বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৪ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং জাহাজ ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আমদানি-নির্ভর বাংলাদেশে এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
গত ছয় মাসে (মার্চ-আগস্ট) জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। বিপিসি’র চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম আজ বাসসকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সরকার জনগণের কথা বিবেচনা করে এতদিন জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছে। এর ফলে গত প্রায় ছয় মাসে বিপিসিকে অতিরিক্ত ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এবং ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসি’র অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ছয় মাসের এই অতিরিক্ত ব্যয় হিসাবে মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা করে বিপিসির ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যের পাশাপাশি পরিবহন ও হ্যান্ডলিং ব্যয়ও বিপুল হারে বেড়ে গেছে। আগে যেখানে জাহাজ ভাড়া ছিল ৩ থেকে ৪ ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ জাহাজ ভাড়ার ক্ষেত্রে ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করা হলে বিপিসিকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র জানায়, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনুযায়ী ডিজেলে বিপিসি’র লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৭০ টাকা। এ হিসাবে প্রতিদিন লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা সমন্বয় করা হলে বিপিসির বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান কমানো সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি কোটচাঁদপুর মডেল থানায় (মামলা নম্বর-১৬) ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে গ্রহণ করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশোধিত বিধানের ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারটি দায়ের করেন কোটচাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুজাহিদুল হাসান। মামলাটি গ্রহণ করেন কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান।
এজাহারে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, সংগঠিত হওয়া এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কোটচাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় কথিত সাংগঠনিক তৎপরতা, সমাবেশ ও কার্যক্রমের বিবরণও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ২১ সেপ্টেম্বর সকালে কোটচাঁদপুর মডেল থানার আওতাধীন এলাকায় পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়। পরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি কিংবা পরীক্ষা নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীর বেড়ে ওঠার স্থান, নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ এবং একটি নিরাপদ ঠিকানা। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের কাছে সেই ঠিকানার গল্প এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।
দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কারণে কেউ দূরের মেসে অবস্থান করছেন, কেউ প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করছেন। আবার কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসন-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সীমিত সুবিধার ওপর নির্ভর করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের খরচ, শারীরিক ক্লান্তি এবং মানসিক চাপ।
পুরান ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝখানে অবস্থান করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সংকট কেবল থাকার জায়গার সমস্যা নয়, বরং এটি তাদের সময়, অর্থ, পড়াশোনা এবং স্বাভাবিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ব্যস্ত শহরে অস্থায়ী জীবন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে পুরান ঢাকার ব্যস্ততা। সরু সড়ক, যানবাহনের চাপ, মানুষের ভিড় এবং প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেই চলে শিক্ষার্থীদের জীবন। ক্লাস শেষ হওয়ার পরও অনেকের দিন শেষ হয় না। শুরু হয় বাস ধরার তাড়া, যানজট পেরিয়ে বাসায় ফেরার সংগ্রাম কিংবা মেসে ফিরে যাওয়ার দীর্ঘ পথ।
কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় থাকেন, আবার কেউ মিরপুর, উত্তরা, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ কিংবা মুন্সিগঞ্জের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করেন। ফলে দিনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় কেটে যায় রাস্তায়।
দীর্ঘ যাত্রার প্রভাব শুধু সময়ের ওপরেই পড়ে না, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা কিংবা গবেষণামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিদিনের যাতায়াতও শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর অনেকের শরীর-মনেই ক্লান্তির ছাপ থাকে।
হল কেবল থাকার জায়গা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন শিক্ষার্থীর কাছে হলের অর্থ শুধুমাত্র একটি বিছানা বা মাথা গোঁজার জায়গা নয়। হল মানে রাত জেগে পড়াশোনা করার সুযোগ, পরীক্ষার আগে বন্ধুদের সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়া, অসুস্থ হলে পাশে কাউকে পাওয়া কিংবা ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসে থেকে যাওয়ার সুযোগ।
হল অনেকের কাছে দ্বিতীয় একটি পরিবার। এখানেই তৈরি হয় বন্ধুত্ব, স্মৃতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। ক্যাম্পাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্কও আরও গভীর হয়।
কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখনও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো আবাসিক হল না থাকায় তাদের বড় অংশকে বাইরের মেস কিংবা পরিবারের বাসার ওপর নির্ভর করতে হয়। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা থাকলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় তা প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত।
পুরোনো সংকট, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আগে জগন্নাথ কলেজের অধীনে থাকা কয়েকটি হল পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সময়ের সঙ্গে এসব আবাসিক স্থাপনা নিয়ে দখল, নিয়ন্ত্রণ এবং মালিকানা সংক্রান্ত নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা নতুন করে হল উদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে আইনি সহায়তা ও উদ্যোগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা— নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের বাস্তবায়ন এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। ফলে বছরের পর বছর ধরে জবিয়ানদের কাছে হলের দাবি একটি আন্দোলনের বিষয় নয়, বরং এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রশ্ন। সরকার যায়, প্রশাসন যায় কিন্তু জবিয়ানদের এই হলের সমস্যা সমাধান হয় না। শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতির মধ্যেই থমকে যায় জবিয়ানদের জীবন।
মেসজীবনে বাড়ছে খরচ, চাপ পড়ছে পকেটে
হল না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মেসে থাকা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এক ধরনের বাধ্যবাধকতা। পুরান ঢাকা, সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় সিট ভাড়া করে থাকেন অনেকে।
মেসে থাকার সঙ্গে যুক্ত হয় বাসাভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট ও যাতায়াতের খরচ। সব মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোটামুটি একটি মেসে থাকা ও দৈনন্দিন খরচ মিলিয়ে মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বা তারও বেশি ব্যয় হতে পারে।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বাড়তি ব্যয় বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ পরিবারের সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করেন, আবার কেউ নিজের খরচ চালাতে টিউশনি বা অন্য কাজ করেন।
ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি একাধিক টিউশনি করতে হয়। এতে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও কমে যায় পড়াশোনা, বিশ্রাম কিংবা নিজের দক্ষতা উন্নয়নের সময়।
মেসজীবনের সমস্যা কেবল অর্থনৈতিক নয়। ব্যক্তিগত পরিসরের অভাব, পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বস্তির বিষয়গুলোও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ভাবতে হয়।
প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে রাস্তায়।
আবাসন সংকটের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে যাতায়াতে। দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের দিনের একটি বড় অংশ চলে যায় রাস্তায়। ঢাকার যানজট, গণপরিবহনের ভিড় এবং দীর্ঘ যাত্রা মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই অনেকের দিনের শক্তি ক্ষয় হয়ে যায়।
সকালে বাস ধরার জন্য তাড়াহুড়া, এরপর যানজট পেরিয়ে ক্লাসে পৌঁছানো এবং দিন শেষে আবার একই পথ ধরে বাড়ি ফেরা— এই বাস্তবতা অনেক শিক্ষার্থীর নিত্যদিনের সঙ্গী। বাসায় ফিরে আবার অনেককে টিউশনি করতে হয়। ফলে পড়ার টেবিলে বসার মতো মানসিক ও শারীরিক শক্তি অনেক সময় অবশিষ্ট থাকে না। ক্লান্ত শরীর তখন চায় শুধু একটু বিশ্রাম।
এর প্রভাব পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষাজীবনেও। ক্লাসের বাইরে লাইব্রেরিতে সময় দেওয়া, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সংগঠন কিংবা নিজের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় অনেকের হাতেই থাকে না। বিকেল গড়াতেই অনেক শিক্ষার্থীর চিন্তা থাকে— কীভাবে দ্রুত বাস ধরবেন, কখন বাসায় পৌঁছাবেন এবং পরদিন আবার কখন বের হতে হবে।
ক্যাম্পাসে থেকেও যেন থাকার জায়গা নেই
আবাসিক সুবিধা শিক্ষার্থীদের শুধু থাকার সুযোগ দেয় না, এটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করে। ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসে থাকা, বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা, দলগত পড়াশোনা, সাংস্কৃতিক চর্চা কিংবা রাত পর্যন্ত লাইব্রেরিতে সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় আবাসনের মাধ্যমে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার হিসাব করতে হয়। দূরের বাসায় ফিরতে হবে, মেসে ফিরতে হবে কিংবা শেষ বাস ধরতে হবে— এই চিন্তা অনেক সময় তাদের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করে। এর সঙ্গে রয়েছে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বসার ও অবসর কাটানোর জায়গার সীমাবদ্ধতা। ফলে আড্ডা, দলগত পড়াশোনা, গবেষণা কিংবা সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্যও অনেক শিক্ষার্থীকে সময় ও জায়গার সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও তাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি বড় অংশ যেন ক্যাম্পাসের বাইরেই কাটে।
সংকটের মধ্যেও থেমে নেই জবিয়ানদের স্বপ্ন।
তবে আবাসন সংকট, দীর্ঘ যাতায়াত কিংবা বাড়তি খরচ— কোনোটিই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা অ্যাকাডেমিক ফলাফল, গবেষণা, বিতর্ক, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সংগঠন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা, বিসিএস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ও নিয়োগ পরীক্ষায় জবিয়ানদের সাফল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা গেছে।
তবে এই সাফল্যের পেছনে থাকা ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্পটি অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। দীর্ঘ যাতায়াত, বাড়তি খরচ কিংবা থাকার অনিশ্চয়তার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্য ধরে রাখছেন।
প্রয়োজন পরিকল্পিত ও টেকসই আবাসন
আবাসন সংকটের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বস্তির বিষয়গুলো সরাসরি জড়িত। তাই এই সমস্যার সমাধানও হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত। পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের দৈনিক যাতায়াতের সময় কমবে, বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমবে এবং পড়াশোনা ও গবেষণায় আরও বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসনে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ ও আশ্বাস সামনে এসেছে। এখন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা— এসব উদ্যোগ যেন বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায় এবং দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান তৈরি হয়।
কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ভবন, শ্রেণিকক্ষ কিংবা সনদ দিয়ে পূর্ণতা পায় না। শিক্ষার্থীর নিরাপদে থাকা, পড়াশোনা করা, সময়কে নিজের মতো করে কাজে লাগানো এবং স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগও একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হলের দাবি তাই কেবল কয়েকটি ভবনের দাবি নয়। এটি সময় বাঁচানোর দাবি, বাড়তি খরচ কমানোর দাবি, নিরাপত্তার দাবি এবং একটি স্বাভাবিক বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের দাবি।
হয়তো সেই দিনও আসবে, যখন জবি শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষে বাসের সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিতে হবে না। মেসের বাড়তি খরচ কিংবা থাকার নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতে হবে না। সেদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু হাজারো তরুণের স্বপ্ন পূরণের প্রতিষ্ঠান থাকবে না— হয়ে উঠবে তাদের নিরাপদ ঠিকানা, আপন ঠিকানা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাক জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: ডেপুটি ম্যানেজার
বিভাগ: অপারেশনস
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীদের ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস, ইকোনমিক্স, সোশ্যাল সাইন্স, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
অন্যান্য যোগ্যতার মধ্যে স্টেকহোল্ডার ব্যবস্থাপনা, দল পরিচালনা এবং ডেটা রিপোর্টিংয়ে দক্ষতা থাকতে হবে। এছাড়া মাইক্রোসফট অফিস ও ডেটা রিপোর্টিং টুলস ব্যবহারে পারদর্শিতা প্রয়োজন।
অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কমপক্ষে ২ থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই
কর্মস্থল: ঢাকা
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু ন্যায়বিচার, নিরাপদ সুপেয় পানি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বার্তা নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের উদ্দেশ্যে পায়ে হাঁটার কাজ করছেন পরিবেশকর্মী ও হাইকার মাসফিকুল হাসান টনি (২৯)। ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ নামের এই অভিযানে ৩০১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের শিশুবাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান তিনি।
বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর টনি শিশুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। এরপর দুপুর ১২টার দিকে চরমোন্তাজ থেকে চরবাংলার দিকে যাত্রা শুরু করেন। তার এই দিনের গন্তব্য ছিল ভোলার চরফ্যাশন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু হয় টনির এই পদযাত্রা। প্রায় ৭৫০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ অভিযানের শেষ গন্তব্য টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ। উপকূলের প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষের জীবন-জীবিকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
টনি মন্তব্য করেন, "আমি এই অভিযান শুধু অ্যাডভেঞ্চারের জন্য করছি না। জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুপেয় পানির দাবিকে সামনে রেখে উপকূলের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, "উপকূলের অনেক এলাকায় সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে মানুষের পানির চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে টনি বলেন, "উপকূলীয় এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রভাব নিয়েও মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি।" তার দাবি, স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিভিন্ন নদীতে মাছ কমে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছেন।
টনি আরও বলেন, "সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোকে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে শুধু উদ্যোগ নিলেই হবে না, যত দ্রুত সম্ভব সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।"
নদী ও মানুষের জীবন-জীবিকার সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, "নদী শুধু পানি প্রবাহের জায়গা নয়। নদীর সঙ্গে জেলে, নৌকা, জাল, মাছের আড়ত, বাজারসহ উপকূলের বহু পরিবারের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই নদীর স্বাস্থ্য ও মানুষের জীবিকার বিষয়টি উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়া দরকার।"
নাটোরের বনপাড়ার বাসিন্দা টনি পেশায় বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। ২০১৯ সাল থেকে দীর্ঘপথে হাইকিং করছেন তিনি। এর আগে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ভোমরা থেকে সাকা হাফং এবং রৌমারী থেকে চর কুকরিসহ বিভিন্ন দীর্ঘপথের অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
এবারের ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ অভিযানে উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার, নিরাপদ সুপেয় পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান টনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ