ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছে বেলা


ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছে বেলা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের কারণে ৯ শ্রমিক নিহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। এদিকে, সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে যে ইয়ার্ডটির সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, ছাড়পত্র-অনুমতিপত্র এবং লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের মালিক এবং শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ পাঠিয়েছে।

নোটিশের মধ্যে উল্লেখ করা হয়, ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ‘আরএএসআই’ নামের একটি জাহাজ (আইএমও নং. ৯১৭৬০০৮) কাটার জন্য আনা হয় এবং এই প্রক্রিয়ার সময় গ্যাস লিকেজে অন্তত ৯ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, শ্রমিকরা অত্যন্ত বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বেলা দাবি করেছে, এই ইয়ার্ডে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত পাঁচবার একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রশিক্ষণহীন ও অদক্ষ শ্রমিকরা নিহত ও আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নতুন এবং নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন না।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

নোটিশে আরো বলা হয়েছে যে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায় এবং আদেশে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো যে জাহাজভাঙা কার্যক্রমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, জাহাজ আমদানি করতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে এবং কালো অথবা ছাই তালিকাভুক্ত দেশ থেকে জাহাজ আমদানি নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। কিন্তু এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় একই ইয়ার্ডে বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেশন নিশ্চিত না করেই জাহাজটি ভাঙার জন্য অনুমতি দেওয়াকে আদালতের আদেশের চরম লঙ্ঘন এবং আদালত অবমাননার শামিল বলে উল্লেখ করেছে বেলা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন বলেন, ফেরদৌস শিপইয়ার্ড মৃত্যুর ঘটনায় বেলার পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা ফেরদৌস স্টীল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ, ইয়ার্ডটির জন্য দেওয়া ছাড়পত্র, অনুমতিপত্র এবং লাইসেন্স বাতিল, এছাড়া আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যভাবে আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছি। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ আগামী ১৯ আগস্ট (বুধবার) সকাল ১০টার মধ্যে বেলাকে জানাতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুকুর থেকে কলেজ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজের একদিন পর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


পুকুর থেকে কলেজ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজের একদিন পর

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট (৩৯) নামক এক কলেজ শিক্ষকের মরদেহ নিখোঁজের একদিন পর পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা আলী আহাম্মদের বাড়ির সামনের মসজিদের পুকুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সম্রাট ওই এলাকার মইনুল হক রতনের সন্তান ছিলেন। তিনি স্থানীয় ওয়েস্ট ব্যাংক কলেজে শিক্ষকতা করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে সম্রাট বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবার পরিজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও সন্ধান পাননি। সোমবার সকালে বাড়ির পাশে মসজিদের পুকুরে তার মরদেহ স্থানীয়রা দেখতে পান। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর সেখানেই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে কম দামে জমি কেনার ফাঁদে বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে কম দামে জমি কেনার ফাঁদে বাংলাদেশিরা

যুক্তরাষ্ট্রে জমি কেনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি বিশ্বাসযোগ্য দাবি হলো, মাত্র ৫০০ ডলারে এক একর জমি কেনা যায় এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই যেকোনো রাজ্যে সহজে জমির মালিক হওয়া সম্ভব। তবে এ দাবি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। মার্কিন কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় ভূমি আইনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এটি দেখা গেছে যে, অতি প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় কম দামে জমি পাওয়া গেলেও সাধারণ বাজারদর ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য জমি কেনার শর্ত আলাদা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য প্রতি একর ৪ হাজার ৩৫০ ডলার। নিউ মেক্সিকো, নেভাদা ও অ্যারিজোনার মতো কিছু রাজ্যের প্রত্যন্ত মরু এলাকায় অপেক্ষাকৃত কম দামে জমি পাওয়া যায়, কিন্তু সেখানে রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশনের মতো মৌলিক সুবিধা নেই। জমি কিনলেও সেখানে আবাসন নির্মাণের অনুমতি নাও মেলে।

এছাড়া, বিদেশি নাগরিকদের জমি কেনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা তো নেই তবে রাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন আইনগত বাধা রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে যে, কৃষিজমির বিদেশি মালিকানা সংক্রান্ত আইন রাজ্যভিত্তিক ভিন্ন। তাই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য জমি কেনার পূর্বে নির্দিষ্ট রাজ্যের আইন জানার প্রয়োজন রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো জমি বা স্থাবর সম্পত্তি কিনলেই ভিসা, গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলছে না। কারণ অভিবাসন নীতি এবং সম্পত্তির মালিকানা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা আইনি বিষয়। একইসঙ্গে কিস্তিতে অথবা সরকারি সুবিধায় সস্তায় জমি বিক্রির বিজ্ঞাপনগুলো মূলত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক প্রচার। তাই কোনো বিনিয়োগের আগে জমির স্বত্ব ও বকেয়া কর যাচাই করা অত্যাবশ্যক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভার্জিনিয়ায় বৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


ভার্জিনিয়ায় বৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড

তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), সাইবার সিকিউরিটি এবং ফেডারেল কন্ট্রাক্টিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া, বিশেষ করে নর্দার্ন ভার্জিনিয়া সম্প্রতি বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য এক আগ্রহের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। কারণ এটি ওয়াশিংটন ডিসির নিকটে অবস্থিত, অ্যামাজনের দ্বিতীয় সদর দপ্তর এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ ডেটা সেন্টার শিল্পের জন্য পরিচিত। এই প্রযুক্তিনির্ভর রাজ্যে কাজের বিপুল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে 'ভার্জিনিয়ায় গেলেই সহজে চাকরি বা গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়'—এই ধারণার পেছনে কিছু জটিল আইনি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, ভার্জিনিয়ায় কম্পিউটার ও গণিত সংশ্লিষ্ট পেশায় গড় বার্ষিক বেতন ১ লাখ ২২ হাজার ৬১০ ডলার এবং ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্টদের গড় পারিশ্রমিক প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বেসরকারি খাতের পাশাপাশি আর্লিংটন ও ফেয়ারফ্যাক্স এলাকায় সরকারি প্রকল্পগুলোতে কাজের সুযোগ থাকলেও নতুন অভিবাসীদের জন্য একটি বড় বাধা হল 'সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স'। প্রতিরক্ষা ও সরকারি আইটি প্রকল্পগুলোতে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সের পাশাপাশি আমেরিকান নাগরিকত্বের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা কেবল সাধারণ ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।

এদিকে, নর্দার্ন ভার্জিনিয়া অঞ্চলে ফেয়ারফ্যাক্স, আর্লিংটন, লাউডন ও প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টিতে বেশ কিছু সংখ্যক বাংলাদেশি পরিবার বসবাস করছে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যার বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। এখানে বাংলাদেশি গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট ও মসজিদ থাকার কারণে সামাজিক পরিবেশও বেশ সহজলভ্য।

সবচেয়ে বড় যে ভ্রান্তি রয়েছে সেটি হচ্ছে গ্রিন কার্ডের সহজলভ্যতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের প্রদান প্রক্রিয়া পুরোপুরি ফেডারেল সরকারের ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়। কোন নির্দিষ্ট রাজ্যে বসবাস বা চাকরি করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য আলাদা কোনো সুযোগ সৃষ্টি হয় না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত হাউজিং খরচ—নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় গড়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া দাঁড়াচ্ছে ২ হাজার ২৪৮ ডলার, যা সাধারণ হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

সব মিলিয়ে, আইটি খাতের বৈচিত্র্যময় সুযোগের কারণে ভার্জিনিয়া একটি আকর্ষণের কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। আমানতপূর্ণ গুজবের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড বা সহজ চাকরির প্রত্যাশায় না গিয়ে, যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় আইনি ক্লিয়ারেন্স এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নতুনদের পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানের ৫ শতাধিক পরিবার সুপেয় পানির আওতায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


বান্দরবানের ৫ শতাধিক পরিবার সুপেয় পানির আওতায়

বান্দরবান সদর উপজেলার ডলুপাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের জন্য নেওয়া হয়েছে একটি নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন পৃথক দুটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

এদিকে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে পরিবেশিত যেখানে প্রতিদিনই মানুষকে নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়। পাহাড়ের ঢালে বসতি, এক পাশে খাড়া পাহাড় এবং অন্য পাশে ঝিরি-ছড়া, এ ধরনের ভৌগোলিক বাস্তবতায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা বরাবরই চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে যখন ঝিরি-ছড়ার পানি কমে যায়, তখন অনেক পরিবারকে দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন নারী ও শিশুরা। এসব এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এলাকাবাসীদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ডুলুপাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কাছাকাছি প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের অন্তত ১০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এসব এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট বিদ্যমান ছিল। ঝিরির শুকিয়ে যাওয়া উত্তরাধিকার হিসেবে দুর্গম পথ হেঁটে পানি সংগ্রহ করা প্রতিদিনের অত্যাচার হয়ে উঠেছিল। পানি সংকট প্রতিরোধের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অর্থায়নে সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ডলুপাড়া ও রাজবিলার ইসলামপুর এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে।

এছাড়া, নলকূপ থেকে উত্তোলন করা পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব পানির হাউস থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে। এতে দীর্ঘকাল ধরে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় সুপেয় পানির জন্য ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে, বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়া জানান, ইসলামপুর এলাকায় পাঁচটি গ্রাম রয়েছে। গ্রীষ্মকাল এলেই পানি সংগ্রহের জন্য অনেক দূরে যেতে হত। কষ্ট হতো, একইসাথে পানির জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হতো। এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল হাউজ তৈরি করে দিচ্ছে। কাজটি শেষ হওয়া পর্যন্ত পানি সংগ্রহের জন্য আর সমস্যা হবে না।

চেমী ডুলু পাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু মারমা জানান, এখানে প্রায় ৩০০টি পরিবার বাস করে। শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পানি লাইনে দাঁড়িয়ে পানি পেতাম। এখন সরকার থেকে পানির হাউজ করে দিচ্ছে, কাজটি শেষ হলে আশা করি এলাকাবাসীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ডলুপাড়া ও রাজবিলার ইসলামপুর এলাকায় স্থাপন করা হবে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস ও দুটি ডিপ টিউবওয়েল। এ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজিত অর্থের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যেই ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে এবং হাউস নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব পানির হাউস থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা হবে।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাজ ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। দুই গ্রামে দুটি ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ে কাজটি শেষ হতে পারলে এলাকাবাসীর সুপেয় পানির সমস্যা লাঘব হবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানান, দুই গ্রামে প্রায় দশ হাজার মানুষের বসবাস। যেখানে শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার থাকে। সেসব এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি গ্রামে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউস স্থাপন করা হবে। কাজটি সম্পন্ন হলে এলাকাবাসীদের পানি দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%