ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্পেনে রাজকীয় আমন্ত্রণে মেসি, আজ গ্রহণ করবেন পুরস্কার


স্পেনে রাজকীয় আমন্ত্রণে মেসি, আজ গ্রহণ করবেন পুরস্কার

আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি স্পেনে পৌঁছেছেন ২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার গ্রহণের জন্য। আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্পেনের ওভিয়েদো শহরের তেয়াত্রো কাম্পোয়ামোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানি লেতিসিয়ার উপস্থিতিতে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। মেসি হচ্ছেন প্রথম ফুটবলার যিনি এককভাবে এই পুরস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।

মেসি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোকে সঙ্গে নিয়ে ওভিয়েদোর ঐতিহাসিক হোটেল দে লা রেকনকিস্তায় পৌঁছান। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে অসংখ্য ভক্ত জড়ো হন। এ সময় আর্জেন্টাইন এই তারকা সমর্থকদের অটোগ্রাফ দেন।

ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য মেসি বিশ্বকাপ জয়, আটটি ব্যালন ডি’অর এবং ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন। বার্সেলোনায় দীর্ঘ সময় কাটানোর পর ২০২১ সালে তিনি ক্লাবটি ছাড়েন এবং বর্তমানে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সাঁ-জার্মেইয়ে খেলছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন এই ফুটবলার।

আরও পড়ুন: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করলো বাংলাদেশ

২০২৬ সালের ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য মেসির নাম গত ৩ জুন প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশনের বিচারকমণ্ডলী ঘোষণা করে। মোট ২৭টি মনোনয়নের মধ্যে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়। বিচারকমণ্ডলী তাঁর অসাধারণ ক্রীড়া ক্যারিয়ার, ধারাবাহিক সাফল্য, বিনয়, মাঠে আদর্শ আচরণ এবং দলগত খেলার প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে তাঁর দীর্ঘদিনের দাতব্য কর্মকাণ্ডও পুরস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

১৯৮১ সালে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয়। এই পুরস্কারটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাহিত্য, শিল্পকলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ক্রীড়াসহ মোট আটটি বিভাগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। পুরস্কারের সঙ্গে থাকে স্প্যানিশ শিল্পী হুয়ান মিরোর নকশা করা একটি ভাস্কর্য, সনদ, ব্যাজ এবং ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য।

এর আগে টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদালসহ বিভিন্ন ক্রীড়াবিদ এই পুরস্কার পেয়েছেন। ফুটবলে এর আগে ২০০২ সালে ব্রাজিলের জাতীয় দল এবং ২০১০ সালে স্পেনের জাতীয় দল এই সম্মাননা অর্জন করে। ২০১২ সালে যৌথভাবে পুরস্কার পান স্পেনের দুই ফুটবলার ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ। তবে মেসির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো ফুটবলার এককভাবে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

আরও পড়ুন: ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কবি মোহাম্মদ রফিকের জন্মদিন আজ, যিনি এরশাদের শাসনে কবিতার মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


কবি মোহাম্মদ রফিকের জন্মদিন আজ, যিনি এরশাদের শাসনে কবিতার মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন

বাংলা কবিতার ইতিহাসে মোহাম্মদ রফিক একটি অনন্য নাম হিসেবে চিহ্নিত। তার কবিতাগুলি মানুষের অনুভূতি ও জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাহস ও প্রেরণা প্রদান করেছে। তার লেখা ‘খোলা কবিতা’র কিছু পঙ্‌ক্তি একসময় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে লেখা এই কবিতা শাসকের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কবিতাটি লেখার কারণে সেনাবাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে।

আজ ২৩ অক্টোবর কবি মোহাম্মদ রফিকের জন্মদিন। ১৯৪৩ সালের এই দিনে বাগেরহাটের বৈটপুর গ্রামে তার জন্ম হয়। ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কবিতা, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা বাংলা সাহিত্যে তাকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

‘সব শালা কবি হবে’—এই পঙ্‌ক্তি তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।

‘সব শালা কবি হবে, পিঁপড়ে গোঁ ধরেছে উড়বেই,
দাঁতাল শুয়োর এসে রাজাসনে বসবেই।’

মোহাম্মদ রফিকের ‘খোলা কবিতা’র এই পঙ্‌ক্তিগুলো আশির দশকে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। সে সময় দেশে সামরিক শাসন চলছিল এবং ক্ষমতায় ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার শাসনামলে ছাত্র-জনতা মাঝে মাঝে আন্দোলনে ফুঁসে উঠছিল। অন্যদিকে, এরশাদ কবি হিসেবেও পরিচিতি পেতে শুরু করেছিলেন। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হতে থাকে তার কবিতা।

তবে সে সময় কানাঘুষা ছিল যে, এরশাদের নামে প্রকাশিত কবিতাগুলোর সব কটির রচয়িতা তিনি নন। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস খুব কম মানুষেরই ছিল। এই পরিস্থিতিতে মোহাম্মদ রফিক কবিতার মাধ্যমে সরাসরি প্রতিবাদ জানান।

১৯৮৩ সালের জুন মাসের এক রাতে এক বসাতেই তিনি লেখেন ‘খোলা কবিতা’। ২০১৯ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কবি জানান, একজন সামরিক শাসক লেখালেখির সঙ্গে আগে যুক্ত না থেকেও ক্ষমতার জোরে কবিখ্যাতি অর্জন করছেন—এ বিষয়টি তাকে ক্ষুব্ধ করেছিল। তার ভাষায়, মনে হচ্ছিল, একজন ‘ভুঁইফোড় জেনারেল’ এসে তাদের কবিতার অপমান করছেন।

কবিতাটি ছাপাতে সাহস পাচ্ছিলেন না কেউ

‘খোলা কবিতা’ ছিল প্রায় ১৬ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ কবিতা। সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে লেখা হওয়ায় এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তখনকার পরিস্থিতিতে কবিতাটি ছাপানোর সাহস প্রকাশকদের ছিল না।

শেষ পর্যন্ত কবির কয়েকজন ছাত্র ও শুভাকাঙ্ক্ষীর উদ্যোগে গোপনে ছাপানোর ব্যবস্থা করা হয়। ছাপাখানায় নিউজপ্রিন্টে একটি ফর্মায় ছাপানো কবিতাটি তার ছাত্রছাত্রীরা হাতে হাতে বিলি করতে থাকেন। নিষিদ্ধ ইশতেহারের মতো কবিতাটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

কবিতাটি এরশাদকে উদ্দেশ্য করে লেখা হলেও পরে মোহাম্মদ রফিক জানিয়েছিলেন, এটি শুধুমাত্র একজন শাসককে নিয়ে লেখা কবিতা নয়। তার কাছে এরশাদের সামরিক আইন জারি ছিল একটি ঘটনা। সেই ঘটনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার জোরে কবিখ্যাতি অর্জনের প্রবণতার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

কবিতার জন্য সেনা দপ্তরে তলব

‘খোলা কবিতা’ ছড়িয়ে পড়ার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসে। একপর্যায়ে মোহাম্মদ রফিককে সাভারে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের দপ্তরে ডেকে নেওয়া হয়। এর আগে তিনি মামলা মাথায় নিয়ে তিন দিন হাজারীবাগে আত্মগোপনে ছিলেন।

সেনা দপ্তরে তিনজন কর্মকর্তার মুখোমুখি হতে হয় কবিকে। তারা প্রথমেই জানতে চান, কবিতাটি তার লেখা কি না। মোহাম্মদ রফিক নিজের লেখা বলে স্বীকার করেন। তবে কবিতাটি কে ছাপিয়েছেন, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ, প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে বিপদে ফেলতে চাননি তিনি।

তার এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, নিজের লেখা ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের দায় নিতে তিনি পিছপা হননি; একই সঙ্গে সহযোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘খোলা কবিতা’ থেকে আন্দোলনের স্লোগান

প্রথমে গোপনে ছড়িয়ে পড়লেও পরে ‘খোলা কবিতা’ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণা হয়ে ওঠে। ১৯৮৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় কবিতাটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। বই করার সময় কবি কবিতাটি আরও বড় করেন। এক ফর্মার কবিতা তখন চার ফর্মার বইয়ে রূপ নেয়।

বইটি প্রকাশের কাজে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন দিলওয়ার হোসেন। তার স্মৃতিচারণা অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালের ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি গোপীবাগের সুবর্ণ প্রিন্টার্সে রাত জেগে বইটির মুদ্রণ-প্রস্তুতির কাজ করা হয়। ছাপাখানার মালিক মজিবর রহমান কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সব বাধা পেরিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি বইটি মেলায় নিয়ে আসতে পেরেছিলেন মোহাম্মদ রফিক ও দিলওয়ার হোসেন।

পরবর্তী সময়ে বইটি পাঠকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। ‘খোলা কবিতা’র পঙ্‌ক্তিগুলো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অনেকটা স্লোগানের মতো ব্যবহৃত হতে থাকে। একটি কবিতা কীভাবে শাসকের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠতে পারে, তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে আছে এই রচনা।

ছাত্র আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ

মোহাম্মদ রফিকের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৩ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার বৈটপুর গ্রামে। তার বাবা সামছুদ্দীন আহমদ এবং মা রেশাতুন নাহার। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। শৈশব কেটেছে বাগেরহাটে।

১৯৫৮ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। এরপর ঢাকার নটরডেম কলেজে ভর্তি হন। পরে ঢাকা কলেজে মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করেন। স্নাতক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৬৭ সালে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা তার সাহিত্যিক চিন্তায় প্রভাব ফেলেছিল।

কৈশোরে কৃষ্ণা নামের এক মেয়ের প্রতি ভালো লাগা থেকে অষ্টম শ্রেণিতে প্রথম কবিতা লেখেন তিনি। তবে প্রথম যৌবনে কবিতার পাশাপাশি রাজনীতিও তাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ষাটের দশকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এ সময় তাকে কারাগারেও যেতে হয়। সামরিক আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল বলে তার জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে। পরে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য তিনি মুক্তি পান।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন মোহাম্মদ রফিক। প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের কর্মকর্তা হিসেবে এবং পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কাজ করেন। দেশের স্বাধীনতা এবং প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল।

‘বৈশাখী পূর্ণিমা’ দিয়ে কাব্যজগতে যাত্রা

ষাটের দশকের শুরুতে সমকাল, কণ্ঠস্বর, স্বাক্ষর ও অচিরার মতো সাহিত্যপত্রে কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন মোহাম্মদ রফিক। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বৈশাখী পূর্ণিমা’ প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ধুলার সংসারে এই মাটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।

তার কবিতায় গ্রামবাংলার প্রকৃতি, নদী, মানুষের জীবনসংগ্রাম ও আধুনিক মননশীলতার প্রকাশ ঘটেছে। শহরের বাইরে গ্রামীণ জীবনকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তার কবিতায় বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। গাওদিয়া তার বহুলপঠিত কাব্যগ্রন্থগুলোর একটি।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কীর্তিনাশা, খোলা কবিতা, কপিলা, গাওদিয়া, স্বদেশী নিশ্বাস তুমিময়, মেঘে ও কাদায়, রূপকথা কিংবদন্তি, মৎস্যগন্ধা, মাতিকিসকু, বিষখালি সন্ধ্যা, কালাপানি, নোনাঝাউ, দোমাটির মুখ ও ত্রয়ী। এছাড়া তার নির্বাচিত কবিতা এবং দুই খণ্ডে মোহাম্মদ রফিক রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।

কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য গদ্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে আত্মরক্ষার প্রতিবেদন, স্মৃতি বিস্মৃতির অন্তরাল, ভালোবাসার জীবনানন্দ, দূরের দেশ নয় আইওয়া, খুচরো গদ্য ছেঁড়া কথা ও গল্প সংগ্রহ।

শিক্ষকতা ও পুরস্কার

মুক্তিযুদ্ধের পর বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেন মোহাম্মদ রফিক। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে যোগ দেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতার পর ২০০৯ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেন তিনি।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮১ সালে আলাওল পুরস্কার এবং ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ২০১০ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া তার সাহিত্যকর্ম বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছে।

২০২৩ সালের ৬ আগস্ট বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

মোহাম্মদ রফিকের জীবন ও সাহিত্যকর্মের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, তিনি শুধুমাত্র কবিতার ভাষায় প্রকৃতি ও মানুষের কথা বলেননি; অন্যায় ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধেও দাঁড়িয়েছেন। ‘খোলা কবিতা’ তার সেই সাহসী অবস্থানের স্মারক হয়ে আছে। তার কবিতার পঙ্‌ক্তি আজও মনে করিয়ে দেয়, সাহিত্য কখনো কখনো প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা হয়ে উঠতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপির কমিটি পুনর্গঠন, নতুন দায়িত্বে সারজিস-আসিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


এনসিপির কমিটি পুনর্গঠন, নতুন দায়িত্বে সারজিস-আসিফ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি নতুনভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে। এতে মো. নাহিদ ইসলাম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব আখতার হোসেনের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এনসিপির নতুন কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের পদে মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিয়োগ পেয়েছেন।

পুনর্গঠিত কমিটিতে ১৫ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- অ্যাড. আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, মাহবুব আলম, অ্যাড. মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন এবং মাওলানা আশরাফ মাহাদী।

এছাড়া, ৬ জনকে যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস এম সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক এবং মো. আতাউল্লাহ।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পাশাপাশি, বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’-এর সদস্যদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, সামান্তা শারমিন, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল এবং এ কে ফ্লোরাকে পর্ষদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী উল্লেখ করেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য শুধুমাত্র মশক নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট নয়, বরং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ছাত্রদল, যুবদলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠন, বিডি ক্লিন, স্কাউটস মিলিতভাবে কালাই পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে এই অভিযান পরিচালনা করছে।

জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্দেশনার আওতায় ‘নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের লক্ষ্যে জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, কালাই পৌসভার টিঅ্যান্ডটি এলাকায় গতকাল বিডি ক্লিন ও স্কাউটসের ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়, যা পর্যায়ক্রমে পৌরসভার ৯টি স্থানে পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একইসাথে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং নাগরিকদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন—জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম ও রফিকুল ইসলাম টুকু, কালাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীমসহ স্থানীয় নেতাকর্মী এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া বিডি ক্লিন, স্কাউটস ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলা সদর উপজেলার ইউপি নির্বাচনে জাকির ফরাজীর বিশাল শোডাউন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


ভোলা সদর উপজেলার ইউপি নির্বাচনে জাকির ফরাজীর বিশাল শোডাউন

ভোলা সদর উপজেলার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে একটি বিশাল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩ টা থেকে শুরু হয়ে রাত প্রায় সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলা এই শোডাউন দক্ষিণ দিঘলদির ইউনিয়নের বাংলাবাজার থেকে শুরু হয়ে বটতলা, নতুন হাট, মেদুয়া হাইস্কুল, শান্তির হাট হয়ে খায়ের হাটসহ এলাকার বিভিন্ন রাস্তা, অলিগলি ও পাড়া মহল্লায় প্রদক্ষিণ করে।

সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির ফরাজির পক্ষে কয়েক শত মোটরসাইকেল ও পিকআপ শোডাউনে অংশগ্রহণ করে। এলাকার শত-শত সমর্থক বাদ্যযন্ত্র ও বাশির সুরে আনন্দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। এই বিশাল শোডাউনটি বাংলাবাজার এসে শেষ হয়। ইউপি নির্বাচনের আগে এই শোডাউনটি সাধারণ জনগণের মধ্যে নির্বাচনের ব্যাপক উৎসাহ ও আমেজ সৃষ্টি করে।

শোডাউন চলাকালীন সময়ে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির ফরাজী। শোডাউন চলাকালীন সময়ে এলাকার সাধারণ মানুষ রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাকে সমর্থন ও অভিনন্দন জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%