মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৬ পি.এম
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামার কথা ছিল লিটন দাসদের। তবে, ম্যাচ শুরুর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা আগে বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি বাতিল করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, র্যাংকিংয়ে মালয়েশিয়ার চেয়ে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশ সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে।
বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল বলেন, "সকালে গেমস কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে যে, খেলা হচ্ছে না। এজন্য দল স্টেডিয়ামেও যাবে না।"
নাগোয়ায় টানা বৃষ্টির কারণে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গতকাল দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ বৃষ্টির কারণে মাঠে গড়ায়নি। মঙ্গলবার সকালে নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার ম্যাচও পরিত্যক্ত হয়েছে। মাঠ খেলার উপযোগী না হওয়ায় বাংলাদেশের ম্যাচও নির্ধারিত সময়ের আগেই বাতিল করা হয়।
আগামী ১ অক্টোবর সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। সকাল ৯টায় ম্যাচটি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, আবহাওয়ার উন্নতি না হলে সেমিফাইনাল নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। যদি ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়, তাহলে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধায় পাকিস্তান ফাইনালে উঠবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ব্রোঞ্জের জন্য লড়তে হবে।
এর আগে, নারী ক্রিকেট দলও বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পারেনি। চীনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় র্যাংকিংয়ের সুবিধায় সরাসরি সেমিফাইনালে উঠেছিল জ্যোতির দল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সরকার গঠনের পর বিএনপি দেশে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আইনসংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনে পাস হয়েছে শতাধিক আইন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬:
গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিতকরণ, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ এবং প্রতিকার প্রদানের লক্ষ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
২০২৬ সালে পাস হওয়া ১০৭ নম্বর এই আইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তি অন্যূন তিন বৎসর বা সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক পঞ্চাশ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে। যদি গুমের ফলে গুম হওয়া ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে বা গুম হওয়া ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায় অথবা গুমের ঘটনার পাঁচ বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তাকে জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অন্যূন পাঁচ বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।
এছাড়া এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালত এই আইনের অধীন আরোপিত অর্থদণ্ডকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করবে এবং উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ ভুক্তভোগীকে প্রদান করবে। দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়যোগ্য হবে এবং এরূপ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তির ওপর অন্যান্য দাবি অপেক্ষা অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রাধান্য পাবে। অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে আদায় করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ভুক্তভোগীকে তা প্রদানে বাধ্য থাকবে।
আইনের ২৯ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তির দায় পরিশোধ, তাহার স্বামী বা স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ বা অন্য কোনো যৌক্তিক ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে গুম হওয়া ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তর করার জন্য, স্বামী বা স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্যের আবেদন অনুসারে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ ব্যয় নির্বাহ করার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের জন্য গুম সনদ ইস্যুসহ অনুমতি প্রদান করতে পারবে এবং সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে অন্য যে কোনো প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবে।
এছাড়া যে ক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তি অন্যূন পাঁচ বছর ধরে গুম থাকেন এবং জীবিত ফিরে না আসেন, সেখানে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গুম হওয়া ব্যক্তির যে কোনো বৈধ উত্তরাধিকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিদ্যমান সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারগণের মধ্যে বণ্টনযোগ্য মর্মে ঘোষণা প্রদান এবং গুম সনদ প্রদান করতে পারবে।
এদিকে পাস হওয়া আইনে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি নিজে অথবা সরকারের সমর্থন, অনুমোদন বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তার স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বা অবস্থান গোপন করে, তাহলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে আমরা কিছু মৌলিক জায়গায় হাত দিয়েছি। তার একটি হলো গুমের শিকার পরিবার যেন তার সম্পত্তির ভাগ পায়। এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দরখাস্ত দিয়ে ক্ষেত্রমত তারা সে প্রতিকার পাবেন।"
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, "গুমের দুইটা সেকশন আছে। একটা আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) যাবে। যেটা সিস্টেমেটিক এন্ড ওয়াইড স্প্রেড গুম। আর যেটা অর্ডিনারি কোর্সে গুম হবে ২৪ ঘন্টার বেশি কাউকে অবৈধভাবে আটকে রাখলে, সেটা যাবে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে।"
গুম চিরতরে বন্ধ হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "আমরা মনে করি এবং বিশ্বাস করি বাংলাদেশে গুম চিরতরে বন্ধ হবে। যেমন আপনারা দেখেছেন আমাদের এই সময়ে কোন গুম হয়নি।"
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬:
২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনে মানবাধিকার কমিশনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষমতা এবং সমন জারিসহ দেওয়ানি আদালতের কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে কমিশনের তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন আইনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "মানবাধিকার কমিশন কোনো ফৌজদারি তদন্ত সংস্থা নয়। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করাই বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ কাজ। ইতোমধ্যে আমি ইউএনডিপির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভের কাছ থেকে একটা অভিনন্দন বার্তা পেয়েছি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন করার জন্য। আমরা চেষ্টা করছি...।"
ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬:
সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তা ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণ করে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’ পাস করা হয়েছে। ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি নতুন পদ্ধতি এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে গেলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।
আলোচিত এই আইনটির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, "আমাদের কেন? ইহজাগতিক কারোর ক্ষমতা নাই ইসলামিক ল' এর ওপর হাত দেওয়ার। আমরা সেখানে হাত দিইনি। আমরা হেবাকে সংরক্ষণ করেছি। আইনের মধ্যে এক্সপ্রেসলি সেটা বলেছি।"
আইনমন্ত্রী বলেন, "সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটা নতুন দিগন্ত আমরা উন্মোচন করলাম। আমরা বলেছি যে এই আইন দ্বারা হেবা কিংবা গিফট বা অন্য কোনভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বাধাগ্রস্ত করবে না বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। আমরা এই আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটা বিকল্প করোনারি আনছি। কেউ যদি হেবা করতে চায় হেবা করতেই পারবে। সেখানে কোন বাধা নাই। কেউ যদি অন্য আইনে সম্পত্তি ডিল করতে চান সেটা করতে পারবে। সেখানেও কোন বাধা নাই।"
তিনি আরও বলেন, "একটা গ্রুপ এটা নিয়ে পলিটিক্স করার চেষ্টা করছেন। এগুলো সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছে না। সাধারণ মানুষ এই আইনটাকে খুব পজিটিভলি দেখছে।"
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন-২০২৬:
মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, "মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আমরা কঠোর আইন করেছি। এ বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি। আমরা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে মাদক নির্মূলের ব্যবস্থা করছি। পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে ঝিনাইদহ জেলাকে রেখেছি এবং সেখানে ভালো সাড়া পাচ্ছি।"
এছাড়া আইনের ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত করে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। এই আইন পাসের ফলে একীভূতকরণের আওতায় যাওয়া কোনো ব্যাংকের আগের মালিক বা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী বিশেষ শর্ত পূরণ করে সেই ব্যাংকের মালিকানা, সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে না।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সরকারের প্রথম সাত মাসে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শতাধিক আইনের মধ্যে রয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন, বাণিজ্যিক আদালত আইন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, জুয়া প্রতিরোধ আইন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মিলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদের সই করা চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান রূপান্তরমুখী অভিযাত্রা এবং পরিবর্তিত জাতীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ সম্মিলন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। দেশের কলেজ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অধ্যক্ষবৃন্দের ভূমিকা আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এ সম্মিলন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এটির মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ জাতীয় শিক্ষানীতি, সরকারের শিক্ষা-দর্শন, উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শিক্ষা সংক্রান্ত অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও প্রেরণা লাভ করবেন।
এতে আরও জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত লিংকে (https://collegeportal.nu.ac.bd/) প্রবেশ করে কলেজ কোড ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ড্যাশবোর্ড থেকে অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬ ক্লিক করে যথাযথভাবে ফরম পূরণ করে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে আমন্ত্রণপত্র প্রেরণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের নির্দেশক্রমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অধ্যক্ষদের অনুরোধ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বিধি মোতাবেক প্রতিষ্ঠান থেকে টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী, ক্রিস্টা পাইক, জানিয়েছেন যে, মৃত্যুর ভয় তার নেই। তবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ .
৫০ বছর বয়সী পাইক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় কারাগারে রয়েছেন। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
পাইক ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাইক ও তার দুই সহযোগী স্লেমারকে টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি পরিত্যক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও মারধর করেন। পরে স্লেমার মারা যান।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডটির সঙ্গে তন্ত্রসাধনার যোগ ছিল। স্লেমারের বুকে একটি বিশেষ চিহ্ন খোদাই করা হয়েছিল এবং পাইক তার মাথার খুলির একটি অংশ স্মারক হিসেবে রেখে দেওয়ার কথা অন্য এক সহপাঠীকে বলেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
পাইক তার ভূমিকার কথা অস্বীকার করেননি। তবে, তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, শৈশব থেকেই তিনি দীর্ঘদিন শারীরিক ও যৌন নির্যাতন এবং অবহেলার শিকার হয়েছেন। এসব তথ্য তার মৃত্যুদণ্ডের বিচার চলাকালীন জুরিদের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে তাদের দাবি।
পাইকের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আবেদন করেছেন। তাদের বক্তব্য, শৈশবের নির্যাতনের কারণে পাইক গুরুতর মানসিক আঘাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে আটকে রাখার প্রক্রিয়া তার ওপর অতিরিক্ত মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করতে পারে।
তবে, টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর বলেছে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পদ্ধতির কারণে পাইকের অতিরিক্ত মানসিক ক্ষতি হবে—এমন ধারণার পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি নেই।
এদিকে, টেনেসির গভর্নর বিল লি পাইকের মৃত্যুদণ্ডে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। ফলে, মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তই তার শেষ সুযোগ।
সহযোগীদের সাজা ছিল ভিন্ন
পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও একই ঘটনায় জড়িত অন্যদের সাজা ছিল ভিন্ন। তার প্রেমিক তাদারিল শিপ ঘটনার সময় ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তিনি ভবিষ্যতে মুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
অন্য সহযোগী শাদোলা পিটারসন তখন ১৮ বছর বয়সী ছিলেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের সময় পাহারার দায়িত্বে ছিলেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করার বিনিময়ে প্রবেশন পান।
পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, ঘটনার সময় তার বয়স মাত্র ১৮ বছর হওয়াও বর্তমানে তরুণদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও আচরণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তারা আরও দাবি করেছেন, সে সময় প্রসিকিউটররা প্যারোলে মুক্তির সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিনিময়ে দোষ স্বীকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সমঝোতা গ্রহণ করা হয়নি।
শৈশবের নির্যাতনের তথ্য সামনে
মনোবিজ্ঞানী বেথানি ব্র্যান্ড তিন বছর আগে পাইকের মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। তিনি পুলিশি নথি, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও মামলার অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন।
ব্র্যান্ডের প্রতিবেদনে উঠে আসে, ছোটবেলা থেকেই পাইক যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার পরিবারেও স্থিতিশীল পরিবেশ ছিল না। ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগও তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ব্র্যান্ডের মতে, পাইকের শৈশবের মানসিক আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। কারাগারে চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার পর তার অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত ও অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে জানান তিনি।
তবে, নিহত স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মেয়ের হত্যার জন্য পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াকেই ন্যায়বিচার হিসেবে দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, মামলার প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত মেয়ের দেহের বিভিন্ন অংশ পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল, যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নারী সদস্যদের গুরুত্ব
পাইক নারী হওয়ায় টেনেসির কারা কর্তৃপক্ষ তার কিছু বিশেষ অনুরোধ বিবেচনা করছে। তাকে ন্যাশভিলের নারী কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত কারাগারে নেওয়ার সময় নারী প্রহরী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দলেও নারী সদস্যদের রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, একজন পুরুষ চিকিৎসক এতে অংশ নিতে পারেন। এর আগে ব্যর্থ হওয়া একটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন কার্যকরের সময় তিনি চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
পাইকের আধ্যাত্মিক পরামর্শদাতা মিকি নোয়েশেলকেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি পাইকের সঙ্গে প্রার্থনা, ধ্যান ও আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।
মৃত্যুর আগে এক চিঠিতে পাইক লিখেছেন, তার প্রতি পাওয়া সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, জীবনের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহে তিনি বেশি ভালোবাসা অনুভব করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুরে চলন্ত ভ্যানের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে জামিলা (১৩) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু ঘটেছে।
এটি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটে, যখন জামিলা ঢেউখালী ইউনিয়নের চর কুমারিয়া থেকে মোল্লা গ্রামে যাওয়ার পথে ছিল।
নিহত জামিলা ঢেউখালী ইউনিয়নের চর কুমারিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. মহিউদ্দিন সিকদারের কন্যা।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামিলা ভ্যানযোগে তার ভগ্নিপতি মো. রিয়াজুল শেখের বাড়ি মোল্লা গ্রামে যাচ্ছিল। মোল্লা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাতুব্বরের বাড়ির কাছে একটি শাখা সড়কে অসাবধানতাবশত তার পরনের ওড়না ভ্যানের চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এর ফলে সে গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর আশপাশের লোকজন জামিলাকে উদ্ধার করে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সদরপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং পরে মরদেহটি পুলিশ হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ