সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৬ পি.এম
সুনামগঞ্জে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে কলহের কারণে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।
এটি ঘটেছে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের কাঠালখাই গ্রামে।
নিহত তামান্না আক্তার জলি (২৬) কাঠালখাই গ্রামের আব্দুল মজিদের কন্যা।
পুলিশ এবং পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে জগন্নাথপুর উপজেলার আলমপুর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মারুফ আহমেদের সঙ্গে জলির বিয়ে হয়। তাদের একটি ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে।
বিয়ের কিছুদিন পর মারুফ সৌদি আরবে চলে যান। এরপর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোবাইলে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ও ঝগড়া শুরু হয়। বহুবার বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। हाल ही में তাদের মধ্যে কলহ দেখা দিলে জলি বাবার বাড়িতে চলে যান।
জলির বাবা আব্দুল মজিদ জানান, রোববার প্রায় সারাদিন মারুফ ও জলির মধ্যে মোবাইলে ঝগড়া চলছিল। পরে রাত ১১টার দিকে শোবার ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে জলি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তার মেয়ের কান্না শুনে পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। এরপর পার্শ্ববর্তী গোয়ালাবাজারের এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই গৃহবধূর সঙ্গে প্রবাসী স্বামীর পারিবারিক বিবাদ ছিল।
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা থেকে র্যাব-২ একটি দেশি শুটারগান উদ্ধার করেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) র্যাব-২-এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, রায়েবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় একটি দেশীয় শুটারগান পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, এমন তথ্য র্যাব-২ তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে। এরপর, তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি অভিযানিক দল সেখানে বিশেষ তল্লাশি পরিচালনা করে। এই তল্লাশির সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা শুটারগানটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের জয়দেবপুরে খালের পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও পূর্বের ক্ষোভের কারণে ডলি আক্তার (৩০) নামের ওই নারীকে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন ও লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তার লাশ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে একাংশ সুটকেসে এবং অন্য অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহতের প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।
পুলিশ জানায়, ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। তিনি বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকার হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের একটি খালে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুটকেস ও বস্তার ভেতর থেকে এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনাও উদ্ঘাটন করে পিবিআই।
৫ বছরের প্রেম, বিয়ে নিয়ে বিরোধ
পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে জানা গেছে, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। ডলি নিয়মিত মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।
পুলিশের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে থাকেন।
পিবিআই জানায়, পূর্বের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে মিশনের মধ্যে ডলির প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন।
যেভাবে হত্যা
আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, ওই রাতে ডলিকে ঘুমের ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিশন লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
এরপর লাশটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির লাশ দেখতে পান। পরে লাশ গুমের পরিকল্পনা করা হয়।
মিশন একটি সুটকেস সংগ্রহ করেন। কিন্তু পুরো লাশ সুটকেসে না ধরায় ব্লেড ও বঁটি-দা দিয়ে কোমর থেকে লাশ দ্বিখণ্ডিত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। লাশের একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।
এরপর মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনেন। মিল্টন এসে সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলে দিতে সহযোগিতা করেন।
পিবিআই জানায়, পরে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন মিলে সুটকেস ও বস্তা নিয়ে প্রথমে রাজেন্দ্রপুরে যান। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ভবানীপুর এলাকায় যান তারা।
পরে ভবানীপুর ব্রিজ এলাকার কাছ থেকে মিশন ও মিল্টন সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগলে সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী রয়েছে জানতে চান তিনি। একপর্যায়ে মিশন তাকে জানান, সেখানে তার প্রেমিকা ডলি আক্তারের লাশ রয়েছে। এরপর তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।
নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) গত ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলাটি তদন্তে নিয়ে পিবিআই দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক একটি ভাড়া বাসা থেকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, আসামিদের দেওয়া তথ্য ও তাদের দেখানো মতে মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, লাশটি অজ্ঞাত ও অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় শুরুতে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া আলামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড নওগাঁয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক একটি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে, যা পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে। এই উদ্যোগের আওতায় এক অনুষ্ঠানে মোট ৯০০টি ফলজ, বনজ ও ওষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়েছে শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা তুলে দেন অতিথিরা। পরে, সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে চারা রোপণ করে কর্মসূচির সূচনা ঘোষণা করেন।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সরকারি পরিবেশবান্ধব চারা রোপণ পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বোর্ডের আওতাধীন আঞ্চলিক পর্যায়ের ১২টি বাছাইকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় নয়শত শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে চারা উপহার দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজ নিজ বাড়িতে গাছগুলো পরিচর্যা করে বড় করতে পারে।
কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রউফ এবং নওগাঁ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স.ম আল কাফি তুহিনসহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও আগামীর প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরিতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই পরিবেশ চেতনার এই বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কলকাতায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের দুটি চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছে। পিপলু আর খান পরিচালিত ‘জয়া আর শারমিন’ সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ‘বিমল রায় গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছে। একই উৎসবে মকবুল চৌধুরী পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি ‘জুরি মেনশন’ পেয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবটি ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়ার (এফএফএসআই) পূর্বাঞ্চল শাখার আয়োজনে কলকাতার নন্দন-৩ প্রেক্ষাগৃহে ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়।
‘জয়া আর শারমিন’–এর প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য এবং উৎসবে চলচ্চিত্র সমালোচক, নির্মাতা ও দর্শকদের উষ্ণ সাড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই পুরস্কারটিকে ছবির সব শিল্পী ও কলাকুশলীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য উৎসাহের একটি অর্জন হিসেবে দেখছেন।
ছয় দিনের উৎসবে মোট ৩৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে ১৯টি ছবি অংশগ্রহণ করেছে। উৎসবে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইরান, স্পেন, জার্মানি, কোস্টারিকা, পর্তুগাল, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও উজবেকিস্তানের চলচ্চিত্রগুলি প্রদর্শিত হয়েছে। তিন সদস্যের বিচারক প্যানেলে ছিলেন অধ্যাপক উজ্জ্বল চক্রবর্তী, রীতা দত্ত ও প্রদীপ কেনচানুরু।
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে দ্বিতীয় সেরা ছবির ‘বিমল রায় সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে ভারতের অসমিয়া ভাষার চলচ্চিত্র ‘রিভার টেলস’, যা পরিচালনা করেছেন পঙ্কজ বরা। এই বিভাগে জুরি মেনশন লাভ করেছে শ্রীলঙ্কার চলচ্চিত্র ‘প্যানট্রাম’, যা পরিচালনা করেছেন নাদিয়ে ওয়াসালামুদালিআরাচ্চি।
প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে সেরা ছবির ‘হরিসাধন দাশগুপ্ত গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে রণজিৎ রায় পরিচালিত ‘ডলস ডোন্ট ডাই: পুতুলনামা’। দ্বিতীয় সেরা প্রামাণ্যচিত্রের ‘হরিসাধন দাশগুপ্ত সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে দীপ ভূঞা পরিচালিত ‘রিভার স্টিল ফ্লোজ’।
স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগে সেরা ছবির ‘চিদানন্দ দাশগুপ্ত গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে ড. ধৃতিশ্রী সরকার পরিচালিত ‘দ্য টেল অব কথা’। একই বিভাগে দ্বিতীয় সেরা ছবির ‘চিদানন্দ দাশগুপ্ত সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে মোহাম্মদ সাজাদ মোতাহারিজাদেহ পরিচালিত ইরানি চলচ্চিত্র ‘সাডেনলি রাইজ’।
মহামারির সময়কার লকডাউনের পটভূমিতে নির্মিত ‘জয়া আর শারমিন’ বাংলা ভাষার ৮৬ মিনিটের একটি মনস্তাত্ত্বিক চলচ্চিত্র। ছবির গল্প দুই নারীর সম্পর্কের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে, যেখানে জয়া ও তার গৃহকর্মী শারমিনের মধ্যে মানসিক নির্ভরতা, শ্রেণি ও ক্ষমতার ব্যবধান তুলে ধরা হয়েছে।
জয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। শারমিনের ভূমিকায় রয়েছেন মঞ্চাভিনেত্রী মহসিনা আক্তার। ছবিটি রাজ্য ফিল্মসের আবু শাহেদ ইমন, সি-তে সিনেমার জয়া আহসান ও অ্যাপলবক্স ফিল্মসের পিপলু আর খান যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ