০৫:২২ পি.এম
সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ কৃষক পরিবারগুলো সেতুর অভাবে ১০ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে আছে। নদী একদিকে, কবরস্থান অন্যদিকে। মাঝখানে কোনো পারাপার নেই। নাগডেমরা ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামের মানুষের মরদেহ দাফনের জন্য সুতিখালী নদী পার হতে হয়। কখনো নৌকা দিয়ে, আবার কখনো কোমরসমান পানিতে নেমে অথবা সাঁতরে মরদেহ নিয়ে যেতে হয় নদীর অন্য পাশে।
মরদেহ দাফন করার সমস্যার পাশাপাশি গ্রামের প্রায় সকল কৃষকের জমি ওই নদীর উত্তর পাড়ে। সেতু না থাকার কারণে কৃষক পরিবারের ফসল তুলতে গিয়ে চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দশক পার হলেও সমস্যা সমাধানের কোনো লক্ষণ নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ১০ বছর আগে সাবেক সদস্য সরোয়ার হোসেনের উদ্যোগে এলাকার মানুষেরা টাকার সংস্থান করে সুতিখালী নদীতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরিকল্পনা ও অর্থ সংকটের কারণে মাঝপথে কাজ থমকে গেছে। নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা পিলারের অবস্থা এখন মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
গ্রামের দক্ষিণপাড়ার কৃষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তারা মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল। নদীর ওপারে রয়েছে তাদের কয়েকশ’ বিঘা আবাদি জমি। সেতু না থাকায় ফসল আনা-নেওয়ায় বাড়তি খরচ এবং সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বর্ষা, শুষ্ক কিংবা যেকোনো মৌসুমে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন তারা।
এই গ্রামে বেশ কিছু কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে গিয়ে একটি সেতু নির্মাণের জন্য অনুরোধ করেছেন, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।
গ্রামের গৃহবধূরাও একই সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। তাদের মতে, নদীর ওপারে যাতায়াত সহজ হলে কৃষিতে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থাও উন্নতি হতো।
অর্ধনির্মিত সেতুর উদ্যোক্তা সাবেক ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বলছেন, তিনি জনদুর্ভোগ কমাতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে নানা সমস্যার কারণে কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। তিনি সরকারিভাবে এটি সম্পন্ন করার দাবি করছেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন গ্রামবাসীর দুর্ভোগ দূর করার জন্য।
পাবনার সাঁথিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, সুতিখালী নদীর ওই স্থানে পরিদর্শন হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দাদের তালিকা করা কলামগুলোর ভিত্তিতে ৯০ মিটারের একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণ করা যাবে না। সেখানে নতুন করে সেতু নির্মাণের প্রয়োজন। তবে সড়কটি প্রকৌশল অধিদপ্তরের আইডিভুক্ত না থাকায় প্রক্রিয়া আটকে ছিল। সড়কটি আইডিভুক্তের আবেদন চলছে। অনুমোদন মিললেই প্রকল্পের আওতায় সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন