শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৯ পি.এম
ঢাকার ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠক চলাকালীন জঙ্গি কার্যক্রমের সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালত তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাস্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাকিব আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
এর আগে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ আসামিদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী উল্লেখ করেন, আসামিরা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছেন এবং জিহাদ করার জন্য লোক সংগ্রহ করছেন। তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, এই তথ্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মাসদ-উর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁওয়ের কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে ১৮ মে অভিযান চালিয়ে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী কথাবার্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার।
সিটিটিসি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই, ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং উগ্রবাদী কার্যক্রমের অর্থের উৎস ও অর্থদাতাদের বিষয়ে তথ্য জানতে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে প্রত্যেক আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লোডশেডিং এবং বিদ্যুতের খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই তাদের বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বাজারে ৪০০, ৫৫০, ৬০০ ওয়াট বা তারও বেশি ক্ষমতার বিভিন্ন ধরনের প্যানেল উপলব্ধ রয়েছে। তাই শুধুমাত্র বেশি ওয়াটের প্যানেল দেখে কেনা উচিত নয়। বরং, বাড়িতে বিদ্যুতের প্রয়োজন, দৈনিক ব্যবহারের সময় এবং কী ধরনের যন্ত্র চালানো হবে, এসব বিষয় বিবেচনা করেই সোলার সিস্টেম নির্বাচন করা উচিত।
১. আগে হিসাব করুন কত বিদ্যুৎ প্রয়োজন
সোলার প্যানেল কেনার প্রাথমিক পদক্ষেপ হল নিজের বিদ্যুতের চাহিদা নির্ধারণ করা। দিনে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং কোন কোন যন্ত্র কত সময় ব্যবহৃত হয়, তার একটি হিসাব তৈরি করুন। ফ্যান, লাইট, টিভি, ফ্রিজ, পানির পাম্প, কম্পিউটার বা এসির মতো যন্ত্রের ব্যবহারের সময় আলাদা করে হিসাব করা প্রয়োজন। এই হিসাব ছাড়া ৫৫০ বা ৬০০ ওয়াটের প্যানেল কিনলে প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি ক্ষমতার সিস্টেম হয়ে যেতে পারে।
২. কত ওয়াটের প্যানেল লাগবে?
প্যানেলের ক্ষমতা আপনার বিদ্যুতের প্রয়োজন এবং আপনার এলাকার সূর্যের আলো পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে। বাংলাদেশে ভালো রোদ পেলে একটি সোলার প্যানেল দিনে তার রেটেড ক্ষমতার কয়েক ঘণ্টা সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। তবে আবহাওয়া, ছায়া, প্যানেলের অবস্থান, তাপমাত্রা এবং সিস্টেমের ক্ষতির কারণে বাস্তব উৎপাদন কম হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ৫৫০ ওয়াটের কয়েকটি প্যানেল দিয়ে একটি সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব। তবে কতটি প্যানেল প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণ করতে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদার পাশাপাশি স্থানীয় সূর্যালোকের হিসাব করতে হবে। সুতরাং, শুধুমাত্র ‘কত ওয়াটের প্যানেল’ নয়, বরং পুরো সিস্টেমের মোট উৎপাদন ক্ষমতা দেখা জরুরি।
৩. প্যানেলের ধরন বুঝে নিন
সোলার প্যানেলের মধ্যে মনোক্রিস্টালাইন, পলিক্রিস্টালাইন এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন ধরনের প্যানেল রয়েছে। মনোক্রিস্টালাইন প্যানেল সাধারণত জায়গার তুলনায় ভালো উৎপাদন প্রদান করে। আবার এন-টাইপ বা দ্বিমুখী প্রযুক্তির প্যানেল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আরও ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে। তাই শুধুমাত্র ‘সবচেয়ে নতুন’ প্রযুক্তি না দেখে নিজের ছাদ, বাজেট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্যানেল নির্বাচন করা উচিত।
৪. ব্যাটারি লাগবে কি?
এখানে প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। যদি দিনের বেলায় মূলত সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এবং গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ থাকে, তাহলে অন-গ্রিড সিস্টেম বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে সাধারণত বড় ব্যাটারি ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতে ফ্যান, লাইট, রাউটার বা অন্যান্য যন্ত্র চালাতে চাইলে ব্যাটারিসহ অফ-গ্রিড বা হাইব্রিড সিস্টেম প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু প্যানেল নয়, ব্যাটারির ক্ষমতাও হিসাব করতে হবে।
৫. ইনভার্টারকে অবহেলা করবেন না
প্যানেল বিদ্যুৎ উৎপন্ন করলেও বাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রে সেটি ব্যবহার করার জন্য উপযুক্ত ইনভার্টারের প্রয়োজন রয়েছে। ইনভার্টারের ক্ষমতা যেন সোলার অ্যারে এবং আপনার লোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড এবং হাইব্রিড কোন ধরনের সিস্টেম আপনার জন্য উপযুক্ত, সেটি নির্ভর করবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন এবং ব্যাকআপের প্রয়োজনের ওপর।
৬. ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর পরিষেবা দেখুন
সোলার সিস্টেম দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য কেনা হয়। তাই প্যানেল, ইনভার্টার এবং ব্যাটারির আলাদা ওয়ারেন্টি কতদিন, কোনো সমস্যা হলে কে পরিষেবা দেবে এবং যন্ত্রাংশ পাওয়া যাবে কি না, এসব বিষয় কেনার আগে লিখিতভাবে জেনে নেওয়া উচিত। অস্বাভাবিক কম দামের অফারে আকৃষ্ট হওয়ার পরিবর্তে পণ্যের মান ও পরিষেবার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সুতরাং, বাড়ির জন্য সোলার প্যানেল নির্বাচন করার সময় শুধুমাত্র প্যানেলের দাম বা ওয়াট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক নয়। দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা, প্যানেলের মোট ক্ষমতা, ইনভার্টার, ব্যাটারি, ছাদের জায়গা এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুতের ব্যবহারের পরিকল্পনা সবকিছু মিলিয়ে সিস্টেম নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কোনো বিশেষ আমল, তাবিজ অথবা অন্য কোনো অপার্থিব শক্তির মাধ্যমে কাউকে আকৃষ্ট, বশীভূত বা ক্ষতি করার প্রচেষ্টা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েজ, হারাম এবং কবিরা গুনাহ। এই ধরনের কর্মকাণ্ড মহান আল্লাহুর সাথে শিরক করার সমতুল্য বলে বিবেচিত হয়।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঈমান ও আকিদার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অনেক সময় এসব কাজ মানুষকে মিথ্যা, প্রতারণা ও কুফরি করার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ইসলামিক স্কলাররা উল্লেখ করেন, যারা এ ধরনের কাজে জড়িত, তাদের জন্য তা থেকে সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসা জরুরি। কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচতে আন্তরিকভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর সংকল্প করতে হবে।
যদি কোনো বৈধ ও শরিয়তসম্মত উদ্দেশ্য পূরণের প্রয়োজন হয়, তাহলে তাবিজ-আমল বা জোরপূর্বক কাউকে বশ করার পথ অনুসরণ না করে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করা উচিত। তার কাছে হালাল, কল্যাণকর ও বরকতময় পথ প্রার্থনা করতে হবে। কারণ জোরপূর্বক বা তাবিজ-আমলের মাধ্যমে তৈরি কোনো সম্পর্কের মধ্যে প্রকৃত সুখ ও বরকত থাকার নিশ্চয়তা নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে থেকে বৈধ উপায়ে সম্পর্ক ও জীবনের কল্যাণ কামনাই ইসলামের নির্দেশিত পথ।
এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে বলেন—
তারা সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর রাজত্বের সময় শয়তানরা যে জাদুর কথা প্রচার করত, তার অনুসরণ করেছিল। অথচ সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) কুফরি করেননি; বরং শয়তানরাই মানুষকে জাদু শিক্ষা দিয়ে কুফরিতে লিপ্ত হয়েছিল। বাবিল শহরে হারূত ও মারূত নামের দুই ফেরেশতার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তারও অনুসরণ করা হয়েছিল। তারা কাউকে কিছু শেখানোর আগে সতর্ক করে বলত, ‘আমরা তো পরীক্ষাস্বরূপ, সুতরাং কুফরিতে লিপ্ত হয়ো না।’ এরপরও তারা এমন জিনিস শিখত, যার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হতো। তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা কারও কোনো ক্ষতি করতে পারত না। তারা এমন কিছু শিখত, যা তাদের জন্য ক্ষতিকর, উপকারী নয়। তারা ভালোভাবেই জানত, যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে, আখিরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না। তারা যে বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করেছে, তা কতই না মন্দ—যদি তারা তা জানত!
তাফসিরে তাওযীহুল কুরআনের ব্যাখ্যা
তাফসীরে তাওযীহুল কুরআনে বলা হয়েছে, এসব আয়াতে ইয়াহুদিদের একটি গুরুতর অপরাধের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তারা এমন জাদু-টোনার পেছনে ছুটেছিল, যা শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। বিশেষ করে কোনো জাদুর মন্ত্রে শিরকী বক্তব্য থাকলে তা কুফরির পর্যায়ে চলে যেতে পারে।
তাফসিরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হজরত সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর সময় কিছু শয়তান—যাদের মধ্যে জিন ও মানুষ উভয়ই থাকতে পারে—কিছু ইয়াহুদিকে প্ররোচিত করেছিল। তারা প্রচার করেছিল, সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর রাজত্বের রহস্য নাকি জাদুর মধ্যে নিহিত এবং জাদু শিখলে তারাও অলৌকিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। এর ফলে তারা জাদু শেখা ও তা প্রয়োগে জড়িয়ে পড়ে। অথচ জাদু শিক্ষা শুধু শরিয়তবিরোধীই ছিল না, এর কিছু পদ্ধতি কুফরির পর্যায়েও পৌঁছে যেত।
তাফসিরে ইয়াহুদিদের আরেকটি গুরুতর অপরাধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হজরত সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর বিরুদ্ধেও অপবাদ ছড়িয়েছিল এবং তাকে জাদুকর হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিল। এমনকি তার জীবনের শেষদিকে তিনি মূর্তিপূজা শুরু করেছিলেন—এমন দাবিও প্রচার করা হয়েছিল। এসব অপবাদমূলক বর্ণনা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থেও যুক্ত করা হয়েছিল বলে তাফসিরে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ।
কোরআন মাজিদের এই আয়াতে সেই অপবাদ সরাসরি খণ্ডন করা হয়েছে এবং স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, হজরত সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) কুফরি করেননি। বরং শয়তানরাই মানুষকে জাদু শিক্ষা দিয়ে কুফরির দিকে নিয়ে গিয়েছিল।
তাফসিরে আরও বলা হয়েছে, এই বক্তব্য কোরআন মাজিদের স্বাতন্ত্র্যও স্পষ্ট করে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ইয়াহুদিদের ধর্মগ্রন্থের বিষয়বস্তু জানার কোনো পার্থিব মাধ্যম ছিল না; তিনি ওহির মাধ্যমেই এসব বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেছেন। ফলে হজরত সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর বিরুদ্ধে প্রচারিত অপবাদ শুধু উল্লেখই করা হয়নি, বরং তা দৃঢ়ভাবে খণ্ডনও করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, অপ্রতিম হত্যার মতো অমানবিক ঘটনা এই সময়ে ঘটতে পারে, তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি এ ধরনের ঘটনার কোনো জবাব নেই বলেও উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, "অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করে কী জবাব দেবো, জানি না।" তিনি অবিলম্বে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, "জাতির ইতিহাসে যে কয়টি লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে, এটি তার মধ্যে একটি।" এমপি মনিরুল হক চৌধুরী এ ঘটনায় সবার বিবেক জাগ্রত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আইনশৃঙ্খলা বিভাগকে আরও বেশি কঠোর হতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "এটা কোনো দেশ হতে পারে না, এমন অবস্থা চলতে পারে না।" এমপি মনিরুল হক চৌধুরী অনুরোধ করেন, "অনুগ্রহপূর্বক এসব দিকে, এই কিশোর ছেলেদের দিকে নজর দিন; নইলে এ জাতিকে আগামী দিনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন লালমাই পাহাড়ের পাশঘেঁষা সানন্দা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদের জিলানী তার ভাতিজার সঙ্গে (১৫) বাঁশ কাটতে যান। বেলা ১১টার দিকে বাঁশঝাড়ের নিকট পৌঁছানোর পর, তার ভাতিজা প্রথমে অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চাচাকে জানায়। এই পরিস্থিতিতে আবদুল কাদের জিলানী ভীত হয়ে ভাতিজাকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।
এরপর দুপুর দেড়টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করার পর সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন আবদুল কাদের জিলানী। এর আগে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে একটি ঝোঁপ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
জিলানী জানান, "আমরা ফেসবুক বা ইউটিউব চালাই না। এতকিছু ঘটেছে সেটিও জানি না।" পরে তিনি মামুন ভাইয়ের (একই গ্রামের বাসিন্দা) সঙ্গে দেখা করেন। মামুন ভাই তাকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাডামের ছেলে হারিয়ে গেছে। এরপর জিলানী মামুন ভাইকে বলেন, "ওইখানে একটা বাচ্চা দেখে এসেছি পড়ে আছে।" তাৎক্ষণিকভাবে মামুন ভাইকে নিয়ে তিনি মরদেহের অবস্থানে যান। পরে মামুন ভাই পুলিশকে ফোন করে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ধীরে ধীরে বিষয়টি জানাজানি হয়।
এদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) বিকেল থেকে ছেলেটি নিখোঁজ ছিল। আজ শনিবার মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। অপ্রতিমের মরদেহে রক্তের দাগ রয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও, কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সে সম্পর্কে পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানান, দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। আপাতত মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ