বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৪ পি.এম
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। টিওয়াইসি স্পোর্টসের রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
বর্তমান চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে স্কালোনির। নতুন চুক্তির মাধ্যমে তিনি ২০২৮ কোপা আমেরিকা পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, চুক্তিতে আরও দুই বছর বাড়ানোর সুযোগও থাকতে পারে। যদি সেটি কার্যকর হয়, তাহলে ২০৩০ বিশ্বকাপেও স্কালোনি আর্জেন্টিনার ডাগআউটে থাকতে পারেন।
২০১৮ সালে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্কালোনির অধীনে দলটি চারটি শিরোপা অর্জন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর স্কালোনি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বলেছিলেন, “আমার একটা পরিকল্পনা আছে। চুক্তি পূরণ করব, এরপর দেখা যাবে।” এরপর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এএফএ স্কালোনিকে ধরে রাখার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। বিশ্বকাপের ফাইনালের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারা নতুন চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
নতুন চুক্তি হলে স্কালোনির কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন আসবে। সহকারী কোচ ওয়াল্টার স্যামুয়েল আগামী ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব ছাড়বেন। এরপর তিনি নিজেই প্রধান কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার পরিকল্পনা করেছেন।
এদিকে, বিশ্বকাপের পর ঘরের মাঠে নতুন পরীক্ষায় নামছে স্কালোনির দল। ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া ফিফা উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা তিনটি ম্যাচ খেলবে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এই পর্ব। এরপর ৩ অক্টোবর মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোর মুখোমুখি হবে তারা। ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে খেলবে আলবিসেলেস্তেরা। এই ম্যাচটিকেই লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ঘোষিত স্কোয়াডে তরুণদের প্রাধান্য দেখা গেছে। নিয়মিতদের পাশাপাশি দলে জায়গা পেয়েছেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি, আগুস্তিন গিয়াই, মাতিয়াস সুলে, ভ্যালেন্তিন গোমেজ ও একুই ফার্নান্দেজ। প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন রোমান ভেগা, সান্তিয়াগো সিমোন, লিওনেল ফ্লোরেস ও তোবিয়াস আন্দ্রাদা।
সব মিলিয়ে, নতুন চুক্তি হলে আর্জেন্টিনার সঙ্গে স্কালোনির দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা অব্যাহত থাকার পথ আরও পরিষ্কার হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অসৎ চরিত্রের জন্য এলাকার মানুষের কাছে তার বাবার নামেও ‘কুত্তা’ উপাধি জুটেছিল। সেই ধারাবাহিকতায়, নিজের উগ্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে শ্রাবণও লাভ করেছে ‘কুত্তা শ্রাবণ’ উপাধি।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ত্রাস হিসেবে পরিচিত, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী এই কিশোর গ্যাং লিডার শ্রাবণ অবশেষে এসআরবির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে, তার তিন সহযোগীসহ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
তিনি জানান, আজ ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে এসআরবি-১১-এর একটি বিশেষ অভিযানে রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি শ্রাবণ দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় নিজস্ব কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসছিল। চনপাড়া ও রূপগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, জবরদখল, জমি দখল ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সঙ্গে এই চক্রটি জড়িত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে, এই গ্যাং রূপগঞ্জের রূপসা ও চনপাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
আসামি শ্রাবণের পারিবারিক পরিচয় ও অপরাধের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, তার পুরো পরিবারই এলাকায় নানা ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত। তাদের এমন আচরণের কারণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ ছিল। বর্বরোচিত হামলা ও অত্যাচার চালিয়ে সে নিজের নাম দেয় ‘কুত্তা শ্রাবণ’।
এসআরবি জানায়, তার নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা চনপাড়া ও রূপসা পৌর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, দোকানে আগুন দেওয়া, লুটপাট এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিত। তার বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই কুখ্যাত গ্যাং লিডার ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি এবং ছয়টি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া, এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে র্যাবের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইবনে সিনা ট্রাস্ট জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: মেডিকেল অফিসার (আইসিইউ)
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমবিবিএস ডিগ্রি
অন্যন্য যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর বৈধ নিবন্ধন।
অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে, প্রার্থীদের আইসিইউ বা ক্রিটিক্যাল কেয়ারে ন্যূনতম ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: হাসপাতালে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩২ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: ট্রাস্টের নীতিমালা অনুযায়ী
আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বাসভাড়ার পর এবার লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন যে, এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "রেল মন্ত্রণালয় থেকে রেলের ভাড়া বাড়ানোর চাপ আছে, নাহলে লোকসান আরও বাড়বে।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা ১০ বছর রেলের ভাড়া বাড়াইনি। জনগণের প্রতি আমাদের মনোযোগ, দায়বদ্ধতা আছে। এবার ভাড়া বাড়ানোর খুব চাপ আছে। কারণ, নাহলে আরও লোকসান হবে।"
মন্ত্রী আরও জানান, "তবুও এখনও রেলের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেইনি। বলেছি ভাড়া না বাড়িয়ে যা আছে তা যাতে রাখা যায়। ফলে আপাতত আগের ভাড়া থাকছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রেলের ভাড়া না বাড়ানোর।" তিনি বলেন, "একান্তই যদি ভাড়া বাড়ে, সেটি যৌক্তিক বাড়বে। তবে এখন পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেইনি।"
লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রীদের স্বার্থে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। পূর্বে সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ৩২ টাকা, যা বর্তমানে ৩৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, "ভাড়া বৃদ্ধি কাম্য না। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। এজন্য জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই আমরা সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করেছি।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "ভাড়া বৃদ্ধির নামে নৈরাজ্য কিংবা তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কাউকে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দেইনি।"
এছাড়া, মন্ত্রী জানান, সিএনজির দাম বাড়েনি। তাই সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। যদি কারও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাহাড়ি জনগণের প্রধান জীবিকা ও ঐতিহ্যবাহী পেশা হিসেবে জুম চাষ পরিচিত। বান্দরবানের সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে এখন সোনালি রঙের পাকা জুমধান দেখা যাচ্ছে। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে জুমধানের মৌ মৌ গন্ধ। পাহাড়ে চলছে জুমধান কাটার ধুম। কিন্তু যেসব পাহাড়ে একসময় জুম চাষ করা হতো, সেসব পাহাড়ের বেশির ভাগে বর্তমানে চাষ হচ্ছে মাল্টা, ড্রাগন, কপি, আনারস, কমলাসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল। ফলে জুমধানের পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী ও লাভজনক ফসল হিসেবে মিশ্র ফল চাষে চাষিরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতেও পরিবর্তন আসছে।
তবে আদি পদ্ধতিতে জুম চাষের কারণে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। জুম চাষের জন্য পাহাড়ের ঝাড়-জঙ্গল পুড়িয়ে ফেলার ফলে সরকারি রিজার্ভ ফরেস্টসহ অনেক সবুজ পাহাড় বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে। এর ফলে প্রতিবছর পাহাড়ে জুমের আবাদ কমে আসছে।
মৃত্তিকা সম্পদবিষয়ক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে, জুম চাষের স্থান পরিবর্তন ও জঙ্গল পোড়ানোর কারণে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাহাড়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। টেকসই বিকল্প কৃষি পদ্ধতি, মিশ্র ফল চাষ এবং জুমের পরিবর্তে আম, কাঁঠাল, আনারস, পেঁপে, লিচু ও কফি চাষের মাধ্যমে পাহাড়ের মাটির ক্ষয় রোধ করা সম্ভব। একই জমিতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসল চাষ করা হলে মাটির উর্বরতা ধরে রাখা সম্ভব বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
স্থানীয় জুম চাষিরা জানান, জুম চাষে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের ফলন পাওয়া যায় না। এ কারণে তারা জুম চাষের পরিবর্তে বিকল্প চাষাবাদের পরিকল্পনা করছেন। পাহাড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং জনসংখ্যার চাপের কারণে ঐতিহ্যবাহী জুম চাষের ফলন দিন দিন কমে যাচ্ছে।
চাষিরা আরও জানান, পাহাড়ের ঢাল কেটে ধাপ তৈরি করে চাষ করলে মাটির ক্ষয় কমে এবং ফলন ভালো হয়। এ ছাড়া উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল ফসলের বীজ ব্যবহার করা যায়। জুমের পরিবর্তে মিশ্র ফলের বাগান করে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতেও পরিবর্তন আসছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, জুম চাষে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চাষিরা বিকল্প ও লাভজনক চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন। জুম চাষে অতিরিক্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত লাভ না আসায় দীর্ঘদিনের পেশা পরিবর্তন করে মিশ্র ফলের আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন চাষিরা এবং এতে তারা লাভবানও হচ্ছেন।
জনপ্রতিনিধিরা বলেন, একই স্থানে বারবার জুম ধানের চাষ করা যায় না। পাহাড়ে অতিরিক্ত জায়গাও নেই। একই স্থানে পুনরায় জুম চাষ করতে হলে প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। তাই জুমের পরিবর্তে চাষিরা মিশ্র ফলের বাগানে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক মমতাজ আহম্মদ বলেন, পাহাড়ের পরিবেশের ক্ষতির অন্যতম কারণ জুম চাষ। এক একর জায়গায় জুম চাষের জন্য যে পরিমাণ গাছ পোড়ানো হয়, সেই পরিমাণ জুমধান উৎপাদন হয় না। তবে সম্প্রদায়ভিত্তিকভাবে তাদের পুনর্বাসন করা হলে রিজার্ভ এলাকা আবার গভীর অরণ্যে পরিণত হতে পারে।
মৃত্তিকা সম্পদ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, আদিকাল থেকেই পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়িরা জুম চাষ করে আসছেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ছাড়া জুম উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তিতে জুম চাষাবাদ করতে হবে। এতে ভূমির ক্ষতি কম হবে এবং জৈব পদার্থ যোগ হবে। এভাবে জুম চাষ করলে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আবু নাঈম মো. সাইফুদ্দিন বলেন, পাহাড়ে আগে থেকেই তাদের ঐতিহ্যগত জুম চাষ রয়েছে। তবে জুমের চেয়ে সবজি চাষে লাভ বেশি। বাজারের চাহিদা, দ্রুত ফলন এবং একই জমিতে একাধিকবার ফসল ফলানোর সুবিধা রয়েছে। এসব কারণে চাষিদের মধ্যে জুমের পরিবর্তে মিশ্র ফল চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে ৮ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে জুমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৯৩ মেট্রিক টন। গত অর্থবছরের তুলনায় জুমের আবাদ কিছুটা কমে আসছে এবং মিশ্র ফলের আবাদ বাড়ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ