বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৩৯ পি.এম
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষ্ঠু মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে।
লটারির ফলাফলের ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে ৩১৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ৭৪ জন, বরিশাল বিভাগে ৪৪ জন, সিলেট বিভাগে ৩৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৯ জন এবং রংপুর বিভাগে ৬৪ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে পদায়ন করা হয়।
এই সকল উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় কার্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় পদায়ন করা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, এ লটারিভিত্তিক বদলি কার্যক্রমের মাধ্যমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অধীন দপ্তর-সংস্থায় বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ পূর্ত ভবনের সম্মেলন কক্ষে দেশের আটটি বিভাগের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর (সিভিল) পদায়নের স্থান ও শাখা লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। পুরো লটারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম।
লটারির মাধ্যমে বদলি প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম বলেন, ‘লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার ফলে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর, আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতির সূচনা হলো।’
লটারিভিত্তিক বদলি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এ ধরনের লটারিভিত্তিক বদলি কার্যক্রম প্রকৌশলীদের মধ্যে আস্থা, সমতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
এ সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, যুগ্মসচিব ফৌজিয়া খান, উপসচিব খান মো. নাজমুস শোয়েব, উপসচিব মো. আবু নাছের, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের, আশরাফুল হক, মো. আলমগীর খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অন্যান্য প্রকৌশলী এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারী, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : জেলা মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের জন্য একাডেমিক ভবন ও মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য (আসন-৪) রেহেনা আক্তার রানু।
উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি অভিযোগ করে জানান, জামায়াত নির্বাচন চায়নি এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়া বানচালের চেষ্টা করেছে। নির্বাচন পূর্বে তারা ধোকাবাজি করেছে ও জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে। যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই গোষ্ঠিকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সাবেক সংসদ সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমাদের দল বিএনপিকে আল্লাহ যদি রহমত দেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে হাল ধরেছেন, তাতে ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছর পরে দেখবেন, আমাদের দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার একটি বিশাল পরিবর্তন ঘটবে।
তিনি আরও যোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা নিজে কাজ করেন। সকাল ৯টার মধ্যে সচিবালয়ে যান এবং রাত ১১টা-১২টায় বাসায় ফেরেন। তিনি নিজে মন্ত্রণালয়ে যান হেঁটে ও সকালে চেক করেন, ৯টার মধ্যে কোন মন্ত্রী অফিসে উপস্থিত এবং কোন মন্ত্রী আসেনি। আমাদের দেশের মানুষের জন্য এরকম লিডারশিপ প্রয়োজন।
মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহায়েল পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদ, নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাজেরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিন ইসলাম চৌধুরীর তুহিনের সহধর্মিনী তামান্না ইয়াসমিন প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যক্তিগত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে ব্যাংক কার্ড থেকে 'অ্যাড মানি' সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে যে নির্ধারিত নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা রয়েছে, তার বাস্তবায়নের সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।
আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি পিএসডি-১ সার্কুলার লেটার নম্বর-০৩/২০২৬ জারি করে এ নির্দেশনা দেয়। এর ফলে, গত ১৯ মে জারি করা পূর্ববর্তী সার্কুলারটির ক্রমিক নং ২ ও ৩-এর নির্দেশনা বাস্তবায়নের সময়সীমা সংশোধন করা হয়েছে।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে যদি এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও তফসিলি ব্যাংক নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের কার্ড থেকে এমএফএসে 'অ্যাড মানি' সেবা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে স্থগিত করে দিতে হবে।
এ নির্দেশনা পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪-এর ১৮ ধারা অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি কেবল উল্লিখিত দুটি নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া, গত ১৯ মে জারি করা মূল সার্কুলারের অন্যান্য সব নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে এবং সেগুলো যথারীতি অনুসরণ করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : সাতক্ষীরা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার তলুইগাছা, কাঁকডাঙ্গা, কুশখালী ও পদ্মশাখরা বিওপির আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ভারতের মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ওষুধ, মোটরসাইকেল, ইয়াবা ও উইনকোরেক্স সিরাপ। এর বাজার মূল্য ৭ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তলুইগাছা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চারাবাড়ি নামক স্থান থেকে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে, এবং কাঁকডাঙ্গা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালী নামক স্থান হতে ভারতীয় ওষুধ জব্দ করে।
এছাড়া, কুশখালী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া নামক স্থান হতে ১৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ করেছে।
পদ্মশাখরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দাসপাড়া নামক স্থান থেকে ভারতীয় উইন কোরেক্স সিরাপ ও মোটরসাইকেল জব্দ করে।
জব্দকৃত ভারতীয় মালামালের মোট বাজার মূল্য ৭ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা। তবে, বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানীরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় তারা তাদের আটক করতে সক্ষম হননি।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসমূহ সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সাধারণ ডায়েরি করে পরবর্তীতে জনসম্মুখে ধ্বংসের নিমিত্তে বিজিবি স্টোরে জমা রাখা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এই বিষয়ে বলেছেন যে, কাঠামোগত সংস্কার এবং সরকারের বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম একটিমাত্র বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার হলো এমন একটি বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বাজেট ও সরকারের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপে এই রূপকল্প প্রতিফলিত হয়েছে।’
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘লেবার মার্কেট টাইটনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিগেট শকস: এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ’স লার্জেস্ট অনলাইন জব পোর্টাল’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।
বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ও জেনারেল ইকোনমিকস ডিভিশনের অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানী।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, সরকারের সব উন্নয়ন কর্মসূচি নির্বাচনী ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন ও সংস্কার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে যে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই আগামী ১৭ আগস্ট-এ কৌশলপত্র প্রকাশ করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলো যাতে নির্বাচনী ইশতেহার ও আসন্ন কৌশলপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেই লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অতীতে প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে সরকারের অর্থের অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, সরকার এখন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে কর্মসূচিভিত্তিক (প্রোগ্রামভিত্তিক) পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যাতে পরস্পর-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, ‘সঞ্চালন লাইন, বিতরণ ব্যবস্থা কিংবা দক্ষ জনবল ছাড়া শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কোনো অর্থ নেই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি সরকারের প্রধান উদ্যোগ হচ্ছে কাঠামোগত অদক্ষতা দূর করা।
তিনি জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অভিন্ন ও বিশেষায়িত রেট শিডিউল প্রণয়নে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের ব্যয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা অনুমোদিত ব্যয়সীমার সঙ্গে প্রকল্প ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করবে এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, সরকার একটি সমন্বিত ও একক জাতীয় ডেটা সিস্টেম গড়ে তুলতে বেশ কয়েকটি ডিজিটাল উদ্যোগকে একত্রিত করছে।
তিনি বলেন, জরিপ নির্ভর কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো- একটি সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় তথ্য ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অধিকাংশ সরকারি তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজলভ্য করা, যাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করা যায়।’
সরকারি পরিসংখ্যানের নির্ভুলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেন, সরকার কোনোভাবেই সরকারি তথ্য-উপাত্ত বিকৃত করতে চায় না।
তিনি জানান, ‘এই সরকারের নীতি কৃত্রিম কোনো বাস্তবতা তৈরি করা নয়। আমরা বাস্তবে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি তা জানতে চাই, যাতে আমরা অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে পারি এবং প্রয়োজনে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে পারি।’
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), ইলেকট্রনিক্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার।
তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিরসন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
আর্থিক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, সম্ভাবনাময় শিল্পকে সহায়তা, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী সাকি বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে এবং অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক অনুমোদন ব্যবস্থা ও সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে ধাপে ধাপে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়ে এবং অনিয়মের সুযোগ কমে।
সাকি বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন। এ লক্ষ্যে আগামী ১৭ আগস্টের আগেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হতে পারে।
গবেষকদের কাছ থেকে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিআইডিএস তার গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণ এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ