রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৭ পি.এম
যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধের উদ্দেশ্যে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক ও সিনেমার নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচার যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব কনটেন্টে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়গুলোকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সমাজের নৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিটে হিন্দুস্তান টাইমস, ডেইলি সাবাহ ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনের উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, লাগামহীন রোমান্টিক ও উসকানিমূলক সিনেমা যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নারীর প্রতি সহিংসতা ও অপরাধ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
রিটকারী আইনজীবী যুক্তি দিয়েছেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ আরোপ করা সম্ভব। জননৈতিকতা ধ্বংসকারী এবং সামাজিক অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া কোনো কনটেন্ট অবাধে সম্প্রচার সংবিধানের এই সুরক্ষা পেতে পারে না বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩-এর ৫(২) ও ৮(১) ধারা অনুযায়ী পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং এর পরিপন্থী কনটেন্টের অনুমোদন বাতিল করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এছাড়া কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬-এর ১৯ ও ২০ ধারায় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি করে—এমন সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, যা প্রশাসনিক অবহেলার শামিল।
কেবল প্রেমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের পাশাপাশি যুবসমাজের সৃজনশীল মেধা বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ২৭ আগস্ট সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিশের পরও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থে ও জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষায় হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষার জন্য ‘নতুন সার্ভিস রুলস’ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ন্যূনতম বেতন, নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ছুটি এবং পদোন্নতির বিষয়গুলো।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সার্ভিস রুলে চাকরিজীবীদের আচরণবিধি, দুর্নীতির তদন্ত, শৃঙ্খলা, আইনি সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি, শিশুশ্রম, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সার্ভিস রুলসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ আদায়, মাতৃত্বকালীন ছুটি, স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধীদের চাকরি, চাকরি স্থায়ীকরণ, চাকরি থেকে অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও থাকবে।
‘নতুন সার্ভিস রুলস’ নিয়ে সর্বশেষ গত ১০ মে একটি মতবিনিময়সভার তথ্য পাওয়া যায়।
এর পরবর্তী সময়ে আর কোনো সভা বা অগ্রগতি নিয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই সভায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, চেম্বার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এই সার্ভিস রুলস তৈরির জন্য ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬’ ও ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫’ এ প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন আনা হবে বলে জানা গেছে। এজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, বেসরকারি চাকরিজীবীদের এই ‘নতুন সার্ভিস রুলস’ নিয়ে কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে আরও পর্যালোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে খসড়া প্রস্তাব দেওয়া হবে, যা পরে সরকার বিবেচনায় নেবে।
বেসরকারি চাকরিজীবীরা জানান, শ্রম আইন-২০০৬ ও শ্রম বিধিমালা-২০১৫ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) দ্বারা অনুমোদিত। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনও এই আইন ও বিধিমালাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তবে দেশে বেসরকারি খাতের অনেক ক্ষেত্রে এসব আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেসরকারি, যৌথ উদ্যোগ এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। আরও ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত। অর্থাৎ মোট ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ কর্মী বেসরকারি খাতে কাজ করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের গুলিতে নিহত ফেনীর যুবদল নেতা মো. হারুনুর রশিদের পরিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নতুন একটি ঘর উপহার পেয়েছে।
এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে, যা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে, দীর্ঘদিনের কষ্ট ও মানবিক দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় রেখে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকার কালিদাস পাহালিয়া নদীর পাশে নির্মিত ঘরটির উদ্বোধন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এর আগে স্থানীয় ফরহাদনগর ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় শহীদ হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, "শেখ হাসিনার আমলে যারা বিরোধী দল ছিল, তাদের বাঁচার অধিকার ছিল না। বিএনপি মানবতার রাজনীতি করে, মানুষের রাজনীতি করে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "দলের নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের পাশে সব সময় রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষতিগ্রস্ত ও নিপীড়িত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো বিএনপির নৈতিক দায়িত্ব।" নতুন বাড়ি পেয়ে শহীদ হারুনুর রশিদের পরিবারের সদস্যরা আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা জানান, দীর্ঘদিনের কষ্টের পর নতুন এই আশ্রয় তাদের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীসহ গণমাধ্যমকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ দল আসন্ন এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য হোম অব ক্রিকেটে ক্যাম্প শুরু করেছে। ক্যাম্পের শেষে টাইগারদের জন্য দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রথম দিনের অনুশীলনে বেশ কিছু তারকা খেলোয়াড় অনুপস্থিত ছিলেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্প শুরু হলেও অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এদিন অনুশীলনে অংশ নেন লিটন কুমার দাস, নাসুম আহমেদ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন, তানজিদ তামিম ও মোস্তাফিজুর রহমান।
অন্যদিকে, কিছু খেলোয়াড় ছুটিতে রয়েছেন এবং কেউ কেউ এখনও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ছুটিতে থাকা পেসার শরিফুল ইসলাম ১৫ সেপ্টেম্বর দলের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ইংল্যান্ডে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে খেলা হাসান মাহমুদও দেশে ফেরেননি।
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সদস্যরা, যারা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে রয়েছেন, তারাও প্রথম দিনের ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন না। এদিকে, দেশ ছাড়ার আগে নিজেদের মধ্যে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল।
দিনের আলোতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচ দুটি আগামী ২১ এবং ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের এশিয়ান গেমস জাপানের আইচি ও নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। ২০তম আসরটি ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। পুরুষদের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে।
র্যাঙ্কিংয়ের কারণে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছে। ফলে টাইগারদের গ্রুপ পর্বে খেলতে হবে না। ২৯ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল।
‘বি’ গ্রুপে রয়েছে হংকং, মালয়েশিয়া ও ওমান। এই তিন দলের মধ্যে যে দল গ্রুপসেরা হবে, কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবে তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই দাবিগুলোর ভিত্তিতে তারা আবারও লংমার্চের আয়োজন করছে; তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জোটের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জমায়েত হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর লংমার্চ শুরু হবে। পথে পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হবে।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। দেশে দুর্নীতি প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে চলছে এবং দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই কারণে নতুন দাবি যুক্ত করা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক হিসেবে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন সংকটের ক্ষেত্রে যেভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, তা জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছয় মাস সরকারের জন্য বেশি সময় নয়, কিন্তু বিকল্প পরিকল্পনা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে অপেক্ষা করার সুযোগও বেশি নেই।
তিনি আরও জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যে ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে জনগণের দাবি, জনস্বার্থ, জনগণের অধিকার, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ১১ দলীয় ঐক্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ছিল গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। জুলাই আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি ও চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের যে দাবি উঠেছিল, সংসদে ১১ দলের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই সে বিষয়ে ভূমিকা রেখে আসছেন। সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। জনগণের এই রায় সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রায় ১২০০ বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। বিজিএমইএ সভাপতির সঙ্গেও তারা দেখা করেছেন। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানা চালানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও এর প্রভাবের মধ্যে পড়ছে। অর্ডার বাতিল হয়ে গেলে তা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নেজামে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জাগপার প্রধান মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, এবি পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিডিপির মহাসচিব নাঈম নিজামুদ্দিন নাঈম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ইউসুফ আলীসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ