ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জিয়া পরিবার সবসময় চট্টগ্রামকে এগিয়ে রেখেছে আপসহীন নেত্রী


জিয়া পরিবার সবসময় চট্টগ্রামকে এগিয়ে রেখেছে আপসহীন নেত্রী

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সংসদীয় গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সকলেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সবসময় চট্টগ্রামকে এগিয়ে রেখেছেন। দেশের মহান স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা ‘জিয়া পরিবার’ বরাবরই চট্টগ্রামের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন। এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন তার সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির শুরুটা চট্টগ্রাম থেকে করতেন, মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও গত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের বড় কমসূচি সবসময় চট্টগ্রাম থেকে শুরু করেছেন। একই পথে হাঁটছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ৬ মাসের মধ্যে আগামীকাল ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে দিনব্যাপী কর্মসূচি রেখেছেন। তিনি সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে নতুন বাড়ি উপহার দেবেন, ত্রাণ বিতরণ করবেন এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে নগদ টাকা তুলে দেবেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বাসসকে জানিয়েছেন, ‘১৯৭১ সালে জাতীয় ইতিহাসের চরম এক সন্ধিক্ষণে দেশ যখন নেতৃত্বশূন্য ছিল, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তাঁর ঘোষণাতেই শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং নয় মাস সশস্ত্র লড়াইয়ের পর দেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

’৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে তিনি চট্টগ্রামের মেধাবী, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতাদের সাথে নিয়েই রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশেষ অগ্রাধিকার দিতেন এবং এখানকার নেতাদের প্রতি তাঁর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। চট্টগ্রামের প্রতি জিয়াউর রহমান এতটাই নির্মোহ আবেগ রাখতেন যে, এই অঞ্চলকে তিনি সবচেয়ে আপন বলে ভাবতেন।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ১৯৮১ সালের ৩০ মে ‘একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের’ হাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসেই শাহাদাত বরণ করেন তিনি।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনিও চট্টগ্রামের প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচিতে চট্টগ্রামকে এগিয়ে রাখছেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

‘জিয়া পরিবার ও চট্টগ্রামের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আজ বাসসকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও জিয়া পরিবার যেন একই সূত্রে গাঁথা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যে গভীর আবেগ এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছেন, হাজার বছর মানুষ তা ধারণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক দর্শনের বেশিরভাগই চট্টগ্রামকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করেছেন। আমাদের মরহুম প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সব সময় এখানকার মানুষ ও নেতাদের প্রতি অনুরাগী ছিলেন।’

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব মানুষের জন্যই চিন্তা করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্থীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশের সবার ভাগ্য বদলানোর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এর মাঝেও চট্টগ্রামের প্রতি তার ভালোবাসা আমরা টের পাই। এখানকার মানুষে যে কোনো প্রয়োজন নিয়ে কথা বললে তিনি সাথে সাথে এগ্রি (রাজি) করেন। তবে তিনি চান বাস্তবসম্মত পরিকল্পনায় দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে।’

বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালীন জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া, বর্তমান বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার আজ বাসসকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামকে কতটা ভালোবাসতেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ, তিনি ১৯৭৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বসেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

‘তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সংকটকালের নেতা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দিকে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন ব্যর্থ হয়, তখন দেশের সামনে ঘোর অন্ধকার; ঠিক তখনই জাতীয় মঞ্চে ত্রাতার ভূমিকায় সামনে আসেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। তার স্বাধীনতার ঘোষণার ফলেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। চট্টগ্রামের সাথে জিয়া পরিবার সেই থেকে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে আছে। বেগম খালেদা জিয়া থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সব ক্ষেত্রে চট্টগ্রামকে এগিয়ে রেখেছেন।’

গোলাম আকবর খোন্দকার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৯৭৯ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় প্রথম সভায় উপস্থিত থাকা চট্টগ্রামের নেতাদের মধ্যে আমরা কেবল দুইজন এখনও বেঁচে আছি। একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং অপরজন আমি।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বাসসকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সব ভালো অর্জনে জিয়া পরিবারের অবদান রয়েছে। খুব বাস্তবসম্মত কারণে চট্টগ্রাম জিয়া পরিবারের আবেগের ঠিকানা। আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার কাছে চট্টগ্রামের মানুষের প্রয়োজনের কথা যখনই বলা হয়েছে, সাথে সাথে উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চট্টগ্রামকে সমান গুরুত্ব দেন।’

চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ আজ বাসসকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এই চট্টগ্রামেই শাহাদাত বরণ করেছেন। তাই চট্টগ্রামবাসী জিয়া পরিবারের কাছে ‘রক্তের ঋণে’ আবদ্ধ। এর প্রতিদান দিতে গিয়ে চট্টগ্রামবাসী বারবার নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করেছে এবং সংকটকালে বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছে।’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ভূ-কৌশলগত কারণে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর সময়েই এখানে বড় বড় উন্নয়ন হয়েছে। তিনি শাহাদাত বরণ করার পর জিয়া পরিবার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, চট্টগ্রামের উন্নয়ন হয়েছে। জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য শের শাহ এলাকায় হাজার কোটি টাকার জায়গা দিয়েছেন। প্রেস ক্লাবের জন্য জায়গা ও অনুদান দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি নির্মাণ হয়। তিনি কল্পলোক আবাসিকে সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য জায়গা দিয়েছেন।’

‘চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান লালদীঘি ময়দানে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধি দিয়েছেন। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেছেন। নোমান সাহেব ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চট্টগ্রামকে যে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তার প্রমাণ হচ্ছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম থেকে নিযুক্ত করার করেছেন এবং চট্টগ্রাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত করেছেন। চট্টগ্রামের প্রতি জিয়া পরিবারের ভালোবাসার শেকড় অনেক গভীরে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডের দলের জন্য একঝাঁক নতুন মুখ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডের দলের জন্য একঝাঁক নতুন মুখ ঘোষণা

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল ঘোষণা করেছে। এই স্কোয়াডে এক ঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিসিবি আন্তর্জাতিক মঞ্চের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো ক্রিকেটারকে রাখা হয়নি এই দলে।

বাংলাদেশ এইচপি দল ঘরের মাঠে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। এই সিরিজের পরে টাইগার অনূর্ধ্ব-২৩ দল আবার ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামবে। সেই সিরিজের জন্য আজ (৮ আগস্ট) বিসিবি এক বিবৃতিতে দল ঘোষণা করেছে।

দলের নেতৃত্ব সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে উঠে আসা তরুণ কালাম সিদ্দিকী অলিনকে দেওয়া হয়েছে। মূল স্কোয়াডের বাইরে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে পাঁচ জনকে রাখা হয়েছে।

আগামী ১২ এবং ১৪ আগস্ট বসুন্ধরার স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে প্রথম দুই ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৬ আগস্ট।

বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দলঃ জাওয়াদ আবরার, আদিল বিন সিদ্দিক (উইকেটরক্ষক), রিফাত বেগ, ইকবাল হোসেন, কালাম সিদ্দিকী অলিন (অধিনায়ক), হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, শেখ পারভেজ জীবন, মারুফ মৃধা, আবদুর রহিম, রাহিন আহমেদ, শাহরিয়ার সাকিব, দেবাশিস সরকার দেবা, স্বাধীন ইসলাম, আহরার আমিন।

স্ট্যান্ডবাইঃ মঈনুল ইসলাম তন্ময়, ফরিদ হাসান ফয়সাল, খালিদ হাসান, নুহায়েল সানদীদ, রাফিউজ্জামান রাফি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিধিমালা অনুসারে, নির্দিষ্ট স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত গবেষকেরা, যদি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেন, তবে মাত্র তিন বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি, যা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) বলেও পরিচিত, পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের নতুন নিয়ম অনুসারে, রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভিশনের অনুমোদনের ভিত্তিতে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য তিন বছরের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ রয়েছে। তবে, এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, শুধু তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকা মানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া নয়। আবেদনকারীকে ধারাবাহিকভাবে বসবাস করা এবং অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।

গবেষকদের জন্য ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদিত গবেষণা অনুদান কিংবা পুরস্কারের ভিত্তিতে আবেদন করার মাধ্যমটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ইউকেআরআই দ্বারা অনুমোদিত কোন যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। সাথে তার গবেষণার অর্থায়নও অনুমোদিত কোনো তহবিলদাতার কাছ থেকে আসতে হবে।

এই পথে আবেদন করার জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের মূল্য অবশ্যই কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড হতে হবে এবং এর মেয়াদ অন্তত দুই বছর থাকতে হবে। কর্মসংক্রান্ত বিষয়েও একটি শর্ত রয়েছে, যেখানে আবেদনকারীর চাকরির চুক্তি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোস্টিং চুক্তির অন্তত এক বছর বাকি থাকতে হবে।

অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে তার মোট কর্মসময়ের অন্তত ৫০ শতাংশ ওই গবেষণা অনুদানের আওতাধীন কাজে সমর্পণ করতে হবে। প্রধান গবেষক অথবা সহগবেষকের ক্ষেত্রে একাধিক যোগ্য গবেষণা অনুদানে কাজ করে এই ৫০ শতাংশের শর্ত পূরণের সুযোগ রয়েছে।

গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলোর একটি হলো কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনতা। এটি সাধারণ স্পনসরনির্ভর ওয়ার্ক ভিসার মতো নির্দিষ্ট কোনো কাজের সঙ্গে আবদ্ধ নয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে চাকরি করতে, চাকরি পরিবর্তন করতে বা স্বনিযুক্ত হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে গবেষক এবং উদ্ভাবকদের ক্যারিয়ার পরিচালনায় এই ভিসা তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা প্রদান করে।

স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়ায় গবেষকদের জন্য আরও একটি সুবিধা রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদন পাওয়া গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারী গবেষকদের গবেষণার কাজে যুক্তরাজ্যের বাইরে যে সময় কাটাতে হয়, নির্দিষ্ট শর্তে সেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট অনুপস্থিতি ধারাবাহিক বসবাসের হিসাবকে বাধাগ্রস্ত করে না।

তবে, তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় শুধু ভিসার মেয়াদ পূরণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আয় করার প্রমাণ দিতে হবে, সাথেই প্রযোজ্য অন্যান্য অভিবাসন শর্তও পূরণ করতে হবে। বর্তমান নিয়মে ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং যুক্তরাজ্যের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

অতএব, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা কেবল যুক্তরাজ্যে গবেষণা বা চাকরির সুযোগই নয়, বরং এটি যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথও তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউকেআরআই অনুমোদিত গবেষণা অনুদানের ভিত্তিতে কাজ করা গবেষকদের জন্য এই ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যদি কেউ আমাকে গালি দেয়, তাহলে আমার কোন ক্ষতি নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ পি.এম


যদি কেউ আমাকে গালি দেয়, তাহলে আমার কোন ক্ষতি নেই

জামায়াতের আমির এবং সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যদি কেউ আমাকে গালি দেয়, তাহলে আমার কোন ক্ষতি নেই, বরং ওই গালির কারণে আমার কিছু লাভ হয়, কারণ আমার গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি আমি গালি দেখতে পাই। এতে আমার কোনো ক্ষতি হয় না।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিয়ে অনেকেই নেতিবাচক সমালোচনা করেন। তাদের সমালোচনাকে আমলে নিয়ে বিনয়ের সঙ্গে জবাব দিতে হবে। তারা আমাদের প্রতি যে ভাষায় কথা বলে, আমরাও যদি তাদের ভাষায় কথা বলি, তাহলে আমাদের মাঝে আর পার্থক্য কোথায় থাকবে?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হওয়া সমালোচনা বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা উল্লেখ করেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই যুগে মাঝে মাঝে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র চলে আসে। এটা হওয়া উচিত নয়। আমরা এই ধরনের সব ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এবজর্ভ করে নেব। তবে, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র কারোর ওপর চালাব না। আমরা সকলকে সম্মান করি। কেউ গালি দিলেও সম্মান করবো, আর দোয়া করলেও সম্মান করবো। যদি কেউ আমাকে অহেতুক গালি দেয়, তাহলে আমার কিছু গুনাহ মাফ হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক আইন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৫ পি.এম


চট্টগ্রামে ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক আইন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের উদ্যোগে ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক আইন: বাংলাদেশের বাস্তবতা এবং টেকসই সমাধান’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ, শনিবার সকালে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের সমন্বয়ক মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন এম এ আমিন এবং মোনতাহিনা জান্নাত স্বর্ণা।

এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী।

বিশেষ আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের উপদেষ্টা তৌহিদুল ইসলাম।

ড. মাহফুজ পারভেজ সেমিনারে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভৌগোলিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস। এ অঞ্চলের শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকল জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার সুনিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

এছাড়া তৌহিদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইতিহাস, জনগোষ্ঠীর পরিচয়, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে বাস্তবতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহ বলেন, ‘উপজাতি’ এবং ‘আদিবাসী’ শব্দ দুটি সমার্থক নয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন-১০৭ এবং ১৬৯-এ উপজাতি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিষয়ে পৃথক আলাদা সংজ্ঞা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ১৯৯৭ সালের চুক্তির কারণে পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠী শিক্ষা, চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে সব নাগরিকের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করতে চুক্তিটির বিভিন্ন দিক পুনর্মূল্যায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে।

সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সামাজিক ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তাগণ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তথ্যভিত্তিক গবেষণা, দায়িত্বশীল আলোচনা এবং সকল জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%