ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী


বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম), ৯ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মতো চলে যাবে, কিন্তু দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।’

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

 

আজ রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম জেলার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সংসদে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না এবং জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছরের বেশি সময় আগে; এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, এখন কাজ করার ও দেশ গড়ার সময়।’

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

 

দেশের প্রতিটি পরিবারের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, তাই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের পাশে থাকা। সুখে-দুঃখে দেশের মানুষের পাশে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, অসুস্থ মানুষদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তরুণ-যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’

 

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা তার বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলাতেও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।’

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড, যা সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি লবণ চাষীরাও পাবেন। লবণ চাষীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে लबণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণাও শিগগিরই দেওয়া হবে। যার ফলে লবণ চাষী ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।’

 

চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে আমি মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। বিশাল সমুদ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ। চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বহু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

 

স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পান।’

 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবে- সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।'

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

 

তিনি বলেন, আমরা এমন পরিকল্পনা নিচ্ছি, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা কিংবা বাসাবাড়ি- সব জায়গায় মানুষ যেন ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পায়, এবং গাড়ি-মোটরসাইকেলসহ সবকিছুতে মানুষ যেন সহজে গ্যাস পেতে পারে।

 

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চট্টগ্রামের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়দের ধৈর্য ধারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের চট্টগ্রাম থেকে আমরা দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছি- একটি অর্থ মন্ত্রণালয়, আরেকটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যে অঞ্চলের দুইজন ব্যক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ দুইটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’

আরও পড়ুন: নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এবার একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য, তা হলো জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমরা জনগণের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি তাতে আপনাদের সমর্থন থাকতে হবে। কারণ আমরা সবসময় বলি, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যতগুলো কর্মসূচি নিয়েছি সবগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি শ্রমিকের হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।’

 

তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করে প্রতিজ্ঞা করি যে বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।’

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এছাড়া বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন।

 

নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলায় ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার অভি/যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


ভোলায় ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার অভি/যোগ

ভোলার চরফ্যাশনে হেরিং বোন বন্ড (ইটের সলিং) সড়কের ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করার অভিযোগ উঠেছে এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। সড়কের ইটগুলো তুলে নেওয়ার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসা চৌমাথা থেকে দক্ষিণে ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা হেরিং বোন বন্ড নির্মাণের জন্য এলজিএসপি-৩-এর অর্থায়নে ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর পরবর্তী সময়ে মেসার্স সূচনা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজ বাস্তবায়ন করে।

তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর প্রকল্পের আওতায় ৬০০ ফুট রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৫৮ টাকা। এ কাজের তদারকি করছেন এওয়াজপুর ইউপি সচিব জামাল উদ্দিন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টিআর প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ওই হেরিং বোন বন্ড সড়কের ইট তুলে কাদা-মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, কয়েক দিন আগে এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জামাল উদ্দিন রাস্তাটি ভালোভাবে ইটের সলিং করার কথা বলে সড়কের ইটগুলো তুলে নিয়ে গেছেন। পরে ভেকু দিয়ে রাস্তায় কাদা-মাটি ফেলে চলে যায়। এ কারণে বর্তমানে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। তাদের দাবি, আগের হেরিং বোন বন্ড সড়কটি ভালো ছিল।

স্থানীয় জাফর বলেন, এওয়াজপুর ইউনিয়নের সচিব জামাল উদ্দিন এ সড়কের কাজ করেছেন। সেই কাজের দায়িত্ব আমি পালন করেছি। জামাল উদ্দিন পূর্বের ইটের সলিং তুলে কাদামাটি ফেলেছেন।

এওয়াজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল মান্নান বলেন, এই রাস্তাটি ২০২০-২১ অর্থবছরে ইটের সলিং করা হয়েছে। আমরা এলাকাবাসী ইটের সলিংয়ের ওপর দিয়ে চলাফেরা করেছি। পূর্বের ৬৬০ ফুট ইটের সলিং তুলে নিয়ে মাটি ফেলা হয়েছে। এখন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীদের চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটছে। তাই আমরা পূর্বের সলিং ফিরে পেতে চাই।

একই অভিযোগ করেছেন আবি আবদুল্লাহ ও জসিম মোল্লা। তারা বলেন, হেরিং বোন বন্ড নির্মাণের পর থেকে মানুষ সুন্দরভাবে চলাচল করতে পারত। কিন্তু ইটগুলো তুলে নেওয়ার কারণে এখন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইটের সলিং থাকাকালীন সময়ে এই রাস্তায় গাড়ি চলাচল করত। বর্তমানে হাঁটুসমান কাদামাটির কারণে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, বহু আগে রাস্তাটি কাঁচা ছিল। পরে বিগত সরকারের আমলে ইটের সলিং করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা দিয়ে সুন্দরভাবে চলাচল করা গেলেও বর্তমানে ইউপি সচিব জামাল উদ্দিন ভেকু দিয়ে ইট তুলে ট্রাকভর্তি করে নিয়ে গেছেন। তার পর রাস্তায় কাদামাটি ফেলে চলে গেছেন।

ইউপি সচিব জামাল উদ্দিন বলেন, আগের সলিং নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি ইটগুলো তুলে নিয়ে মাটি ফেলেছি।

ইটগুলো তুলে কাদা-মাটি ফেলতে পারেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন অবগত আছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে ইউপি সচিব যদি আমার বিষয়ে কিছু বলে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনে জোর দিচ্ছে, আমদানি নির্ভরতা ভেঙে : তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৩ পি.এম


সরকার নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনে জোর দিচ্ছে, আমদানি নির্ভরতা ভেঙে : তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে উন্নয়ন মানে কেবল দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা বা মেগা প্রজেক্ট নয়, বরং মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ উত্তোলন করাই এখনকার আসল উন্নয়ন।

আজ রোববার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’-এর ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৭ বছরে নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলন না করে আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছে। ফলে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমদানি-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের সুযোগ দিতেই নিজস্ব উত্তোলন বন্ধ রেখে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একদল লুটেরাকে ধনী করার উদ্দেশ্যে দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি দেশে এমন চক্রান্তই করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল রাখতে বাধ্য হয়ে যেটুকু প্রয়োজন কেবল সেটুকুই আমদানি করা হবে, বাকি চাহিদা নিজস্ব উত্তোলনের মাধ্যমেই মেটানো হবে যাতে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষার করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় নেশাদ্রব্য উৎপাদন করে বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে ব্যবহারের গভীর ষड़যন্ত্র চলছে। অতীতে কিছু সংসদ সদস্য এসব কারবারে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই সমস্ত কারবারীরা সরকার পরিবর্তনের পর এখন ক্ষমতাসীন দলের পার্টনার খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এসব চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এই সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে।

বিএনপিতে কোনো গডফাদার বা মাস্তানতন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে ‘চাবুকের’ ভূমিকা পালন করতে হবে।

গণমাধ্যমকে সমাজের নিখুঁত আয়না হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিখুঁত না হলে সমাজের সঠিক ছবি উঠবে না এবং তা সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খশরু, বিএনপি নেতা আজিজুল হক আক্কাস, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পণ্ডিত, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাম উপসর্গে আরও ৬ শি/শুর মৃ/ত্যু, নতুন আ/ক্রান্ত ১০৬৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


হাম উপসর্গে আরও ৬ শি/শুর মৃ/ত্যু, নতুন আ/ক্রান্ত ১০৬৩

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৩টি শিশু।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এতে করে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৮টি শিশু। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ের মধ্যে মোট ৮৭৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, এবং হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৮৮। এই সময়ে ৯৩৮টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ৯৪২টি শিশু বাড়ি ফিরেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০, এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১১৫। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮২ রোগী রয়েছে, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪২ জন ইতোমধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার নয়

আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার না করতে নির্দেশনা দিয়ে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ রোববার (৯ আগস্ট) এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং আইনজীবী মাহবুব শফিক, মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী।

পূর্বে গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।

গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ৮ মার্চ হাইকোর্ট ওই ঘটনায় চারটি মামলায় জামিন দেন। এরপর ১১ মার্চ তিনি দুদকের মামলায়ও জামিন পান। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলেও, আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন।

১১ মার্চের পর যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ ও আদাবর থানায় রুবেল হত্যা মামলায় তাকে নতুনভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে ২৮ এপ্রিল যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা—এই পাঁচ মামলায় আপিল বিভাগ বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন।

১২ মে যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। মোট সাতটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সবকটিতে জামিন হওয়ায় আইনজীবীরা জানান, আপাতত তার কারামুক্তির জন্য কোনো আইনি বাধা নেই। তবে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ স্থগিত করার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%