বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৪৩ পি.এম
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগর ডিসি ইকো পার্কে সরকারি মরা গাছের দোহাই দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাজা গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
তবে স্থানীয়ভাবে কেউ জানেন না যে এসব সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে কোনো উন্মুক্ত টেন্ডার বা নিলামের খবর হয়েছে এবং কোনো নোটিশও করা হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাহালুল হকের যোগসাজশে এই গাছগুলো কাটা হয়েছে এবং তিনিই গাছ ব্যবসায়ীকে ঠিক করেছেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই দামুড়হুদা শিবনগর ডিসি ইকো পার্কের কিছু ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ বিক্রি করার জন্য পার্ক চত্বরে উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে চন্দ্রবাস গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ২৯টি মরা গাছ কিনেছেন। গাছগুলোর মধ্যে ছিল- ১৯টি আম গাছ, ৬টি শিশু গাছ, এবং ৪টি কাঁঠাল গাছ। পার্কের পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে, পরদিন ২০ জুলাই দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত একটি কার্যাদেশ দেওয়া হয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে।
কার্যাদেশ পাওয়ার পর ডিসি ইকো পার্কের মরা গাছের পাশাপাশি নজরুল ইসলাম তরতাজা গাছ কাটা শুরু করে। গাছের ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, "নিলামে কয়জন ছিল আমার জানা নেই। আমি যখন পার্কে আসলাম তখন কোনো ব্যবসায়ী ছিলেন না। ইউএনও স্যার আর অফিসের লোকজন ছিল। আমি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো কিনেছি।"
পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বাহালুল হক বলেন, "ইউএনও স্যার আমাকে গাছের ব্যবসায়ী দেখে দিতে বলেন। বিষয়টি আমি আমার গ্রামের দুজন কাঠের ব্যবসায়ীকে বলি। তারা গাছগুলো দেখে একটা দাম বললে আমি স্যারকে জানাই। পরে গাছগুলো তাদের কাছে বিক্রি করেছে ইউএনও স্যার। গত দুদিন আমি পার্কে ছিলাম না কয়টা গাছ কাটা হয়েছে এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।"
কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বিশ্বাস বলেন, "বিক্রিকৃত গাছের চেয়ে অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে বলে শুনেছি। যদি এটা সত্য হয় তাহলে এই কাজের সাথে যে বা যারা জড়িত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।"
ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, "এটা তো উন্মুক্ত নিলাম হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তে কমিটির মাধ্যমে নিলাম করা হয়েছে। নিলামের ফাইল তো ডিসি স্যারের কাছে- তাই কয়টা গাছ সঠিক বলতে পারব না।"
তিনি আরও বলেন, "নিলামকৃত মরাগাছের পাশাপাশি আরো কিছু অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে বলেও অভিযোগ পেয়েছি। এখন আমরা কমিটি করে দিয়েছি সরেজমিনে তদন্ত করে দেখব।"
স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন দেশে সবুজ বনায়ন করতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তখন একশ্রেণির মানুষ কীভাবে সবুজ তরতাজা বৃক্ষ নিধনে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা কি বর্তমান সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করছেন, এমন ধরনের মন্তব্য করছেন। সেই সঙ্গে গাছের বিক্রির অনিয়ম তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট না দিলে সদস্য দেশগুলো সম্ভাব্য ৩০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার ২১১ সদস্য সংস্থাকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ৫৩ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে।
নতুন এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে বাইরের বিনিয়োগকারীদের অংশীদার হওয়ার সুযোগ থাকবে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ২০২৭-২০৩১ চক্রে ‘ফিফা ফরওয়ার্ড’ কর্মসূচির অনুদান প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। এছাড়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া সদস্য সংস্থাগুলোকে এককালীন আরও ২০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রস্তাবটি অনুমোদন না পেলে সদস্য দেশগুলো মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান পাবে। ফলে সম্ভাব্য অতিরিক্ত ৩০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে ২০৩৫-২০৩৮ চক্রে এই অনুদান ২৪ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ফিফা।
বাংলাদেশসহ অনেক ছোট ফুটবল ফেডারেশন জাতীয় দল পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, একাডেমি এবং তৃণমূল ফুটবল কার্যক্রম পরিচালনায় ফিফার অনুদানের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। এ কারণে প্রস্তাবটি এসব দেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
তবে পরিকল্পনাটি ইতোমধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা অভিযোগ করেছে, ফিফা ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে খেলাটির মূল মূল্যবোধকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপের ফুটবল কর্তারা জরুরি বৈঠক করছেন এবং বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) জানিয়েছে, তারা আগে থেকেই এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিল না। সংস্থাটির দাবি, প্রস্তাবের স্বচ্ছতা, প্রক্রিয়া এবং নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর তারা আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে।
এদিকে উত্তর আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তবে আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক সদস্য সংস্থার সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ফিফা। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে ২১১ সদস্যের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট এবং ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কেরানীগঞ্জে তানজিলা আক্তার নামে এক কিশোরীকে গলা কেটে হত্যা করেছে তার প্রেমিক। মূল আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রেমিক রানা হাওলাদারের কাছে ৩০ হাজার টাকা চাওয়ার কারণে তানজিলাকে খুন হতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
তিনি বলেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে তানজিলা হত্যা মামলার মূল আসামি রানা হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুও উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গত ২৭ জুলাই বিকেলে রানা হাওলাদার তার নিজস্ব অটোরিকশায় করে প্রেমিকা তানজিলাকে ঘুরতে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিরোধের একপর্যায়ে রানা প্রথমে তানজিলার গলা চেপে ধরেন। পরে ফল কাটার চাকু দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগীর কাছে থাকা দুটি স্মার্টফোন ও একটি রুপার চেইন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান রানা। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে পিবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানবপাচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়ে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এসময় উল্লেখ করেছেন যে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর এক হোটেলে ‘বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম: এন্ডিং হিউম্যান ট্রাফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিনালিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, মানবপাচারের ধরন পরিবর্তনশীল এবং জটিল হয়ে উঠেছে। অপরাধী চক্রগুলো বর্তমানে শুধুমাত্র প্রচলিত উপায়ে নয় বরং ডিজিটাল মাধ্যম, ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণ সমাজ ও চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলছে।
আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান ও উন্নত ভবিষ্যতের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, পরে তাদের সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি করে চরম নির্যাতন, ভয়ভীতি এবং জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হচ্ছে।
মানবপাচার চক্রের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই হুমকি মোকাবিলায় শুধুমাত্র প্রথাগত আইনশৃঙ্খলাভিত্তিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অর্থলগ্নি সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং সচেতন সমাজকে নিয়ে সমন্বিত ও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সরকার ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম কনভেনশন (ইউএনটিওসি) এবং সংশ্লিষ্ট প্রটোকলসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণীত এ আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রলোভন এবং জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করার মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জোরদারে ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ চূড়ান্ত করছে, যা প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচার ও অংশীদারিত্ব—এই চার প্রধান স্তম্ভকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের শিকার প্রতিটি মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। এ জন্য ‘ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম)’ জোরদার করা হচ্ছে, যাতে ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক আইনি, শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া যায়।
তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণ এবং নিখুঁত কেস ট্র্যাকিং নিশ্চিত করতে একটি সর্বাধুনিক ‘ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, তরুণ সমাজ, নারী এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরনের জন্য এবং ভুয়া নিয়োগ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশ-এর চিফ অব মিশন ও জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ড. লরা টম বোন্ডে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে।
বৃহسپতিবার (৩০ জুলাই) ডিএসসিসির নগর ভবন অডিটোরিয়ামে এই বাজেট ঘোষণা করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
গত ২৬ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনা কমিটির ১৪তম কর্পোরেশন সভায় এই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অনুমোদন করা হয় ৪০০৪.৬০ কোটি টাকার বাজেট।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঢাকার বাজেটের পরিমাণ ছিলো ৩৮৪১.৩৮ কোটি টাকা। এই অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ ৩১৩৮.৭৭ কোটি টাকা ছিল।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রারম্ভিক স্থিতিসহ সর্বমোট প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০৪.৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রারম্ভিক স্থিতির পরিমাণ ৭৩০.৯৩ কোটি টাকা, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৮১৫.৭৪ কোটি টাকা, এবং উন্নয়ন বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৪৫৭.৯৩ কোটি টাকা।
এছাড়া ব্যয়ের ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিচালন ও মূলধন ব্যয়, উন্নয়ন ব্যয় এবং সমাপনি স্থিতিসহ মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪০০৪.৬০ কোটি টাকা। যেখানে সমাপনী স্থিতি ৫৪০.৫০ কোটি, পরিচালন ও মূলধন ব্যয় বাবদ বরাদ্দ ১৫৫৯.৬৮ কোটি টাকা, এবং উন্নয়ন ব্যয় বাবদ বরাদ্দ ১৯০৪.৪২ কোটি টাকা।
বাজেট উপস্থাপনায় ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "আমরা চেষ্টা করেছি উচ্চাভিলাষী বড় অঙ্কের বাজেট প্রণয়ন না করে বাস্তবায়নযোগ্য যৌক্তিক বাজেট প্রণয়ন করতে।"
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সম্মানিত নগরবাসীর উপর অতিরিক্ত করারোপ বা কর হার বৃদ্ধি না করে বরং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য নতুন রাজস্ব খাত সৃষ্টি করা হয়েছে। ক্ষেত্রমতে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধাদি ও সেবার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে "ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি" বাস্তবায়নের ধাপ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
নাগরিকদের উদ্দেশ্য প্রশাসক বলেন, "ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের একটি হিসাব নয়; এটি সম্মানিত করদাতাদের অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব ও আস্থার প্রতিফলন। এই বাজেটের প্রতিটি টাকা জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ