বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৭ পি.এম
রাস্তার ওপর পলিথিন দিয়ে তৈরি একটি ছোট্ট টং ঘর দেখা যাচ্ছে। ঘরের একপাশে বাঁধা গরু ও ছাগল এবং অন্যপাশে একটি চৌকি রাখা রয়েছে। পরিবারের সকল সদস্য দিনরাত কাটাচ্ছেন ওই একটিমাত্র চৌকিতে।
খোলা আকাশের নিচে মাটির চুলায় রান্নার প্রস্তুতি চলছে, আর ঘরবাড়ির চারপাশে পানি থইথই করছে। প্রায় তিন মাস ধরে মারাত্মক জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার মানুষ।
সরেজমিনে ভবদহ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে জানা গেছে, ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের কয়েকটি পরিবার বাধ্য হয়ে রাস্তা এবং উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে তারা সেখানেই দিন কাটাচ্ছেন। পানির কারণে অনেক পরিবারের রান্নাবান্না ও খাবারের ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকাই এখন এই অঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, এই তিন উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন।
দীর্ঘস্থায়ী এই দুর্ভোগ নিয়ে ডুমুরতলা গ্রামের শিব পদ বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করেন, "আমরা হচ্ছি জলজ প্রাণী, সাপ-ব্যাঙের সঙ্গে আমাদের বসবাস। সরকার ও আমলারা মিলে আমাদের জলজ প্রাণী বানিয়ে রাখছে। আমরা এ জলজ প্রাণীর মতো হয়ে বাঁচতে চাই না।"
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতারা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজীত বাওয়ালীও দীর্ঘ আন্দোলনের পর মারা গেছেন, কিন্তু ভবদহের স্থায়ী সমাধান দেখে যেতে পারেননি। নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে কৃষক ও শ্রমিকদের নিয়ে আবারও রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকিস্তান আমলে ভবদহের ভবানীপুর এলাকায় শ্রী নদীর ওপর ২১ ভেন্ট, ৯ ভেন্ট ও ৬ ভেন্টের স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সেই নিষ্কাশন ব্যবস্থা আজ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাজ চলছে, তবুও ভুক্তভোগীদের দাবি—তারা কাঙ্ক্ষিত মুক্তি পাচ্ছেন না।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, প্রকল্পের ৭৩ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেখানেই কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। নদী খননের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে আগামী ৫ থেকে ৭ বছর জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, ভবদহের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের জন্য প্রায় ৪৯ কোটি ৯ লাখ টাকার পৃথক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করে বুঝিয়ে না দেওয়ায় ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না।
প্রকল্প ও অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কেন পানি কমছে না —এই প্রশ্ন এখন ভবদহবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমডাঙ্গা খাল সংস্কারসহ পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শুরু না হলে এই অঞ্চলের মানুষের স্থায়ী মুক্তি কবে মিলবে, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল। তবে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যাস্তের পরও এই মশার সক্রিয় থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিদেশের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে কৃত্রিম আলো মশার চলাফেরা ও কামড়ানোর সময় বাড়াতে পারে।
এতে ঢাকার মতো শহরে সড়কবাতি, এলইডি বাতি ও অন্যান্য কৃত্রিম আলোর কারণে মানুষের এডিস মশার কামড়ের ঝুঁকির সময়সীমা বাড়ছে কি না, সেই প্রশ্নটি সামনে এসেছে। তবে ঢাকার কৃত্রিম আলো সরাসরি ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়াচ্ছে—এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে বাংলাদেশে বিভিন্ন মাত্রার কৃত্রিম আলো ও পরিবেশে এডিস মশার আচরণ নিয়ে আলাদা গবেষণা প্রয়োজন। ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূর্যাস্তের পরও সক্রিয় এডিস
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে এডিস মশা নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, "রাতে এডিস মশার সক্রিয়তার বিষয়টি এখন আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।" তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে এডিস মশার ঘনত্ব কিছুটা কম থাকলেও তারা কামড়ায়। পূর্বে ধারণা করা হতো, এডিস মশা মূলত সকাল ও বিকেলেই কামড়ায়।
২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অধ্যাপক কবিরুল বাশার ও তার সহকর্মীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯০৪টি মশা সংগ্রহ করে গবেষণা করেন। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মশার সক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ করে তারা দেখতে পান, এডিস মশা সন্ধ্যার পরও সক্রিয় থাকে। এমনকি রাত ৯টার দিকেও তাদের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
তবে ওই গবেষণায় কৃত্রিম আলোর মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকার মশার আচরণের তুলনা করা হয়নি। তাই রাতের আলো এডিস মশার সক্রিয়তা বাড়াচ্ছে কি না, তা ওই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
ঢাকার রাতও এখন বেশি আলোকিত
গত কয়েক বছরে ঢাকার রাতের পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উপগ্রহের পর্যবেক্ষণ তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় রাতের কৃত্রিম আলোর বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গবেষকদের হিসাবে, প্রতিবছর শহরের কৃত্রিম রাতের আলো প্রায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ হারে বেড়েছে।
শহরের বিমানবন্দর, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মতিঝিল ও তেজগাঁও এলাকায় তুলনামূলক বেশি আলোর ঘনত্ব দেখা গেছে। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরেও পুরোনো সড়কবাতির পরিবর্তে উজ্জ্বল সাদা এলইডি বাতির ব্যবহার বাড়ছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলাকা, ভবন ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলও আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় আলোকিত থাকছে।
তবে উপগ্রহের এসব তথ্য শুধু রাতে কৃত্রিম আলোর বিস্তার বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করে না।
কৃত্রিম আলো কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে?
আন্তর্জাতিক কয়েকটি গবেষণায় কৃত্রিম আলোর কারণে রাতে মশার সক্রিয়তায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২০ সালে পরীক্ষাগারে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই মশার ৮২ শতাংশ দিনের বেলায় রক্ত পান করেছিল। রাতে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ। কিন্তু মাত্র ৩০ মিনিট সাদা আলোর সংস্পর্শে রাখার পর রাতে রক্ত পান করার হার বেড়ে ৫৯ শতাংশে পৌঁছায়।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এডিস অ্যালবোপিক্টাস প্রজাতির মশার ওপর পরিচালিত একটি মাঠপর্যায়ের গবেষণাতেও কৃত্রিম আলোর দূষণ বেশি এমন এলাকায় রাতে মশার সক্রিয়তা বেশি পাওয়া যায়। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরম দিনের পর এ প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
তবে এসব গবেষণার ফল সরাসরি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না। কারণ মশার প্রজাতি, আবহাওয়া, তাপমাত্রা এবং বাস্তব পরিবেশে আলোর ধরন ও মাত্রার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন রেজা খান বলেন, "কৃত্রিম আলো রাতে প্রাণীর আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সেই প্রভাব প্রজাতিভেদে ভিন্ন হতে পারে।" নির্দিষ্ট কোনো মশা বা প্রাণীর ওপর আলোর প্রভাব কতটা, তা জানতে সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।
আরও গবেষণার প্রয়োজন
বাংলাদেশে এ ধরনের গবেষণায় একই ধরনের পরিবেশের বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার সক্রিয়তা তুলনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি আলোর উজ্জ্বলতা, আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য, রঙের তাপমাত্রা, কতক্ষণ আলো জ্বলছে এবং রাতের তাপমাত্রার মতো বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
গবেষণা না হওয়া পর্যন্ত শহরের উজ্জ্বল রাতকে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা যায় না। তবে শহরগুলো যখন সূর্যাস্তের পরও দীর্ঘ সময় আলোকিত ও সক্রিয় থাকছে, তখন "দিনের বেলায় সক্রিয় এডিস মশা রাতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়"—এই প্রচলিত ধারণা নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় প্রথম ধাপে কৃষক কার্ড পাচ্ছেন ১৭৮৫ জন
বিএনপি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নে ১ হাজার ৭৮৫ জন কৃষক কৃষক কার্ড গ্রহণ করবেন।
আগামী ১ অক্টোবর এ কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নওগাঁর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনজুর রহমান বাসসকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১ অক্টোবর ফেনী থেকে সরাসরি যুক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
ওই দিন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়ি পতিসরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মনিয়ারী ইউনিয়নের পতিসর ব্লকের ১ হাজার ৭৮৫ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
কৃষি বিভাগ জানাচ্ছে, পতিসর ব্লকের শতভাগ কৃষককে এ কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭৮৫ জন কৃষকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়েছে। এই ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারের দেওয়া সহায়তার অর্থ গ্রহণ করবেন।
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, একই দিনে দেশের ৫৫টি জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
নওগাঁ জেলার সকল কৃষককে পর্যায়ক্রমে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি বিভাগের।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁয় মোট কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৭৬টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮৪ হাজার ৪৪০টি, রানীনগরে ৪৬ হাজার ৮৫০টি, আত্রাইয়ে ৫৩ হাজার ২০৫টি, বদলগাছীতে ৫২ হাজার ৫৭৯টি, মহাদেবপুরে ৮৭ হাজার ৩৩৭টি, পত্নীতলায় ৬০ হাজার ৫৮৬টি, ধামইরহাটে ৫৪ হাজার ৩৩৩টি, সাপাহারে ৫০ হাজার ২৬টি, পোরশায় ২৩ হাজার ৭৭০টি, মান্দায় [এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি] এবং নিয়ামতপুরে ৬৫ হাজার ৮৩০টি কৃষক পরিবার রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোয় ভারী বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যায় তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং একটি শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বন্যার কারণে বিভিন্ন সড়কও পানিতে ডুবে গেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ উত্তর-পশ্চিম নিউ মেক্সিকোর নিউকম্ব এলাকার কাছে বন্যার পানিতে কয়েকজন ভেসে যাওয়ার খবর পায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় দুই প্রাপ্তবয়স্ক এবং এক শিশুর মরদেহ। তাদের মৃত্যুর ঘটনা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
নাভাহো নেশনের প্রেসিডেন্ট বু নাইগ্রেন নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ভারী বৃষ্টির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন।
নাইগ্রেন মন্তব্য করেন, "হঠাৎ প্রিয়জনকে হারানোর এই কষ্ট কমানোর মতো কোনো শব্দ নেই। তিনটি প্রাণ হারানোর ঘটনায় তাদের হৃদয় ভারী হয়ে আছে।"
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার আলবুকার্ক কার্যালয় কয়েক দিন ধরে ব্যাপক বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে আসছে। বুধবার তারা সতর্কতা পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় এবার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, নিউ মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ এবং দক্ষিণ-মধ্য পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মধ্য ও উত্তর নিউ মেক্সিকোর যেকোনো এলাকায় আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত অ্যারিজোনা, নিউ মেক্সিকো, কলোরাডো ও ইউটাহর বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম নিউ মেক্সিকোর কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মধ্য ও উত্তর অ্যারিজোনার বিস্তীর্ণ এলাকায়ও বন্যার সতর্কতা রয়েছে।
এর আগে কয়েক সপ্তাহ আগে ভারী বৃষ্টির কারণে অ্যারিজোনার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছিল। সেই সময় তিনজন পর্বতারোহী পানির স্রোতে ভেসে যান এবং আরও কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানিকে পেছনে ফেলে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন চীনের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাং ইমিং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তার প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তার সম্পদের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে।
ব্লুমবার্গের ধনী ব্যক্তিদের সূচক অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী জ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ১০৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০১৯ সালের মার্চে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। এই ছয় বছরের কিছু বেশি সময়ে তার সম্পদ আট গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বজুড়ে টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত জ্যাংয়ের এই উত্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে বাইটড্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কঠোর নিয়ন্ত্রক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
কে এই জ্যাং ইমিং?
২০১২ সালে বেইজিংয়ের একটি চার কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন জ্যাং ইমিং। প্রতিষ্ঠানের প্রথম বড় সাফল্য ছিল টুটিয়াও নামের একটি অ্যালগরিদমনির্ভর সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম।
এরপর বাইটড্যান্স চীনে দৌইন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টিকটক চালু করে। ২০২১ সালে তিনি বাইটড্যান্সের প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৫০ শতাংশের বেশি ভোটাধিকার এখনো তার হাতে রয়েছে।
যেভাবে বাইটড্যান্সের উত্থান
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর জ্যাং ইমিং প্রকৌশলী হিসেবে একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন মাইক্রোসফটেও কাজ করার পর তিনি ৯৯ফ্যাং নামে একটি আবাসন খোঁজার প্রতিষ্ঠান চালু করেন।
স্মার্টফোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে—এই পরিবর্তন তিনি শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন। ২০১২ সালে তাই বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন। তার ধারণা ছিল, ব্যবহারকারীর খোঁজ বা সামাজিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর না করে যন্ত্রের শেখার প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা ধরনের বিষয়বস্তু সাজানো।
এই প্রযুক্তিই টুটিয়াওকে চীনের অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপে পরিণত করে।
২০১৬ সালে চীনে দৌইন চালু করে বাইটড্যান্স। পরের বছর আন্তর্জাতিক বাজারে আসে টিকটক। পরে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে মিউজিক্যালি কিনে সেটিকে টিকটকের সঙ্গে একীভূত করা হয়। এরপর বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় টিকটক। বর্তমানে এর সক্রিয় ব্যবহারকারী এক বিলিয়নেরও বেশি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগ
বাইটড্যান্স এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানটি দৌবাও নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথন ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি বড় আকারের ভিডিও ও বহুমাধ্যমভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জে সু ব্লুমবার্গকে বলেন, জ্যাং ইমিং পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। তবে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে তীব্র প্রতিযোগিতাই এখন বাইটড্যান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
নিয়ন্ত্রক চাপ ও বিতর্ক
সম্পদের দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি বাইটড্যান্সকে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি দ্বন্দ্বের মধ্যে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা পরিবর্তনের চাপের মুখে পড়ে। এর পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ অন্যতম কারণ ছিল।
চীনেও ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা এবং অ্যালগরিদম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারি ও বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এতসব চাপের মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে জ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ দ্রুত বেড়েছে। এর মধ্য দিয়েই এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় উঠে এসেছেন টিকটকের এই প্রতিষ্ঠাতা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ