১০:৩৬ পি.এম
জোয়ারের উত্তাল ঢেউয়ে বিলীন হচ্ছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপ।
কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল, সাইড়পাড়া, পূর্ব তাবালেরচর এবং বড়ঘোপ রোমাইপাড়া সীমান্ত এলাকায় পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা বেড়িবাঁধ ভাঙনের কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জোয়ারের উত্তাল ঢেউ প্রতিনিয়ত আছড়ে পড়ে বসতঘর, উঠান ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন করে দিচ্ছে। বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বড়ঘোপ রুমাই পাড়া ও আলীআকবর ডেইল সাইট পাড়া এলাকায় ভাঙনের মুখে কয়েকটি বসতঘরের বড় অংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ক্ষতিগ্রস্তরা কোনো রকমে ত্রিপল টানিয়ে জীবনের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। একই রকমভাবে পূর্ব তাবালেরচর শফিকুল ইসলামের বাড়িও চলে গেছে সমূদ্র গর্ভে।
অনেকের বাড়ির সামনে নদির ভাঙন চলে এসেছে, যেকোনো মুহূর্তে অবশিষ্ট অংশও সাগরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সংস্কার বা টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এমনকি ইমার্জেন্সী ওয়ার্কের জন্য ২ কোটিরও বেশী টাকা বরাদ্দ হলেও এখনো এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোন কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা এবং বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ এত পরিবারকে সর্বস্বান্ত হতে হতো না।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা বলেন, “প্রতিদিন চোখের সামনে আমাদের ভিটেমাটি সাগরে চলে যাচ্ছে। আমরা কোথায় যাব, কার কাছে যাব? শুধু আশ্বাসে আর কতদিন?”
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং উপকূল রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
অন্যথায় আলী আকবর ডেইল, সাইড়পাড়া, পূর্ব তাবালেরচর ও বড়ঘোপের রুামাই পাড়ার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা অচিরেই সাগরের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ভাঙন শুধু কয়েকটি বাড়ির ক্ষতি নয়, এটি উপকূল রক্ষায় দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার নির্মম প্রতিচ্ছবি।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের দায় এড়ানোর সুযোগ থাকা যাবে না।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন