ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিল ‘রোল মডেল’


আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিল ‘রোল মডেল’

মানসম্মত পরীক্ষার মাধ্যমে আইনজীবী তালিকাভুক্তি, পেশাগত অসদাচরণের জন্য নিজেদের ট্রাইব্যুনালে বিচার এবং মৃত্যু পরবর্তী আর্থিক অনুদানের নিশ্চয়তার কারণে পেশাজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বর্তমানে ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার-১৯৭২’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে মানসম্পন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে দেশে নতুন আইনজীবী তালিকাভুক্ত করা।

আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া

আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানি ৮ ডিসেম্বর

আইন বিষয়ে স্নাতক বা এলএলবি ডিগ্রিধারী আইন পেশায় যুক্ত হতে ইচ্ছুক হলে প্রথমে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আইনজীবীর অধীনে ছয় মাসের শিক্ষানবিশকাল সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষানবিশকাল শেষ হওয়ার পর বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে। প্রথমে নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ), পরে লিখিত এবং সর্বশেষ মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় সফল হলে বার কাউন্সিলের আইনজীবী সনদ অর্জনকারীরা জেলা আদালতে আইন পেশা পরিচালনার সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে, হাইকোর্টের আইনজীবী হতে হলে জেলা আদালতে দুই বছর আইন পেশা পরিচালনাকারী আইনজীবীকে বার কাউন্সিলের হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে এলএলএম ডিগ্রিধারী আইনজীবীরা জেলা আদালতে এক বছর আইন পেশা পরিচালনার পর হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা দিতে পারবেন। হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তারা হাইকোর্টে আইন পেশা পরিচালনার জন্য বার কাউন্সিল থেকে সনদ লাভ করবেন।

আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, বার কাউন্সিলের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে আইনজীবী তালিকাভুক্তিকরণ। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিত ছিল না। তবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর যতদূর সম্ভব এটি নিয়মিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আইনজীবী তালিকাভুক্তির দুটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘যার নাই কোনো গতি, সে করে ওকালতি’- এমন ধারণাকে দূরে ঠেলে আইন পেশার মান মর্যাদা বৃদ্ধি ও মেধার চর্চা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আইনজীবী তালিকাভুক্তির সিলেবাসকে যুগোপযোগী করে সংশোধন করা এবং বছরে দুটি পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশ্নের মান উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকৃত মেধাবী আইনজীবীরা তালিকাভুক্ত হবেন, সেটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন: সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর

আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জানান, সারা দেশের আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে আইনজীবীদের ট্রেনিংয়ের জন্য বার কাউন্সিলকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আইনজীবীরা ভবিষ্যতে বার কাউন্সিলের ট্রেনিং থেকে উপকৃত হবেন।

বার কাউন্সিল গঠন

বার কাউন্সিল ১৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অপর ১৪ জন সদস্যের মধ্যে সাধারণ আসনে (৭টি) সারা দেশের আইনজীবীদের সরাসরি ভোটে ৭ জন সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া সারা দেশের স্থানীয় বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে (আইনজীবী সমিতি) ৭টি গ্রুপে (গ্রুপ-এ থেকে গ্রুপ-জি) ভাগ করা হয়। প্রতিটি গ্রুপ থেকে আইনজীবীদের ভোটে একজন করে মোট সাতজন সদস্য নির্বাচিত হন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৪ জন সদস্য তাদের প্রথম সভায় নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে ‘ভাইস-চেয়ারম্যান’ হিসেবে নির্বাচন করেন।

বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ক্ষমতাবলে গত ৩০ জুন ১৫ সদস্যের একটি অ্যাড-হক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এক বছর মেয়াদে কার্যকর থাকবে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে মামলা, আসামি তানভীর ও সুমন

বার কাউন্সিলে ১০ কমিটি

বার কাউন্সিলের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০টি কমিটি রয়েছে। এই কমিটিগুলো হলো- এক্সিকিউটিভ কমিটি, এনরোলমেন্ট কমিটি, ফিন্যান্স কমিটি, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটি, ল রিফর্ম কমিটি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড কমিটি, হাউস কমিটি, রিলিফ কমিটি, রোল অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটি এবং কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিল্যান্স কমিটি।

আইনজীবী তালিকাভুক্তি ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হলেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। এছাড়া প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্টের অপর দুজন বিচারপতি এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। সেইসাথে অ্যাটর্নি জেনারেল (পদাধিকারবলে) ও বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত একজন আইনজীবী এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্য হন।

আইনজীবীর অসদাচরণ বিচারে ট্রাইব্যুনাল

আরও পড়ুন: সাবেক ডিএমপি কমিশনার ফারুক ও স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আদালতের

আইনজীবীদের পেশাগত অসদাচরণের বিচার করার জন্য বার কাউন্সিলের অধীনে একটি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। এই ট্রাইব্যুনাল আইনজীবীদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত ও বিচারকাজ পরিচালনা করে।

সাক্ষ্য গ্রহণ, সমন জারি এবং অন্যান্য কার্যধারার ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির ক্ষমতা রয়েছে বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের। পেশাগত অসদাচরণের জন্য দোষী প্রমাণিত হলে আইনজীবীর বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এগুলো হলো- তিরস্কার বা ভর্ৎসনা, আইনজীবী সনদ সাময়িক বাতিল বা স্থগিতকরণ অথবা পেশা থেকে স্থায়ী বহিষ্কার। তবে বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন।

আইনজীবীদের অসদাচরণের বিচারের বিষয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ আসলে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে অভিযুক্ত আইনজীবীকে তার বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে অভিযোগকারী ব্যক্তিকে তার অভিযোগ উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। বার কাউন্সিলে বর্তমানে পাঁচটি ট্রাইব্যুনাল পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করছে এবং অনেক অভিযোগ নিষ্পত্তি হচ্ছে। দেশের পেশাজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি ‘রোল মডেল’ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আর্থিক অনুদানে বেনাভোলেন্ট ফান্ড

আরও পড়ুন: হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি সুলতান মনসুরকে গ্রেপ্তার

কোনো আইনজীবী মৃত্যুবরণ করলে তার নমিনি বা পরিবার বার কাউন্সিলের (বেনাভোলেন্ট ফান্ড) তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকেন। কত বছর চাঁদা দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী চাঁদা দানকারী আইনজীবীর মৃত্যুদাবির টাকা নির্ধারিত করা রয়েছে। যেখানে ৪০ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় চাঁদা দানকারীর মৃত্যুদাবি ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেনাভোলেন্ট ফান্ড বিষয়ে বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ কামাল হোসেন সিকদার জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আইনজীবীর মৃত্যুদাবির টাকার চেক স্ব-স্ব আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন ১৫ তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আইনজীবীদের জন্য উন্নত মানের রেস্ট হাউজ সুবিধা রয়েছে। আইনজীবীরা নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে এই রেস্ট হাউজে থাকতে পারেন। সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন: আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে খেসারত দিলেন আইভীর আইনজীবীসহ ৩ জন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ বছর বেতন পান না শিক্ষক-কর্মচারী, তবু চলছে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


৭ বছর বেতন পান না শিক্ষক-কর্মচারী, তবু চলছে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির পাশে মনোরম পরিবেশে। প্রথমে ১৬ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথম বছরে ৬৭৫ শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও কলেজ শাখা চালু হয়নি।

তবে ২০১৯ সালের পর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২০ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি উপাচার্যের বাসভবনের পাশে স্থানান্তরিত হয়। এরপর থেকেই বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সংকট দেখা দিতে শুরু করে।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব রয়েছে। নিরাপদ খাবার পানি ও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। পরিবহন এবং খেলার মাঠের সংকটও রয়েছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষের টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। এসব সমস্যার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র ১৬০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুকাইয়া খানম জানায়, সে প্লে শ্রেণি থেকে এই বিদ্যালয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়ে ওয়াশরুম ও নিরাপদ খাবার পানির সমস্যা রয়েছে। সে আশা করে উপাচার্য এসব সমস্যা সমাধান করবেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরিদুজ্জামান আহসাফ জানায়, ওয়াশরুমের পাশে ঝোপ-জঙ্গল রয়েছে, যেখানে সাপ থাকে। এ কারণে তারা ভয় পায়। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষের টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়ান জানায়, প্রচণ্ড গরমে কষ্ট করে ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টির সময় টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যেতে হয়। বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই এবং শ্রেণিকক্ষের অবস্থাও ভালো নয়। সে বিদ্যালয়ের জন্য খেলার মাঠ ও নতুন ভবন চায়।

প্রাক-প্রাথমিকের তাইবুল্লাহ রোহান ও প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহর মা তাসলিমা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করেন এবং শিশুদের যত্ন নেন। শিক্ষকদের কারণে তিনি তার দুই ছেলেকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করেননি।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহিমের মা সায়লা জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়তা করে। এ কারণে তিনি তার সন্তানকে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন। তবে বিদ্যালয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম নাহিদ বলেন, তিনি এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছেন এবং বর্তমানে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে পড়ছেন। তার ভাষ্য, শিক্ষকরা বিদ্যালয়টিকে নিজের সন্তানের মতো করে গড়ে তুলেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তিনি বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান।

আরেক সাবেক শিক্ষার্থী ঈমান আলী বর্তমানে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও ব্যাংকিং বিভাগে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, তাদের সময় বিদ্যালয়ের অবস্থা ভালো ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বর্তমানে বিদ্যালয়টি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ বিদ্যালয়ে পরিণত করার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাদিম আহমেদ বলেন, ২০১৯ সালে উপাচার্য চলে যাওয়ার পর থেকেই তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। লাইব্রেরির পাশ থেকে বিদ্যালয়টি উপাচার্যের বাসভবনের পাশে স্থানান্তরের পর সংকট আরও বেড়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক আলেয়া বেগম বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া বেতন এবং শিক্ষকদের নিজেদের অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে চলতে তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। খুলনা, কোটালীপাড়া ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে কয়েকজন শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন। তাদের ভোগান্তি আরও বেশি। সদ্য যোগ দেওয়া উপাচার্য বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশা করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, বিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নেই। তবে সেখানে বিদ্যালয়, শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টিকে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির নতুন মালিকানায় ক্লাবের প্রথম জয়ের দেখা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


মেসির নতুন মালিকানায় ক্লাবের প্রথম জয়ের দেখা

মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন লিওনেল মেসি মাঠের খেলার পাশাপাশি ব্যবসায়ী এবং ক্লাব মালিক হিসেবেও তার ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কাতালান ক্লাব বার্সেলোনার ঐতিহাসিক জার্সির বাইরে এবার মালিক হিসেবে স্পেনের মাটিতে প্রথম জয়ের স্বাদ লাভ করলেন এই ফুটবল জাদুকর।

সম্প্রতি মেসি স্প্যানিশ ফুটবলের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এলদেন্সের মালিকানা গ্রহণ করেন। শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো আলিকান্তে অঞ্চলের এই ক্লাবটির জন্য এটি একটি নতুন এবং ঐতিহাসিক মোড় নিয়ে এসেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকানা গ্রহণের পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় ক্লাবটির ম্যাচ উপভোগ করার একটি ছবি তিনি নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পোস্ট করেন।

নতুন মালিকের অধীনে এলদেন্স স্বপ্নের মতো সূচনা করেছে। স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের অষ্টম রাউন্ডের খেলায় লা লিগা থেকে সদ্য অবনমিত হওয়া রিয়েল ওভিয়েদোকে ৪-১ গোলে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে তারা। চলতি মৌসুমে এলদেন্সের এটি দ্বিতীয় জয়। ৮ ম্যাচে ২ জয়, ২ ড্র এবং ৪ পরাজয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে তারা টেবিলের ১৫তম স্থানে অবস্থান করছে।

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটিকে ঘিরে নতুন স্বপ্নের জাল বুনছেন সংশ্লিষ্টরা। এক সময়ের বার্সেলোনা মহাতারকার হাত ধরে এলদেন্সের মূল লক্ষ্য এখন লা লিগায় উন্নীত হওয়া। পয়েন্ট টেবিলে ১৯ ও ১৮ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে কাস্তেলন ও এইবার। তবুও, মেসির মতো মহাতারকার ছোঁয়ায় ক্লাবটি নিজেদের ভাগ্য বদলে লা লিগায় জায়গা করে নেওয়ার ঐতিহাসিক স্বপ্ন দেখছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরের গির্জা থেকে চুরি হওয়া ৭০ কেজি পিতলের ঘণ্টা উদ্ধার, অভিযানে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


মোহাম্মদপুরের গির্জা থেকে চুরি হওয়া ৭০ কেজি পিতলের ঘণ্টা উদ্ধার, অভিযানে পুলিশ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সেইন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চ থেকে চুরি হওয়া প্রায় ৭০ কেজি ওজনের পিতলের ঘণ্টাটি পুলিশ উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে জাকির হোসেন রোডের একটি ময়লার ডাস্টবিনের পাশে ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়। তবে, এই ঘটনায় জড়িতদের এখনও শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম জানান, আসাদ অ্যাভিনিউয়ে ওয়াসা ভবনের সামনে সেইন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চের দ্বিতীয় তলার খোলা জায়গায় ঘণ্টাটি রাখা ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৩ মিনিটের পর কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা ঘণ্টাটি চুরি করে নিয়ে যায়।

পুলিশ ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। চুরি হওয়া ঘণ্টাটি উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে।

ওসি আব্দুল হালিম বলেন, পুলিশের অভিযান চলাকালে চোর বা চোরেরা ঘণ্টাটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে জাকির হোসেন রোডের একটি ময়লার ডাস্টবিনের পাশে সাদা পলিব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়।

চুরির আগে রাত ১২টা ৩ মিনিট থেকে চার্চের সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ থাকার বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওসি জানান, আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনার সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধার করা পিতলের ঘণ্টাটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন দূতাবাসের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


মার্কিন দূতাবাসের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ভিসা পেতে সাক্ষাৎকার বা ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় মিথ্যা তথ্য না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। দূতাবাস সতর্ক করেছে যে, আবেদনকারীদের অতীতের যেকোনো অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের তথ্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জানা থাকে। সাক্ষাৎকারে অসত্য তথ্য প্রদান করলে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে পারে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিসা সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তায় দূতাবাস এই তথ্য জানায়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনকারীদের উদ্দেশ্যে কনস্যুলার কর্মকর্তারা সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে আবেদনকারীর অতীতের অভিবাসন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে আগে থেকেই অবগত থাকেন।

দূতাবাস জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, সাক্ষাৎকারের সময় কোনো বিষয় গোপন না করে অথবা বিভ্রান্তিকর তথ্য না দিয়ে শতভাগ সত্য কথা বলা উচিত। যদি কোনো আবেদনকারী মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন বা জাল নথিপত্র উপস্থাপন করেন, তাহলে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে চিরতরে নিষেধাজ্ঞা বা নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%