০৮:২৪ পি.এম
স্বামীর অজয় চন্দ্র হাওলাদার পরকিয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রী সুপ্রিয়া রানীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর খবর জেনে স্বামী ও তার স্বজনরা মরদেহ রেখে পালিয়ে যান। শুক্রবার পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় জামাতাকে প্রধান আসামী করে শাশুড়ী দেপালী রানী আমতলী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ শুক্রবার দুপুরে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেন। এই ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে।
জানা গেছে, ২০১২ সালে গাজীপুর বন্দরের বিমল বেপারীর মেয়ে সুপ্রিয়াকে হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই নানা উপায়ে স্ত্রী সুপ্রিয়াকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে মা রানীর। গত পাঁচ বছর ধরে স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাই উত্তর হাওলাদারের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন। স্ত্রী সুপ্রিয়ার প্রতিবাদ জানানোর পর কয়েকবার স্বামী অজয় চন্দ্র স্ত্রী সুপ্রিয়াকে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেছেন তার মা। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা দিকে স্বামীর পরকিয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাদের ঝগড়া হয়। এই ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার বেধরক মারধর করেন স্ত্রী সুপ্রিয়াকে। সুপ্রিয়া এই মারধরের কথা তার মা দেপালী রানীকে মুঠোফোনে জানান। এর পরে তার স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার শাশুড়ীকে মুঠোফোনে জানান যে সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে তার স্বামী ও স্বজনরা তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক মোঃ নাজমুল হাসান রাহাত সুপ্রিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার এবং তার স্বজনরা হাসপাতালে মরদেহ রেখে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে যায়। ঐ রাতে নিহতের মা দেপালী রানী জামাতা অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামী করে ৭ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার সকালে পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠিয়েছেন। এ দিন দুপুরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ অজয় চন্দ্রের বোন রমা রানীকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত সুপ্রিয়ার ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও ১১ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
নিহত সুপ্রিয়ার মেয়ে মিথিলা বলেন, বাবার পরকিয়ার প্রতিবাদ করায় বাবা মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। নিহতের মা দেপালী রানী কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, জামাতা অজয় চন্দ্র তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকিয়া করতেন। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজয় চন্দ্র হাওলাদার ও তার ভাইয়ের স্ত্রী স্বরনিকাসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়া মারা গেছেন। আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রমা রানী নামের একজন আসামী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত আছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন