০৭:৫৯ পি.এম
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন, গণমাধ্যম যত বেশি দায়িত্বশীল ও সঠিকভাবে কাজ করে, তত বেশি জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করবে এবং সেই অনুযায়ী মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। তবে তথ্য যদি বিকৃত হয়ে যায়, তাহলে সমাজে বিভ্রান্তি, সংঘাত ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়।
আজ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ ও রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই বিষয়গুলি তুলে ধরেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের সচেতন মানুষ তথ্যের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি নির্ভর করে তা-ই নয়, বরং বিচার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেই সম্পর্কে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপরও বিশ্বাস রাখে। সুতরাং, বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলোর প্রতিনিধিরা ল' রিপোর্টার্স ফোরামের মাধ্যমে বিচার বিভাগের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলে মনে করা হয়, কারণ গণমাধ্যমই রাষ্ট্র ও সমাজের কার্যক্রমের স্বচ্ছ প্রতিফলন জনগণের সামনে উপস্থাপন করে।
জহির উদ্দিন স্বপন দৃঢ়তার সাথে বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা এবং বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনার চলমান প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক মূল্যায়ন করতে সক্ষম হন। তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যে রাষ্ট্র সঠিক পথে হচ্ছে কি না, তারা চলমান প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবেন নাকি পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেবেন।
মন্ত্রী পরবর্তী পর্যায়ে বলেন, আয়না যত সঠিক না হলে মানুষের চেহারার বিকৃত প্রতিচ্ছবি দেখা যায়, তেমনই গণমাধ্যম যদি বস্তুনিষ্ঠ না হয়, তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কিত ভুল প্রতিচ্ছবি জনগণের সামনে উঠে আসে। সত্য এক জায়গায় থাকে, কিন্তু বিকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সমাজে নানা ধরনের সংঘাত ও নৈরাজ্যের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নাগরিকরা অনেক সময় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের কাছেই প্রতিকার চান। এর ফলে বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্ব বেশি হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এনালগ থেকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশের ফলে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তবে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও নিয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্বব্যাপী নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বক্তব্য দেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব নয়, একই সঙ্গে এর সর্বাত্মক ব্যবহার কোনও প্রকৃত সমাধান নয়। বর্তমান প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন সব ভুয়া ছবি, ভিডিও এবং তথ্য তৈরি করা সম্ভব, যা দেখতে বাস্তব মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সত্য নয়। এর ফলে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনের দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে দেশের সাইবার আইন নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এই উদ্দেশ্যে মন্ত্রিপরিষদ একটি কমিটি গঠন করেছে, যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইসিটি মন্ত্রীসহ তিনি নিজেও সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার একা এ কাজ করতে পারবে না। প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর আইন প্রণয়নে ল’ রিপোর্টার, আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করবে এবং এজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
তিনি বলেন, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা কেবল সাংগঠনিক বা আর্থিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সমাজ ও সভ্যতার এই জটিল সময়ে কী ধরনের দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে সত্যের মুখোমুখি উপস্থাপন করা। বিশেষ করে আইন অঙ্গনে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য বস্তুনিষ্ঠতাই একমাত্র মানদণ্ড। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতের জটিল বিশ্বকে মানুষের বাসযোগ্য রাখতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এলআরএফের সভাপতি হাসান জাবেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটিতে সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সুপ্রীম কোর্ট বার এ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি স্বপন দাশ গুপ্ত, এম বদিউজ্জামান, সাইদ আহমেদ, আশুতোষ সরকার, ওয়াকিল আহমেদ হিরণ, মাসহুদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার এবং আহমেদ সারোয়ার হোসেন ভূঁইয়া।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন