মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১৯ পি.এম
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল বিতর্ক পর্ব শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে। বিশ্বনেতারা নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন এই অধিবেশনে অংশ নিতে।
প্রতিটি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের জন্য নির্ধারিত থাকে একটি বিশেষ প্রতিপাদ্য। এবারের প্রতিপাদ্য হলো-‘বিশ্বাস পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট এবারের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের বক্তৃতায় গুরুত্ব পাবে। এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনও অগ্রাধিকারের তালিকায় বরাবরের মতোই স্থান পাবে।
ফিলিস্তিন এবারের অধিবেশনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে থাকবে। ভিসা পাওয়ার সমস্যার কারণে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সশরীরে উপস্থিত হতে পারছেন না। তিনি ভাষণ দেবেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। তবে নিউ ইয়র্কে উপস্থিত হয়ে ভাষণ দেবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। ফলে নতুন মহাসচিব কে হবেন, এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সেই বিষয়টি নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে এ বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অনেকের জন্য এবারের অধিবেশন হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম অভিজ্ঞতা। সেই তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও রয়েছেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনে রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রায় চার দশক পর আবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন।
এ বিষয়ে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন।
হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দুই পক্ষের সুবিধার জন্য হবে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছান। তিনি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্যান্য সফরসঙ্গীরা তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে নিউইয়র্ক সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে। তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তার ভাষণে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে বৈঠক করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর আগে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নিউইয়র্ক সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্যান্য সদস্য।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে, দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং মহানগর ও শহর এলাকায় ১৮ পয়সা বৃদ্ধি পেতে পারে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিআরটিএর বনানী কার্যালয়ে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাস মালিক, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের প্রতিনিধিরা।
বিআরটিএর সূত্রে জানা গেছে, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এরপর নতুন ভাড়া কার্যকর করার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
বৈঠকে সংশ্লিষ্টরা জানান, দূরপাল্লার পথে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ মহানগর ও শহর এলাকায় প্রতি কিলোমিটারে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় বিআরটিএর ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি জ্বালানি, যন্ত্রাংশ, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বিবেচনা করে থাকে। তবে এবার শুধুমাত্র জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টিকে কেন্দ্র করে হিসাব করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়লে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় এক পয়সা বাড়ে। সেই হিসাবে এবার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির পুরোটা ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৈঠকের পূর্বে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা সড়ক পরিবহন ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বাসভাড়া বাড়ানোর আবেদন জানান।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হলে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল।
বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং মিনিবাসে ২ টাকা ৪২ পয়সা। দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা।
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে মহানগর এলাকায় বাসের ভাড়া হবে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৭১ পয়সা এবং মিনিবাসে ২ টাকা ৬০ পয়সা। দূরপাল্লার বাসের ভাড়া দাঁড়াবে ২ টাকা ৪৩ পয়সা প্রতি কিলোমিটার। এর সঙ্গে নির্ধারিত ক্ষেত্রে সেতু ও সড়কের টোলও যাত্রীদের বহন করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া চারটি মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। কুমিল্লায় ১৩ বছরের এক কিশোরের হত্যা, খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা, সুনামগঞ্জে বাবার সঙ্গে কীটনাশক পান করে তিন শিশুর মৃত্যু এবং মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই ঘটনার ফলে চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লার কিশোর হত্যার ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য ঘটনাগুলোর প্রকৃতি ও কারণ খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনা শনিবার দুপুরে সামনে আসে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মা’র আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সন্তানের সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবারের সদস্য ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে অভিযান চালায়।
প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে আইফোন নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
রোববার এক ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফাহাদ ও কামরুলের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাদেরও হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই রাতে খুলনা নগরীর ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে আজমুল হোসেন আযম নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। আজমুল নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়।
ঘটনাস্থলে থাকা একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগে আজমুলকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার কাছ থেকে বিভিন্ন জিনিস নেওয়ার কথা স্বীকার করানো হয় বলে দাবি করা হয়। একপর্যায়ে লাউডস্পিকারে তার বাবার সঙ্গে কথা বলানো হয়। ফোনে আজমুল তার বাবাকে সেখানে থাকার কথা জানান এবং টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরির অভিযোগে ধরা পড়ার বিষয়টি জানান।
পরিবারের অভিযোগ, মারধরের পর আজমুলের বাবার কাছে ফোন করে চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে আজমুলের মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে তিন সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক পান করেন সরফত আলী নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তার তিন সন্তান, মাওয়া আক্তার (১০), শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২) মারা যায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সরফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সরফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন দিন আগে সৌদি আরবে যান। বিদেশে যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। শুক্রবার রাতে সন্তানদের নিয়ে ঘুমাতে যান সরফত আলী। রাত ১টার দিকে তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক পান করেন। পরে ময়মনসিংহে থাকা এক ফুফুকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চান।
ফুফুর কাছ থেকে খবর পেয়ে সরফত আলীর ছোট ভাই রহমত আলী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে চারজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে একটি ঘর থেকে সৌদি প্রবাসী ইকরাম হোসেন, তার স্ত্রী সানজিদা এবং তাদের দেড় বছরের শিশুসন্তান আলেজার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ইকরাম। শনিবার দুপুরে ঘরের ভেতর স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরামের মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে কী কারণে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদেশ থেকে ফেরার পর ইকরাম পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন। স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ চলছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশের চার জেলায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় মোট সাতজনের মৃত্যু ঘটেছে। কুমিল্লার ঘটনায় পুলিশের তদন্তে হত্যার উদ্দেশ্য ও জড়িতদের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেলেও খুলনা, সুনামগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের ঘটনাগুলোর পেছনের পূর্ণাঙ্গ কারণ এখনো তদন্তাধীন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষ হলে এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ