ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রাজিলকে ২৪ বছরের যে অভিশাপ তাড়া করছে


ব্রাজিলকে ২৪ বছরের যে অভিশাপ তাড়া করছে

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লড়াইতে ব্রাজিল নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। এটি একটি ম্যাচ যা শুধুমাত্র কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সামনে রয়েছে ২৪ বছরের একটি দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ।

২০০২ সালে জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর পর থেকে ব্রাজিল আর কোনো ইউরোপীয় দলকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হারাতে পারেনি। ২০০৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যেখানেই নকআউট পর্বে ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে, সেখানেই তাদের পরাজয়ের কারণ ছিল ইউরোপের কোনো না কোনো দল।

২০০৬ বিশ্বকাপে ঘানাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেনি ব্রাজিল, তবে পরে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা বিদায় নেয়। ২০১০ সালে একই পরিণতি ঘটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক পরাজয় এখনও ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়। ২০১৮ সালে তারা বেলজিয়াম এবং ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এবার এই হতাশার ইতিহাস বদলানোর দায়িত্ব নিচ্ছেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর হয়ে নকআউট পর্বে তার অনেক সাফল্য রয়েছে। জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েও তিনি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান।

নরওয়ে ম্যাচের আগে আনচেলত্তি মন্তব্য করেন, "প্রথম ম্যাচ থেকে দলের ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে। এখন আমরা অনেক বেশি সংগঠিত ও দৃঢ়। নকআউট ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রক্ষণে দৃঢ়তা।"

ব্রাজিলের সামনে আরেকটি কঠিন চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইতিহাস বলছে, নরওয়ের বিপক্ষে সেলেসাওরা এখনও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।

তবে, বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের সামগ্রিক পরিসংখ্যান এখনও উজ্জ্বল। ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারা মোট ১৭টি ম্যাচ জিতে ফেলেছে, ৯টিতে হেরেছে এবং ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ড্র হওয়া ম্যাচগুলোর মধ্যে দুটি টাইব্রেকারে জিতে এবং দুটি হারতে বাধ্য হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ও নরওয়ে মুখোমুখি হবে। সেলেসাওরা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে এবং ২৪ বছরের ইউরোপীয় নকআউট-অভিশাপ ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে আবারও হামলার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


সৌদি আরবে আবারও হামলার হুমকি

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছে। আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সৌদিকে এ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র শুক্রবার (৩ জুন) এক ভিডিও বার্তায় জানান, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টাকারী একটি ইরানি বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমানকে জোরপূর্বক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে সৌদি আরবের কয়েকটি যুদ্ধবিমান।

এই ঘটনাকে ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখছে হুথি নেতৃত্ব। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সৌদির যেকোনো ধরনের উস্কানি বা আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন ইউনিট পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে সৌদির অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং বেসামরিক বিমানবন্দরগুলো এখন তাদের মূল লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। সৌদি-মার্কিন অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।

বার্তায় হুতি সামরিক মুখপাত্র বলেন, আমরা অপরাধী সৌদি শত্রুকে সতর্ক করছি, তারা যেন আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন বা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি না করে। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করলে এর জবাবে স্থল ও সমুদ্রে থাকা তাদের বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে হুতি গোষ্ঠী। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটিতে গুরুতর মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই স্থবির রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুকুরে গোসলের সময় তিন শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


পুকুরে গোসলের সময় তিন শিশুর মৃত্যু

নরসিংদীর মনোহরদীতে পুকুরে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের চর আহমদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো: সাইফুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা (৮), তুহিন মিয়ার মেয়ে আয়েশা ওরফে আশামনি (১২) এবং মুফাচ্ছেরের মেয়ে সুমাইয়া (১৩)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমা ও আশামনি চর আহমদপুর গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ছেলের ও মেয়ের ঘরের নাতনি। অপরদিকে সুমাইয়া খোরশেদ মিয়ার ছোট ভাইয়ের মেয়ে। নিহতদের মধ্যে দুইজন স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একজন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিন শিশু পানির ওপর ভেসে না উঠলে বাড়ির এক ছোট শিশু বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক বেদনাদায়ক ঘটনা। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো একজনই আছেন বলে মনে করেন আনচেলত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


তাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো একজনই আছেন বলে মনে করেন আনচেলত্তি

গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্লো আনচেলত্তির উদ্দেশে কত ধরনের পরামর্শই ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এসবকে পাত্তা দেওয়ার মতো সময় নেই ব্রাজিলের কোচের। তিনি মনে করেন, তাকে পরামর্শ দেওয়ার মতো একমাত্র একজন লোকই আছেন।

আনচেলত্তি বলেছেন, তাকে পরামর্শ দেওয়ার যোগ্য শুধুমাত্র ব্যক্তিটি হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ আলেক্স ফার্গুসন। এই স্কটিশ কোচের ঝুলিতে আনচেলত্তির চেয়ে বেশি ম্যাচে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের সামনে রেখে ব্রাজিলিয়ান সংবাদপত্র ফলহা ডি সাও পাওলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি জানান, ‘আমি সবার পরামর্শই শুনি। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যদি কেউ আমাকে পরামর্শ দেওয়ার যোগ্য হন, তাহলে তিনি হলেন স্যার আলেক্স ফার্গুসন। আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে আমি কোনো প্রতিভাধর নই। তবে একই সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে আমি কোনো বোকাও নই।’

ইতালিয়ান কোচ আরও যোগ করেছেন, ‘একটি বিষয় নিশ্চিত। আমি ১,৪০০টিরও বেশি ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। ফুটবল পুরোপুরি বোঝার জন্য হয়তো এটি যথেষ্ট নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতা হিসেবে এটি অবশ্যই অনেক বড় একটি সংখ্যা। আমার চেয়ে বেশি ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়েছেন মাত্র একজন, তিনি হলেন আলেক্স ফার্গুসন। তিনি ২,০০০টিরও বেশি ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।’

আনচেলত্তি মন্তব্য করেন, ‘আমাকে অন্য কারো বিচার করার অধিকার নেই।’ তিনি বলেন, ‘ইতালিতে একটি কথা প্রচলিত আছে, সব পুরুষই মনে করে তারা কোচ হতে পারে, আর সব নারী মনে করে তারা স্থপতি হতে পারে। আমি সত্যিই জানি না, আমি ফুটবল কতটা বুঝি। তবে এ বিষয়ে অন্য কারও আমাকে বিচার করার অধিকার নেই।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের আহ্বান তিন সংগঠনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের আহ্বান তিন সংগঠনের

নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে, দেশের অন্যতম ব্যয়বহুল এবং পরিবেশবিধ্বংসী প্রকল্প হিসেবে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর দ্বারা আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই সংগঠনগুলো অবিলম্বে প্রকল্পটি বাতিলের আহ্বান জানায়।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী ঢাকার গ্রিন লাউঞ্জে জারি করা এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় যে, প্রকল্পটি দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করবে। ২০২০ সালে কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই বিশেষ আইনের আওতায় প্রকল্পটি অনুমোদন প্রাপ্ত হয় এবং ২০২১ সালে বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও সিএমইসির মধ্যে চুক্তির স্বাক্ষর হয়। তবে, চুক্তির সাড়ে চার বছর পরেও প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যাশিত কিছু যৌক্তিকতা ও দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হল-

প্রকল্পের জন্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের পাশাপাশি এলাকার ২০ একর জমি এবং ১০ একর স্থানীয় জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ জমি মালিক জমি দিতে রাজি না থাকলেও প্রভাবশালী মহল দ্বারা জমি দখল করে সরকারকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আদালতে মামলার চলাকালীন জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার ফলে অনেক ভূমি মালিক মর্যাদাপূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পেয়ে জমি হারিয়েছেন। প্রায় দুই হাজার মানুষের জীবিকা এই ল্যান্ডফিলের ওপর নির্ভরশীল। তবে, পুনর্বাসনের তালিকায় মাত্র ৪০ জনকে রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৮৫ শতাংশ কার্যকারিতার (পিএলএফ) ভিত্তিতে চললে প্রতি বছর ৩১ কোটি ৬৫ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এ হিসাবে, সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ২১.৭৮ সেন্ট (২৬.৭৯ টাকা) দামে বিদ্যুৎ ক্রয় করবে, যা সৌরবিদ্যুতের দরের আড়াই গুণ এবং কয়লা-বিদ্যুতের দ্বিগুণ। পিএলএফ ৪০ শতাংশে নেমে গেলে প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৪৭ টাকা। যদি পিএলএফ ২০ শতাংশে কমে আসে, তবে প্রতি ইউনিটের দাম দিতে হবে অন্তত ৭৫ টাকা। ফলে বছরে সরকারের ওপর নতুন ৫৮.৮৭ মিলিয়ন ডলার (৭২৪ কোটি ২০ লাখ টাকা) ক্যাপাসিটি চার্জের চাপ পরবে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণে ৪৬৭ মিলিয়ন ডলার (৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা) খরচ হবে। প্রতি মেগাওয়াটে খরচ হবে ১৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ খরচের প্রায় আড়াই গুণ (প্রতি মেগাওয়াট ৪৭ কোটি টাকা)।

ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ‘এ পরিমাণ টাকা দিয়েই ৪২৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা যেত, যেখান থেকে কোনো জ্বালানি ছাড়াই বছরে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হত।’

অন্যদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণে এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি) ১০০ মিলিয়ন ডলার (১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা), নয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এনডিবি) ১০০ মিলিয়ন (১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা) ঋণ এবং সিএমইসি ১৫৭ মিলিয়ন (১ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করছে। তবে, বাকি ১১০ মিলিয়ন ডলার (১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা) কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে তা কখনোই উন্মুক্ত করা হয়নি, যা প্রকল্পটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতিদিন ৩ হাজার টন নগরবর্জ্য সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদি কোন কারণে পর্যাপ্ত নগরবর্জ্য সরবরাহ করা না যায়, তাহলে প্রতি টনের জন্য ৫০ মার্কিন ডলার (৬ হাজার ১৫০ টাকা) জরিমানা দিতে হবে। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৭৫০ টন নগরবর্জ্য উৎপন্ন হয়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে সিটি করপোরেশনকে আরো বেশি বর্জ্য উৎপাদন করতে হবে। অন্যথায় জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। এর এ কারণে, পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে ঢাকাবাসীদের নোংরা জীবনযাপনে প্ররোচনা দিচ্ছে এই প্রকল্প।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরো মাত্রায় চললে ৭৩ হাজার ৫৭৬ টন বটম অ্যাশ, ফ্লাইঅ্যাশ ও অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা, ৩৯.৫৬ টন বিষাক্ত গ্যাস (ভারি ধাতু, ডায়োক্সিন ও ফুরান গ্যাস) এবং ১.১৭ টন ক্ষতিকর গ্যাস (নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন ক্লোরাইড) ঢাকার বাতাসে মিশে যাবে, যা প্রতি বছর ক্যান্সার, হৃদরোগ, বক্ষব্যাধি ও অ্যাজমার প্রকোপ বৃদ্ধি করবে। দিল্লির বর্জ্য-বিদ্যুৎকেন্দ্র বায়ুদূষণ কমানোর চেয়ে বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকল্পটি নিয়ে বলা হচ্ছে, ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ কমবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্জ্য পোড়িয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ১.৩ থেকে ১.৮ কেজি কার্বন নির্গমন ঘটে, যা কয়লা-বিদ্যুতের প্রায় দ্বিগুণ ও গ্যাস-বিদ্যুতের তিনগুণ। প্রকল্পটি পুরো মাত্রায় চললে নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বছরে ৪ লাখ ১১ হাজার ৩৯২ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে, যার সরাসরি প্রভাববিধান হবে ঢাকার নগরবাসীর ওপর এবং এটি দেশের মোট কার্বন নির্গমন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নীতি সমন্বয়ক বারিশ হাসান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগোনোর পরিকল্পনা করছে, তখন একটি ব্যয়বহুল ও দূষণকারী প্রকল্পে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংকের বিনিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। এআইআইবি ও এনডিবির উচিত অবিলম্বে এই প্রকল্প থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার করা।’

এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের (এআইআইবি) পরিবেশগত ও সামাজিক নীতি (ইএসএফ) অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় জনসাধারণের স্বাধীন মতামত নেওয়া উচিত। প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) অনুযায়ী স্থানীয় শতাধিক মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে বললেও, প্রায় ৪০ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে কোনো মতামত নেয়া হয়নি। এছাড়াও যাদের কাছ থেকে সত্যিকার অর্থে মতামত নেয়া হয়েছিল, সেটাও করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রকল্প অনুমোদনের পরে।

তবে, এআইআইবির পরিবেশ ও সামাজিক নীতিমালা অনুসারে স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ, তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু করলেও প্রকল্পে এসব শর্ত যথাযথভাবে মানা হয়নি। বাংলাদেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে বর্জ্য পোড়ানোর বাধ্যবাধকতা ঘোষিত রয়েছে, কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় আইন সংশোধন করে সিএমইসির জন্য ৮৫০ ডিগ্রি অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়েছে।

হাসান মেহেদী এবং এনজিও ফোরাম অন এডিবির নির্বাহী পরিচালক রায়ান হাসান জোর দিয়ে বলেন, ‘একটি কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার মানদণ্ড শিথিল করার উদ্যোগ আইনগত শাসন ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে।’

বিজ্ঞান ও মানবিকতার স্বার্থে, বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্পের মেয়াদ, জাতীয় অর্থনীতি ও ঢাকা মহানগরীর ওপর দৃঢ় নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনা করে নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে।

ঢাকা মহানগরের বর্জ্য বাছাই করে শিল্পখাতে পুনর্ব্যবহার ও জৈবসার তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে, যাতে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি ভূমির স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরিয়ে আনা যায়।

বর্জ্য হ্রাসে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল গড়ে তুলতে হবে।

বর্জ্য-সংগ্রহকারীদের জীবিকা হারানো এ অবস্থায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।

সেইসাথে, বিক্রি করতে অযোগ্য জমির মালিকদের জমি ফেরত প্রদান করতে হবে এবং যারা জমি দিয়েছেন, তাদের কাছে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্পর্কিত এআইআইবি ও এনডিবির ঋণ বাতিল করতে হবে। এবং বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারিত করার জন্য নবায়নযোগ্য নির্বাচিত অর্থায়নকে মান্যতা প্রদান করা উচিত।

নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ প্রকল্প শুধুমাত্র একটি ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং জলবায়ুর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির সৃষ্টি করবে। তাই, প্রকল্পটি বাতিল করে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন, জৈবসার উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিকল্প কর্মসূচি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%