মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৫ পি.এম
জামালপুরের কুঁড়ি বিলের চারপাশে বর্তমানে শাপলা ফুলের এক বিশাল সমাহার দেখা যাচ্ছে। এই বিলে প্রবেশ করলে মনে হয় যেন এক ভিন্ন জগতে প্রবেশ করা হচ্ছে। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে চলে গেলেই চোখে পড়ে এক নতুন পৃথিবী। চারপাশে রয়েছে নীল আকাশ, তুলোর মতো সাদা মেঘ, দূরে গারো পাহাড়ের সবুজ রেখা এবং তার নিচে বিস্তীর্ণ জলরাশি। সেই জলরাশির উপর ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা দূর থেকে দেখে মনে হয়, যেন সবুজ পাতার ওপর লাল ফুলের একটি চাদর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শরতের এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত মানুষ।
বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নে অবস্থিত কুঁড়ি বিলে প্রকৃতির এই নান্দনিক দৃশ্যের দেখা মিলছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ১০০ একর এলাকায় এবার বিপুল সংখ্যক লাল শাপলা ফুটেছে। ভোরের কোমল আলোয় যখন শাপলাগুলো পানির ওপর মাথা তুলে দাঁড়ায়, তখন পুরো বিলটি যেন জীবন্ত কোনো ছবির ক্যানভাস হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী এবং প্রকৃতিপ্রেমীরা পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসছেন। তবে অনেকেই শুধু তীরে দাঁড়িয়ে শাপলা দেখেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন না। স্থানীয় নৌকায় চড়ে বিলের ভেতরে প্রবেশ করছেন তারা। চারপাশে লাল শাপলা, পানির মৃদু ঢেউ এবং বৈঠার ছলাৎছল শব্দ, কিছু সময়ের জন্য হলেও যেন ব্যস্ত জীবনের থেকে দূরে চলে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই দলবেঁধে নৌকায় ঘুরছেন, ছবি তুলছেন এবং ভিডিও করছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুঁড়ি বিলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পরিবারের সঙ্গে আসা শিশুদের উচ্ছ্বাসও বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কুঁড়ি বিল একসময় পদ্ম-শাপলা ও নানা জলজ উদ্ভিদে ভরপুর ছিল। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি এবং জলজ ফুলে বিলটি হয়ে উঠত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। সময়ের সঙ্গে বিলের বিভিন্ন অংশে মাছের প্রকল্প গড়ে ওঠায় সেই স্বাভাবিক পরিবেশ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তাই উত্তরাংশে নতুন করে লাল শাপলার বিস্তার স্থানীয়দের জন্য আনন্দের বিষয়।
শাপলা দেখতে আসা মানুষের আনাগোনায় আশপাশের পরিবেশও বদলে গেছে। দর্শনার্থীদের জন্য গড়ে উঠেছে চা, ফুচকা, কফি এবং বিভিন্ন খাবারের অস্থায়ী দোকান। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝির আয়ও বেড়েছে।
তবে এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে এখনই পরিকল্পিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিরাপদ নৌযান, বসার ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তার পাশাপাশি বিলের জলজ পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং অতিরিক্ত মাছের প্রকল্পের কারণে যেন শাপলার এই রাজ্য হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
কুঁড়ি বিলের লাল শাপলা এখন শুধুমাত্র প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, এটি মানুষের আনন্দ, স্থানীয় জীবিকার নতুন সম্ভাবনা এবং হারিয়ে যেতে বসা জলাভূমির ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার একটি আশাবাদের নাম। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা করা গেলে গারো পাহাড়ঘেঁষা বকশীগঞ্জের এই প্রত্যন্ত বিলটি জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা সরাফত আলী বলেন, "কুঁড়ি বিলের লাল শাপলা দেখতে দূরদূান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ আসছে, নৌকা দিয়ে ঘুরে ঘুরে ফুলের সুবাস নিচ্ছে এবং আনন্দ উপভোগ করছে।"
এতে এলাকার মানুষও আনন্দ উপভোগ করছেন। তাই কুঁড়ি বিলের শাপলা সংরক্ষণে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিটন আকন্দ জানান, "এই বিলে শাপলা ফুল দেখার জন্য অনেক দর্শনার্থী ভিড় করছেন। ক্ষণিকের জন্য ঘুরতে এসে প্রকৃতির বুকে হারিয়ে যাচ্ছে ভ্রমণপিপাসুরা। উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে এই বিল বাণিজ্যিক শিল্পে নেওয়া যায় কিনা বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ঘাট ও ফেরির সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত এবং নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে উভয় পাড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা দীর্ঘ অপেক্ষায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
ভরা বর্ষায় পদ্মা নদীতে পলি জমে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটের কাছে ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ফেরি ভিড়তে না পারায় গত পাঁচদিন ধরে ওই ঘাটটি বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে দৌলতদিয়ার সাতটি ঘাটের মধ্যে চালু রয়েছে মাত্র দুটি। অপর পাঁচটি ঘাট বিভিন্ন সময়ে নদীভাঙনের কবলে পড়ে এবং নাব্যতা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তাই সীমিত ঘাট ও ফেরির মাধ্যমে যানবাহন পারাপার করায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি সময় লাগছে। এর ফলে দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।
যানবাহনের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং কাভার্ডভ্যান। দীর্ঘ সময় রোদে অপেক্ষা করতে গিয়ে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় মানবেতর সময় কাটাচ্ছেন চালক, সহকারী এবং সাধারণ যাত্রীরা।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন জানান, নদীতে নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি প্রবল স্রোতের কারণে সব ঘাটে ফেরি ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছু পকেট অচল হয়ে পড়ায় সীমিতসংখ্যক ফেরি দিয়ে পারাপার পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জরাজীর্ণ এবং পুরোনো ফেরিগুলোর ধীরগতির কারণে ঘাটের জট এবং ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে। প্রবল স্রোতের কারণে ফেরির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত সাতটি ফেরি পর্যায়ক্রমে সচল রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে পারাপার দ্রুত করা হবে।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাছান আহমেদ জানান, সাধারণত ৩ থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল স্রোতের মধ্যে তারা ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিন্তু দৌলতদিয়া প্রান্তে বর্তমানে স্রোতের তীব্রতা প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল। এমন পরিস্থিতিতে ড্রেজিং করলে স্রোতের প্রবাহে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ড্রেজিং করতে দেরি হবে।
এছাড়া দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলোর বেশির ভাগই ২০ থেকে ২২ বছরের পুরোনো। বর্তমানে ৯টি ফেরি চালু থাকলেও এর মধ্যে ৫টি ফেরি পদ্মার ৭ দশমিক ২০ নটিক্যাল মাইল বেগের স্রোতের বিপরীতে চলতে পারে না।
দিনের বেলায় গাড়ির চাপের কারণে বিআইডব্লিউটিসি ফেরিতে গাড়ি লোড দিলেও মাঝ নদীতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডুবোচরে আটকে পড়ার ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে গাড়ি ও যাত্রী নিয়ে দুটি ফেরি মাঝ নদীতে বিপদে পড়েছে।
ফেরি ও ঘাট সংকটের কারণে প্রতিদিন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ক্যানালঘাট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে দুই সারিতে পাঁচ শতাধিক যানবাহন নদী পারাপারের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে।
অন্যদিকে, হঠাৎ করে ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ওই ঘাটের দুই পাশের দোকানপাট, হোটেলসহ অন্যান্য আয়নির্ভর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নাব্যতা সংকট, ঘাটের অপ্রতুলতা, পুরোনো ফেরি এবং তীব্র স্রোতের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথে প্রতিদিনই যানজট এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় দীর্ঘদিনের খাবার পানির সংকটের সমাধান করতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন আধুনিক পানির ফিল্টার স্থাপন করেছে, যার মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। এই ফিল্টার প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ লিটার পানি পরিশোধন করতে সক্ষম। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে এর স্থাপনকাজ সম্পন্ন হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় দীর্ঘকাল ধরে পর্যাপ্ত খাবার পানির অভাব দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পানির চাহিদা পূরণের জন্য পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে একটি ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছিল, তবে শিক্ষার্থীদের বিপুলসংখ্যার তুলনায় সেটি যথেষ্ট ছিল না। এর মধ্যে ক্যাফেটেরিয়ায় বিদ্যমান পুরোনো ফিল্টারগুলো অকেজো হয়ে যাওয়ার ফলে পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের পানির সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি বড় সক্ষমতার আধুনিক পানির ফিল্টার প্রদান করা হয়েছে। এটি প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ লিটার পানি পরিশোধন করতে পারবে। ফিল্টারটি চালু হলে ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার পানির সংকট অনেকটাই কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় পানির সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আগে একটি ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সংখ্যার তুলনায় একটি ফিল্টার যথেষ্ট ছিল না। এর পাশাপাশি ক্যাফেটেরিয়ায় থাকা পুরোনো ফিল্টারগুলোও অকেজো হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পানির সমস্যা দিন দিন বাড়ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সমস্যা সমাধানে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি বড় সক্ষমতার ফিল্টার প্রদান করা হয়েছে। ফিল্টারটি প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ লিটার পানি পরিশোধন করতে পারবে। আশা করছি, আগামী দুই দিনের মধ্যে ফিল্টারটির স্থাপনকাজ শেষ হবে। এটি চালু হলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পানির সংকট অনেকটাই দূর হবে, ইনশাআল্লাহ।’
রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার পানির সংকট নিরসনে নতুন ব্যবস্থা যুক্ত হচ্ছে। ফিল্টারটি স্থাপনের পর এর মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিশুদ্ধ খাবার পানি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ঘাট ও ফেরির সংকট বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এর ফলে উভয় পাড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা দীর্ঘ অপেক্ষায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভরা বর্ষায় পদ্মা নদীতে পলি জমে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটের কাছে ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ফেরি ভিড়তে না পারায় গত পাঁচদিন ধরে ওই ঘাটটি বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, দৌলতদিয়ার সাতটি ঘাটের মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র দুটি। বাকি পাঁচটি ঘাট বিভিন্ন সময়ে নদীভাঙনের কবলে পড়ে এবং নাব্যতা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে সীমিত ঘাট ও ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করায় প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি সময় লাগছে। এর ফলে দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।
ঘাটে অপেক্ষমাণ যানবাহনের মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। দীর্ঘ সময় রোদে অপেক্ষা করতে গিয়ে চালক, সহকারী ও সাধারণ যাত্রীরা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় মানবেতর সময় কাটাচ্ছেন।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন জানান, নদীতে নাব্যতা সংকটের পাশাপাশি প্রবল স্রোতের কারণে সব ঘাটে ফেরি ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কিছু পকেট অচল হয়ে পড়ায় সীমিতসংখ্যক ফেরি দিয়ে পারাপার পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জরাজীর্ণ ও পুরোনো ফেরিগুলোর ধীরগতির কারণে ঘাটের জট ও ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে। প্রবল স্রোতের কারণে ফেরির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত সাতটি ফেরি পর্যায়ক্রমে সচল রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে পারাপার দ্রুত করা হবে।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাছান আহমেদ জানান, সাধারণত ৩ থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল স্রোতের মধ্যে তারা ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কিন্তু দৌলতদিয়া প্রান্তে বর্তমানে স্রোতের তীব্রতা প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল। এমন পরিস্থিতিতে ড্রেজিং করলে স্রোতের প্রবাহে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ড্রেজিং করতে দেরি হবে।
এছাড়া, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলোর বেশির ভাগই ২০ থেকে ২২ বছরের পুরোনো। বর্তমানে মাত্র ৯টি ফেরি চালু থাকলেও এর মধ্যে ৫টি ফেরি পদ্মার ৭ দশমিক ২০ নটিক্যাল মাইল বেগের স্রোতের বিপরীতে চলতে পারে না।
দিনের বেলায় গাড়ির চাপে বিআইডব্লিউটিসি ফেরিতে গাড়ি লোড দিলেও মাঝ নদীতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডুবোচরে আটকে পড়ার ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে গাড়ি ও যাত্রী নিয়ে দুটি ফেরি মাঝ নদীতে এভাবে বিপদে পড়েছে।
ফেরি ও ঘাট সংকটের কারণে প্রতিদিন দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ক্যানালঘাট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে দুই সারিতে পাঁচ শতাধিক যানবাহন নদী পারাপারের অপেক্ষায় আটকে থাকছে।
অন্যদিকে, হঠাৎ করে ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই ঘাটের দুই পাশের দোকানপাট, হোটেলসহ অন্যান্য আয়নির্ভর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নাব্যতা সংকট, ঘাটের অপ্রতুলতা, পুরোনো ফেরি ও তীব্র স্রোতের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথে প্রতিদিনই যানজট ও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডের সাউথ শোর এলাকায় একটি নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। এই নতুন কেন্দ্রটি মুসলিমদের নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হুগেনটন অ্যাভিনিউয়ের নতুন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি (এমএএস)। অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন। স্টেটেন আইল্যান্ডে এটি সংগঠনটির দ্বিতীয় কেন্দ্র। সাবেক নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির একটি ভবন সংস্কার করে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছে, যা হুগেনটন স্টেশন থেকে খুব কাছেই অবস্থিত।
মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির রাজনৈতিক ও জনসংযোগবিষয়ক পরিচালক আবদুল্লাহ আকল জানান, সাউথ শোর এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু এতদিন স্থানীয় অনেক মুসল্লিকে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রমে অংশ নিতে ডংগান হিলস এলাকার মসজিদে যেতে হতো। হুগেনটন এলাকার অনেক বাসিন্দাকে সেখানে যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট গাড়ি চালাতে হতো।
এমএএস একটি জাতীয় সংগঠন, যার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫০টির বেশি শাখা রয়েছে। নিউইয়র্ক শাখার অধীনে বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাতটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। স্টেটেন আইল্যান্ডে সংগঠনটির প্রথম কেন্দ্রটি বার্গার অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ওই কেন্দ্রটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি সেখানে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী মাসে কেন্দ্রটির পুনরায় উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আকল।
নতুন হুগেনটন কেন্দ্রটি শুধুমাত্র মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে না, বরং স্থানীয় সব ধর্মের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম উন্মুক্ত থাকবে। কেন্দ্রটিতে কারাতে ও ফুটবল প্রশিক্ষণ, সপ্তাহের মাঝামাঝি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সাপ্তাহিক খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
আকল বলেন, নতুন কেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মসজিদ পরিচালনা করা নয়। মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এখানকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির হুগেনটন শাখার সঙ্গেও নতুন কেন্দ্রটির সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় শিশুদের পড়াশোনা ও বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে সাক্ষরতা ও পাঠাভ্যাসভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে।
ভবনটি আগে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শাখা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নতুন জায়গায় লাইব্রেরি স্থানান্তরের সময় কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় এমএএস কর্তৃপক্ষ তাদের আগের ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কয়েক সপ্তাহ আগে লাইব্রেরিটি নতুন স্থানে চলে যাওয়ার পর ভবনটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়।
আকল জানান, লাইব্রেরির নতুন জায়গায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে তাদের পুরোনো ভবনে লাইব্রেরির সেবা চালু রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিল এমএএস। নতুন কেন্দ্রটির সরকারি ধারণক্ষমতা ৩০০ জন। শুরুতে সেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ জন মুসল্লি ও অংশগ্রহণকারীকে সেবা দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রায় এক বছর আগে ভবনটি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর প্রায় দুই মাসের সংস্কারকাজে লাইব্রেরির তাক সরানো, ভবন পরিষ্কার করা এবং নামাজের জন্য কার্পেট বসানোসহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে শৌচাগার ও ভবনের অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন্দ্রটি সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকবে। শুক্রবার দুপুরের জুমার নামাজ হবে সাপ্তাহিক প্রধান ধর্মীয় আয়োজন। এছাড়া মুসলিমদের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ব্যবস্থাও থাকবে।
আকলের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেটেন আইল্যান্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুরোনো কমিউনিটি কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি মানুষের চাহিদা সামাল দিতে হচ্ছে। এমনকি সংগঠনটির পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতেও প্রতি সপ্তাহে খাবার শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
এমএএস স্টেটেন আইল্যান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও শিশু, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, ক্রীড়া ও সামাজিক কার্যক্রমের তথ্য প্রদান করা হয়েছে। সংগঠনটি আগে থেকেই স্থানীয় মুসলিম ও বৃহত্তর কমিউনিটির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
নতুন কেন্দ্র চালুর উদ্যোগটি স্টেটেন আইল্যান্ডে এমএএসের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। সংগঠনটির আগের কেন্দ্রটি জায়গার সংকটে একাধিক জুমার জামাত, বিভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক স্কুল এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে বলে তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ