১০:৩৪ পি.এম
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি, যিনি এককালীন ২ কোটি ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এসব তথ্য তুলে ধরেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির, মো. গিয়াস, মো. নয়ন ও মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ফরহাদ অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে ইউনুসের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা, ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা, মো. সুমনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা, মনিরের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা এবং মো. নয়নের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। এসব মামলাগুলো চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, মারামারির মতো বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, গত ১১ জুলাই ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুনের মুঠোফোনে কল করে ডেভিড ইমন নিজেকে পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১৩ জুলাই বাকলিয়ার এক্সেস রোডে ৩০ থেকে ৪০ জন হামলা চালিয়ে ডিডিএনের কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা হয় এবং মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের ঘটনায় সম্পৃক্ততার বিষয়েও নিশ্চিত হয়েছি। যারা হামলা চালিয়েছিল তাদের নির্দেশদাতাদের সম্পর্কে জানার জন্য রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, হামলার সময় ৩০ থেকে ৪০ জন অংশ নেয় এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
ডেভিড ইমনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারার ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, তার অবস্থান এখনও জানা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, "আপনারা যদি জানেন তার সম্পর্কে কোনো তথ্য, তাহলে দয়া করে আমাদের জানান।"
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ইমনের নামে কতটি মামলা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা সম্ভব নয়, তবে তার নামে অনেক মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রামে নীরবে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পদক্ষেপ জানাতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কেউ হুমকি বা চাঁদা দাবি করলেই পুলিশকে জানাতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন