ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফেনীতে দুই ডিলারের জরিমানা বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে


ফেনীতে দুই ডিলারের জরিমানা বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে

ফেনী, ২৪ জুলাই, ২০২৬ : গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়ায় বেশি দামে সার বিক্রি করার জন্য দুই ডিলারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে। এভার উত্তর পশ্চিম গ্রামে এই আদালত পরিচালনা করেন ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা।

উপজেলা কৃষি অফিসার মহিউদ্দিন বাসস’কে জানিয়েছেন, লেমুয়া ইউনিয়নের কৃষকদের উপস্থিতিতে ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে লেমুয়া বাজারে রাসায়নিক সার অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট অভিযান হয়। অভিযানে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় কান্তি ট্রেডার্স এর প্রোপ্রাইটর কান্তি লাল নাথকে ৫ হাজার টাকা এবং সমীর ট্রেডার্স এর প্রোপ্রাইটর সমীর মজুমদারকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এসময় সংশ্লিষ্টদের বিনা কারণে নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এই ধরনের তদারকি ও অভিযান জনস্বার্থে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার্থে অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিপন চৌধুরী জানান, সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ইউরিয়া সার ২৭ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা, ডেট ২২ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা এবং এমওটি ২২ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছিল। কৃষকদের পক্ষ থেকে তথ্য পাওয়ার পর ভ্রাম্যমান আদালত তাৎক্ষণিকভাবে পরিচালিত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে

মুন্সীগঞ্জ, ২৪ জুলাই, ২০২৬ : মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৪ হাজার ২শত ৮৭ টাকা ব্যয়ে ৩টি প্যাকেজে ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত সহজতর এবং জলাবদ্ধতার সীমাহীন দুর্ভোগ লাঘব হবে।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে যে, নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আইইউজিআইপি) আওতায় ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের ৩টি প্যাকেজের আওতায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৪ হাজার ২শত ৮৭ টাকা ব্যয়ে ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, মুন্সীগঞ্জ সুপার মার্কেট হতে কাচারী মোড় পর্যন্ত আর.সি.সি রাস্তা নির্মাণ, রেড ক্রিসেন্ট হতে সুপার মার্কেট এবং কাচারী হতে জেলা প্রশাসক অফিস পর্যন্ত কার্পেটিং রাস্তা উন্নয়ন, লঞ্চঘাট হতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত আর.সি.সি ড্রেন নির্মাণ, মানিকপুর ১০ তলা হতে সুপার মার্কেট পর্যন্ত আর.সি.সি রাস্তা ড্রেনসহ ফুটপাত নির্মাণ এবং ষ্ট্রিট লাইট স্থাপন, ইসলামী ব্যাংক হতে হাটলক্ষীগঞ্জ মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা বিটুমিন কার্পেটিং, জেলা পরিষদ হতে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত, বৈখর স্কুল হতে বিলেরকানি মসজিদ পর্যন্ত আর.সি.সি রাস্তা, গণকপাড়া মিলন ক্লাব হতে হাসপাতাল রোড পর্যন্ত, মানিক বেপারীর ঘাট হতে ফরাজী বাড়ী ঘাট পর্যন্ত, সুলতান কাউন্সিলের বাড়ি হতে আমির মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত, মুন্সীরহাট ইসলামী ব্যাংক হতে খোকা সাহেবের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন, মুন্সীগঞ্জ সুপার মার্কেট হতে পতাকা ৭১ পর্যন্ত ভিতরের রাস্তার কার্পেটিং, বৈখর অনির্বান স্কুল হতে বিলের কানি মসজিদ পর্যন্ত, মুন্সীরহাট ইসলামী ব্যাংক হতে খোকা সাহেবের বাড়ি পর্যন্ত আর.সি.সি ড্রেন নির্মাণ।

মুন্সীগঞ্জ জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আরিফ উল ইসলাম বাসস’কে বলেন, শহরের প্রধান সড়ক সংস্কার এবং ড্রেন নির্মাণ করায় পৌরবাসীর যাতায়াতের এবং জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তিনি জানান, আর.সি.সি রাস্তা হওয়ায় সড়ক টেকসই হবে। কাজের মান রক্ষা করা না গেলে এ উন্নয়ন ভেস্তে যাবে। পৌর এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে ষ্টেস্ক হোলাল্ডারদের সাথে নিয়ে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। বিভিন্ন পাড়া মহল্লাকে পৌর উন্নয়নের মাষ্টার প্লানে নিয়ে আসতে হবে।

মুন্সীগঞ্জ পৌর প্রশাসক এবং উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার মৌসুমী মাহবুব বাসস’কে জানান, মুন্সীগঞ্জ পৌরবাসী দীর্ঘদিন ধরে শহরের প্রধান রাস্তায় যাতায়াতে নানান দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সড়কপথে যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শহরের প্রধান রাস্তায় এবং সুপার মার্কেট হতে ১০ তলা পর্যন্ত মানিকপুর রাস্তায়।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা শহরের একটি প্রধান সমস্যা। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বর্তমানে নির্মাণাধীন শহরের আর.সি.সি রাস্তার একপাশে ৭ ফুট গভীর আর.সি.সি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে অর্থের সংস্থান হলে অপরপাশে আর.সি.সি ড্রেন নির্মাণ করা হবে। মানিকপুর রাস্তা খোড়াখুড়ি বন্ধে পৌরসভার উদ্যোগে তিতাস গ্যাসের লাইন রাস্তার একপাশে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ১০ তলা থেকে সুপার মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে আর.সি.সি ড্রেন নির্মিত হচ্ছে।

পৌর প্রশাসক আরো জানান, ৫৪ কোটি ২৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে চলমান ৩৪ টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ এবং জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। বর্ষায় যাতে রাস্তার ক্ষতি না হয় সে জন্য প্রধান সড়ক আর.সি.সি করা হচ্ছে। এতে নতুন নির্মিত সড়ক দীঘস্থায়ী হবে।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বাসস’কে জানান, নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৩- ২০২৪ অর্থবছরের ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম প্যাকেজের ১৮টি কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। একই প্রকল্পের ১ম এবং ২য় প্যাকেজের ২২ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬টি কাজের আর.সি.সি রাস্তা এবং ড্রেন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। এসব প্রকল্পসমূহের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭৭ ভাগ। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সকল প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন শিখা অনির্বাণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন শিখা অনির্বাণে

নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম আজ ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর বীর শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর- আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নৌবাহিনী প্রধান শিখা অনির্বাণের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে, তিনি নৌ সদর দপ্তরে পৌঁছালে নৌ সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসাররা তাকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর, নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি গার্ড পরিদর্শন করেন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

এ সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিশাল সমুদ্রসীমা ও সুনীল অর্থনীতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ব্লু ওয়াটার নেভি হিসেবে গড়ে তোলা এবং নৌবাহিনীতে আধুনিক ফ্রিগেট, সাবমেরিন, অত্যাধুনিক সোনার ও রাডার সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুসংহত করার লক্ষ্যে নৌবাহিনী প্রধান দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উল্লেখ্য, ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গতকাল (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী অগ্রগতির পথে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


রাজশাহী অগ্রগতির পথে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

রাজশাহী, ২৪ জুলাই, ২০২৬ : ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহী আমাদের সবার। দল-মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমাদের প্রিয় রাজশাহী আরও এগিয়ে যাবে।

শুক্রবার দুপুরে রাজশাহীতে তিন দিনব্যাপী ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীদের হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, আমরা দলীয় অন্ধত্বে বিশ্বাস করি না, ক্ষমতার অপব্যবহারেও বিশ্বাস করি না। সবাই মিলে গড়ে তুলতে হবে রাজশাহী মহানগর। সম্মিলিত উদ্যোগেই রাজশাহী উন্নয়নের পথ আরও এগিয়ে যাবে।

হার্ট ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। শিশুদের হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় তিন দিনব্যাপী এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও হার্ট ফাউন্ডেশন আরও বৃহৎ পরিসরে জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হার্ট ফাউন্ডেশনে অনুদান বৃদ্ধির দাবির প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির জন্য আরও বেশি অনুদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হবে।

তিনি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী জানান, তিনদিনের এ কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিশুকে হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ. ন. ম. ড. বজলুর রশীদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হাসেন আলী। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর সভাপতি আব্দুল মান্নান। সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) অধ্যাপক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। তিন দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে চীনের চার সদস্যের একটি চিকিৎসক প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। কর্মসূচিতে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন নিবন্ধন করেন। এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিভাগ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের এক মাস

নিখোঁজ শেষ স্বজনের দেহ না পাওয়া পর্যন্ত কাঁদব না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


নিখোঁজ শেষ স্বজনের দেহ না পাওয়া পর্যন্ত কাঁদব না’

ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ঘটনায় ভেনিজুয়েলার উত্তর উপকূলীয় এলাকা ব্যাপকভাবে তছনছ হয়ে গেছে। এক মাস পরেও দেশটির নিঃস্ব ও সহায়সম্বলহীন মানুষগুলো প্রিয়জনদের মরদেহ এবং একগুচ্ছ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের বেশির ভাগই ফিরে গেছে। তবুও প্রশ্নগুলো ঘুরে ফিরে আসছে—প্রিয়জনের শেষ দেখা কি মিলবে? মোটকথা, লাশ পাওয়া যাবে কি হবে।

৪৯ বছর বয়সী জেলে ভিক্টর ক্যালডেরন সাগরে মাছ ধরার সময় এই ভয়াবহ দিনের খবর পান। ১৮ দিন পর তীরে ফিরে তিনি আবিষ্কার করেন, তার পরিবারের সদস্যরা যে বহুতল ভবনে বাস করতেন, সেটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। তাঁর বোন, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি, সৎবাবা এবং নয়জন খালাতো ভাইবোনসহ মোট ২৬ জন এক লহমায় হারিয়ে গেছে। তাদের বয়স দুই থেকে প্রায় সত্তর। এখন ভিক্টর গলফ কোর্সের অস্থায়ী তাঁবুতে তার বেঁচে যাওয়া একমাত্র মেয়ে ও নাতনির সঙ্গে বসবাস করছেন। ভিক্টর ধীরস্থির কণ্ঠে বলেন, এটি ভীষণ করুণ একটি ঘটনা। আমি এখনো তাদের জন্য কাঁদতে পারিনি। যতক্ষণ না নিখোঁজ থাকা শেষ স্বজনটির দেহ খুঁজে পাচ্ছি, ততক্ষণ কাঁদব না।

ভিক্টরের পরিবার লা গুয়াইরা রাজ্যের কারাবালেদা শহরের ‘ওপিপিই ২৬’ নামক একটি সরকারি আবাসন কমপ্লেক্সে থাকতো, যা বর্তমানে এই ট্র্যাজেডির কেন্দ্রবিন্দু বা ‘গ্রাউন্ড জিরো' হিসেবে পরিচিত। সেখানে ভিক্টরের মতো হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন।

দেশটির সরকার প্রতিদিনের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ভূমিকম্পের ফলে ৫,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ১৬,৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি, সেখানেও দশ হাজারেরও বেশি নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এক বিকেলে ‘ওপিপিই ২৬’ কমপ্লেক্সের রড ও কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১১ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তানসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। মেয়ের সন্ধানে ব্যাকুল বাবার বুকফাটা আর্তনাদ চারপাশ ভারী করে। উদ্ধারকর্মীরা যখন কালো প্লাস্টিকে শিশুর দেহটি বের করেন, তখন সবাই নীরবতা পালন করেন ও প্রার্থনা জানান। উদ্ধারকারী দলের সদস্য জিন হার্নান্দেজ বলেন, ঘটনাটি মন ভেঙে চুরমার করে দেয়। এটি মানুষের আত্মা বিধ্বংসী।

বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ফিরে যাওয়ার পর এখন ভেনিজুয়েলার সাধারণ মানুষদের নিজেদের হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে। কারাবালেদার আবাসন কমপ্লেক্সের ১২টি ব্লকের মধ্যে ১০টি ব্লক কীভাবে ধসে পড়লো, সেদিকে স্বজনহারা মানুষগুলোর মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সবাই একই প্রশ্ন করছে—ভবনগুলোর নকশায় কি ত্রুটি ছিল? নাকি নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছিল? অথবা এর পেছনে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল?

ভেনিজুয়েলার গণপূর্তমন্ত্রী হুয়ান হোসে রামিরেজ ঘটনাস্থলে এসে অবহেলার অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, ভবনগুলো মজবুতই ছিল, কিন্তু দুটি আলাদা ভূমিকম্পের আঘাত সামলানোর সক্ষমতা বিশ্বের কোন দেশেরও ছিল না। রাস্তার ওপারের ধ্বংসস্তূপ দেখিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের সরকারি ও বেসরকারি ভবন ধসে পড়েছে; সরকারের ভূমিকম্পের সঙ্গে কোনো বৈষম্য হয়নি।

এদিকে কাতিয়া লা মার উপকূলীয় শহরের একটি বেসরকারি ভবনে ভূমিকম্পের আট দিন পর হার্নান গিল নামের এক নিরাপত্তাপ্রহরীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যা দেশের জন্য আশার প্রদীপ হয়ে ওঠে। তবে একই ভবনের ভূগর্ভস্থ পার্কিং লটে আটকা পড়ে থাকা ভগ্নিপতির মরদেহের সন্ধানে লরা ব্যারিওস নামের এক নারী এখনও লড়াই করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী দল ও ভারী যন্ত্রপাতি অন্য স্থানে গিয়ে পড়ায় লরার জন্য উদ্ধারকাজ कठिन হয়ে পড়েছে। মাত্র একদিন আগে ঘরের বেডরুমে তাঁর বোন ও ১০ ও ৩ বছর বয়সী দুটি শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে। কান্নাভেজা কণ্ঠে লরা বলেন, গতকাল ভেনিজুয়েলায় শিশু দিবস ছিল, কিন্তু আমাদের উৎসবের জন্য কোনো শিশু নেই; আমাদের শিশুরা চলে গেছে। উদ্ধারকাজের ধীরগতির কারণে তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন করে আর বলতে কি হবে যা আমরা চোখে দেখছি না? হারানো টি-শার্ট, ব্যবহার না হওয়া চামচ-কাঁটাচামচ—মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে জীবনগুলো ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

মার্কিনভিত্তিক মানবিক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন’-এর খাবারের সেবায় দাঁড়িয়ে থাকা ভেনিজুয়েলানদের মধ্যে রসিকতা ও সহমর্মিতা দেখতে পাওয়া যায়। তারা খাবার এবং বোতলজাত পানির মধ্যে মানুষের তাড়া করছেন। যদিও দিনের শেষে ফিরে যেতে হচ্ছে সাধারণ প্লাস্টিকের তাঁবুতেই।

চলতি সপ্তাহে ডেলসি রদ্রিগেজের ভারপ্রাপ্ত সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের ২০০টি বাড়ি উপহার দিলেও প্রকৃত চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অমূল্য। ডেলসি রদ্রিগেজ গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর হাতে নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতারের পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন থাকলেও ভেনিজুয়েলার প্রধান অর্থকরী খাত তেল শিল্প এখন ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে, ফলে দেশের পুনর্গঠন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা অনিশ্চিত।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এই বিপর্যয়ে প্রায় ১৯.৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে এবং এটি কাটিয়ে উঠতে বছরের পর বছর সময় ও কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। ছুটির দিনে প্লায়া পিরাটা সৈকতে বেড়াতে আসা মানুষগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হতে দেখে স্বজনদের বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন, কিন্তু আজ তাদের ভাগ্যে বিদ্যমান রয়েছে এক না পাওয়ার দুঃখ ও চিরকালীন গভীর ক্ষত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%