ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ


মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামির নাম হলো—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। উল্লেখ্য, দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

মামলার বিবরণ ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ জুন এ মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এরপর ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হলে আদালত তা আমলে নেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছিল।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষীদের তালিকায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৪ আগস্ট থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। টানা ৯ কার্যদিবস প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ১৭ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। একই সঙ্গে ১৫ সেপ্টেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মোট ১২৩টি সিরিজের নথিপত্র বা ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয়।

প্রসিকিউশনের আনীত অভিযোগে বলা হয়, জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমাতে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং সহিংসতার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেন। তাদের আহ্বান ও প্ররোচনায় দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা ও কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের মৃত্যুদণ্ডের রায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি ইনানের মৃত্যুদণ্ডের রায়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাত আসামির মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই রায় ঘোষণা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের কেউও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করে। প্যানেলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গত ১৮ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে সাত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে অনলাইন স্ক্যামিংয়ে আটক, দুই দিনের রিমান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে অনলাইন স্ক্যামিংয়ে আটক, দুই দিনের রিমান্ড

চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় ‘অনলাইন স্ক্যামিংয়ের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের জন্য আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে (সিটিইউ) ২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (এসিএমএম) মুহিদুল ইসলাম এ আদেশ প্রদান করেন।

এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি-প্রসিকিউশন, ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী।

তিনি জানান, ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে আগামী ২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ পাহারায় ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় তারা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তাদের বিরুদ্ধে করা মামলায় রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ওই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে আটক মহসিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। মহসিন তাদের থাকার জন্য একটি আটতলা ভবন ভাড়া করে দিয়েছিলেন।

কয়েক দিন আগে মহসিন কুরিয়ারের মাধ্যমে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকার এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরে কোকেনের চালানটি ফেরত আসে। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির সম্পত্তি জুলাই শহীদ ও আহতদের দিতে নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির সম্পত্তি জুলাই শহীদ ও আহতদের দিতে নির্দেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে, আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, দণ্ডিত পাঁচ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তার মধ্যে ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদের পরিবারের কাছে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

যারা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই পাঁচ আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ৫০ শতাংশ জুলাই শহীদের পরিবারের কাছে দেওয়া হবে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অধীনে বাজেয়াপ্ত করা হবে। এর মধ্যে নির্ধারিত ৫০ শতাংশ সম্পদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং শহীদদের পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এসব সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা এ ধরনের কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। তবে এবারই প্রথম ট্রাইব্যুনাল আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ শহীদ ও আহতদের মধ্যে বণ্টন করা হবে জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রধান কৌঁসুলি বলেন, "আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে।"

আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা হলে সরকারের পক্ষে রায় বাস্তবায়নে কোনো বাধা থাকবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যের টুকরো টুকরো হওয়ার পথে নতুন চুক্তি সই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


যুক্তরাজ্যের টুকরো টুকরো হওয়ার পথে নতুন চুক্তি সই

যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতা দাবি নিয়ে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হয়েছেন। তিন দেশের শীর্ষ নেতারা স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার জানিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন। চুক্তির পর তারা ঘোষণা করেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামই হতে পারেন যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিবিসি জানাচ্ছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কার্ডিফে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্কটল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী দল এসএনপির নেতা জন সুইনি, ওয়েলসের প্লেইড কাইম্রুর নেতা রুন আপ ইওরওয়ার্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল ও'নিল এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ওয়েস্টমিনস্টারের সময় ফুরিয়ে আসছে’ এবং ‘সাংবিধানিক পরিবর্তন আসছে’। এর ফলে স্বাধীনতার গণভোট আয়োজনের অনুমতি দিতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের নেতা জন সুইনি বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্কটল্যান্ডে অবশ্যই স্বাধীনতার গণভোট আয়োজন করতে হবে। তিনি আবার দাবি করেছেন, ভোট হলে স্কটল্যান্ডের জনগণ যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেবে।

সুইনি বলেন, স্কটল্যান্ডের মানুষকে স্বাধীনতার সুযোগ দেওয়া হলে তারা সেই পথই বেছে নেবে। জনমত জরিপের তথ্যেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে শুধু বাধার মুখেই পড়েছে।

তবে বৈঠকে নেতারা নিজেদের সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, দলীয় নেতা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে অর্থনীতি, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান তারা।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা রয়েছেন, যারা প্রত্যেকেই যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের দাবি, পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসছে এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনও অনিবার্য।

তিন নেতা আরও বলেন, তাদের জাতিগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। কোনো ব্রিটিশ সরকারেরই গণতন্ত্রের পথে বাধা দেওয়া বা জনগণকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অধিকার নেই।

তবে তারা স্বীকার করেছেন, তিন দলের সাংবিধানিক অবস্থান এক নয়। প্রতিটি দেশ নিজেদের পদ্ধতি ও নিজেদের সময়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণকে অ্যান্ডি বার্নহাম অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে পর্যটন কর চালুর বিষয়টিও ছিল।

তবে তিন নেতার চুক্তির পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক বিতর্কে সময় নষ্ট না করে বার্নহাম দেশের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের চারটি জাতিতেই পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তিনি যুক্তরাজ্যের ঐক্যে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। বিভাজনের পরিবর্তে অভিন্ন মূল্যবোধ ও সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল ও'নিল বলেছেন, আইরিশ ঐক্যের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রমাণ করে যে এই বিতর্ক এখন জোরালোভাবে চলছে। ব্রিটিশ সরকার এই পরিবর্তনের ধারা থামিয়ে রাখতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডাবলিন সফরের সময় ট্রাম্প একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে চান বলে মন্তব্য করেন। ও'নিলের মতে, এর মধ্য দিয়ে আয়ারল্যান্ডের মানুষের জন্য সম্ভাব্য বড় অর্জন নিয়ে ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। তার ভাষায়, সবচেয়ে বড় অর্জন হবে বিভাজনের অবসান ও একটি নতুন আয়ারল্যান্ডের সূচনা।

এর এক সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বার্নহাম ভুলবশত মন্তব্য করেছিলেন, স্কটিশ পার্লামেন্ট নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কখন স্বাধীনতার গণভোট আয়োজন করা হবে। সেই মন্তব্যের পরও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%