ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রামে বাংলা কিউআর কোড লেনদেনবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত


চট্টগ্রামে বাংলা কিউআর কোড লেনদেনবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম, ৮ আগস্ট ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত হলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে এবং জালনোটের ঝুঁকি কমে যাবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, টাকা ছাপাতে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে পেমেন্ট বাস্তবায়ন হলে এ খরচের সাশ্রয় হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলা কিউআর কোড লেনদেন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উল্লেখিত বিষয়গুলো বলেন গভর্নর।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্পের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে বাংলা কিউআর কোড নিয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমানে মাসে ১ কোটি লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে ১ কোটি দৈনিক লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে ৬ কোটি মানুষের বাটন ফোন ব্যবহার করা এবং তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ও ইন্টারনেট সুবিধার অভাব। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সরবরাহের বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এই কর্মশালায় অন্তত ২০ জন নারী মার্চেন্টসহ প্রায় ১২০ জন বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী মার্চেন্ট ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ গ্রাহক ও মার্চেন্টদের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের বিশেষ করে বাংলা কিউআরের সুবিধা ও এর সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্যাশলেস লেনদেনের গুরুত্ব ও বাংলা কিউআরের সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ এবং আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশনের প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়া, চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক (প্রশাসন) স্বরূপ কুমার চৌধুরী, পরিচালক (পরিদর্শন) মো. নুরুল আলম, পরিচালক (ব্যাংকিং) ইয়াসমিন রহমান বুলা, পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা) মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই: আমিনুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩১ পি.এম


খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই: আমিনুল হক

ঝিনাইদহ, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে কিশোর-কিশোরীদের প্রতিভা অন্বেষণে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন হিসেবে নয়, পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

আজ শনিবার বিকেলে ঝিনাইদহের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ জাতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই। আমাদের নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ এই খেলাধুলার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে চাই।’

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রতিভা অন্বেষণে কাজ চলছে। দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে তিনি ঝিনাইদহের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা দেন।

আমিনুল হক বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশের ১০টি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঝিনাইদহে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জেলার বর্তমান স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ গ্যালারিসহ আধুনিক স্টেডিয়ামে রূপ দেওয়া হবে।

ঝিনাইদহে সুইমিংপুল নির্মাণের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ২২টি জেলায় ২২টি সুইমিংপুল রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৬৪টি জেলায় একটি করে সুইমিংপুল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার আওতায় ঝিনাইদহেও সুইমিংপুল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আমিনুল হক আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের ৬৪টি জেলায় আন্তর্জাতিক সুবিধাসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়ামসহ স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরে ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুজ্জামান মনা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মজিদ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে: চসিক মেয়র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


চট্টগ্রাম নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রাম নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আজ শনিবার, চট্টগ্রাম বোট ক্লাব থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে কর্ণফুলী টানেলের পর্যন্ত সড়কের চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন মেয়র।

পরে টাইগারপাস, লালখানবাজার ও অক্সিজেন মোড়ের নির্মাণাধীন গোলচত্বরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলোর উন্নয়নকাজও ঘুরে দেখেন তিনি।

এ সময় মেয়রের সঙ্গে ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান। তারা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের বিষয়েও আলোচনা করেন।

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের নির্দেশনা দেন ডা. শাহাদাত। একই সঙ্গে যেসব সড়কের মিডিয়ানে রেলিং নেই, সেসব স্থানে দ্রুত রেলিং স্থাপনের এবং যেখানে রং উঠে গেছে, সেগুলো নতুন করে রং করার নির্দেশনা দেন।

এ ছাড়া বিমানবন্দর সড়ক থেকে মোহরা পর্যন্ত যেসব সড়কের মিড-আইল্যান্ডে এখনও গাছ লাগানো হয়নি, সেখানে দ্রুত দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ লাগানোর নির্দেশ দেন মেয়র।

অন্যদিকে যেসব স্থানে গাছ লাগানো হয়েছে, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতে গুরুত্ব দেন তিনি। নগরীর কোথাও স্ল্যাব ও রেলিং না থাকলে দ্রুত তা স্থাপনের নির্দেশনাও দেন মেয়র।

এ সময় নগরীর ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের পুরাতন উর্দু লেইন এলাকায় সড়ক উন্নয়ন এবং নতুন ড্রেন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধুমাত্র প্রধান সড়ককে ঘিরে নয়। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা এবং আবাসিক এলাকার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে যেসব এলাকার সড়ক এবং ড্রেনেজ সমস্যা বিদ্যমান, সেগুলোর উন্নয়নও পর্যায়ক্রমে করা হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু তৈয়বসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এলাকার বাসিন্দারাও উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে প্রাণ ফিরেছে, গুগল-মেটা-টিকটকের বিনিয়োগ প্রস্তাব : আইসিটি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে প্রাণ ফিরেছে, গুগল-মেটা-টিকটকের বিনিয়োগ প্রস্তাব : আইসিটি মন্ত্রী

গাজীপুর, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম মন্তব্য করেন, কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে প্রাণ ফিরেছে। একইসঙ্গে গুগল-মেটা ও টিকটকের কাছ থেকেও বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

আজ শনিবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। দেশের প্রথম এই হাই-টেক পার্কের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ সরেজমিনে দেখতে সেখানে যান মন্ত্রী।

এই পরিদর্শন সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতির একটি অংশ। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে আইসিটি খাতে সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার শিল্পে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করার অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ‘ন্যাশনাল গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি’ বাস্তবায়ন এবং এআই হাব ও সফটওয়্যার-অ্যাপ-হার্ডওয়্যার উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য ফিসকাল ও নন-ফিসকাল প্রণোদনার প্রস্তাবনাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মাহবুব আনাম স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর দেশে প্রথম ‘আইসিটি পলিসি-২০০২’ প্রণয়নের ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কালিয়াকৈরে ২৩১.৬৫ একর জমিতে হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে আরো ৯৭.৩৩ একর জমি যুক্ত করা হয়। বর্তমানে পার্কের মোট আয়তন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭১ একর।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আরও বলেন, মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের পর দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোকে জমি ও রেডি স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সফটওয়্যার, অ্যাপ, হার্ডওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এ পর্যন্ত মোট ৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে জমি বা স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ৭টি রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে, ২৮টি নির্মাণাধীন এবং ১৭টির শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

পার্কে মোট বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ প্রায় ১.৬৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২৮৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা)। এ পর্যন্ত সরকার মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করেছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি। ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম যথাযথভাবে গড়ে তোলা গেলে পার্কটি থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও মন্ত্রী জানান।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট প্রায় ৬২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। ফলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক কেবল দেশীয় প্রযুক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং ভবিষ্যতে বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানির উৎপাদন, সংযোজন, গবেষণা-উন্নয়ন ও রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ও হাব হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এখন পার্কটিতে ৩টি মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী (অনর, শাওমী প্রভৃতি), ২টি ল্যাপটপ উৎপাদনকারী, ১টি এটিএম ও ক্যাশ রিসাইকেলার মেশিন উৎপাদনকারী, ৬টি ফাইবার অপটিক্যাল কেবল উৎপাদনকারী এবং ৩টি গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (হুন্দাইসহ) কাজ করছে।

এ ছাড়া আইওটি ডিভাইস, রাউটার, সুইচ, সিসিটিভি, এসি, রেফ্রিজারেটর, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, কিওস্ক ও এটিএম মেশিনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।

ডেটা সেন্টার স্থাপনের কাজ করছে ২টি কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কোম্পানির প্রস্তাবিত এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পে গুগল, মেটা (ফেসবুক) ও টিকটক সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে।

বিনিয়োগবান্ধব নীতির প্রণয়নের প্রশ্নে মাহবুব আনাম জানান, হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় সেবায় ভ্যাট সুবিধা, হাই-টেক পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ এবং ম্যানুফেকচারের পাশাপাশি অ্যাসেম্বলরদেরও সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।

বিশেষ করে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে কাঁচামালের শুল্ক-কর রেয়াত, স্থিতিশীল আয়কর সুবিধা এবং ইভি ব্যাটারি, সোলার ব্যাটারি, ইউপিএস ব্যাটারি, ই-বাইকের মতো নতুন প্রযুক্তি খাতের জন্য পৃথক প্রণোদনা কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও তৈরি করা হচ্ছে।

অবকাঠামোগত সক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমেয় নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের গতি আরো বাড়তে পারে। এর মাধ্যমে দেশে প্রযুক্তিপণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে, বলেও তিনি মনে করেন।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর এই পরিদর্শন দেশের হাই-টেক শিল্পের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, উৎপাদন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ সময় কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফজলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাগণও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কালিয়াকৈরের ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি)-এ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক টানেই জালে ধরা পড়ল ২২০০ ইলিশ, বিক্রি সাড়ে ৪৮ লাখ টাকায়!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


এক টানেই জালে ধরা পড়ল ২২০০ ইলিশ, বিক্রি সাড়ে ৪৮ লাখ টাকায়!

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আলমগীর মাঝি নামের এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ, যা এক খ্যাওয়ে অর্থাৎ একবার জাল টানার ফলে ঘটেছে। এই ইলিশগুলোর মোট ওজন দাঁড়িয়েছে ৪৬ মণ।

শুক্রবার বিকালে এই মাছগুলো মহিপুর মৎস্য অবতরন কেন্দ্রের মনেয়ারা ফিস নামক একটি মৎস্য আড়তে নিয়ে আসা হয়। এমন সময়, ওই আড়তে স্থানীয় মানুষ এবং পাইকারদের ভিড় জমে যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে মাত্র একবার জাল টানার পরেই এই মাছগুলি ধরা পড়ে।

মনোয়ারা ফিস সূত্রে জানা যায়, ধরা পড়া ৪৬ মণ ইলিশের মধ্যে ২৪ মণ ইলিশের ওজন ছিল এক কেজি বা তার বেশি। এই ইলিশগুলোর প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায়। ফলে, প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী, ২৪ মণ ইলিশ বিক্রি হওয়ায় মোট দাম দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ছিল ২২ মণ। এগুলোর প্রতি মণ দাম রাখা হয়েছে ৯৫ হাজার টাকা। ফলে, প্রতি কেজি ইলিশের দাম হয়েছে ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ২২ মণ ইলিশের মোট দাম হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। এসব ইলিশ বিভিন্ন পাইকারের কাছে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে।

আলমগীর মাঝি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ১৬ জন জেলেসহ একটি ট্রলার, এফবি জুনায়েদ নিয়ে, বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া এলাকায় জাল ফেলেন। পরে একবার জাল টান দেওয়ার পরই ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। প্রায় ৫ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়ে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, এত বড় চালানের ইলিশ দীর্ঘদিন পর এসেছে, এবং বাজারে ইলিশের দাম বর্তমানে অনেক বেশি। ফলে, জেলেরা এবারে ভালো দাম পেয়েছেন। সাধারণত এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, কিছুদিন আগে পর্যন্ত সাগরে ইলিশের খরা ছিল। কিন্তু বর্তমানে জেলেদের জালে অধিক পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে। এক ট্রিপে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনায় উপকূলের জেলেদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তবে সামনে আরও বেশি ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে জেলে, আড়তদার, এবং মৎস্য সংশ্লিষ্ট সকলেই লাভবান হবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%