০৫:১৯ পি.এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থার বিকল্প নেই।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism’।
উপাচার্য উল্লেখ করেন, পর্যটন এখন আর শুধুমাত্র আনন্দ-বিনোদন কিংবা অবকাশযাপনের বিষয় নয়; বরং এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকত, নদী, বন, পাহাড়, চা-বাগান, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে পর্যটন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ
তিনি বলেন, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, সেবার মানের ঘাটতি, যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থার বিকল্প নেই। বিশ্ব পর্যটন খাতে ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়েছে। উপাচার্য বলেন, স্মার্ট পরিকল্পনা, তথ্য-উপাত্তভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল বিপণন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভ্রমণ-অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এআই পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার বাংলাদেশের পর্যটনসেবাকে আরও আধুনিক, পর্যটকবান্ধব ও বৈশ্বিক জনগণের জন্য সহজলভ্য করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এআই-নির্ভর পর্যটন হবে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। ছোট উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোও আন্তর্জাতিক পর্যটনবাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, দায়িত্বশীল পর্যটন আচরণ এবং সাংস্কৃতিক ও মানবিক মূল্যবোধকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
উপাচার্য ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, এআই, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, ডিজিটাল বিপণন ও স্মার্ট আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পর্যটনবিষয়ক গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। তাদের উদ্ভাবনী গবেষণা ও উদ্যোগ টেকসই পর্যটনের বিকাশ, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস কেবল উদ্যাপনের দিন নয়; বরং এটি পর্যটন খাতের উন্নয়নে নতুন করে অঙ্গীকার করার দিন। প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে একটি আধুনিক, সেবামুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রযুক্তি যেন কখনো মানুষের বিকল্প হয়ে না ওঠে; বরং মানুষের সেবা, আতিথেয়তা ও মানবিকতাকে আরও কার্যকর করার মাধ্যম হিসেবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা উচিত।
আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং রহিমাফরোজ বাংলাদেশ লিমিটেডের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ রহিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড রুরাল বেসড অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ইরফান আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস শাহীদ মিয়া, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন সেলিম, এনজিও দিশার নির্বাহী পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম এবং গোয়িংফ্লাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ইরফান আহমেদ বলেন, পর্যটন খাতের সামগ্রিক রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়নে প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দিন দিন অপরিহার্য হয়ে উঠছে। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় শিল্পবিপ্লব থেকে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দিকে অগ্রসর হতে ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এআইয়ের সঠিক প্রয়োগ একজন পর্যটকের গন্তব্য নির্বাচন, তথ্য অনুসন্ধান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, সহজে বুকিং, ভাষান্তর এবং ভ্রমণ-অভিজ্ঞতাকে অনন্য করে তোলার পাশাপাশি ফিরতি যাত্রাও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, হোটেল-রিসোর্ট ব্যবস্থাপনা, স্বল্প সময়ে উদ্ভাবনী ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরি এবং সরকারি পর্যায়ে পর্যটকদের জন্য সঠিক তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা ও গবেষণাভিত্তিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়িক খাতকে সমৃদ্ধ করে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতেও এআই ও ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনা যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন