মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪১ পি.এম
সুদানে গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ড্রোন হামলার ফলে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই হামলাগুলো জনবহুল বাজার এবং সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালিত হয়েছে, যার জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হচ্ছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যের দুটি স্থানে হামলার ফলে অন্তত ১৫০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'সুদান ওয়ার অবজারভেটরি'র সূত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর থেকে এই সংস্থা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
অন্যদিকে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) আবিয়েইয়ের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। আবিয়েই অঞ্চলের তথ্যমন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুদানি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীই আবিয়েই এলাকায় হামলাটি চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই বাজারটি আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের জ্বালানি সরবরাহের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
সুদানের তেলসমৃদ্ধ আবিয়েই অঞ্চলটির মালিকানা নিয়ে সুদান এবং দক্ষিণ সুদানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০১১ সালে সুদান থেকে আলাদা হয়ে দক্ষিণ সুদান গঠিত হওয়ার পর থেকেই যৌথভাবে পরিচালিত অঞ্চলটির মালিকানা নিয়ে কোনো সমাধান হয়নি। এই হামলার ফলে দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে সুদানের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ সুদান ইতোমধ্যেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। দেশটির আশঙ্কা, এই সংঘাত সীমান্ত ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
জাতিসংঘ সুদানে অস্ত্র সরবরাহের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। তবে বিভিন্ন দেশ সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ উভয় পক্ষকেই ড্রোন সরবরাহ করে যাচ্ছে। ফলে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ড্রোন হামলা প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফেন দুজারিচ সোমবার জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছে, যা শিশু ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাহত করছে।
তিনি আরও জানান, ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশটির অন্তত দুই কোটি মানুষ মারাত্মক খাদ্যসংকটে পড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর ও গ্রেটার কর্ডোফানের বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান মারুফ মন্তব্য করেছেন যে, ইমামরা ইসলামের প্রচারক হিসেবে কাজ করছেন এবং সমাজকে অনুস্মরণ করে চলছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং শিক্ষকরা হলেন সেই মেরুদণ্ড গড়ার প্রধান কারিগর।" তিনি বলেন, "আপনারা সমাজে ইমাম এবং ইফার শিক্ষক হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালন করছেন।"
মারুফ আরও বলেন, "আপনারা ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন সমাজ। আর এতে করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।" তিনি ইমামদেরকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে চলার নির্দেশ দেন। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, "মাদকের কুফল নিয়ে মসজিদে বয়ান করবেন।" তিনি ধর্মাবলম্বীদের গালি না দেওয়ার এবং ধর্মীয় উস্কানিমূলক কিছু না বলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, "সর্বদায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে, কেউ কোনো গুজবে কান দেবেন না।" ইসলামের মধ্যে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের স্থান নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। "সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ কোনো রাষ্ট্র, জাতি ও সমাজের কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনি, পারবেও না," বলেন তিনি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) কিশোরগঞ্জ সদরে ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্পের শিক্ষক ও কেয়ারটেকারদের মাসিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা সম্প্রসারিত কমপ্লেক্সে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সদ্য যোগদানকৃত ইফার উপপরিচালক কিশোরগঞ্জের জামাই হাফেজ মাও. মোস্তাফিজুর রহমান মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি শিক্ষক ও কেয়ারটেকারদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানান।
সভায় সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ কার্যক্রম সফল করতে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ইফার সদর উপজেলার সুপার ভাইজার শফিকুল আলম সারওয়ারের সঞ্চালনায় এবং জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক হাফেজ মাও. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার ডক্টর মাও. কামরুল হাসান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার স্বাগত সাম্য।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ইফার মডেল কেয়ারটেকার হাফেজ মাও. মোঃ মাছুম বিল্লাহ। আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিশোরগঞ্জ জেলার মাস্টার ট্রেইনার মাও ওমর ফারুক, সাধারণ কেয়ারটেকার হাফেজ মাও. হুমায়ুন কবীর, মাও. আব্বাছ আলী, মাও. সাদেকুজ্জামান খন্দকার, মাও. মাহতাব উদ্দিন, বাংলাদেশ মউশিক শিক্ষক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ ইমরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মাও. আমিনুল হক, সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাও. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য উপহার প্রদান করেছেন গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান। ১৯ অক্টোবর সোমবার, দিনব্যাপী উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে স্থানীয়ভাবে ৬৪টি পূজা মণ্ডপে নগদ ১০ হাজার টাকা করে উপহার বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া বিজয়া দশমীতে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী পূজামণ্ডপগুলোর জন্য ৩টি ফ্রিজও উপহার দেওয়া হয়েছে।
শাহ রিয়াজুল হান্নান বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে মন্তব্য করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব উপলক্ষে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, আমরা সকলেই বাংলাদেশি। দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির অর্থায়নে কাপাসিয়ার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নগদ অর্থ উপহার দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উপহার বিতরণ করেন।
উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে শাহ রিয়াজুল হান্নান বলেন, "আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে বিগত দিনের সেই ধারাবাহিকতায় এবারও আপনাদের জন্য উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাই ভয়ভীতির কোনো কারণ নেই। সবাই নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করবেন। এব্যাপারে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা বিএনপির নেতা আফজাল হোসাইন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সেলিম হোসেন আরজু, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন খান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন শিশির, কাপাসিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি মিল্টন সরকার, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ চন্দ্র পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন মন্তব্য করেছেন, “সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি। এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে পালনের অধিকার রয়েছে।” তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বর্তমান সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব পালনে সহযোগিতা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “আপনাদের ধর্মীয় উৎসবের প্রতি আমাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা সবাই মিলেমিশে সম্প্রীতি ও শান্তির মধ্যে বসবাস করতে চাই। যেকোনো বিপদ-আপদে আমাকে আপনারা পাশে পাবেন।” সোমবার সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সোমবার সন্ধ্যায় নোয়াপাড়া সার্বজনিন দূর্গা মন্দিরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, যিনি সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুক্তাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার এবং কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন প্রমূখ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ দেশে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করবেন। দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করার অধিকার রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও মাঠে থেকে সহযোগিতা করছেন। তিনি একই সঙ্গে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন আকাশ, জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ দেওয়ানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর ফলে ইশরাকের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে রোববার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় ইশরাক লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, এই পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ইশরাকের পদত্যাগের পেছনে রয়েছে গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার একাধিক ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন। একটি ভিডিওতে তাঁকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়, এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনা করা নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, "আমার কারণে বিএনপি বা সরকার যাতে বিব্রত না হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ আড়ালে পড়ে না যায়, সে জন্য আমি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তিনি আরও দাবি করেন, আত্মরক্ষার স্বার্থে সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন এবং এ ঘটনায় কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। তবে দলের ভাবমূর্তি ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক। তিনি সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন আহমেদ আযম খান। ইশরাকের পদত্যাগের পর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রীর সংখ্যা ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ২৩ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ