ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ধামুরা খালের বুকে আর্চ সেতু, বদলে যাচ্ছে উজিরপুরের দৃশ্যপট


ধামুরা খালের বুকে আর্চ সেতু, বদলে যাচ্ছে উজিরপুরের দৃশ্যপট

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের ধামুরা খাল একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শতবর্ষী প্রাকৃতিক জলাশয় হিসেবে পরিচিত। এই খালের মাধ্যমে উজিরপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পণ্যবাহী নৌকা এবং ট্রলার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছে। এটি একসময় অত্যন্ত খরস্রোতা খাল হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ধামুরা বাজার গণহত্যার স্মৃতির সঙ্গে এই খালের উল্লেখ রয়েছে।

এখনও অব্যাহত রয়েছে খালের দুই পাশে সবুজের সমারোহ, যেখানে মাঝখানে খালের স্বচ্ছ জলের স্রোতধারা বয়ে চলেছে। তার ওপরে নির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু ধনুকের মতো বাঁক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এটি কোনো পর্যটন কেন্দ্রের নান্দনিক স্থাপনা। তবে এটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; বরিশালের উজিরপুরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আর্চ সেতুটি যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। বিকেল নামলেই সেতুর পরিবেশ বদলে যায়।

স্থানীয় মানুষদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ছুটে আসছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে খালের সৌন্দর্য উপভোগ, ছবি তোলা কিংবা কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো—সব মিলিয়ে ধামুরা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন উজিরপুরের মানুষের কাছে নতুন পরিচিতি লাভ করেছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

স্থানীয়দের অনেকেই সেতুর নান্দনিক নকশাকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার সেতুর সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের মতে, যোগাযোগের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি এমন দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো একটি এলাকার সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় উজিরপুর উপজেলার সানুহার আরঅ্যান্ডএইচ-ধামুরা জিসি-জল্লা-সাতলা জিসি সড়কের ধামুরা খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ৫৫ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি আর্চ সেতুটি। বাংলাদেশ সরকার (জিওবি) ও আইডিএ’র অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির ব্যয় ৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৫৭৩ টাকা।

২০২৩ সালের ৪ মে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল কাজ শেষ করা হয়। এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম/এস এমএই-শামস-উপকূল (জেভি) নির্মাণকাজটি বাস্তবায়ন করে। পরে উদ্বোধনের মাধ্যমে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

আর্চ সেতুটি চালু হওয়ার ফলে সানুহার-ধামুরা-জল্লা-সাতলা সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আগের মতো খাল পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না স্থানীয়দের। একইসঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় পুরোনো সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সাতলা-বরিশাল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হতো। ধামুরা খাল পারাপার ছিল স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির বিষয়। নতুন সেতুটি নির্মাণের ফলে সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন যোগাযোগের পাশাপাশি সেতুটি এলাকার সৌন্দর্যেরও বিশেষ অংশ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ লিটন বলেন, ‘সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে আগে যাতায়াতে মানুষের অনেক কষ্ট হতো। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। এখন নতুন সেতু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ আর নেই। সবচেয়ে ভালো লাগছে, সেতুটি দেখতে খুব সুন্দর। এখন এটি দেখতে অন্যান্য এলাকার মানুষও আসছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আর্চ সেতুটি নির্মাণের পর এলাকার পরিবেশই যেন বদলে গেছে। বিকেল হলেই মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। সেতুর পাশে যদি বসার জায়গা, আলোকসজ্জা ও কিছু সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’

ঘুরতে আসা সরদার সোহেল বলেন, ‘সেতুটির নকশা খুবই সুন্দর। খাল, গাছপালা আর সেতু মিলিয়ে চমৎকার একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ধামুরা খালের বুকে নির্মিত নান্দনিক আর্চ ব্রিজটি দেখতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসার মতো জায়গা। ভালোভাবে উন্নয়ন করা হলে এখানে আরও বেশি দর্শনার্থী আসবেন।’

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

বরিশাল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায় দুটি নান্দনিক আর্চ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রকৌশল নকশা, স্থায়িত্ব এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে ব্রিজ দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। হাতিরঝিলের আদলে নির্মিত ব্রিজ দুটি দেখতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ভিড় করছেন।’

তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর আশপাশে পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা, বসার ব্যবস্থা ও নিরাপদ দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এতে ধামুরা আর্চ ব্রিজটি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পাশাপাশি উজিরপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেডিয়েশন থেরাপি ও রেডিওলজিক প্রযুক্তি: কোন পেশা আপনার জন্য উপযুক্ত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


রেডিয়েশন থেরাপি ও রেডিওলজিক প্রযুক্তি: কোন পেশা আপনার জন্য উপযুক্ত?

স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পেশার সুযোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রেডিয়েশন থেরাপি ও রেডিওলজিক প্রযুক্তি এই দুইটি পেশাগত ক্ষেত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উভয় ক্ষেত্রেই আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রের ব্যবহার রয়েছে, তবে কাজের ধরন, রোগী এবং দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।

একটি ক্ষেত্রে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় বিকিরণ প্রয়োগ করা হয়। অন্যদিকে, রেডিওলজিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে এবং অন্যান্য ছবি তৈরি করা হয়।

রেডিয়েশন থেরাপি কী?

রেডিয়েশন থেরাপি প্রধানত ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা ক্যানসার চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীর শরীরে নির্ধারিত মাত্রায় বিকিরণ প্রয়োগ করেন।

চিকিৎসার সময় রোগীকে সঠিক অবস্থানে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরের নির্দিষ্ট অংশে বিকিরণ প্রয়োগ করা হয়। রোগীর অবস্থানে সামান্য পরিবর্তন হলেও চিকিৎসার নির্ভুলতায় প্রভাব পড়তে পারে।

উন্নত চিকিৎসা যন্ত্র ও ছবি তৈরির প্রযুক্তি এই কাজে ব্যবহার করা হয়। রেডিয়েশন থেরাপির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা সাধারণত হাসপাতালের ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগ, ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র এবং বহির্বিভাগীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে কর্মরত থাকেন।

এই পেশার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রোগীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ। ক্যানসারের চিকিৎসায় অনেক রোগীকে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন বা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়। ফলে একই রোগীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করার সুযোগ থাকে। রোগীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, চিকিৎসার সময় স্বস্তি দেওয়া এবং মানসিকভাবে পাশে থাকা এই কাজের অংশ।

রেডিয়েশন থেরাপির কর্মীদের ক্যানসার চিকিৎসক, চিকিৎসা পদার্থবিদ, চিকিৎসার মাত্রা নির্ধারণকারী বিশেষজ্ঞ, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়।

রেডিওলজিক প্রযুক্তিতে কী কাজ করতে হয়?

রেডিওলজিক প্রযুক্তির প্রধান কাজ হলো রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ছবি তৈরি করা। এক্স-রে এবং বিশেষ ধরনের ছবি তৈরির পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এই পেশায় কাজের বৈচিত্র্য অনেক। একই দিনে বিভিন্ন বয়সের রোগীর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করতে হতে পারে। রোগীকে সঠিক অবস্থানে রাখা, যন্ত্র সঠিকভাবে পরিচালনা করা, অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ কমানো এবং চিকিৎসকের প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত ছবি তৈরি করা এই পেশার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

রেডিওলজিক প্রযুক্তিবিদরা হাসপাতাল, রোগ নির্ণয়কেন্দ্র, চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বার, জরুরি বিভাগ, অস্ত্রোপচারকক্ষ এবং জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে কাজ করতে পারেন।

দুই পেশার মূল পার্থক্য

রেডিয়েশন থেরাপির মূল লক্ষ্য ক্যানসারের চিকিৎসা দেওয়া। এ ক্ষেত্রে রোগীর শরীরে নির্ধারিত মাত্রায় বিকিরণ প্রয়োগ করা হয়।

অন্যদিকে, রেডিওলজিক প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করা। এ ক্ষেত্রে এক্স-রে ও অন্যান্য ছবি তৈরি করে চিকিৎসকদের রোগ শনাক্ত ও মূল্যায়নে সহায়তা করা হয়।

রেডিয়েশন থেরাপিতে সাধারণত ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। আর রেডিওলজিক প্রযুক্তিতে শিশু, তরুণ, বয়স্কসহ বিভিন্ন ধরনের রোগীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ থাকে।

কোন পেশা কার জন্য?

যারা ক্যানসারের চিকিৎসা, রোগীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিকিৎসা দেওয়ার কাজে আগ্রহী, তাদের জন্য রেডিয়েশন থেরাপি উপযুক্ত একটি পেশার পথ হতে পারে।

অন্যদিকে, যারা রোগ নির্ণয়ের জন্য ছবি তৈরি, বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চিকিৎসা পরিবেশে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য রেডিওলজিক প্রযুক্তি আকর্ষণীয় পেশা হতে পারে।

দুটি ক্ষেত্রেই আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়। তবে রেডিয়েশন থেরাপি মূলত চিকিৎসা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত, আর রেডিওলজিক প্রযুক্তি মূলত রোগ নির্ণয়ের কাজে সহায়তা করে।

পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ

কেমব্রিজ কলেজ অব হেলথকেয়ার অ্যান্ড টেকনোলজির তথ্য অনুযায়ী, রেডিয়েশন থেরাপি ও রেডিওলজিক প্রযুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই দুই বছরের সহযোগী বিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রেডিয়েশন থেরাপির পড়াশোনায় শ্রেণিকক্ষ ও অনলাইনভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্রে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের সঙ্গে পরিচিত করা হয়।

অন্যদিকে, রেডিওলজিক প্রযুক্তির শিক্ষার্থীদের আধুনিক ছবি তৈরির যন্ত্রে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকে।

দুই ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট পেশাগত সনদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রস্তুতি দেওয়া হয়। পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

কোথায় পড়ার সুযোগ?

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, রেডিয়েশন থেরাপির পড়াশোনা ডেলরে বিচ, মিয়ামি ও আটলান্টার ক্যাম্পাসে চালু রয়েছে। আর রেডিওলজিক প্রযুক্তির পড়াশোনা ডেলরে বিচ, মিয়ামি, অরল্যান্ডো ও আটলান্টার ক্যাম্পাসে রয়েছে।

দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এবং পেশাগতভাবে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পড়াশোনা শেষে চাকরির প্রস্তুতি, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশে রেডিয়েশন থেরাপি ও রেডিওলজিক প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা, বিএসসি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুরসহ বিভিন্ন ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে এসব বিষয়ে পড়ানো হয়। বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট, ট্রমা ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্স ও সাইক কলেজ অব মেডিকেল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রেডিওলজি, ইমেজিং ও রেডিওথেরাপি বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

এক কথায়

রেডিয়েশন থেরাপি—ক্যানসারের চিকিৎসায় বিকিরণ প্রয়োগ।

রেডিওলজিক প্রযুক্তি—রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে ও অন্যান্য ছবি তৈরি।

দুটি পেশাই আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনটি বেছে নেওয়া হবে, তা নির্ভর করে একজন শিক্ষার্থীর আগ্রহ—তিনি চিকিৎসা দেওয়ার কাজে যুক্ত হতে চান, নাকি রোগ নির্ণয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে চান।

সূত্র: ক্যামব্রিজ কলেজ অফ হেলথকেয়ার এন্ড টেকনোলজি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটে ছয় বছরের মুসলিমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, বাবা ও দুই ছেলে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


বাগেরহাটে ছয় বছরের মুসলিমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, বাবা ও দুই ছেলে আটক

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুসলিমা নামের ছয় বছরের একটি শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকায় একটি পানের বরজের পাশে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মুসলিমা মোল্লাহাট উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামের ইসলাম শেখের কন্যা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শেখ জাহাঙ্গীর (৫৫) এবং তার দুই ছেলে রমজান শেখ (২৩) ও আব্দুর রহমান শেখকে (১৯) আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে মুসলিমা বাড়ির আশপাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা শিশুটির সন্ধানে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়রা শেখ জাহাঙ্গীরের পানের বরজের পাশে পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তা দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় বস্তাটি খুলে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে খবর দেওয়া হলে মোল্লাহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পানের বরজের মালিক শেখ জাহাঙ্গীরের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলে রমজান শেখ এবং আব্দুর রহমান শেখকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে আটক ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার জানান, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের শনাক্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গরমের দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


গরমের দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস

রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, বরং আবহাওয়া অধিদপ্তর তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। এই কারণে, আজ গরমের অনুভূতি শনিবারের তুলনায় বেশ কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাতটা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই দুঃসংবাদের উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের সূত্রে জানা যায়, আজ সারাদিন ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে, তবে বৃষ্টিপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ নেই। সকাল ছয়টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৯০ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হতে পারে।

এদিকে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, আজ সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে কোনো বৃষ্টি রেকর্ড হয়নি।

এছাড়া, নদী অববাহিকা ও অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর একটা পর্যন্ত কোনো ধরনের সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেয়নি আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া পরিস্থিতি সাধারণ থাকলেও দিনভর তাপদাহ বজায় থাকার সম্ভাবনা বেশি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা সরকারের অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্টদের কাছে একটি আদেশ পাঠিয়েছে, যেখানে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রের আলোকে বিদ্যুৎ বিভাগ সৌরবিদ্যুতের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব উপযুক্ত স্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগে ‘ওপেক্স’ মডেলে অথবা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অন্যান্য সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%