ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিপিএলের কলঙ্ক গায়ে লাগাতে চায় না তামিমের বিসিবি


বিপিএলের কলঙ্ক গায়ে লাগাতে চায় না তামিমের বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০১২ সালে প্রথম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করে। কিন্তু বিপিএলের শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই কারণে দেশের ক্রিকেট সমালোচিত হচ্ছে।

বর্তমান ক্রিকেট বোর্ড, যেটি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে পরিচালিত, বিপিএলের কলঙ্ক গায়ে লাগাতে চায় না। সেজন্য তারা বিপিএল আয়োজন না করার বিষয়ে বেশির ভাগ পরিচালক একমত।

অতীতে যেসব কারণে বিপিএল সমালোচিত হয়েছে এবং দেশের ক্রিকেটের বদনাম কুড়িয়েছে, সেসব সমস্যা দূর করার আগে টুর্নামেন্টটি আর আয়োজন না–ও হতে পারে। আগামী ডিসেম্বরে বিপিএলের পরবর্তী আসর হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

প্রায় প্রতি বিপিএলেই স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে স্থানীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়দের বকেয়া পাওনা, বিসিবি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে টানাপোড়েন, ভালো প্রতিষ্ঠানের ফ্র্যাঞ্চাইজি না থাকা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অপেশাদার আচরণ মিলিয়ে বিপিএলের দুর্নাম বিস্তৃত হয়েছে ক্রিকেট–বিশ্বে।

বিসিবির একজন পরিচালক মন্তব্য করেছেন যে, বিপিএলে এমনও ঘটে যে এক–দুটি দলের প্রায় পুরো খেলোয়াড়দের পেমেন্ট বিসিবিকে করতে হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকেরা ৫ লাখ টাকার খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ টাকায় ডাকেন কিন্তু পরে টাকা দেন না। এসব চাপ বোর্ডের কাঁধে ফেলে চলে যায়। পুনরায়, টিভি স্বত্ব বিক্রি করে যে টাকা আসে, তার প্রায় পুরোটাই চলে যায় প্রোডাকশন কস্টে। এর ফলে এই বিপিএল আয়োজন করার লাভ কী?

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা বলেন, "আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ভালো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে। না পারলে তখন হয়তো একটা সিজন ব্রেক দেব।"

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, মানসম্মত শিক্ষায় জোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৫ পি.এম


প্রথমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, মানসম্মত শিক্ষায় জোর

দায়িত্ব গ্রহণের পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন নতুন নির্দিষ্ট সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির অংশ ছিল, যেখানে তিনি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেছেন। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার প্রধান এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন।

পর্যালোচনা সভা চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব কার্যক্রম পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, কার্যকর পাঠদান, শিক্ষকদের যুগোপযোগী ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ, এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে কর্মরত অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তাঁরা শিক্ষাক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষাব্যস্থার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।

পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদরাসার ভাবমূর্তি রক্ষায় যে প্রস্তাব দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


মাদরাসার ভাবমূর্তি রক্ষায় যে প্রস্তাব দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

কওমি মাদরাসার শিক্ষা পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ৬ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে, শায়খ আহমাদুল্লাহ দেশের শীর্ষ আলেম ও মাদরাসার দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে এই উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এই কথা বলেন।

পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, কওমি মাদরাসা সংকটাপন্ন জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং রাষ্ট্রীয় অনুদান ছাড়াই লাখ লাখ এতিম ও দুস্থ শিশুর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের প্রতি শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ওপর ছায়া ফেলছে। ইসলাম শিশুদের সঙ্গে কোমল আচরণের ওপর কড়া নির্দেশনা দেয়, যা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। কিছু তথাকথিত শিক্ষকের নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ড অত্যন্ত লজ্জাজনক, এমন মন্তব্যও তিনি করেন। সংবাদমাধ্যমের অতিরঞ্জন বা ষড়যন্ত্রের অজুহাতে বিদ্যমান সমস্যা অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি সতর্ক করেন।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সুরক্ষায় শায়খ আহমাদুল্লাহ যে ৬টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন, সেগুলো হলো:

• কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি গঠন: ‘আল-হাইআতুল উলয়া’র পক্ষ থেকে শীর্ষ আলেম, আইন ও মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে, এই কমিটি নিরপেক্ষ তদন্ত চালাবে এবং দোষীদের আইনের হাতে সোপর্দ করার পাশাপাশি একটি ‘সেন্ট্রাল ব্ল্যাকলিস্ট’ বা কেন্দ্রীয় কালোতালিকা তৈরি করবে।

• অভিযোগ গ্রহণ সেল: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি ডেডিকেটেড হটলাইন চালু করা হবে, যেখানে অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

• প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত সংস্কার: ক্লাস ও আবাসিক হলগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা। ছোট শিশুদের জন্য মা-বাবার সান্নিধ্য নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষা উৎসাহিত করা হবে এবং কওমি মাদরাসার গণরুমের প্রচলিত বিছানা পদ্ধতির পরিবর্তন আনা হবে। এছাড়া শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কাজ করানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়।

• শিক্ষক ও স্টাফদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন: শিক্ষকদের জন্য কঠোর আচরণবিধিমালা প্রণয়ন এবং শিশু মনস্তত্ত্ব ও সুরক্ষা আইন সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবাহিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং শিক্ষকদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য ফ্যামিলি কোয়ার্টার বা নিয়মিত ছুটির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়।

• নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালা: মহিলা মাদরাসাগুলো সম্পূর্ণভাবে নারী কর্মকর্তা ও স্টাফদের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। মূল ফটকের প্রহরী বা দারোয়ান ছাড়া কোনো অবস্থাতেই মাদরাসার ভেতরে পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ রাখা যাবে না।

• অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ: যত্রতত্র গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত ও মানহীন প্রাইভেট মাদরাসাগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির আওতায় আনা হবে এবং নতুন প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে যথাযথ সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

পোস্টের শেষ অংশে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কওমি মাদরাসা মানুষের আত্মিক আশ্রয়ের শেষ জায়গা। এই পবিত্র অঙ্গনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে, অন্ধ আত্মপক্ষ সমর্থনের ঊর্ধ্বে এসে কঠোর আত্মসংশোধনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা দরকার। বৃহত্তর স্বার্থে দেশের শীর্ষ আলেমগণ এই প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দলীয়করণের কারণে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে: নাহিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২০ পি.এম


দলীয়করণের কারণে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে: নাহিদ

স্বাস্থ্য খাতে দলীয়করণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘ সময় ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, চিকিৎসক ও নার্স সংকট এবং ব্যবস্থাগত দুর্বলতায় ভুগছে। এসব সমস্যার মৌলিক সংস্কার না হলেই স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন কোনোভাবে সম্ভব নয়।

তিনি দাবি করেছেন, স্বাস্থ্য খাতে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে দায়িত্ব পালনকারী বা সরকার-সমর্থক নন—এমন চিকিৎসকদের এখনো আগের মতো বদলি করা হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ।

নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ও কার্ড বিতরণে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কৃষক কার্ড, চিকিৎসা কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে কেবল বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাই সুবিধা পাচ্ছেন।

নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের প্রধান দাবি ছিল একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন। কিন্তু বর্তমান সরকার শুরুতেই নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠু হওয়ার সুযোগ নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুসময় ও দুঃসময়ে মুমিনের কর্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ পি.এম


সুসময় ও দুঃসময়ে মুমিনের কর্তব্য

মানুষের জীবনে সুখ এবং স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি দুঃখ, বিপদ এবং বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা এসে পৌঁছে। এটি পার্থিব জীবনের একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা। ইসলাম শিক্ষা দেয় যে, সুসময়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে এবং দুঃসময়ে ধৈর্য ধরে নামাজ, দোয়া এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর সাহায্য সম্পর্কিত প্রার্থনা করতে হবে। একজন মুমিন বিশ্বাস করে যে, জীবনের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহর ইচ্ছা ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী ঘটে এবং প্রতিটি পরীক্ষার মধ্যেই কোনো না কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে। পবিত্র কুরআন ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদের ধৈর্য, তাওয়াক্কুল এবং দোয়ার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করার সর্বোত্তম দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।

সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে। একজন মুমিন বিশ্বাস করেন যে, বিশ্বজগতে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না। তাই সুখে যেমন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জানান, তেমনি দুঃখ-কষ্টের সময় তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

‘হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৩)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিপদের সময় ধৈর্য এবং নামাজের মতো দুটি শক্তিশালী অবলম্বনের কথা উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহর জিকির হৃদয়ের প্রশান্তির উৎস। যেমন শরীরের জন্য খাদ্য প্রয়োজন, তেমনি আত্মার জন্য প্রয়োজন আল্লাহর স্মরণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন—

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ

‘তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫২)

আরেক স্থানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন—

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা আর-রাদ: আয়াত ২৮)

ধৈর্য মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। ইসলামে ধৈর্য কেবল বিপদে নীরব থাকা নয়; বরং আল্লাহর বিধানের ওপর অটল থাকা, ইবাদতে অবিচল থাকা এবং পাপ থেকে নিজেকে বিরত রাখাও ধৈর্যের অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ

‘ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কোনো নেয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (বুখারি ১৪৬৯, মুসলিম ১০৫৩)

মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই কল্যাণকর। সুদিনে শুকরিয়া, দুর্দিনে ধৈর্যই একজন মুমিনের শক্তি। সুদিন এবং দুর্দিন—উভয় অবস্থায় মুমিনের জন্য কল্যাণ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ...

‘মুমিনের অবস্থা সত্যিই বিস্ময়কর। তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। সুখ পেলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে— এটি তার জন্য কল্যাণকর। আর দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হলে ধৈর্য ধারণ করে— এটিও তার জন্য কল্যাণকর। আর এই সৌভাগ্য কেবল মুমিনেরই।’ (মুসলিম ২৯৯৯)

বিপদের সময় রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া হলো—

শত্রুর অনিষ্ট থেকে রক্ষার দোয়া

اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাঝআলুকা ফি নুহুরিহিম ওয়া নাউজুবিকা মিন শুরুরিহিম।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমরা তাদের মোকাবিলায় তোমাকেই আমাদের রক্ষাকবচ বানাচ্ছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই।’ (আবু দাউদ ১৫৩৭)

বিপদে পড়লে পড়ার দোয়া হলো—

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا

উচ্চারণ: ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাঝিউন, আল্লাহুম্মা ঝুরনি ফি মুসিবাতি ওয়াখলিফলি খাইরাম মিনহা।’

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমার এ বিপদে আমাকে প্রতিদান দিন এবং এর পরিবর্তে আমাকে আরও উত্তম কিছু দান করুন।’ (মুসলিম ৯১৮)

দোয়া ইউনুস (আ.) হলো—

لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ: ‘লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বলিমিন।’

অর্থ: ‘আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’ (সুরা আল-আম্বিয়া: আয়ত ৮৭)

এ দোয়ার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, যদি কোনো মুসলিম এই দোয়া করে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা কবুল করেন। (তিরমিজি ৩৫০৫)

কঠিন কাজ সহজ হওয়ার জন্য দোয়া হলো—

اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا، وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা ঝাআলতাহু সাহলান, ওয়া আংতা তাঝআলুল হাযনা ইজা শিই’তা সাহলান।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করেন, তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর আপনি চাইলে কঠিন বিষয়কেও সহজ করে দেন।’ (ইবন হিব্বান ৯৭৪)

বিপদ মুমিনের গুনাহ মাফের কারণ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمٍّ وَلَا حُزْنٍ... حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ

‘মুসলমানের যে কোনো কষ্ট, রোগ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, পেরেশানি, এমনকি শরীরে একটি কাঁটা বিঁধলেও আল্লাহ এর মাধ্যমে তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি ৫৬৪১–৫৬৪২, মুসলিম ২৫৭৩)

ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহর সুসংবাদ হচ্ছে—

إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ

‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে প্রদান করা হবে।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ১০)

আরও ইরশাদ হয়েছে—

سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا

‘অচিরেই আল্লাহ কষ্টের পর স্বস্তির ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (সুরা আত-তালাক: আয়াত ৭)

এবং—

وَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا أَصَابَكَ ۖ إِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ

‘তোমার ওপর যে বিপদ আসে, তাতে ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এটি দৃঢ়সংকল্পের কাজ।’ (সুরা লুকমান: আয়াত ১৭)

জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। কখনো তিনি সুখ দিয়ে বান্দার কৃতজ্ঞতা যাচাই করেন, আবার কখনো দুঃখ দিয়ে তাঁর ধৈর্য ও ইমানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করেন। একজন মুমিনের পরিচয় হলো—তিনি সুদিনে আল্লাহকে ভুলে যান না এবং দুর্দিনে তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হন না। নামাজ, দোয়া, জিকির, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাই সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি। যে ব্যক্তি সব অবস্থায় রবের ওপর নির্ভর করে, আল্লাহ তাকে কখনো একা ছেড়ে দেন না। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত সুখে-দুঃখে, প্রাচুর্যে-অভাবেও আল্লাহর প্রতি আস্থা অটুট রাখা এবং তারই সন্তুষ্টি অর্জনের পথে অবিচল থাকা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ এবং তাওয়াক্কুলকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%