্য ডেইলি মেইল
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ