সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৭ পি.এম
গ্রিস ইতিহাস গড়েছে জার্মানিকে হারিয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে ১-০ গোলে জয়লাভ করেছে তারা। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু হওয়া দ্বৈরথে গ্রিসের এটি ছিল ১১তম ম্যাচ এবং এই প্রথমবার তারা জয়ের স্বাদ পেল।
অগসবুর্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে জার্মানির আধিপত্য ছিল। যদিও তারা গোলমুখে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে, গ্রিসের রক্ষণ ভাঙতে তারা সক্ষম হয়নি। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচে জার্মানির পোস্টে গ্রিসের শট ছিল মাত্র একটি, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
ক্রিস্টোস জোলিস ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন। জার্মানির ডান প্রান্ত দিয়ে জোশা ভাগনোমানকে কাটিয়ে কুরবেলিসের কাছে বল বাড়ান আর্সেনালের এই উইঙ্গার। এরপর ফেলিক্স নেমেচাকে ফাঁকি দিয়ে নিচু শট নেন জোলিস। তার নেওয়া শট জার্মান অধিনায়ক জোশুয়া কিমিচের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে।
জার্মানি গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও গ্রিসের শক্তিশালী রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গ্রিস।
জার্মানির দায়িত্ব নেওয়ার পর ইয়ুর্গেন ক্লপের জন্য এটি সুখকর সময় নয়। নতুন দায়িত্বে প্রথম দুই ম্যাচেই তিনি জয়হীন রয়ে গেলেন। আগের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ১-১ গোলে ড্র করেছিল জার্মানি। এবার ঘরের মাঠে গ্রিসের কাছে হারতে হলো তাদের।
এই জয়ের ফলে নেশনস লিগের গ্রুপ এ-২-এ গ্রিস দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, যারা চার পয়েন্ট নিয়ে আছে। আর এক পয়েন্ট নিয়ে জার্মানির অবস্থান তৃতীয়। একই রাতে নেদারল্যান্ডস ১-০ গোলে সার্বিয়াকে পরাজিত করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, নারীদের স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য ১৩টি রুটে চলমান ১৪টি পিংক বাসের সংখ্যা অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। এ কারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও ১০০টি বাস চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেগুলোকে সোজা ও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পগুলোর জন্যও স্ট্রেইট লাইন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বৈঠকে জানানো হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, লুৎফর রহমান, মো. রুহুল আমীন দুলাল, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও মো. মতিয়ার রহমান অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ আমন্ত্রণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানও বৈঠকে যোগদান করেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং স্থায়ী কমিটির সব সদস্যের সঙ্গে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরসমূহের কর্মকর্তাবৃন্দের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভাগ ও দপ্তরসমূহের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দকে অবহিত করা হয়। এছাড়া, সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কমিটি কর্ণফুলী টানেলের সার্ভিস এলাকায় ৭২ একর জমির ওপর নির্মিত অত্যাধুনিক বিলাসবহুল রিসোর্টের বর্তমান অবস্থা সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করে।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, সেতু বিভাগের সচিব, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বাধীন নরওয়েকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে পর্তুগাল। অসলোতে অনুষ্ঠিত নেশনস লিগের ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে ছিলেন পর্তুগিজ তারকা। তার পরিবর্তে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া গনসালো রামোস গোল করে দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলতে শুরু করে পর্তুগাল। ১৭তম মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রস থেকে নিচু কোনাকুনি শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জোয়াও ফেলিক্স। আগের ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করে জয় নিশ্চিত করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
তবে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরে নরওয়ে। ৫১তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান সমতায় ফেরান আর্লিং হালান্ড। এটি ছিল নেশনস লিগে তার ২২তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রোনালদো ও সার্বিয়ার আলেক্সান্দার মিত্রোভিচের চেয়ে সাত গোল এগিয়ে গেলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।
হালান্ডের গোলের মাত্র তিন মিনিট পর পর্তুগাল আবারও এগিয়ে যায়। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরজান নিল্যান্ডের ভুল পাস কেড়ে নিয়ে গোল করেন গনসালো রামোস। শেষ পর্যন্ত তার সেই গোলই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে।
দ্বিতীয়ার্ধে রামোস আরও একটি গোল করেন। নিল্যান্ডের আরেকটি ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে রামোস মন্তব্য করেন, "প্রত্যেক মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমি ডাক পেলে কী করতে পারি এবং দলে কী অবদান রাখতে পারি, সেটা দেখানো। এটা ছিল দলের জন্য আমার নিদর্শন, শুধু গোল নয়, মাঠে আমি যা করি সবকিছুই।"
এদিকে, পর্তুগালের হয়ে ওয়েলসের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকা রোনালদো এবার পুরো ম্যাচই কাটিয়েছেন বেঞ্চে। আগের ম্যাচে তাকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে পর্তুগাল। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নরওয়ে। একই পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, যারা ২-০ গোলে ওয়েলসকে পরাজিত করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিয়ে মানুষের জীবনে কেবল একজন জীবনসঙ্গী পাওয়ার উপায় নয়। বরং এর মাধ্যমে গড়ে ওঠে পরিবার, দাম্পত্য সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধন। ইসলামে বিয়েকে বৈধ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে শান্তি, ভালোবাসা, পবিত্রতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নেক সন্তান লাভের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপকারিতা হলো-
১. দ্বীন ও ইমানের পূর্ণতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে বলেছেন, "কোনো বান্দা যখন বিবাহ করে, তখন সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে নেয়। এরপর অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে তাকে আল্লাহকে ভয় করতে হবে।" (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, হাদিস: ৫৪৮৬)
এছাড়া, বিয়ের মাধ্যমে দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান হেফাজত করা সহজ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যুবকদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ এটি দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে অধিক সহায়ক।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬৯৩)
২. নবী-রাসুলদের সুন্নত পালন
বিয়ে নবী-রাসুলদের সুন্নতগুলোর অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে বিবাহ করেছেন এবং সাহাবিদেরও বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। বিশেষ করে সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
অতএব, ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে কেবল সামাজিক একটি প্রথা নয়; বরং এটি সুন্নাহসম্মত জীবনব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৩. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
মানুষের স্বাভাবিক জৈবিক চাহিদা রয়েছে। ইসলাম এই চাহিদাকে অস্বীকার করেনি; বরং বৈধভাবে তা পূরণের ব্যবস্থা করেছে। বিয়ে মানুষকে অবৈধ সম্পর্ক ও নানা ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ বিয়ে দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে সহায়ক।" আর যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, তাকে রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সহিহ বুখারি)
৪. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি
কোরআনে দাম্পত্য সম্পর্ককে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "তিনি মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করে। আর তিনি তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।" (সুরা আর-রুম, আয়াত: ২১)
অর্থাৎ বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, মমতা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৫. আত্মিক প্রশান্তি লাভ
দাম্পত্য জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরস্পরের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করা। সুরা আর-রুমের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ দাম্পত্য জীবন কেবল একসঙ্গে বসবাসের বিষয় নয়; বরং এটি মানসিক শান্তি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সম্পর্ক।
৬. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের ঢাল
কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বোঝাতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।" (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭)
পোশাক যেমন মানুষকে আচ্ছাদিত ও সুরক্ষিত রাখে, তেমনি স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের জন্য নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও আস্থার আশ্রয় হতে পারেন। পরস্পরের দুর্বলতা গোপন রাখা, বিপদে পাশে থাকা এবং সম্মান বজায় রাখা দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
৭. রিজিকে বরকতের মাধ্যম
বিয়ে জীবনে রিজিক ও কল্যাণের মাধ্যম হতে পারে। কোরআনে অবিবাহিতদের বিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, "তারা দরিদ্র হলে তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।" (সুরা আন-নুর, আয়াত: ৩২)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শুধু আর্থিক সংকটের আশঙ্কায় বৈধ বিয়েকে অসম্ভব মনে না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিয়ের পর প্রত্যেকের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন একইভাবে ঘটবে; রিজিক ও কল্যাণ মূলত আল্লাহর হাতে।
৮. বৈধ সন্তান ও বংশধারা
বিয়ের মাধ্যমে বৈধ পরিবার ও সন্তান-সন্ততির ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ বলেন, "তিনি মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের মাধ্যমে সন্তান ও নাতি-নাতনি দিয়েছেন।" (সুরা আন-নাহল, আয়াত: ৭২)
সন্তান কেবল বংশধারা অব্যাহত রাখে না; সঠিক ইসলামি শিক্ষা ও নৈতিকতার মাধ্যমে তারা পরিবার ও সমাজে কল্যাণের ধারাও এগিয়ে নিতে পারে।
৯. নেককার জীবনসঙ্গী আল্লাহর আনুগত্যে সহযোগী
ইসলামে নেককার জীবনসঙ্গীর গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "দুনিয়ার সামগ্রীর মধ্যে নেককার স্ত্রী সর্বোত্তম সম্পদ।" (সহিহ মুসলিম)
আরেক বর্ণনায় এসেছে, "কোনো নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর বৈধ অধিকার আদায় করে, তাকে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে বলা হবে।" (মিশকাতুল মাসাবিহ)
এ থেকে বোঝা যায়, নেককার জীবনসঙ্গী দুনিয়ার জীবনে যেমন সহযোগী হতে পারেন, তেমনি আল্লাহর আনুগত্যের পথেও সহায়ক হতে পারেন।
১০. নেককার সন্তান মৃত্যুর পরও উপকারে আসে
সন্তান নেককার ও আল্লাহভীরু হয়ে বেড়ে উঠলে তার দোয়া বাবা-মায়ের মৃত্যুর পরও উপকারের কারণ হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং নেককার সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।" (সহিহ মুসলিম)
সুতরাং, বিয়ের মাধ্যমে শুধু একটি পরিবার গঠনই নয়, বরং নেক সন্তান প্রতিপালনের সুযোগও তৈরি হয়। সেই সন্তান পরবর্তী সময়ে বাবা-মায়ের জন্য দোয়া ও কল্যাণের কারণ হতে পারে।
ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে তাই কেবল সামাজিক বন্ধন নয়; বরং এটি পবিত্রতা রক্ষা, পারিবারিক শান্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা, সন্তান-সন্ততির সুশিক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিনটি দেশ সফরের প্রস্তুতি চলছে। সফরের মধ্যে রয়েছে জাপানে বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানি, তুরস্কে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম (কপ৩১) সম্মেলনে অংশগ্রহণ, এবং সৌদি আরবে দ্বিপক্ষীয় সফর।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের নতুন সময়সূচি নির্ধারণের জন্য দুই দেশ আলোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
টোকিও, রিয়াদ ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর, নভেম্বরের প্রথম দিকে তুরস্ক এবং দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফর হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন এই তিন সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর অনুষ্ঠিত হবে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তিন থেকে চার দিনের এই সফর আয়োজনের বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকায় দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
আঙ্কারা সূত্রে জানা গেছে, তুরস্কের আনাতোলিয়ায় আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াদ সফরে যেতে পারেন। সফরটি আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়েছে।
জাপান সফর
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর তিন থেকে চার দিনের টোকিও সফর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ইন্টেরিম সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস টোকিও সফর করেছিলেন। সেসময় জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। পাঁচ বছরে জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন জাপান জানিয়েছিল, ‘বে অব বেঙ্গল’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নসহ জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তারা সহযোগিতা জোরদার করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ীদের সম্মেলন আয়োজন ও জনশক্তি রপ্তানির অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রাধান্য পেতে পারে।
সৌদি সফর
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত জনশক্তি রপ্তানির বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। গত আগস্টে সৌদির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেজি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পিত সৌদি সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জ্বালানি আমদানি, বিনিয়োগ চুক্তি এবং আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রশ্নে সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
তুরস্ক সফর
তুরস্কের আনাতোলিয়ায় কপ৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ৯ থেকে ২০ নভেম্বর। আর কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর। এই দুই দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।
জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির এক দশকের বেশি সময় পর এখন মূল প্রশ্ন হলো, নতুন লক্ষ্য ঠিক করা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, আগে ঘোষিত লক্ষ্য কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, জলবায়ু অর্থায়নসহ ক্ষতিপূরণ তহবিল কতটা কার্যকর হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ