১০:০২ পি.এম
ফরিদপুরে স্ত্রীর দ্বারা করা পর্নোগ্রাফি আইনের মামলার কারণে স্বামী মীর ইলিয়াস ওরফে সোহেল (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার পর গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির পরিবার ভিন্ন দাবি করেছেন।
তাদের অভিযোগ যে, বিয়ের পর থেকেই ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে তাঁরা হয়রানির শিকার এবং স্ত্রীর পরিবার দাবিকৃত টাকা না দেওয়ার কারণে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন সরদার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি ফরিদপুর পৌরসভার ২১ নং ওয়ার্ডস্থ কাফুরা এলাকার মীর আলমগীরের ছেলে। তিনি একেকে নামে একটি বেসরকারি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন। গত ২৭ জুলাই গভীর রাতে তাঁকে জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কালিনগর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করার সময় জানা যায়, পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাদী, বাসিন্দা তৌফিক মীরের মেয়ে তমা আক্তার (৩০), যিনি আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী।
মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে যে, আসামি চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল বাদীর কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন। এ ঘটনায় ওই দিন সদরপুর থানায় যৌতুক মামলা দায়ের করা হয়। বাদী দাবি করেন যে আসামি মামলাটি তুলে নিতে চাপ সৃষ্টিসহ তাদের দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধারণকৃত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এবং তিনি ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। মামলাটি তুলে না নেওয়ার জন্য আসামি তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টসহ ৩টি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয় এবং সব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা দাবি করে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাদীর পূর্বে দুটি বিয়ে হয়েছিল। তার মধ্যে দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে থাকাকালীন বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এরপর ২০২৪ সালে ওই নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ায় মীর ইলিয়াস ওরফে সোহেলের সাথে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক হয়, যার দৃশ্য ওই নারী নিজেই মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে তা অজ্ঞাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই ঘটনার পর প্রথম স্ত্রী ছেড়ে চলে যান। এর মধ্যে কৌশলে ওই নারীর বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং স্থানীয়ভাবে শালিস মিমাংসার চেষ্টা করা হয়।
বিবাহিত জীবন শুরু করলে তাদের মধ্যে নানা কোলাহল বাড়তে থাকে। এরপর ২০২৪ সালের ২৯ মে ৪ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই নারীর সাথে বিয়ে হয়। এছাড়া কাবিননামায় উল্লেখ করা হয় যে, স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ চলে যাবে তাকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
দীর্ঘ ২ বছর সংসার চলার পর তাঁরা বিভিন্ন সময় কলহে জড়িয়ে পড়েন এবং গত তিন মাস আগে সদরপুর থানায় একটি যৌতুক মামলা করেন ওই নারী। সম্প্রতি জামিন পাওয়ার পর ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির কারণে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা করা হয়।
পরিবারের দাবি, ওই ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করা হয়েছে এবং কাবিননামায় উল্লেখিত টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া স্ত্রীর কাছে স্বামীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাসওয়ার্ড রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সোহেলের মা তছিরন বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘তাঁর দ্বিতীয় স্বামী থাকতেও আমার ছেলেকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা হয়েছে। ওর কারণে আমার ছেলের প্রথম স্ত্রী এবং নাতি চলে গেছে। ৭ মাসের একটি বাচ্চাসহ বিয়ে করে আনতে বাধ্য হয়। তারপরে আমরা সমস্ত কিছু মেনে নিয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন সময় ওর পরিবার আমাদের ভয় দেখিয়ে এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি করেছে। বর্তমানে অপবাদ দিয়ে আমার ছেলেকে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের এত টাকা কোথায়? আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং প্রকৃত দোষীর শাস্তি চাই।’
এসব বিষয় নিয়ে ওই নারীর বর্তমান অবস্থানরত বাবার বাড়িতে গিয়ে কথা হয়। এ সময় তিনি বলেন, যা বলার থানায় বলা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা নিয়ে কথা বলতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই মো: গিয়াস উদ্দিন সরদার জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করলে গ্রামের পুলিশ সদস্য তাঁকে গ্রেফতার করে এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ওই মোবাইলটি সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে, প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত বিষয় জানা যাবে। এছাড়া ২০২৪ সালের ঘটনার বিষয়ে তিনি জানা নেই বলে মন্তব্য করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন