মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০৯ পি.এম
দেশের উন্নয়ন এবং সরকারি কার্যক্রম বাধাগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি মন্তব্য করেন, রাজনীতির নামে শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করা হলে তাদের প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখা প্রয়োজন। দেশের জনগণ উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টিকারীদের ক্ষমা করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমীর খসরু।
সমাবেশে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বাজেট নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। আমীর খসরু বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সংকটকাল অতিক্রম করছে। এমন সংকটের মধ্যেও বিএনপি বড় বাজেট দেওয়ার সাহস দেখিয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের ঘোষিত বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।”
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গে আমীর খসরু দাবি করেন, যখনই দেশ গভীর সংকটে পড়েছে, বিএনপি তখনই সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করেছে। তাঁর ভাষায়, “আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকার মিলে দেশকে গর্তের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। দেশের মানুষ যখনই গভীর সংকটে পড়েছে, তখন বিএনপি বারবার সেই সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করেছে।”
জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জনগণ যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আত্মত্যাগ করেছে, তা পূরণে বিএনপি কাজ করে যাবে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
সমাবেশে স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আমীর খসরু বলেন, “এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা চাঁদাবাজ থাকলে তাদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মহানগর বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে পুরাতন রেলস্টেশন চত্বর থেকে র্যালি বের করেন দলটির নেতাকর্মীরা। ব্যানার, ফেস্টুন, দলীয় ও জাতীয় পতাকা নিয়ে এতে অংশ নেন তারা। ঢাকঢোলের সঙ্গে র্যালিটি নগরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে লালদীঘি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে তিনি দেশের ইতিহাসে শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়ার কথা জানান।
তিনি বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাকে এবারের বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের আধুনিক, দক্ষ এবং যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণার জন্যও বাজেটে বড় অংশ রাখা হয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা রয়েছে, পর্যাপ্ত সুবিধার ঘাটতি কোথায় এবং সক্ষমতার অভাব কোন জায়গায়, তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চুয়েটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহ থাকলেও পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকার কথা তারা জানিয়েছেন। এ কারণে গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্যাকাল্টির ঘাটতি থাকলে সেটিও চিহ্নিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
চুয়েটে ৯৫ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা গবেষণায় কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেই হবে না, সেই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগও থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চুয়েটকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত বেঞ্চমার্ক করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।
সরকারি অর্থের অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও চুয়েটের অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করেন আমীর খসরু। সরকারি প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং বিনিয়োগের প্রতিদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী জানান, কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে তিনি চারটি বিষয় বিবেচনা করেন। বিনিয়োগের বিপরীতে অর্থের যথাযথ মূল্য পাওয়া যাবে কি না, প্রকল্প থেকে কী ধরনের রিটার্ন আসবে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে কি না এবং পরিবেশগত দিক সুরক্ষিত থাকবে কি না, এসব বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, এই চার শর্ত পূরণ না হলে তাঁর কাছে প্রকল্প না আনতে। কারণ প্রকল্পে ব্যবহৃত অর্থ সাধারণ করদাতাদের। কোনো অবস্থাতেই সেই অর্থের অপচয় মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
চুয়েটের আইটি ইনকিউবেটর নিয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। প্রায় ২৪ বছর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে ঢাকায় একটি আইটি ইনকিউবেটর করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সরকারগুলোর ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং তদারকির অভাবে সেখান থেকে পুরোপুরি সুবিধা নেওয়া যায়নি।
চুয়েটের আইটি ইনকিউবেটরেও বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হয়েছে উল্লেখ করে এই বিনিয়োগ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
একই প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়ন্ত্রণ থাকলে কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন আমীর খসরু। তাঁর মতে, চুয়েট ক্যাম্পাসের ভেতরের বিষয় হওয়ায় আইটি ইনকিউবেটরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়া উচিত। সেখান থেকে কী ধরনের আউটপুট আসবে, তার পরিকল্পনাও চুয়েটকেই করতে হবে।
ঢাকায় ফিরে আইসিটি মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে চুয়েটের উপাচার্যকে ঢাকায় এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে জটিলতার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
চুয়েটের উপাচার্যের উদ্যোগ এবং চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতার প্রশংসাও করেন অর্থমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য উপাচার্যের বেশ কিছু ভালো ধারণা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করলে অল্প সময়ে চুয়েটকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
চুয়েটের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও বক্তব্য দেন। দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চুয়েটের গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং গবেষণায় অর্থের অভাবে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ যাতে থেমে না যায়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শুধু লেখাপড়া নয়, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, বিতর্ক এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথাও বলেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুয়েটের সহযোগিতা বাড়িয়ে নতুন প্রযুক্তি এবং গবেষণার সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এলাকার সন্তান হিসেবে চুয়েটের উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রায় সবসময় পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দায় এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় পুলিশ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি ওয়ান শুটার গান পিস্তল, একটি খেলনা পিস্তল, ডেগারসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকদের মধ্যে রয়েছেন মান্দা উপজেলার কশব ইউনিয়নের তুড়ুকবাড়িয়া গ্রামের আহম্মেদ আলী আকন্দের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৪) এবং জিয়াউর রহমানের ছেলে পারভেজ হোসেন (২৭)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল সোমবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ফুড ভিলেজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের সময় একতা পরিবহনের একটি বাস থেকে সুলতান মাহমুদ ও পারভেজ হোসেনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, তাঁরা ওই বাসে করে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত দুই যুবক এলাকায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই গ্যাংয়ের মাধ্যমে তাঁরা এলাকায় বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। গ্যাংয়ে যোগ না দেওয়া কিশোরদের মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে তুড়ুকবাড়িয়া গ্রামের সাফি আল জাবের ওরফে নিরব (৩১) পলাশবাড়ি বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সুলতান মাহমুদ, পারভেজ হোসেন ও ফয়সাল মাহমুদ রোকনের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক তাঁর পথরোধ করেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নিরবকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়া হয়, তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি আহত হননি।
পুলিশ আরও জানায়, পরদিন ২৬ আগস্ট রাতেও ওই যুবকেরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট সাফি আল জাবের ওরফে নিরব বাদী হয়ে সুলতান মাহমুদ, পারভেজ হোসেন ও ফয়সাল মাহমুদ রোকনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মান্দা থানায় মামলা করেন। মামলার পর মান্দা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ অভিযানে শেরপুরের ফুড ভিলেজ এলাকা থেকে সুলতান মাহমুদ ও পারভেজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, সুলতান মাহমুদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি ওয়ান শুটার গান পিস্তল, ডেগারসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন ৬৫০ জন, যাদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কওমি আলেম এবং বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দাওয়াতি সমাবেশের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। জামায়াতের মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন সদস্যদের ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
জামায়াতে যোগদানকারীদের মধ্যে সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনাকর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক এবং জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ অন্তর্ভুক্ত আছেন।
এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, মো. ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজী শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও ডা. হুমায়ন কবিরও জামায়াতে যোগদান করেন।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান বাবু, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজী আলতাব হোসেন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাবেদ ওমর এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ রয়েছেন।
গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ কোল্লল এবং বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনও জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
কওমি আলেমদের মধ্যে মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন (রসুলপুরী) ও মাওলানা হাসান জামিল উল্লেখযোগ্য।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান, মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান এবং বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির এবং অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহা. মহিউদ্দিন খান মন্তব্য করেছেন, ‘যে জাতি তার বীরদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে জানে না, সেই জাতিতে আর কখনো কোনো বীর সন্তান জন্ম নেয় না। শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন আমাদের তেমনি এক হার না-মানা বীর, যিনি জুলাইয়ের পূর্ববর্তী সময় থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই দেশের পুনর্গঠনের জন্য মৃত্যু অবধি প্রাণপণ লড়াই করে গেছেন।’
তিনি শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির বক্তব্য সংকলন ‘বারুদমাখা কথামালা’ বইয়ের বাণীতে এই কথা বলেন। উল্লেখ্য, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এই সংকলনটি সম্পাদনা করেছেন।
মহিউদ্দিন খান আরও বলেন, ‘বিরোধী মত, রাজনৈতিক দল কিংবা ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ—বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল; হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান কিংবা ডান-বাম—সবার মত ও অবস্থানকে তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে যৌক্তিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন। কিন্তু তার সেই পর্যালোচনায় কখনো হিংসাত্মকতা বা আক্রমণাত্মক মনোভাব ছিল না। তিনি যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং তার বক্তব্যকে যুক্তির মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন।’
‘তার প্রতিটি কথায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে দেশ গঠন এবং আমরা জাতি কীভাবে আবার শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারি, সেই চিন্তা। তার প্রতিটি কথামালার মধ্যে এমন শিক্ষা রয়েছে, যা ধারণ করতে পারলে প্রত্যেক মানুষ নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে।’
ডাকসুর এজিএস বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির কথামালার চর্চা অত্যন্ত জরুরি। তার চিন্তা ও বক্তব্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। খুনিরা শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে, কিন্তু তার লেখা, তার চিন্তা ও তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। আমরা যদি সেগুলোর চর্চা অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে তিনি শতবর্ষ পরেও, শতাব্দীর পর শতাব্দী আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আট বছর পর সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ওমানের সালামএয়ারের মাস্কাট-সিলেট ফ্লাইটের অবতরণের মাধ্যমে এই ফ্লাইটগুলো আবার শুরু হয়।
সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে ১৩৩ জন যাত্রী নিয়ে সালামএয়ারের উড়োজাহাজটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে ২২৪ জন যাত্রী নিয়ে একই উড়োজাহাজটি মাস্কাটের উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করে।
এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে সালামএয়ার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ওমানের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর ফাতেহা আহমেদ আল বালুশী, সালামএয়ারের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্টিভেন এলেন, বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহিদী এবং বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সালামএয়ারের সিলেট এরিয়া ম্যানেজার সেলিম আল রাজী।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল প্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাই সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সিলেট রুটে তাদের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিতি থাকলেও বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।
সালামএয়ারের ফ্লাইট চালুর ফলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। মাস্কাটের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ায় সিলেটের যাত্রীদের জন্য ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সালামএয়ারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে মাস্কাট-সিলেট রুটে সপ্তাহে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আগামী মাস থেকে এ সংখ্যা বাড়িয়ে সপ্তাহে পাঁচটি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এয়ারলাইনটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তাহের প্রতিদিনই এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সালামএয়ারের পর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এয়ার আরাবিয়া, ফ্লাইদুবাইসহ আরও কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে পারে।
বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় সিলেটের প্রবাসী যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ