০২:২২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির আওতায় বাংলাদেশকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের আওতায় রাখা হলেও,
এটি নতুন কোনো বাড়তি শুল্ক নয়। বরং আগের প্রস্তাবিত উচ্চহারের পরিবর্তে,
বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য কার্যকর মোট শুল্কহার দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশ, যা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কম।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং মিনিস্টার জানিয়েছেন,
প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। পরে,
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা চলাকালে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। পরবর্তী আলোচনায় হার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য চুক্তিতে ১৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল।
দূতাবাস জানাচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ওই শুল্ক কাঠামোর বিরুদ্ধে রায় দেয়ায়,
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
চুক্তিতে নির্ধারিত ১৯ শতাংশ শুল্ক কখনোই কার্যকর হয়নি। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ দিনের জন্য,
সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে। সেই মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার পর,
যুক্তরাষ্ট্র ৮৬টি দেশের জন্য নতুন শুল্ক কাঠামো ঘোষণা করে, যেখানে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
দূতাবাস আরও জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপের মূল কারণ,
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদিত কাঁচামাল ও পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে উদ্বেগ।
দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি জোরপূর্বক শ্রমে পণ্য উৎপাদনের অভিযোগ নেই।
তবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে,
যেসব দেশের কিছু কাঁচামাল উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
যেসব দেশ এ ধরনের কাঁচামাল আমদানি কমানোর উদ্যোগ বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে,
তাদের মধ্যে ১৭টি দেশকে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশও সেই তালিকায় রয়েছে।
প্রেস মিনিস্টার জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে,
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
আগেই ১৫ শতাংশ সাধারণ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। ফলে,
বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য মোট শুল্কহার হচ্ছে: ১৫ শতাংশ (বিদ্যমান শুল্ক) + ১০ শতাংশ (নতুন শুল্ক) মোট ২৫ শতাংশ।
অন্যদিকে,
চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের ওপর নতুন শুল্ক ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
ফলে এসব দেশের মোট শুল্ক দাঁড়াচ্ছে: ১৫ শতাংশ + ১২.৫ শতাংশ মোট ২৭.৫ শতাংশ।
অর্থাৎ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায়,
২ দশমিক ৫ শতাংশ কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানাচ্ছে, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াকে বিশেষ সুবিধা দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কাপড় আমদানি করে সেসব দিয়ে তৈরি পোশাক আবার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা হলে,
১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক মওকুফ হতে পারে।
বিষয়টি চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য,
এটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ সম্ভাবনায়,
ভারতের টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ফলেই,
বাংলাদেশ সর্বনিম্ন শুল্কহার এবং সম্ভাব্য বিশেষ সুবিধার অবস্থানে এসেছে।
এ লক্ষ্যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের দূতাবাস,
ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে বলে,
প্রেস মিনিস্টার জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন