০৭:১৯ পি.এম
বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে পঞ্চগড়ের দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন এখন ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা হয়ে গেছে। ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা যাচ্ছে, এছাড়াও খসে পড়া পলেস্তারা এবং বেরিয়ে আসা রড থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সেই কারণে এখন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়- ভবনের পলেস্তারাগুলি খসে পড়ছে এবং রড বেরিয়ে আসছে। একসাথে বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল বিদ্যমান আছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি দীর্ঘ সময় ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় এটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, গত জুন মাসে বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে যায় এবং রড বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এছাড়াও দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দেয়। দুর্ঘটনা এড়াতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান বন্ধ রেখে এখন খোলা আকাশের নিচে পাঠদান কার্যক্রম চলতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, যে কয়েকজন শিক্ষার্থী এখনো বিদ্যালয়ে আসেন, তাদের শিক্ষার কার্যক্রম বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বাইরে চলতে হচ্ছে। বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে, বই ও খাতা নিয়ে দ্রুত পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। আবার রোদের তাপেও শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত একটি অস্থায়ী ক্লাসরুম নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান করার ব্যবস্থা করা আবশ্যক।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, শ্রেণিকক্ষ না পাওয়ার কারণে ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া ক্লাস নেওয়া হচ্ছে এবং সঠিকভাবে লিখিত কাজ করানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, এনিয়ে ৫২টি চিঠি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হলেও কোন সমাধান এখনও হয়নি। সকলের দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ভবনটি অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণ করার প্রয়োজন।
অন্যদিকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভিন বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি আপদকালীন সময়ে পাঠদান স্বাভাবিক রাখার জন্য মাঠের পাশে অস্থায়ী চারটি কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবনটি নির্মিত হয়। ২০২০ সাল থেকে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন