বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:১৫ পি.এম
গাজীপুরের কালীগঞ্জের বিল্লাল মাঝি নামে এক ব্যক্তি তার বন্ধু হাবিবুরের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে ফিরে আসার পথেই বুকে ব্যথার কারণে বিল্লাল মাঝির মৃত্যু ঘটে। পরেরদিন, তার বন্ধু হাবিবুরও মারা যান।
মৃত বিল্লাল মাঝির বয়স ৫০ বছর। তিনি গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইশ গ্রামের করম আলী মাঝির পুত্র এবং হাবিবুর রহমানের বয়স ৫৭ বছর। তিনি একই জেলার কাপাসিয়া থানার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আসাম উদ্দিনের সন্তান।
এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে যে, বিল্লাল মাঝি প্রায় ২৫ দিন আগে তার বন্ধু হাবিবুর রহমানকে চিকিৎসায় সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে ভারতীয় কলকাতায় গিয়েছিলেন। কলকাতার ঠাকুর পুকুর ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরে, তারা ৯ আগস্ট বাড়ির পথে রওনা দেন। কলকাতা থেকে ফেরার সময় হঠাৎ করে বিল্লাল মাঝি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর, তাকে এমআর ভাঙ্গুর ডিস্ট্রিক্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারপর, তার বন্ধু হাবিবুর রহমানও শোকের কারণেই মারা যান। বর্তমানে, দুইজনের মরদেহ এমআর ভাঙ্গুর ডিস্ট্রিক্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে রয়েছে।
বিল্লাল মাঝির মেয়ে আফরোজা আক্তার বলেন, "দুই বন্ধু একসাথে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি, যেন তাদের দেশের মাটিতে দাফন করতে পারি।"
এ বিষয়ে জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম মন্তব্য করেন, "লাশদুটি আনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমি দাবি জানাচ্ছি, সরকার যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।"
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, "তাদের পরিবার থেকে এখনো কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। যোগাযোগ হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কলম্বিয়ায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইতিমধ্যে ২৬৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫০০ মানুষ।
বুধবার (১২ আগস্ট) উদ্ধারকর্মীরা ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টার বিশেষ সময়সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছেন। সাধারণভাবে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের জন্য এই সময়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকর্মীরা জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা পুরোপুরি ত্যাগ করছেন না।
চলতি শতাব্দীর কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৯ হাজার ৫৫০টির বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পেরেইরা ও কালি শহর। পেরেইরায় ৮৩ জন এবং কালিতে ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের বলেছেন, উদ্ধার অভিযান বর্তমানে শেষ পর্যায়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তারপরও জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সময় গড়ানোর সাথে সাথে সেই সম্ভাবনা কমছে।
পেরেইরায় ধসে পড়া একটি বেকারির নিচে একজন ফেরিওয়ালা আটকে আছেন বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। কম্পন শনাক্তকারী যন্ত্রে সেখান থেকে জীবনের সম্ভাব্য সংকেত পাওয়ার পর তার স্বজনরা নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন।
উদ্ধারকর্মীরা ডাকে ওই ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শব্দ করে সাড়া দিয়েছেন বলেও সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে। তার জীবিত উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চলছে।
কালিতেও রাত জেগে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছেন কর্মীরা। ক্রেন, প্রশিক্ষিত কুকুর ও আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি অনেক স্থানে খালি হাতেই তারা ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন। জীবনের কোনও সংকেত পাওয়া যায় কি না, সেই শুনানির জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর পুরো এলাকা নীরব করে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশটির সাধারণ নাগরিকরা। বিভিন্ন স্থান থেকে পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। রক্তদানের কেন্দ্রগুলোতেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়া হাসপাতাল, স্কুল, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন দিনের মাথায় এই মারাত্মক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, "এটি বিশাল মাত্রার এক বিপর্যয়।" বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য নিখোঁজদের খুঁজে বের করা।
ভূমিকম্পে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে তার আওতায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নতুন সরকারের জন্য এই ভূমিকম্প একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কম সরকারি ব্যয় ও কঠোর নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা দে লা এসপ্রিয়েলার সরকার এখন একসঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠনের বিশাল কাজ সামলাতে হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকা জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, ওষুধ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সেবার মান নিয়ে অসন্তুষ্টি এবং দুর্নীতির নানা অভিযোগে ভোগান্তির শিকার হওয়া এক ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাত বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে। বিশেষ করে, হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক হয়ে উঠেছে। আর ডেঙ্গু তো এখন প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ, এবং দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে স্বাস্থ্যসেবা গতিশীল করার চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান সরকার। এই সময়ের মধ্যে গত ছয় মাসের সাফল্য এবং ব্যর্থতার বিষয় নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের দাবি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতালগুলো পরিদর্শন, অনিয়ম বিষয়ে লাইসেন্স স্থগিত করা এবং চিকিৎসাসেবায় তদারকি বৃদ্ধি করে সরকার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হাসপাতালগুলোর সেবার মান উন্নয়ন, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেওয়া, জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দও রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও পূর্বাবস্থায় জানিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতিটি উপাদানকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য কাজ চলছে। তার মতে, জনগণ ইতোমধ্যে এসব উদ্যোগের সুফল পেয়ে যাচ্ছেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, চিকিৎসক এবং অবকাঠামোর অভাবের কারণে হাসপাতালে রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রায় ২৫০ রোগী আসছেন। খাবার ৫০ জনের জন্য পাওয়া যায়, বাকিরা বলেন, খাবার নেই। তিনি সমস্যার সমাধানের জন্য প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির জন্য টিমওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে টিমওয়ার্কের প্রতিটি অংশকে উন্নত করে তোলা। সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা বাড়ছে। সকল চিকিৎসক এবং নার্স হাসপাতালগুলোতে উপস্থিত রয়েছেন। সাড়ে ৫ মাসে বা এর বেশি কিছু নিয়ে কাজ করেছেন? সফ্টওয়ার রুমে যাচ্ছেন, দেখে নেবেন কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নেই। রোগীরা খুবই সন্তুষ্ট।
তবে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিত্রটি আশাব্যঞ্জক নয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদের মতে, ছয় মাস পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট সময় নয়, কিন্তু এই সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে স্পষ্ট এবং উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য খাতকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে নিয়ে আসার জন্য এখনো স্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নির্ধারিত লক্ষ্য এবং কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সরকারের প্রথম ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে সন্তুষ্ট করার জন্য এখন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিফলিত হওয়া উচিত। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধুমাত্র রোগীদের উন্নতি নয়, চিকিৎসকদের উন্নতির ওপরও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি নির্ভর করে। তাই চিকিৎসকদের জীবনমান এবং সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে তৈরি হয়েছে। দলে একাধিক সূত্রের দাবি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হতে চলেছে। যদি তিনি রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে দলটির মহাসচিব পদটি শূন্য হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে— মির্জা ফখরুলের স্থানে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে কে থাকছেন?
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে মহাসচিব পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে।
এই পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও এই আলোচনায় চলে এসেছে।
রিজভীই কি এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা?
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহাসচিব যদি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত হন বা অক্ষম হন, তবে সিনিয়র পর্যায়ের একজন নেতা সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সেই দিক থেকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে অনেক নেতা মনে করছেন যে রুহুল কবির রিজভী এগিয়ে থাকবেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং গণমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন রিজভী। আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগও সফলতায় বড় বিষয় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তবে মহাসচিব পদ নিয়ে দলের ভেতরে পূর্ণ একমত নেই সবাই। স্থায়ী কমিটির কয়েকজন প্রবীণ নেতা মনে করছেন, মহাসচিব একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী পদ। এই কারণে যদি স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে দলের নীতিনির্ধারণী কাঠামো ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর হবে।
এই দিক থেকে সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
গঠনতন্ত্রে কী আসে
বিএনপির গঠনতন্ত্রে ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ নামের কোনো স্থায়ী পদ নেই। সুতরাং, যদি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে তার স্থানে কাউকে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, অথবা সরাসরি নতুন মহাসচিব নির্বাচন করা হবে— এই সবকিছু দলীয় সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহাসচিব জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। তাই স্থায়ীভাবে নতুন মহাসচিব নির্বাচন করতে হলে কাউন্সিলের বিষয়টিও সামনে আসবে। এর আগে সাংগঠনিক প্রয়োজন বিবেচনা করে অস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এই বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে এখনও কিছু জানেন না। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ভালো জানেন।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আজ ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ফলে আজই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন। এর ফলে আরও সামনে চলে আসবে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিবের সম্ভাব্য নামও।
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়টিকে কেবল একজন ব্যক্তিকে বঙ্গভবনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই সঙ্গে, দলটি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কথাও বলছে।
বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির বেশিরভাগ দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের উপর নির্ভরশীল। তাই রাষ্ট্রপতির পদটি এখন অনেকটাই আনুষ্ঠানিক। তবে জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বঙ্গভবনের ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সে কারণে রাষ্ট্রপতি পদে কে দায়িত্ব নিচ্ছেন, এটি আর শুধু আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। এটা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সাংবিধানিক কাঠামোর দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি পদে একটি রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ, দলের প্রতি আস্থাশীল এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে সক্ষম একজনের প্রয়োজন।
কেন মির্জা ফখরুল?
এখন পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্যও ছিলেন এবং সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের মামলাসমেত গ্রেপ্তার ও কারাবরণের পাশাপাশি কঠিন সময়েও তিনি নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখতে সক্ষম ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছেও তিনি আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দলীয় সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা এবং দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নগুলো বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কাউন্সিল
মহাসচিবের পদটি দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে বিএনপির সামনে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় কর্মসূচি, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পরিস্থিতি এবং দলের কাউন্সিল— সব মিলিয়ে সামনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
এই কারণে মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদটি দীর্ঘ সময় শূন্য রাখার সুযোগ নেই, এমনটিই মনে করছেন দলের নেতা-কর্মীরা।
রুহুল কবির রিজভীকে ঘিরে দলটির ভেতরে মতবিরোধ থাকলেও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন অনেকে। অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষে থাকা নেতারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে সাংগঠনিক নেতৃত্বের সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছেন।
অতএব, শেষ পর্যন্ত মহাসচিব পদে কে আসছেন, সে বিষয়টি বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনাও বর্তমানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনেও নতুন হিসাব
যদি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য হয়ে যাবে। সেই ক্ষেত্রে সংবিধান ও নির্বাচনি আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। গত জাতীয় নির্বাচনে বাবার সমর্থনে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তবে তাকে প্রার্থী করার বিষয়ে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো নেই।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সামনে একাধিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে মহাসচিবের পদ শূন্য হবে, নতুন নেতৃত্বের প্রশ্ন সামনে আসবে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নতুন গুরুত্ব পেতে পারে। আরও, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সম্ভাব্য উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক হিসাব তৈরি হবে।
অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিএনপির জন্য একজন প্রার্থী বাছাইয়ের প্রশ্ন নয়; বরং এর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : বিচার প্রার্থীদের জন্য সময়, অর্থ ও হয়রানি কমানোর লক্ষ্যে চতুর্থ পর্যায়ে দেশের আরও ১২টি জেলায় ইলেকট্রনিক জামিননামা বা ই-বেইলবন্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
নতুন করে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত ১২টি জেলা হলো— টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, চাঁদপুর, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ এবং ঠাকুরগাঁও।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগে একটি জামিননামা আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত পৌঁছাতে ১২টি জটিল ধাপ পার করতে হতো। এখন আইনজীবীরা তাদের চেম্বার বা যেকোনো স্থানে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে এক ক্লিকে ই-বেইলবন্ড জমা দিতে পারবেন। সাথে সাথে মোবাইলে ওটিপি ও কনফার্মেশন চলে আসবে।’
উনি জানান, নারায়ণগঞ্জে প্রথম পরীক্ষামূলক চালুর পর দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৮টি জেলা এবং তৃতীয় ধাপে বগুড়াসহ ৭টি জেলা নিয়ে মোট ১৬টি জেলায় ইতোমধ্যে ই-বেইলবন্ড সফলভাবে চালু করা হয়েছে। এসব জেলায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ড নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
নতুন ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ার ফলে এ সুবিধার আওতায় আসার পাশাপাশি বিচারিক গতি বহুগুণ বাড়বে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
মন্ত্রী মামলার জট নিরসনে বিচারকদের উৎসাহিত করে আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিজম ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে পারবে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে এর জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতির বক্তব্য রাখেন এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ্, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, এ যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী অঞ্চলের বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ