ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ দিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন


জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ দিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা আজ বলেছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে কাজ করছে।

আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (টিটিডিসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আফরোজা বলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানানো আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ। আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি।

মন্ত্রী আফরোজা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা উন্মোচনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি উল্লেখ করেন, 'প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন- দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের উন্নয়ন।'

সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতি সরকারের উচ্চাকাক্সক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে আফরোজা জানালেন, প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে জাতীয় পর্যটন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে আগামী কয়েক বছরে পর্যটনের জিডিপিতে অবদান বর্তমান প্রায় তিন শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করা।

তিনি আরও জানান, জাতীয় পর্যটন মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং কক্সবাজার, সিলেট ও খুলনা জুড়ে একটি বৃহৎ পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় শতাধিক পেশাদার ট্যুর গাইড প্রশিক্ষিত হয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পর্যটন খাত জাতীয় জিডিপিতে প্রায় তিন শতাংশ অবদান রাখছে, যা প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এ খাতটি হোটেল, এয়ারলাইনস, রেস্টুরেন্ট, ট্যুর অপারেশন ও স্থানীয় গাইডিং সেবায় দুই মিলিয়নেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৩০টিরও বেশি জেলায় স্বীকৃত পর্যটন গন্তব্য রয়েছে, তবে বিপুল সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

আফরোজা মন্তব্য করেন, 'আমরা যেন সোনার খনির ওপর বসে আছি, অথচ চামচ দিয়ে খনন করছি।'

বেসরকারি খাতের নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার নীতি প্রণয়ন ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হোটেল ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইনস ও তরুণ উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, গবেষক, বিমান খাতের অংশীজন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় ছাড়া সরকারের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

নতুন উদ্বোধনকৃত টিটিডিসিকে তিনি সরকারি-বেসরকারি খাতকে একত্রে আনার এবং দেশের পর্যটন উচ্চাকাক্সক্ষাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আফরোজা আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটি উদ্বোধন করে পর্যটন, হসপিটালিটি ও বিমান খাতের অংশীজনদের আহ্বান জানান, যাতে তারা নিজেদের শুধু অতিথি নয় বরং 'বাংলাদেশের পরবর্তী বড় প্রবৃদ্ধির গল্পের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার' হিসেবে বিবেচনা করেন।

তিনি আরও বলেন, এই দেশ আমাদের জন্য, আর আমরা এই দেশের জন্য। বাংলাদেশ সবার আগে-এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে টিটিডিসি উদ্বোধনী কমিটির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য নাসের রহমান সভাপতিত্ব করেন। টিটিডিসি সভাপতি কাজী ওয়াহিদুল আলম সংগঠনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেন এবং অভিজ্ঞ হোটেলিয়ার ও টিটিডিসি নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহিদ হামিদ এফআইএইচ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

অনুষ্ঠানে শেয়ারট্রিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাদিয়া হক বাংলাদেশের পর্যটন, হসপিটালিটি ও বিমান খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এর পরে সরকারি, বেসরকারি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, সিপিডি গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সম্পাদক ইনাম আহমেদ, গ্যালাক্সি গ্রুপ সভাপতি আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ এবং আইএইচজি সাউথ ওয়েস্ট এশিয়া এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার আশ্বিনী নায়ার অংশগ্রহণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশ ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে ইউএনওদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ পি.এম


দেশ ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে ইউএনওদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগ বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।’

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে।’

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব পালনরত উপজেলা হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়; কিন্তু সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতোই আপন। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে।'

ইউএনওদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেই উপজেলাতো আপনার দেশেরই একটা অংশ। সেখানে যে মানুষগুলোকে দেখছেন, তারা হয়ত আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ। ছোট একটা দেশ। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।’

শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন দূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।’

তিনি বলেন, 'উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন। এভাবে আপনারা পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখতে পারেন।'

একইভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনকে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার আয়োজনের জন্য শুধু বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয়ভাবে ভালো যেকোনো বিষয় নিয়ে এমনকি স্থানীয় কোনো মানুষের জন্মদিন উপলক্ষেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।’

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

‘তবে, এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে, সমাজ ধ্বংস হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে আপনাদের উদ্যোগ নিতে হবে।’

‘সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও ভাবতে হবে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শুধু মানুষের প্রতি নয়, আশপাশের পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও যত্নবান হতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিশুদের এসব বিষয়ে সচেতন করতে হবে। '

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এবার থেকে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো তাদের পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। '

তিনি বলেন, ‘একসময় পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া হতো। বর্তমানে এসব মূল্যবোধ অনেকটাই অনুপস্থিত। এগুলো ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

সভায় বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনওদের প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সরকার এবং জনগণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাতে আমার বিশ্বাস, আপনারা জনগণের জন্য অনেক ভালো কিছুই করতে পারবেন।'

উপ-প্রেস সচিব জানান, সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন, সেচ ব্যবস্থা ও কৃষিকাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

এমনকি উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন তারা।

উপকারভোগীদের কৃতজ্ঞতার বার্তা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে-এর মাধ্যমে নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। কারণ, দিন দিন আমাদের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে।

উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় খাল খনন প্রকল্পে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শান্তিরক্ষা মিশন এলাকা দক্ষিণ সুদান ও আবেই পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ পি.এম


শান্তিরক্ষা মিশন এলাকা দক্ষিণ সুদান ও আবেই পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ শনিবার পাঁচ দিনের সরকারি সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেছেন।

সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান দক্ষিণ সুদান ও আবেইতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন বাংলাদেশি কন্টিনজেন্টসমূহ পরিদর্শন করবেন।

এছাড়া, উভয় স্থানের রাষ্ট্রীয় এবং মিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

সিলেট, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ঘটে যাওয়া নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহাকে প্রধান করা হয়েছে।

গঠিত কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সদস্য হিসেবে আছেন। জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন।

কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ শনিবার এই কমিটি গঠন করা হয়।

এর আগে, শুক্রবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে চার বছর বয়সি একটি শিশু এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু ঘটে।

জেলা প্রশাসক জানান, দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন গুরুতর একজনকে ১৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এ ছাড়া নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কটি ফাঁকা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালকদের বেপরোয়া গতি অথবা গাড়ি চালানোর সময় চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটুকুই প্রাথমিক ধারণা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সম্ভাব্য দায় নিরূপণে তদন্ত কমিটি কাজ করবে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্বের শিকার ব্যক্তিদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের দেখতে শনিবার সকালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর সফর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১০ পি.এম


মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর সফর

কক্সবাজারের মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সেখানে পৌছান রোববার (৯ আগস্ট) বেলা পৌনে ১১টায়। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার মাতারবাড়ীতে পৌঁছায়।

গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ কয়েকটি প্রকল্পের কার্যক্রম দেখবেন।

এর আগে, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে সকাল সোয়া ৯টায় হেলিকপ্টার যোগে তিনি মাতারবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।

এরপর, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রীর।

দুপুর দেড়টার দিকে, ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখান তিনি আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এরপর তিনি মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রীর। এরপর, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সন্ধ্যায়, চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচি শেষে, ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি। রাতে, রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%