০৬:২২ পি.এম
সম্প্রতি মৌলভীবাজারে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও সেতু-কালভার্ট। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি লাখো মানুষের। জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ১৩৮ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।
স্থানীয় government প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় বন্যায় প্রায় ৫৪টি সড়কের ১৩৮ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাতটি ব্রিজ-কালভার্টের প্রায় ৩৮ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে এলজিইডি।
সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মনু ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ভাঙনের কারণে জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পানির প্রবল স্রোতে জেলার অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সরেজমিনে দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বাজার থেকে ভান্ডারিগাঁও সড়কের প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। একাধিক সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও আবার সড়কের একাংশ ভেঙে পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুধু পাকা সড়ক নয়, বন্যার পানিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ কাঁচা সড়ক। এসব সড়কে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বন্যার পানি কমে গেলেও সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো এখন মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
রাজনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল জানান, তার উপজেলায় সড়ক পথের প্রায় ৩৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কুলাউড়া উপজেলায় সড়কপথের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ৫৪টি সড়কের ১৩৮ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাতটি ব্রিজ-কালভার্টের প্রায় ৩৮ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্টের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানিয়েছেন, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ হচ্ছে। এটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হলে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়বে এবং মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন